বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৫১ পি.এম
প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র ফিজিতে এইচআইভি সংক্রমণের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মেথামফেটামিন বা ‘মেথ’ মাদকের ব্যবহারের বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলেছে।
বর্তমানে ফিজির জনসংখ্যা ১০ লাখেরও কম, যেখানে প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন এইচআইভিতে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী এইচআইভি সংক্রমণের হার কমার প্রবণতার বিপরীতে, ফিজিতে সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ফিজি, যা পর্যটন নির্ভর দেশ, সাদা বালুর সৈকত, প্রবালপ্রাচীর ও মনোরম পরিবেশের জন্য পরিচিত, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রথম এইচআইভি সংক্রমণের ব্যাপক বিস্তারের তথ্য প্রকাশ করে।
দেশজুড়ে এইচআইভি পরীক্ষার পরিমাণ বাড়ানোর ফলে পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এতে দেখা যায়, সংক্রমণ কতটা দ্রুত ছড়াচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্য সংকট কতটা গুরুতর।
মঙ্গলবার, ফিজির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আতোনিও লালাবালাভু জাতীয় জরুরি অবস্থার ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ২০২৫ সালে নতুন করে ২ হাজার ১৬ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এই সংখ্যা ফিজিতে এইচআইভি সংকটের ভয়াবহতা এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
এদিকে, সেভ দ্য চিলড্রেন ফিজি জানিয়েছে, এইচআইভি সংক্রমণ এখন নবজাতকদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহে মাত্র দুই মাস বয়সী একটি শিশুর শরীরে এইচআইভি ও যক্ষ্মা (টিবি) শনাক্ত হয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া সবচেয়ে কম বয়সী রোগী। এইচআইভি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়, ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির যক্ষ্মাসহ বিভিন্ন সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৫৯টি শিশু তাদের মায়ের কাছ থেকে এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে। পাঁচ বছর আগে ধারণা করা হতো, ফিজিতে প্রতি ১৬৭ জনের মধ্যে একজন এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে শিরায় মাদক গ্রহণের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মাদক পাচারের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আমেরিকা অঞ্চল থেকে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও এশিয়ার বিভিন্ন লাভজনক বাজারে মাদক পাচারের ক্ষেত্রে ফিজি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ফিজিতে কনডমের কম ব্যবহার, সামাজিক কলঙ্ক এবং যৌনবাহিত সংক্রমণ এইচআইভি প্রাদুর্ভাব মোকাবিলাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। জাতিসংঘের এইচআইভি/এইডসবিষয়ক যৌথ কর্মসূচি ইউএনএইডসের ফিজি উপদেষ্টা রেনাটা রাম বলেছেন, উদ্বেগজনক পরিসংখ্যানও সংকটের পুরো চিত্র তুলে ধরছে না।
সিএনএনকে রাম বলেন, এইচআইভি দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এবং অনেক মানুষ যে নিজেদের অজান্তেই ভাইরাসটি নিয়ে বসবাস করছেন, এ দুটি বিষয় তাকে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন করছে। রামের তথ্য অনুযায়ী, ফিজিতে এইচআইভিতে আক্রান্তদের মধ্যে মাত্র ৩৯ শতাংশ জানেন যে তারা সংক্রমিত। আক্রান্তদের মাত্র ২২ শতাংশেরও কম চিকিৎসার আওতায় রয়েছেন।
চিকিৎসা না করা হলে এইচআইভি ধীরে ধীরে এইডসে রূপ নিতে পারে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দেয় এবং বিভিন্ন গুরুতর রোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। ফিজির জাতীয় স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালে এইচআইভিজনিত মৃত্যু হয়েছিল ২৫ জনের। চার বছর পর, ২০২৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ১১৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
ফিজিতে এইচআইভি সংক্রমণের বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। তবে ইউএনএইডসের ফিজি উপদেষ্টা রেনাটা রাম বলেন, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ এখন এইচআইভি ছড়ানোর অন্যতম প্রধান ও দ্রুত বাড়তে থাকা কারণ। একই সুঁই বা সিরিঞ্জ একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।
অপরাধী চক্রের মাধ্যমে ফিজিতে বিপুল পরিমাণ মেথামফেটামিন পাচার হচ্ছে। এই মাদক স্থানীয় মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ায় দেশটিতে মাদকাসক্তির সমস্যা তৈরি হয়েছে, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
ফিজির জাতীয় স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নতুন এইচআইভি সংক্রমণের যেসব ঘটনায় সংক্রমণের কারণ জানা গেছে, তার প্রায় অর্ধেকই ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাকি প্রায় অর্ধেক সংক্রমণ ঘটেছে যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে।
রাম বলেন, কনডমের কম ব্যবহার, একাধিক যৌনসঙ্গী, সীমিত এইচআইভি পরীক্ষা এবং সামাজিক কুসংস্কার ও লোকলজ্জার ভয়, এসব কারণও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, বীর্যসহ নির্দিষ্ট শরীরের তরল অন্য ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করলে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আতোনিও লালাবালাভু জানান, ফিজিতে প্রতি ৫০ জন গর্ভবতী নারীর মধ্যে একজন এইচআইভিতে আক্রান্ত। আক্রান্ত মা থেকে গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে শিশুর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমিত হতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এইচআইভি মোকাবিলায় অগ্রগতি হলেও ফিজির পরিস্থিতি সেই বৈশ্বিক প্রবণতার বিপরীত।
রামের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে নতুন এইচআইভি সংক্রমণ প্রায় ৪২ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে, একই সময়ে ফিজিতে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চিকিৎসার আওতায় আসার ক্ষেত্রেও ফিজি বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।
রাম জানান, বিশ্বজুড়ে এইচআইভিতে আক্রান্ত মানুষের প্রায় ৭৮ শতাংশ চিকিৎসার আওতায় থাকলেও ফিজিতে এই হার অনেক কম। চিকিৎসার আওতায় থাকা মানুষের হারেও ফিজি বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্বজুড়ে এইচআইভিতে আক্রান্ত প্রায় ৭৮ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছেন, যেখানে ফিজিতে চিকিৎসা গ্রহণকারীর হার এর চেয়ে অনেক কম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের আকাশে সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি জানিয়ে ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে।
একটি বিবৃতিতে হুতিরা উল্লেখ করেছে যে, ইয়েমেনের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় মারিব গভর্নরেটে অভিযান চলাকালীন নিজেদের তৈরি সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমানটি ধ্বংস করা হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র ফাইটার জেটের উপর আঘাত হানছে এবং পরে মরুভূমিতে বিমানের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শন করতে হুতি যোদ্ধাদের দেখা যায়। এক পর্যায়ে, সৌদি পতাকার প্রতীক এবং ‘৫৫৩৯’ শনাক্তকরণ নম্বরসহ বিমানের একটি লেজের অংশও তারা তুলে ধরেন।
সিএনএন জানিয়েছে, প্রচারিত ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, সৌদি আরব সরকারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মার্কিন বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ও সামরিক বিশ্লেষক সেড্রিক লেটন ভিডিওর ধ্বংসাবশেষ দেখে জানান, সেখানে থাকা চিহ্নগুলো সৌদি বিমানবাহিনীর এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের সঙ্গেই মেলে।
এফ-১৫ বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। কয়েক বছর ধরে গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত ইয়েমেনে, সম্প্রতি হুতিরা সৌদি সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই আরও তীব্র করেছে। গত সপ্তাহে তারা লোহিত সাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী ও কৌশলগত দ্বীপ দখল করে, যা আগে হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে সৌদি তেল রপ্তানির নিরাপদ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাট, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা এবং নির্মাণকাজে ব্লক ইটের ব্যবহার বৃদ্ধি নিয়ে অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই সভার আয়োজন করা হয় জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর, বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে, যা গতকাল বুধবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন।
প্রধান অতিথি পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজে ব্লক ইটের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গত ১৮ জুলাই ২০২৬ অনুষ্ঠিত পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক ফলোআপ সভার সিদ্ধান্তসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে ব্লক ইটের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাহ উদ্দীন সভাপতিত্ব করেন।
এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যের পাশাপাশি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ইটভাটা, এর ক্ষতিকর দিক, উন্নত প্রযুক্তির ইটভাটা, ব্লক ইট ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা ও করণীয় এবং ইটভাটা সংক্রান্ত সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন পরিবেশ অধিদপ্তর, বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আসাদুর রহমান।
এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক দেলোয়ার হোসেন ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের উল্লেখযোগ্য ধারাসমূহ সম্পর্কে আলোকপাত করেন।
পরবর্তীতে ব্লক ইট তৈরিতে কারিগরি সহায়তা প্রদানকারী এনজিও কোডেক (কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার)-এর ফোকাল পারসন সৈয়দ মাহবুবুর রহমান ব্লক ইট বিষয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
সভায় গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মধুসূদন দেবনাথ জানান, তাদের বর্তমান নির্মাণকাজে প্রায় ৯৫ শতাংশ ব্লক ব্যবহার করা হচ্ছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীরা জানান, তাদের কার্যক্রমে যথাক্রমে ৪০ শতাংশ ও ২০ শতাংশ ব্লক ব্যবহার করা হচ্ছে।
সভায় কাজী কংক্রিটের স্বত্বাধিকারী মো. জিয়াউল ইসলাম ব্লক তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মধুসূদন দেবনাথ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঞ্জুর রশিদ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাফিজ আক্তার, বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন বিথী, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রতিনিধিরা। এছাড়া বাগেরহাট জেলার ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি শেখ আব্দুস সাত্তারসহ বিভিন্ন ইটভাটার মালিক, কাঠ পোড়ানো পাঁজা ভাটার মালিক এবং ব্লক ইট উৎপাদনকারীরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান নরওয়ের সঙ্গে কারিগরি সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন, যা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত আরাল্ড গুলব্রান্ডসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বৈঠকের সময় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা এবং স্থানীয় সরকারে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী মন্তব্য করেন, "স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও কারিগরি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি আরও বলেন, নরওয়ের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি, স্থানীয় সরকারে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে নরওয়ের বাংলাদেশ মিশনের ডেপুটি হেড আলেকজান্ডার ফাল্ক-বিল্ডেন, রাজনৈতিক উপদেষ্টা সারোয়ার জাহান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা মহানগর আনসার (ডিএমএ) পশ্চিম জোনের সদস্যরা দুই নারীসহ তিনজনকে আটক করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতাল থেকে তাদের আটক করা হয়, প্রতারণার অভিযোগে।
আটককৃতদের মধ্যে আছেন আবু বক্কর সিদ্দিক (৪৮), মোছা. মাহমুদা খাতুন (৪০) এবং মোছা. মনিকা। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শেরেবাংলানগর থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আনসার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শেরেবাংলা নগর থানার আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মামুন-অর-রশিদের নেতৃত্বে হাসপাতাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় হাসপাতালের ৬৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের সামনে রোগীদের রক্তের নমুনা সংগ্রহের সময় তিনজনকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটককৃতরা হাসপাতালের বৈধ কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অসহায় রোগীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে আসছিলেন। পাশাপাশি বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করানোর কথা বলে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করতেন বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
অভিযানে মামুন-অর-রশিদকে সহযোগিতা করেন পিসি মো. সাদেক হোসেন বাচ্চু ও এপিসি মো. শফিকুল ইসলাম।
হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা ও রোগীদের স্বার্থ রক্ষায় আটক তিনজনকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ