বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৯:৩৩ পি.এম
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে দাখিল দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর বাবা আসাদুজ্জামান কালিগঞ্জ থানায় অপহরণের অভিযোগ করেছেন। একই ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করেছে।
অভিযুক্ত মো. মাহবুব আলম উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের এক মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী (আরবি) পদে কর্মরত।
মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট বলেন, গত ২৩ আগস্ট থেকে মাহবুব আলম মাদ্রাসায় অনুপস্থিত। পরে জানতে পেরেছি, তিনি দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে চলে গেছেন। এ ঘটনায় ম্যানেজিং কমিটি ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নৈতিক স্খলন ও অসদাচরণের অভিযোগে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
অভিযুক্ত মাহবুব আলম শ্যামনগর উপজেলার জয়নগর গ্রামের হযরত আলী গাজীর ছেলে। এর আগে তিনি জয়নগর আমিনিয়া হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ইবতেদায়ি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২০২৫ সালে তিনি বালিয়াডাঙ্গা মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী মৌলভী (আরবি) পদে যোগদান করেন।
মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির বিদ্যোৎসাহী সদস্য রওশান কাগুজী ও অভিভাবক সদস্য মাওলানা আইয়ুব হাসান বলেন, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হয়ে শিক্ষার্থীর সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
শিক্ষানুরাগী ডা. মাওলানা আয়ুব হোসেন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে সামাজিক অবক্ষয় আরও বাড়তে পারে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান বলেন, অপহরণের অভিযোগ পেয়েছি। শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে ‘আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে’ (এজিসিসি) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশি নিখোঁজ রয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন সাতজন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে প্রায় ৭ হাজার কিলোমিটার দূরে আমুর অঞ্চলে অবস্থিত চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের অধীনে এই আমুরন গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্স পরিচালিত হচ্ছিল। সেখানে কাজ করার সময় মূল গ্যাস পাইপলাইনে এই প্রাণঘাতী বিস্ফোরণ ঘটে। এ দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশির নাম জাকির হোসেন। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়। উপার্জনের আশায় সুদূর রাশিয়ায় পাড়ি জমানো জাকিরের মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
দুর্ঘটনার বিবরণ দিয়ে সূত্রটি আরও জানায়, পাইপলাইনের পরীক্ষামূলক কাজ (টেস্টিং) করার সময় হঠাৎ তা ফেটে গিয়ে দাউ দাউ করে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই পাইপলাইনের চেক ভালভ পুড়ে গিয়ে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে রুশ, চীনা, বাংলাদেশি, নেপালি, আজারবাইজানি, উজবেক ও তাজিকিস্তানের কর্মীসহ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ ও কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়ার মধ্যে অনেকেই এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস হতাহত বাংলাদেশীদের পরিচয় শনাক্ত করতে এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিতের পাশাপাশি উদ্ধার তৎপরতার বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বসনিয়ার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বসনিয়ান সার্ব জেনারেল রাতকো ম্লাদিচ মারা গেছেন।
‘বসনিয়ার কসাই’ খ্যাত এই যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যু হয়েছে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে জাতিসংঘ পরিচালিত একটি কারাগারের হাসপাতালে।
সার্বিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরটিএস এবং বসনিয়ান সার্বদের সরকারি টেলিভিশন তার মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। পরে জাতিসংঘের এক কর্মকর্তাও ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে ম্লাদিচের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ থেকে ৮৪ বছর।
ম্লাদিচের পরিবারের এক সদস্যও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। পরিস্থিতির সংবেদনশীলতার কারণে পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি কথা বলেন।
১৯৯৫ সালের স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যার মূল হোতা
১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত চলা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার যুদ্ধের সময় সংঘটিত ভয়াবহতম অপরাধগুলোর অন্যতম ছিল স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা। এই হত্যাকাণ্ডে জাতিসংঘ ঘোষিত ‘নিরাপদ এলাকা’ স্রেব্রেনিৎসায় অন্তত ৮ হাজার মুসলিম বসনিয়াক নিহত হন।
ম্লাদিচকে ওই গণহত্যার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী হিসেবে দায়ী করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, তার নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় বসনিয়ান সার্ব বাহিনী ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, নিপীড়ন ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধ ঘটায়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ নৃশংসতার একটি হিসেবে স্রেব্রেনিৎসা হত্যাকাণ্ডকে বিবেচনা করা হয়।
২০১৭ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে ছিলেন ম্লাদিচ। অবশেষে ২০১১ সালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর সাবেক যুগোস্লাভিয়ার যুদ্ধাপরাধবিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে তার বিচার শুরু হয়।
২০১৭ সালে ট্রাইব্যুনাল তাকে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
রায়ের সময় ট্রাইব্যুনাল ম্লাদিচের সংঘটিত অপরাধকে মানবজাতির জানা সবচেয়ে জঘন্য অপরাধগুলোর অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
পরবর্তী সময়ে আপিলেও তার যাবজ্জীবন সাজা বহাল থাকে। জীবনের শেষ বছরগুলো তিনি কারাগারেই কাটান।
শয়তানের প্রতিমূর্তি
ম্লাদিচের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে ছিল বেসামরিক মানুষ হত্যা, জোরপূর্বক উচ্ছেদ, নির্যাতন এবং জিম্মি করে রাখাসহ একাধিক গুরুতর অপরাধ। তবে স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যায় তার ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে বেশি আলোচিত।
জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান জেইদ রা’দ আল হুসেইন ২০১৭ সালে ম্লাদিচের দণ্ডাদেশের পর তাকে ‘শয়তানের প্রতিমূর্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।
ম্লাদিচের মৃত্যু বসনিয়া যুদ্ধের অন্যতম কুখ্যাত চরিত্রের জীবনের অবসান ঘটালেও ওই যুদ্ধের ক্ষত ও স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যার স্মৃতি এখনও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনিয়ার মানুষের মধ্যে গভীরভাবে বিদ্যমান।
১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সালের বসনিয়া যুদ্ধের সময় প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত হন এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। ইউরোপের আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাতগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত ওই যুদ্ধের নৃশংসতার জন্য ম্লাদিচসহ একাধিক শীর্ষ বসনিয়ান সার্ব নেতাকে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জে ১ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেউথা মোড় থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
গ্রেপ্তাররা হলেন—মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নতুন বস্তী এলাকার ফরিদ মোহাম্মদ সৈকত (৪৭), পশ্চিম সেওতা এলাকার খন্দকার আতিকুর রহমান রুবেল (৪০) এবং হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা কলাহাটি এলাকার রেজাউল করিম খান মিলন (৪১)।
ডিবি পুলিশ জানায়, মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলমের দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ মানবেন্দ্র বালোর তত্ত্বাবধানে এসআই অভিজিৎ চৌধুরীর নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ১ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ইনচার্জ মানবেন্দ্র বালো জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেউথা মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থেকে ১ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ৩১টি অবৈধ ঋণ অ্যাপের তালিকা প্রকাশ করেছে।
অনুমোদনবিহীন ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক করেছে বিএফআইইউ। এই সংস্থাটি সাধারণ মানুষকে এসব প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ গ্রহণ না করার জন্য সতর্ক করে দিয়েছে, পাশাপাশি ৩১টি মোবাইল অ্যাপের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে।
বিএফআইইউ জানায়, সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সহজ শর্তে ও দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে অনুমোদনবিহীন ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব অ্যাপ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত যোগাযোগের তালিকা, ছবি ও অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছে।
গ্রাহকদের উপর ঋণ আদায়ের নামে অযাচিত চাপ প্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো ঘটনা ঘটছে। বিএফআইইউ জানায়, এতে ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, অনুমোদনবিহীন অর্থ লেনদেন, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও হয়রানির ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে।
বিএফআইইউর প্রকাশিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত অ্যাপগুলো হলো—সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরা, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, টাকা ক্যাশ লোন, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও।
সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশে ঋণ প্রদান একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ও প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুসরণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণ প্রদান করা বৈধ নয়। মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার জন্য কোনো অনুমতি প্রদান করা হয়নি।
বিএফআইইউ আরও জানায়, অনুমোদনবিহীন এসব ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতারণা, আর্থিক অপরাধ ও মানিলন্ডারিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ২(শ)(৫) ধারা অনুযায়ী প্রতারণামূলকভাবে ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ একটি সম্পৃক্ত অপরাধ। একই আইনের ৪ ধারায় এ অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে।
এ ধরনের অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে ঋণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, মোবাইল ফোনে থাকা যোগাযোগের তালিকা, ছবি বা অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য প্রদান না করার পরামর্শ দিয়েছে বিএফআইইউ। একই সঙ্গে ঋণ দেওয়ার নামে অগ্রিম অর্থ, নিবন্ধন ফি, প্রসেসিং ফি বা অন্য কোনো অর্থ দাবি করা হলে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বিএফআইইউ বলেছে, অনুমোদনবিহীন এসব প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ নিয়ে কেউ প্রতারিত হলে বা এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত কোনো অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গ্রুপ, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানা থাকলে তা বিএফআইইউকে জানানো যাবে।
এ জন্য বিএফআইইউর ওয়েবসাইটে অভিযোগ করার পাশাপাশি লিখিতভাবে পরিচালক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, ১১ তলা, এনেক্স বিল্ডিং-২, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রধান কার্যালয়, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ ঠিকানায় তথ্য দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ