বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৪৪ পি.এম
গোপালগঞ্জে এক স্কুলছাত্রকে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগে মো. নাসরুল্লাহ (৩০) নামের মসজিদের এক ইমামকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে দিয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলীয়া নতুনচর পশ্চিমপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আটক হওয়া নাসরুল্লাহ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলীয়া নতুনচর পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি মসজিদ সংলগ্ন তার বাসভবনে বসবাস করেন।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে ওই মসজিদের ইমাম মাওলানা নাসরুল্লাহ স্থানীয় একটি হাইস্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্রকে তার রুমে ডেকে নিয়ে যান। এরপর তিনি ওই ছাত্রকে চুমু খেয়ে বলাৎকারের চেষ্টা করেন।
পরে সন্ধ্যার দিকে ওই ছাত্র বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে তারা অভিযুক্ত নাসরুল্লাহকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ইমামকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
তবে অভিযুক্ত ইমাম মাওলানা নাসরুল্লাহ চুমু দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও তিনি বলাৎকারের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
গোপালগঞ্জের গোপীনাথপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. ইকরাম হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে প্রবল বাতাসের কারণে ঐতিহাসিক একটি বাড়ির ছাদের অংশ উড়ে এসে মাথায় পড়ার ফলে ব্রাজিলের এক পর্যটকের মৃত্যু ঘটে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এই দুর্ঘটনার পর থেকে বাড়িটি দর্শনার্থীদের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
নিহত ব্যক্তির নাম রোজেরিও রেনাতো মাতেউচি, যিনি ৫৫ বছর বয়সী ছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের স্কটসডেলে অবস্থিত বিখ্যাত স্থপতি ফ্র্যাঙ্ক লয়েড রাইটের শীতকালীন বাড়িটি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন।
স্কটসডেল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ছাদের প্লাস্টিকের কাচের একটি অংশ মাতেউচির মাথায় আঘাত করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আঘাতের পরপরই তার মৃত্যু ঘটে। ওই দিন স্কটসডেল বিমানবন্দরে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৮ মাইল বেগে বাতাস বয়ে যাওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ।
বিশ্ব ঐতিহ্যের স্থাপনাটি সাময়িক বন্ধ
১৯৩৭ সালে নির্মিত এই বাড়ি এবং এর আশপাশের স্থাপনাগুলো টালিসিন ওয়েস্ট নামে পরিচিত। নিচু ছাদ ও পাথরের দেয়াল দিয়ে তৈরি এই স্থাপনাগুলো মরুভূমির প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে মিশে রয়েছে। এটি জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থার স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ।
ফ্র্যাঙ্ক লয়েড রাইট ফাউন্ডেশনের মালিকানাধীন এই স্থাপনাটি বছরে প্রায় এক লাখ দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করে। এটি রাইটের শীতকালীন বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হত এবং তার শিক্ষার্থীদের স্থাপত্যচর্চার পরীক্ষাগার হিসেবেও পরিচিত ছিল।
মাতেউচির মৃত্যুর পর ফ্র্যাঙ্ক লয়েড রাইট ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানায়, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য স্থাপনাটি বন্ধ থাকবে। বুধবার পর্যন্ত পুনরায় পরিদর্শন চালুর নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
জানা গেছে, মাতেউচি ব্রাজিলের কুরিতিবা শহরে অবস্থিত পন্টিফিক্যাল ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয় অব পারানার জ্যেষ্ঠ প্রশাসক কর্মকর্তা ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি প্রতিষ্ঠানটির রেক্টর ছিলেন এবং ক্যাথলিক ধর্মীয় সংগঠন মারিস্ট পুরোহিত ও ধর্মভ্রাতাদের একজন সাধারণ সদস্য ছিলেন। তার বাড়ি ব্রাজিলের সাও পাওলো শহরে।
বিশ্ববিদ্যালয়টি জানায়, অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ফ্র্যাঙ্ক লয়েড রাইট ফাউন্ডেশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে। তবে পুলিশি তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি প্রতিষ্ঠানটি। স্কটসডেল পুলিশের মুখপাত্র অ্যালিসন সেম্পসিস জানিয়েছেন, তদন্ত চললেও স্থাপনাটি পুনরায় খুলতে কোনো বাধা নেই।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা দুই ম্যাচে পরাজয়ের ফলে বাংলাদেশ ফাইনালে উঠতে পারেনি। আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ব্যাটিংয়ে ব্যর্থতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। তার মতে, ব্যাটিংয়ের দক্ষতার চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে মানসিকতা, বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে খেলার সময়।
আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে পরাজয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে হৃদয় মন্তব্য করেন, ‘আমার যেটা মনে হয়েছে… কোন কোন জায়গা বলতে চাচ্ছি না। তবে খুব ক্লিয়ার একটা জায়গা– আমরা ব্যাটাররা দুটো ম্যাচেই বাজে ব্যাটিং করেছি। যে কারণে পুরো দল সাফার করেছে।’
ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিক ব্যর্থতা সত্ত্বেও দলের খেলোয়াড়দের পাইপলাইন নিয়ে আশাবাদী হৃদয়। তিনি বলেন, ‘পাইপলাইনে অবশ্যই যথেষ্ট খেলোয়াড় আছে। অ্যাওয়ে সিরিজে ভালো করতে পারছি না। হোমে যে খেলা হচ্ছে, বেশ কিছু সিরিজ বেশ ভালোভাবে জিতেছি। ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে।’
আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ পাঁচ ম্যাচেই বাংলাদেশ পরাজিত হয়েছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ চার ম্যাচের তিনটিতেও হারতে হয়েছে। তবে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সাফল্যের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন হৃদয়।
তিনি বলেন, ‘এই দল নিয়েই বড় বড় দলকে হারিয়েছি। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান– সব হোমে ছিল। এক-দুই ম্যাচ দিয়ে বলতে চাই না দলের কী হলো। দল ভালো অবস্থায়ই আছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুর নগরীতে জমির মালিকানা ও মন্দির দখলকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের কারণে বিসর্জন না দিয়ে প্রতিমা মন্দিরে ফেরানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্যরা শোভাযাত্রা থেকে প্রতিমা পুনরায় মন্দিরে রাখেন।
মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বুধবার নগরীর ঠিকাদারপাড়ায় সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ দুই পক্ষের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা চালায়।
স্থানীয়দের মতে, ২০০৭ সাল থেকে প্রতি বছর স্থানীয় দশরথের তিন শতক জমিতে অস্থায়ী মণ্ডপ তৈরি করে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। চলতি বছর পূজা উদ্যাপন কমিটি দুর্গাপূজার পর কালী প্রতিমাসহ অন্যান্য প্রতিমা বসানোর মাধ্যমে স্থায়ী মন্দির স্থাপনের প্রস্তুতি নেন মহানগর কৃষক লীগের সভাপতি প্রাণ কৃষ্ণ গোস্বামী।
অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি কৌশলে সেখানে কালীমন্দির স্থাপন করে জায়গাটি দখলের পাঁয়তারা করছেন। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলা হয়েছিল, যেখানে পূজা-অর্চনা শেষে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু অস্থায়ী মন্দির কমিটির সদস্যরা সুকৌশলে জায়গাটি দখল করার জন্য নতুন করে প্রতিমা স্থাপন করে ওই জায়গায় রেখে দুর্গোৎসবের প্রতিমাগুলো বিসর্জন দেওয়ার প্রস্তুতি নেন; আর তাতেই বিপত্তি ঘটে।
গণেশ চন্দ্র, শ্যামল কান্তিসহ স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, এত দিন পূজা উদযাপন সুস্থভাবে চললেও বিসর্জনের আগে একই স্থানে পুনরায় নতুন প্রতিমা স্থাপন নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। সেই উত্তেজনা রাতভর চলতে থাকে। প্রশাসনের লোকজন সারা রাত চেষ্টা করেও সমাধান করতে পারেনি। রাতের বেলা সড়ক অবরোধের পাশাপাশি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানান এবং মণ্ডপের জন্য নির্দিষ্ট একটি জায়গা বরাদ্দ দিলে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় উপকৃত হতো বলে উল্লেখ করেন।
অনিমেষ চন্দ্র রায় জানান, বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের সময় জমির মালিক দশরথ সব প্রতিমা সরিয়ে নিয়ে মন্দির খালি করার দাবি জানালে তার ও পূজা উদ্যাপন কমিটির মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরপর প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে স্থায়ী মন্দির স্থাপনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে পূজা উদযাপন কমিটিসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি পক্ষ। আরেক পক্ষ, নিজের জমি উদ্ধার করার জন্য সব প্রতিমা সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে জমির মালিক দশরথ ও তার লোকজন রাস্তার অপর পাশে অবস্থান নেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন গভীর রাত পর্যন্ত উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়।
তবে অস্থায়ী পূজা উদ্যাপন কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রিতা রানীর স্বামী ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাদের মন্দির করার জন্য এই জায়গাটি ভাড়া দিয়েছেন। সেই আলোকেই তারা সেখানে মন্দির স্থাপন করেছেন।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বৃহস্পতিবার জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতা ও অচলাবস্থা এখনো বিদ্যমান। যে পক্ষ পূজা করেছে, তারা প্রতিমা বিসর্জন দিতে চাইলেও মন্দির খালি করতে চাইছে না এবং দখলেই রাখতে চাইছে।
অন্যদিকে জমির মালিকপক্ষের দাবি, মন্দির খালি করে দিয়ে সব প্রতিমা সরিয়ে নিতে হবে। উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তোফায়েল আহমেদ বলেন, বর্তমানে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি সেখানে এক প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। রাতে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আমরা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক বিদ্যমান ব্রিটেনের। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই সম্পর্ক বিভিন্ন পর্যায়ে বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে ইয়েমেনের হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সৌদি আরবকে রক্ষার জন্য যুক্তরাজ্য সেখানে যুদ্ধবিমান, পরিবহন বিমান ও সামরিক পরামর্শক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্রিটিশ সরকার জানাচ্ছে, এই সহায়তার উদ্দেশ্য হলো সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধি করা। তবে হুথিদের ওপর হামলা চালানোর উদ্দেশ্য নেই।
ব্রিটিশ বিমান বাহিনীর টাইফুন যুদ্ধবিমান সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষায় সহায়তা প্রদান করবে। এ ছাড়া এ৪০০এম পরিবহন বিমান ও সামরিক পরামর্শকরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। যুদ্ধবিমানগুলোর জন্য আকাশে জ্বালানি সরবরাহের জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সরকারের বক্তব্য হলো, এই সহায়তা সৌদি আরবকে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলবে। সম্প্রতি ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে ব্রিটেনের নতুন পদক্ষেপকে দুই দেশের দীর্ঘ সামরিক সম্পর্কের সর্বশেষ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় সম্পর্কের সূচনা ঘটে। সৌদি আরবের সঙ্গে ব্রিটেনের সামরিক সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে ওঠে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ কর্মকর্তা পার্সি কক্স ও আবদুল আজিজ ইবনে সৌদের মধ্যে দারিন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তখন অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ইবনে সৌদকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করেছিল ব্রিটেন।
১৯২৭ সালে জেদ্দা চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। পাঁচ বছর পর, ১৯৩২ সালে সৌদি আরবের রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
যুদ্ধবিমান কেনা থেকে সামরিক সহযোগিতা
১৯৬৬ সালে সৌদি আরব ব্রিটেনের কাছ থেকে ৪০টি লাইটনিং যুদ্ধবিমান, ২৫টি প্রশিক্ষণ বিমান ও রাডার কেনে। সেই সময় ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছিল। সৌদি আরবের তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স সুলতান সৌদি বাহিনীর সহায়তায় ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর একটি স্কোয়াড্রন চেয়েছিলেন। ব্রিটেন সৌদি পতাকার অধীনে ব্রিটিশ পাইলট ও যুদ্ধবিমান পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবে ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর আলাদা স্কোয়াড্রন মোতায়েনের প্রয়োজন হয়নি।
১৯৬৬ সাল থেকে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিএই সিস্টেমসের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯৭৩ সালে দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
১৯৮৫ সালে দুই দেশের মধ্যে আল-ইয়ামামা নামে বড় অস্ত্র চুক্তি হয়। এর আওতায় সৌদি আরব টর্নেডো ও হক যুদ্ধবিমান কেনে। চুক্তির অংশ হিসেবে সৌদি আরব থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ছয় লাখ ব্যারেল তেল পাওয়ার ব্যবস্থা ছিল ব্রিটেনের।
এই চুক্তি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর ২০০৪ সালে ব্রিটেনের গুরুতর জালিয়াতি তদন্ত দপ্তর তদন্ত শুরু করে। তবে জাতীয় নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে তদন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়।
উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়ও সৌদিতে ব্রিটিশ বিমান ছিল। ১৯৯০ থেকে ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর টর্নেডো যুদ্ধবিমান সৌদি আরবের ধাহরান ও তাবুক ঘাঁটি থেকে অভিযান চালায়। ওই যুদ্ধে ব্রিটেনের একটি টর্নেডো যুদ্ধবিমান হারিয়ে যায়। পরে ২০০৩ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ ইরাকে নো-ফ্লাই জোন কার্যকর রাখার অভিযানে অংশ নেয় ব্রিটিশ বিমানবাহিনী।
২০০৭ সালে সৌদি আরব ৪৪৩ কোটি পাউন্ডে ৭২টি টাইফুন যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করে। ২০১৮ সালে আরো ৪৮টি টাইফুন কেনার পরিকল্পনা করা হলেও তা আটকে যায়। সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার পর জার্মানি সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র রপ্তানিতে বাধা দিয়েছিল। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জার্মানি সেই আপত্তি তুলে নেয়। এরপর সৌদি আরবের সঙ্গে টাইফুন যুদ্ধবিমান নিয়ে আলোচনা আবার শুরু করে বিএই সিস্টেমস।
ইয়েমেন যুদ্ধে অস্ত্র বিক্রি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবের ভূমিকার কারণে দেশটির কাছে ব্রিটিশ অস্ত্র বিক্রি নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। ২০১৯ সালে ব্রিটেনের আপিল আদালত রায় দেয়, ইয়েমেনে ব্যবহারের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রির অনুমতি দেওয়ার আগে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের অতীত ঘটনাগুলো মূল্যায়ন করা হয়নি। এ কারণে ওই অনুমতিগুলো বেআইনি ছিল।
২০২০ সালের জুলাইয়ে ব্রিটিশ সরকার আবার অস্ত্র রপ্তানির অনুমতি দেয়। সরকারের যুক্তি ছিল, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন গুরুতরভাবে লঙ্ঘনের স্পষ্ট ঝুঁকির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর লোহিত সাগরে ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হুথিদের হামলার জবাবে ২০২৪ সালে ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অংশ নেয় ব্রিটিশ টাইফুন যুদ্ধবিমান। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেও সৌদি আরবে ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর টাইফুন যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ভয়েজার ট্যাংকার বিমান পাঠায় যুক্তরাজ্য।
সৌদি আরবকে হুথিদের হামলা থেকে রক্ষায় এবার নতুন করে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান ও সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ধারাবাহিকতা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় শুরু হওয়া এই সম্পর্ক বর্তমানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ইয়েমেন সংঘাতের বাস্তবতায় নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ