ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরান সংকটে ব্রিকসের বড় পরীক্ষা


ইরান সংকটে ব্রিকসের বড় পরীক্ষা

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক ও রাজনৈতিক সংঘাত এখন আর কেবল সাময়িক সংকট হিসেবেই দেখা যাচ্ছে না। বরং এটি আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির এক স্থায়ী বাস্তবতায় পরিণত হতে শুরু করেছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরেশিয়া অঞ্চলে উদ্ভূত এই নতুন অস্থিরতা আগামী বহু বছর ধরে গোটা বিশ্বের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গতিপথ নির্ধারণ করতে চলেছে।

ইরানের এই সংকট কেবল তার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং ইরান ব্রিকস এবং সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। রাশিয়ার সাথে পশ্চিমা বিশ্বের সংঘাত যেমন ইউক্রেন যুদ্ধের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে প্রতিফলিত হয়, তেমনটি ইরানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরিতা সরাসরি প্রতিফলিত হচ্ছে। ফলে একটি বিভক্ত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় ব্রিকস ও এসসিওর মতো সংস্থাগুলো কতটুকু এবং কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

উভয় জোটের জন্ম হয়েছিল দুই হাজারের দশকের শুরুতে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থার সংকটের ফলস্বরূপ। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ এবং ইরাক আক্রমণ যখন বিশ্ববাসীকে বুঝতে সক্ষম করে দেয় যে একমেরুর বিশ্বব্যবস্থা স্থিতিশীলতা বা নিরপেক্ষ নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ, তখনই ইউরেশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য ২০০১ সালে এসসিও এবং ২০০৯ সালে ব্রিকস আত্মপ্রকাশ করে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে ৫৩ অভিবাসীর মৃত্যু, পাচারকারীর ৩০ বছরের কারাদণ্ড

যাহোক, কোন জোটই সরাসরি পশ্চিমাবিরোধী বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করে না। এ সংযম দুটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রথমত, পশ্চিমাদের প্রতি ভিন্ন মত পোষণকারী দেশগুলোকে এক ছাতার নিচে রাখা। দ্বিতীয়ত, গ্লোবাল মেজরিটির যেসব দেশ একই সাথে চীন-রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চাইছে, তাদের দূরে না ঠেলাও ছিল। ফলে ব্রিকস ও এসসিও সাধারণ ঐক্যমতের নীতিতে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখে এসেছে।

তবে এই মধ্যপন্থার কৌশল এক ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি করেছে। যদি পশ্চিমারা কার্যকর নেতৃত্ব দিতে পারতো, তবে এমন জোট গঠনের প্রয়োজনই হতো না। তাই বিলম্বিত হলেও সংস্থা দুটিকে উত্তর-পশ্চিম ব্যবস্থার প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা ইরান সংকটকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

এই সংঘাত জোটের ভেতরের মতপার্থক্যও সামনে নিয়ে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কেবল রাশিয়াই স্পষ্ট নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে চীন, ভারতসহ অন্যান্য সদস্যরা অনেক বেশী সতর্ক অবস্থান নিয়েছে, যা সমন্বিত কোনো রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করছে।

একই সময়ে সংঘাতটি কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। প্রথমত, পার্সি উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে জ্বালানি পরিবহনের দীর্ঘদিনের স্থিতিশীলতা এখন চরম হুমকির সম্মুখীন। রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের মতো নিজস্ব সম্পদ সমৃদ্ধ কোনো দেশের জন্য এটি সামাল দেওয়া সহজ হলেও চীন ও ভারতের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এটি গভীর উদ্বেগের বিষয়।

আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি কঠিন, চাপ অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র: মার্কো রুবিও

দ্বিতীয়ত, পরিবহন এবং লজিস্টিকস খাতে নতুন সংকট হানা দিয়েছে। রাশিয়াকে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার সাথে যুক্ত করার জন্য আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডোরে ইরানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত পর্যায়ক্রমে এই অঞ্চলে বিনিয়োগ এবং পরিকল্পনার জটিলতা তৈরি করবে। এর সাথে যদি ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে, তবে মধ্য এশিয়ার অর্থনৈতিক কৌশলগুলোও পুনর্বিন্যাস করতে হবে।

তৃতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যে আঞ্চলিক মিত্র ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে চাপ বাড়ছে। মার্কিন বৈরিতার ফলে অঞ্চলটির ধনী উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো নিজেদের ইসরায়েলের মতো সম্পূর্ণ সামরিকীকৃত সমাজে পরিণত করতে চাইছে না। ফলে তাদের কৌশলগত হিসাব-নিকাশ ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে।

তবে এই সংঘাত ব্রিকস ও এসসিওর জন্য একটি সুযোগও তৈরি করে। যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা বিশ্ব এখন আর বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বা উন্নয়নের কাণ্ডারি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। বরং অনেকেই তাদের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার উৎস হিসেবে দেখছে। ওয়াশিংটনের উপর ইরানকেন্দ্রিক দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত তাদের কূটনৈতিক মনোযোগকে ক্ষয় করবে এবং একাধিক সংকট একসাথে সামলানোর সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এর সুবিধা নেয়ার জন্য ব্রিকসকে কোনো কঠোর উগ্র জোট হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রতিটি দেশের ভিন্ন ভিন্ন স্বার্থ থাকা সত্ত্বেও নমনীয়তার সাথে কাজ করাই এই সংস্থাগুলোর আসল শক্তি। পশ্চিমা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যেভাবে কমছে, তাতে ব্রিকস ও এসসিও কৃত্রিম ঐক্য তৈরির চেষ্টা না করে নিজেদের নমনীয় ও সমন্বয়বাদী কাঠামো বজায় রাখলেই তাদের প্রাসঙ্গিকতা ও প্রভাব ভবিষ্যতে স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পেতে থাকবে।

আরও পড়ুন: আজ বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গাপূজা

আরটির বিশ্লেষণ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও হয়রানি বন্ধে বেরোবি উপাচার্যের জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বেরোবি প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫২ পি.এম


ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও হয়রানি বন্ধে বেরোবি উপাচার্যের জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিকসহ সব ধরনের সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধে 'জিরো টলারেন্স' নীতির ঘোষণা দিয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।


বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে অনুষ্ঠিত 'পাবলিক স্পেস, কর্মক্ষেত্র ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ' শীর্ষক প্রকল্পের কিক-অফ সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ইউএন উইমেনের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


অনুষ্ঠানে  নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার আদর্শ স্মরণ করে উপাচার্য  বলেন, "বেগম রোকেয়া বিশ্বাস করতেন যে, ভীতি, বৈষম্য বা সহিংসতায় সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠী পিছিয়ে থাকলে অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাঁর দেখানো আদর্শকে পাথেয় করে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি নিরাপদ ও সহিংসতামুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"


তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পাঠদানের স্থান নয়, এটি সমাজেরই একটি ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি। তাই সহিংসতা প্রতিরোধে শুধু ব্যক্তি উদ্যোগ নয়, প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন। আমরা অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, গোপনীয় এবং ভুক্তভোগীবান্ধব করতে কাজ করছি।"


শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে জোর দিয়ে উপাচার্য আরও বলেন, "আমাদের লক্ষ্য একটাই—ক্যাম্পাসে যেন প্রতিটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কোনো ধরনের ভয়, বৈষম্য বা হয়রানি ছাড়াই পড়াশোনা, কাজ এবং নিজেদের বিকাশের সুযোগ পান। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান হবে জিরো টলারেন্স।"


অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব, অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী, ইউজিসির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক মোসা. জেসমিন পারভীনসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউএন উইমেন, সুশীল সমাজ এবং বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জোরারগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৫ গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​সাকিব চৌধুরী চট্টগ্রাম

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫৪ পি.এম


জোরারগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৫ গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানা-পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিয়মিত মামলার আসামি সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মীরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাদিম হায়দার চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে এবং জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের সহায়তায় গত ৩০ জুলাই সকাল ১০টার দিকে আবুরহাট এলাকা থেকে চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ইছাখালী ইউনিয়নের পূর্ব ইছাখালী গ্রামের মোঃ নজরুল ইসলাম (৩২) ও মোঃ শেখ কামাল (২৮), মিঠানালা ইউনিয়নের রহমতাবাদ গ্রামের মোঃ আলমগীর (৩০) এবং কাটাছড়া ইউনিয়নের বামনসুন্দর গ্রামের মোঃ রাসেল (২৬)। তাঁদের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৪৪৮/৩২৩/৩০৭/৫১১ ধারায় নিয়মিত মামলা (মামলা নম্বর-২৩, তারিখ: ৩০/০৭/২০২৬) রয়েছে।
অন্যদিকে, একই রাতে জোরারগঞ্জ থানার এসআই মোঃ সাদ্দাম হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ নাইট ডিউটি করার সময় বারইয়ারহাট বাজারের রেলগেইট সংলগ্ন এলাকা থেকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করা অবস্থায় মোঃ জহির উদ্দিন (২৮) নামের আরেক যুবককে গ্রেপ্তার করেন। তিনি ইছাখালী ইউনিয়নের চরশরৎ বাংলা বাজার এলাকার বাসিন্দা। তাঁকেও ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জোরারগঞ্জ থানা-পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কারাকোরাম পর্বতমালায় তুষারধস : জিপিএস সিগন্যালে ৪টি মরদেহের অবস্থান শনাক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫৭ পি.এম


কারাকোরাম পর্বতমালায় তুষারধস : জিপিএস সিগন্যালে ৪টি মরদেহের অবস্থান শনাক্ত

পাকিস্তানের কারাকোরাম পর্বতমালায় বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি ভয়াবহ তুষারধসের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে বিশ্বখ্যাত নেপালি পর্বতারোহী নির্মল পূর্জাসহ ১০ জনের একটি দলের খোঁজ এখনো মিলছে না। অ্যালপাইন ক্লাব অব পাকিস্তান জানিয়েছে, ৮,০৪৭ মিটার উঁচু 'ব্রড পিক' পর্বতে তল্লাশি চলাকালীন ৪টি পরিচয়হীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিখোঁজ দলের মধ্যে পূর্জা, মার্কিন আরোহী ম্যালোরি গিস এবং নেপাল, ওমান ও পাকিস্তানের অনেক আরোহী রয়েছেন। তুষারধসের পর সম্প্রতি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভবপর হয়নি। তবে অ্যালপাইন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আয়াজ আহমেদ জানান, চারজন আরোহীর জিপিএস লোকেশন শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। শুক্রবার আবহাওয়া পরিষ্কার থাকায় উদ্ধারকাজ চলছে হেলিকপ্টার ও গ্রাউন্ড টিমের মাধ্যমে।

‘নিমস’ নামে পরিচিত পূর্জা ২০১৯ সালে মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ৮,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতার ১৪টি শৃঙ্গ জয় করে একটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। তাকে নিয়ে নেটফ্লিক্সে ‘ফোর্টিন পিকস’ শিরোনামের একটি ডকুমেন্টারি তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাবেক এই গুর্খা সেনা ২০২৪ সালে সম্পূরক অক্সিজেন ছাড়াই সবচেয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব শৃঙ্গ জয়ের রেকর্ড গড়তে সক্ষম হন।

১৪টি শৃঙ্গ দুবার জয়ের বিরল ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে তার পরিকল্পনা ছিল ‘চো ওইয়ু’ পর্বতে আরোহণ করার। সোমবার এক্সে প্রকাশিত তার একটি লেখায় তিনি জানান, ‘ব্রড পিকের কাছে আমি শুধু নিরাপদে ওঠা এবং নামার পথ চাচ্ছি। কোনো পর্বতকেই আমি হালকাভাবে নিই না।’

বিশ্বের ১২তম সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হিসাবে পরিচিত ব্রড পিক ভয়াবহ আবহাওয়ার জন্য বিখ্যাত। এর আগে ২০০৮ সালে পাশের কে-টু পর্বতে একটি তুষারধসের ফলে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় পর্বত বিপর্যয়ের ঘটনা হিসাবে বিবেচিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘গুপ্তচরদের আখড়া’ অভিযোগের মধ্যে জাপানে নতুন গোয়েন্দা সংস্থার যাত্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫৯ পি.এম


‘গুপ্তচরদের আখড়া’ অভিযোগের মধ্যে জাপানে নতুন গোয়েন্দা সংস্থার যাত্রা

নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে জাপানকে ‘গুপ্তচরদের আখড়া’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীভূত করার লক্ষ্যে, দেশটির নতুন জাতীয় গোয়েন্দা ব্যুরো শুক্রবার প্রথম বৈঠক করেছে।

গত মে মাসে পাস হওয়া একটি আইনের আওতায়, জাপান বিদ্যমান একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে আরও শক্তিশালী করে নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কেন্দ্রীয় সংস্থায় রূপ দিয়েছে।

এই খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র দ্বারা প্রচারিত হয়েছে।

নতুন জাতীয় গোয়েন্দা ব্যুরো বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে সংগৃহীত তথ্যগুলো একীভূত করবে এবং নবগঠিত জাতীয় গোয়েন্দা পরিষদে প্রতিবেদন দেবে। এই পরিষদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

জাপানি কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে মন্তব্য করে আসছেন যে, বিদেশি গুপ্তচরবৃত্তি ঠেকানো, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের জন্য, দেশটির গোয়েন্দা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।

সমালোচকদের মতে, গুপ্তচরবৃত্তি মোকাবিলায় টোকিওর বিদ্যমান নীতি ও আইন প্রয়োগ ব্যবস্থা চরমভাবে দুর্বল ও অপর্যাপ্ত।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস চলতি মাসে একটি প্রতিবেদনে জানায়, রাশিয়া জাপানকে ‘গুপ্তচরদের আখড়া’ হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে দেশটিকে কাজে লাগিয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে ইউক্রেন সরকারের একটি হিসাবের বরাত দিয়ে বলা হয়, রাশিয়ার ৯০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে জাপানি উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%