০২:১৯ এম
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের শক্তিশালী ভূমিকা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-এর সাথে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে (Atul Khare)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো। এই বৈঠক সোমবার (৬ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের এস-২৭২৯ কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশী সামরিক ও পুলিশ কন্টিনজেন্টগুলো কীভাবে পরিচালনা করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়াও, অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ বা প্রতিপূরণ (Reimbursement) দ্রুততর করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন, 'নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা' (WPS) এজেন্ডা এবং হাইতিতে বাংলাদেশের বিশেষায়িত পুলিশ কন্টিনজেন্ট মোতায়েনের প্রস্তুতির মতো দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের সূচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তিরক্ষীদের প্রতিপূরণের বিষয়গুলো সহজ করার জন্য জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্ট (DOS)-কে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি, মিশনগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় অবদানের জন্য তিনি ডিওএস-এর পরিবেশ বিভাগের প্রশংসা করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশ হিসেবে, কার্বন ফুটপ্রিন্ট হ্রাসে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, শান্তিরক্ষা মিশনে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সৌর প্যানেল স্থাপন করেছে। এই বিশেষায়িত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে মিশন এলাকাগুলোতে আরও ব্যাপকভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি স্থাপনে বাংলাদেশ কাজ করতে আগ্রহী।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোর প্রতি উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
'উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি' (WPS) এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নারী শান্তিরক্ষীদের জন্য নিরাপদ এবং অনুকূল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে আরো পরিবেশবান্ধব ও নারী-বান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এছাড়াও, প্রতিকূল এবং শত্রুভাবাপন্ন পরিস্থিতিতে শান্তিরক্ষীরা যাতে আরো দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে উন্নত প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর তিনি জোর দেন।
হাইতির বর্তমান অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশে প্রস্তুতি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বাংলাদেশ পুলিশ অত্যন্ত আধুনিক ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি বিশেষায়িত ফর্মড পুলিশ ইউনিট (Specialized FPUs) মোতায়েনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এসব ইউনিট সোয়াত (SWAT), র্যাপিড রেসপন্স প্ল্যাটুন, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ (EOD), ফরেনসিক, সাইবার ক্রাইম তদন্ত, নৌ-কার্যক্রম এবং মাদকবিরোধী অভিযানে বিশেষভাবে দক্ষ।
হাইতিতে এই সক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহারের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করার জন্য আগামী ১৫-১৭ জুলাই জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ পুলিশের একটি তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এমওইউ (MOU) আলোচনায় অংশ নেবে। তিনি জানান, পূর্ণাঙ্গ এফপিইউ মোতায়েনের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের ইউনিটের সাথে যৌথভাবে (Co-deploy) কাজ করতে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
পরিশেষে, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা এবং শৃঙ্খলার প্রশংসা করেন। তিনি পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার প্রশংসা করে হাইতিতে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উত্থাপিত প্রস্তাবসমূহ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন এবং বাংলাদেশের সাথে জাতিসংঘের অংশীদারিত্ব আগামীতে আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন