১০:৩৩ পি.এম
এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে পদক অর্জন করতে না পারলেও, আইসিসির প্রধান নির্বাহী কমিটির সহযোগী সদস্য প্রতিনিধি অভিরাম সিং যাদব মনে করেন, স্বাগতিক জাপানের সাফল্যকে শুধুমাত্র ফলাফলের মাধ্যমে বিচার করা উচিত নয়। তার মতে, একটি বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরকে ব্যবহার করে দেশের ক্রিকেটের ভিত্তি কিভাবে শক্তিশালী করা যায়, তার একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে জাপান কাজ করেছে।
অভিরাম উল্লেখ করেন, জাপান এশিয়ান গেমসকে শুধুমাত্র অংশগ্রহণের প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখেনি। বরং, তারা টুর্নামেন্টের মাধ্যমে সৃষ্ট সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
অভিরাম বলেন, ‘জাপান বুঝতে পেরেছিল যে এশিয়ান গেমস শুধুমাত্র অংশগ্রহণের জন্য কোনো প্রতিযোগিতা নয়। তারা ওই কয়েক দিনের বাইরে গিয়ে টুর্নামেন্টের পারিপার্শ্বিক সুযোগগুলো কীভাবে ক্রিকেটের প্রসারে কাজে লাগানো যায়, সেটাই ভেবে দেখেছে। অন্য সহযোগী দেশগুলোর এখান থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।’
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন প্রযুক্তি সনিকের ব্যবহার শুরু
জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (জেসিএ) এশিয়ান গেমসের বৃহৎ মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের পরিচিতি বৃদ্ধি করার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বাণিজ্যিক ও সরকারি সহযোগিতা বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দিয়েছে। তারা ভারতের মতো পরাশক্তির বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজনের সুযোগও গ্রহণ করেছে।
ভারতকে চাপে ফেলেছিল জাপান। ছবি: এপি
এশিয়ান গেমসের শুরু হওয়ার পূর্বে জাপানের কৌশলগত পরিকল্পনার একটি বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায় ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ২২ সেপ্টেম্বর সানো ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টি-টোয়েন্টির বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হয় জাপান। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি পাঁচ ওভারে নেমে এলেও, স্বাগতিকরা দুর্দান্ত লড়াই করে ভারতকে চাপে ফেলেছিল। শেষ পর্যন্ত তারা মাত্র ২ রানে হেরে যায়।
ভারত জয়ী হলেও, এই ম্যাচটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জাপানকে একটি উল্লেখযোগ্য পরিচিতি প্রদান করে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা জাপানি ক্রিকেটের সম্ভাবনাকে উন্মোচন করে।
আরও পড়ুন: সঞ্জু স্যামসনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে হারালো ভারত
অভিরাম মনে করেন, আইসিসি ক্রিকেটকে আরো বেশি দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার যে লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে, ভারত-জাপান ম্যাচ সেটির বাস্তব প্রতিফলন। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটকে আরো সার্বজনীন করা এবং নতুন নতুন দেশে খেলাটি ছড়িয়ে দেওয়ার কথা আইসিসি নিয়মিতই বলে থাকে। তবে আনন্দের বিষয় হলো, যখন মুখের কথার সঙ্গে কাজের প্রতিফলন দেখা যায়। ভারত ও জাপানকে এক মাঠে নিয়ে আসা তেমনই একটি বাস্তব উদাহরণ।’
এশিয়ান গেমসের মূল প্রতিযোগিতা শুরুর পূর্বে ক্রিকেটীয় অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয় জাপান। নিশিন শহরের কোরোগি স্পোর্টস পার্কের ক্রিকেট মাঠের সংস্কারকাজও সম্পন্ন করে দেশটি। এ মাঠেই বছরের শুরুতে আইসিসির পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহও ক্রিকেটে জাপানের এই অগ্রযাত্রাকে ইতিহাসের একটি গৌরবময় নতুন অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সব মিলিয়ে, এশিয়ান গেমসে পদক না পেলেও, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে জাপান যে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে, তা এখন সহযোগী দেশগুলোর জন্য অনুসরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: দিয়োমান্দে মার্তিন্সের ২৩ বছরের রেকর্ডে ভাগ বসালেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন