০৭:৩০ এম
স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে প্রথম ধাপের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এজন্য নির্বাচন বিধিমালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
শীঘ্রই স্থানীয় সরকার বিধিমালা সংশোধন করে সরকারের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর পর সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, এবারের নির্দলীয় নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হবে, পাশাপাশি বিভিন্ন দলের একাধিক প্রার্থীও নির্বাচনে অংশ নিতে আসবেন। স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনেক কোন্দল বিদ্যমান।
আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন সময়সীমা ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি
তাদের বক্তব্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) সংশোধন করে সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায়, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনে সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় যুক্ত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘জেলা পরিষদ ছাড়া অন্য চারটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আইনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনীকে যুক্ত করার প্রস্তাব করব। তবে শুধু সংজ্ঞায় যুক্ত হলেই যে সেনাবাহিনী ব্যবহার করা হবে তা বলা হচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘কিছু পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা থেকে সেনাবাহিনী যুক্ত করা হচ্ছে কি না’ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা মেনে রেখেছি, যদি প্রয়োজন হয়।’
তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘দুই চিন্তা থেকেই এটি রাখা হচ্ছে। যদি প্রথম পর্যায়ের নির্বাচন ভালোভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে পরবর্তী ধাপে সেনাবাহিনী প্রয়োজন হবে না। কিন্তু প্রথম ধাপে যদি কোনো সমস্যার সম্মুখীন হই, তবে পরের ধাপে সেনাবাহিনী ডাকতে সক্ষম হব। তখন কোনো প্রশ্ন থাকবে না।’
আরও পড়ুন: গার্মেন্টস শিল্পে এক সপ্তাহের মধ্যে মজুরি বোর্ড গেজেট প্রকাশের ঘোষণা শ্রমমন্ত্রীর
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ৪২ হাজার ৭৬১টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৩ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমানে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন-২০০৯ অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’ হিসাবে পুলিশ বাহিনী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, আনসার বাহিনী, ব্যাটালিয়ান আনসার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং কোস্টগার্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের নতুন আইন সংশোধন হলে, উল্লেখিত বাহিনীগুলোর সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীকেও স্থানীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে মোতায়েনের জন্য আইনগত ভিত্তি তৈরি হবে।
এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদের রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরের আগে ২৮৯টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩ হাজার ৯৮১টি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১১০টি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯২টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মামলা, সীমানা-জটিলতাসহ নানা কারণে দীর্ঘদিন ১০৮টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়নি। দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ ৪ হাজার ৫৮০টি। এর মধ্যে চলতি বছরেই ৩ হাজার ৯৮১টি নির্বাচন উপযোগী হতে যাচ্ছে। বাকিগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে নির্বাচন উপযোগী হবে।
পৌরসভার রোডম্যাপ অনুযায়ী, দেশের ৩৩০ পৌরসভার মধ্যে ৩২০টি নির্বাচন উপযোগী। তবে আইনি জটিলতার কারণে ১০টি পৌরসভা এখনো নির্বাচন উপযোগী নয়।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন