মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:২৩ পি.এম
ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পরিবেশ, প্রাণী ও জনস্বাস্থ্যকে পৃথক সমস্যা হিসেবে দেখা সম্ভব নয়, এমন মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, সকল কার্যক্রমকে মানুষের, প্রাণীর, উদ্ভিদের ও বাস্তুতন্ত্রের সমন্বিত দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়ে নিতে হবে।
আজ ইতালির রাজধানী রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর সদর দপ্তরে ‘কৃষিখাদ্য ব্যবস্থায় ওয়ান হেলথ কার্যক্রম’ শীর্ষক বৈশ্বিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।
২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, কৃষিখাদ্য ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা এই ক্ষেত্রগুলোর সম্মিলিত সুস্থতার ওপর নির্ভরশীল। পরিবেশ মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ, যা গঙ্গা ব-দ্বীপে অবস্থিত এবং ঘনবসতিপূর্ণ নিম্নভূমিতে রয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস ও পরিবেশ বিপর্যয়ের উচ্চ ঝুঁকির সম্মুখীন।
তিনি আরও জানান, একই ভূদৃশ্যে মানুষ, বাস্তুতন্ত্র ও কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকায় একটি খাতে চাপ সৃষ্টি হলে তার প্রভাব দ্রুত অন্য খাতেও পড়ে। তিনি বলেন, পরিবেশ, প্রাণী ও জনস্বাস্থ্যকে বিচ্ছিন্নভাবে বিবেচনা করে কার্যকর সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রায় দুই দশক ধরে ওয়ান হেলথকে কেবল একটি ধারণা হিসেবে নয়, বরং বাস্তব শাসনব্যবস্থার নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে অংশীদারত্ব বিবেচনা করে কাঠামো গড়ে তুলছে। এ অভিজ্ঞতার আলোকে, বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়, তথ্য বিনিময় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ওয়ান হেলথ কাঠামোয় পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রকে কেন্দ্রীয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে এবং জেলা ও প্রান্তিক পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে টেকসই সমন্বয় গড়ে তুলতে পরিকল্পিত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রয়োজন। বাংলাদেশের জাতীয় ওয়ান হেলথ কাঠামোয় পরিবেশ খাতকে মূল অংশীজন হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। যৌথ পরিকল্পনা ও সম্পদের মাধ্যমে এ অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। প্রস্তাবিত ওয়ান হেলথ তথ্যকেন্দ্র দেশগুলোর বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
আগামী নভেম্বরে আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য কপ৩১-এর আগে এ সম্মেলনকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, রোমের আলোচনার অভিজ্ঞতা কপ৩১-এর আলোচনায় তুলে ধরতে এবং জলবায়ু ও পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিষয়ে সমন্বিত বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ কাজ করবে।
তিনি বাংলাদেশের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য দেশের কাছ থেকে শেখার প্রস্তুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। সম্মেলনের আলোচনা বাস্তব কর্মসূচি, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ের সক্ষমতায় রূপ দেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
উদ্বোধনী অধিবেশনে এফএও’র মহাপরিচালক ডংইউ কু, সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গি পার্মেলাঁ, তানজানিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মউইগুলু শেম্বা এবং সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী দুজো মাচুত, মোজাম্বিকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী উসেন হিলারিও, কেপ ভার্দের কৃষিমন্ত্রী ইভলিন নায়ার মন্তেইরো রামোস, ফ্রান্সের কৃষিমন্ত্রী জেনিভার্ড অ্যানি, আয়ারল্যান্ডের কৃষিমন্ত্রী টি. ডি.মার্টিন হেইডনসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিগণ, বিভিন্ন সংস্থার প্রধান ও বিশেষজ্ঞগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিস্তার এবং সামরিক শক্তির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে তিনি বলেন, বিশ্বে বিভিন্ন সংকট একে অপরের থেকে আলাদা নয়; এগুলো একটি একই গল্পের অংশ। এই গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে ক্ষমতা—কার হাতে তা রয়েছে এবং কার কাছ থেকে তা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
গাজায় চলমান নজিরবিহীন প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রসঙ্গ তুলে ধরে গুতেরেস বলেন, হামাসের ভয়াবহ হামলার প্রায় তিন বছর হতে চলেছে। কিন্তু এরপর গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর যে হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের সময়কালে দেখা অন্য যেকোনো ঘটনার তুলনায় এটি নজিরবিহীন।
তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর আন্তর্জাতিক বিচার আদালত একটি পরামর্শমূলক মতামতে স্পষ্টভাবে বলেছে, গাজায় জাতিসংঘকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে এবং আমাদের কর্মী ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের সুরক্ষা দিতে হবে। সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন ও আদালতের আদেশ মেনে চলতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিস্তার প্রসঙ্গে গুতেরেস বলেন, বিশ্ব ক্ষমতা বর্তমানে তিনটি প্রধান উপায়ে পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রথমত, রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে নতুন নতুন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রভাব কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ক্ষমতা ক্রমেই ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের হাতে চলে যাচ্ছে। তৃতীয়ত, মানুষের কাছ থেকে যন্ত্রের দিকে ক্ষমতার স্থানান্তর ঘটছে, যার মধ্যে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র তৈরির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।
বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার প্রতিষ্ঠান ও কাঠামো এসব পরিবর্তন মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত নয় বলে মন্তব্য করে গুতেরেস বলেন, আমাদের বিশ্বের বিভাজনের রেখাগুলো আরো প্রশস্ত হচ্ছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ সম্পর্কেও গুতেরেস বক্তব্য দেন। তিনি প্রতিবেশী দেশে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের সমালোচনা করে বলেন, এর ফলে ইউক্রেন জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন করে পরিচালিত একটি বর্বর যুদ্ধের শিকার হয়েছে। সম্মুখসারির যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে এখনো বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছে।
যুদ্ধ নয়, শক্তির আহ্বান জানিয়ে গুতেরেস বলেন, একুশ শতকে শান্তি মানে শুধু সংঘাতের অনুপস্থিতি নয়। শান্তি হলো সংযমের উপস্থিতি। একইভাবে প্রযুক্তিগত বা অর্থনৈতিক শক্তিও একা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।
তিনি বলেন, আমাদের এমন একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে ক্ষমতা আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কার জীবন ও ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা নির্ধারণের চূড়ান্ত মাপকাঠি শক্তি হতে পারে না।
নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য হলো চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষদিকে বিদ্যমান বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই পরিষদে আফ্রিকার পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব না থাকা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। এ অবস্থায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার জন্য অন্তত একটি স্থায়ী আসন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গুতেরেস। তিনি বলেন, একুশ শতকের নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী আসন না থাকা অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য। এটি অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে।
নিরাপত্তা পরিষদের ১০টি অস্থায়ী সদস্যপদ অঞ্চলভিত্তিকভাবে বণ্টন করা হলেও এসব সদস্যের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মতো ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা নেই। আফ্রিকান ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার জন্য দুটি স্থায়ী আসন এবং আরো দুটি অস্থায়ী আসনের দাবি জানিয়ে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বনেতাদের সাধারণ বিতর্কে অংশগ্রহণ করছেন, আর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশন শুরু হয় জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের শেষ সাধারণ পরিষদ ভাষণের মাধ্যমে।
গুতেরেস তার শেষ ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংকট নিয়ে সতর্কবার্তা প্রদান করেন। তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠা, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার এবং পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
গুতেরেসের এই শেষ ভাষণ এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন বিশ্ব একাধিক যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জলবায়ু সংকট, বাস্তুচ্যুতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। তার বক্তব্যে এসব বৈশ্বিক সংকটের পাশাপাশি জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ ভূমিকা ও সংস্কারের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়।
এই বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের মধ্যে ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের ভাষণে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন। তার বক্তব্যে দেশের জাতীয় অগ্রাধিকারের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট, টেকসই উন্নয়ন, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।
অন্যদিকে, সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে থেকে ড. খলিলুর রহমান অধিবেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ফলে একই অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে দেশের বক্তব্য তুলে ধরছেন, আর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন— যা এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের উপস্থিতিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে গুতেরেস এবং তার স্ত্রীর শুভেচ্ছা কুশল বিনিময়ের পর ফটোসেশনও অনুষ্ঠিত হয়।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশন এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সামনে একাধিক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। গুতেরেসের শেষ ভাষণ সেই সংকটের একটি সামগ্রিক চিত্র সামনে এনেছে। আর সেই বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে বাংলাদেশের পক্ষে একদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য, অন্যদিকে সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে ড. খলিলুর রহমানের দায়িত্ব পালন— দুই ভূমিকাতেই বাংলাদেশের উপস্থিতি দৃশ্যমান হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন ‘আত্মহত্যার’ সময় ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে উপস্থিত ছিলেন।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি এ তথ্য প্রদান করেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই সময় তিনি এলাকার নেতা–কর্মীদের সঙ্গে খাবার খাচ্ছিলেন। খাওয়া শেষে মরিয়ম খেয়েছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে তিনি মরিয়মের ঘরটি ভেতর থেকে বন্ধ পান। পরে তিনি পুলিশকে খবর দেন।
রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর রাতেই গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
সোমবার আদালত গাজী নজরুলের চার দিনের এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গতকাল মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব ডিবি পুলিশকে দেওয়া হয়।
মরিয়মের লাশ উদ্ধারের পর গাজী নজরুল বলেছিলেন, তিনি ঘটনার সম্পর্কে কিছু জানেন না। ঘটনার সময় তিনি বাসায় ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গাজী নজরুল ইসলাম ঘটনার সময় বাসায় থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, সকালে বাসা থেকে বের হয়ে বিভিন্ন কাজ সেরে বেলা দুইটার দিকে বাসায় ফেরেন। দুপুরে বাসায় কিছু নেতা–কর্মী এসেছিলেন। তাদের সঙ্গে কথা বলার পর একসঙ্গে বসে দুপুরের খাবার খান।
খাওয়া শেষে মরিয়ম খেয়েছে কি না, সে খোঁজ নিতে তিনি তার কক্ষের সামনে গিয়ে দেখেন, ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে দরজা ভাঙার পর ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, গাজী নজরুল দাবি করেছেন, মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভালো ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেন, তাদের যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটির কারণে মরিয়ম মানসিক অশান্তিতে ছিলেন। তিনি বলেন, "এখনো মানুষ সেটা দেখে, এমনটা মনে করে নানা সময়ে তার কাছে বিষয়টি তুলতেন।"
এদিকে রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন গাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলাম।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। আবেদনে তিনি আদালতকে জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা।
আবেদনে ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেছেন, "আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে মামলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা মামলার তদন্তে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।"
তবে নজরুলের প্রথম স্ত্রী রিমান্ডে কী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, তা জানাতে পারেননি পুলিশ কর্মকর্তা সালাউদ্দিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইল পৌর কর্মচারী সংসদের ২০২৬ সালের ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে টাঙ্গাইল পৌরসভার উচ্চমান সহকারী মো. শাহাদৎ হোসেনকে সভাপতি এবং সাঁট-লিপিকার মিজানুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটিতে নুরে আলম ভাসানীকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, রনজিত চন্দ্র পালকে সহ-সভাপতি, আনিসুর রহমানকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং রিদুয়ান নাজমুল রিয়নকে সহ-সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এছাড়াও আমিনুর রহমান (হিসাব রক্ষক) সাংগঠনিক সম্পাদক, সোনা মিয়া অর্থ-সম্পাদক, মো. জাহিদুল ইসলাম সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক, মো. বিন তারেক দপ্তর সম্পাদক এবং বুলবুলকে সহ-দপ্তর সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটিতে আমিনুর রহমান (সার্ভেয়ার) জনসংযোগ সম্পাদক, মো. নাজমুল হোসাইন চাকরি ও আইন বিষয়ক সম্পাদক, মো. শাহীন আলম শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, মোস্তফা কামাল সরকার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং সাদিকুল ইসলাম মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
লিজা আক্তারকে মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, মো. কাইয়ুম খানকে ক্রীড়া সম্পাদক, মো. রোকন মিয়াকে সহ-ক্রীড়া সম্পাদক, সাঈদা খানম বন্যাকে স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক, মারিয়া আফরোজ ঝুমুরকে সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক, শামীমকে পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং মো. শাহিনুর ইসলামকে সহ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে।
এছাড়াও কার্যকরী সদস্য হিসেবে রয়েছেন মো. মুকুল মিয়া, মো. মাজহারুল ইসলাম, মো. রফিক আকন্দ, মো. জসিম মিয়া, মো. আমিনুল ইসলাম (সম্রাট), মেহেদী হাসান, সাকিব মোল্লা, সোলাইমান মোল্লা, আজিজুল হক, আরিফুর রহমান ও ফরিদুর রহমান সজিব।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পৌর কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সাবেরা সুলতানা ও সভাপতি এ কে এম নুরুজ্জামান স্বাক্ষরিত নথিতে টাঙ্গাইল পৌর কর্মচারী সংসদের ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি অনুমোদনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
নবগঠিত কমিটির নেতারা জানান, পৌর কর্মচারীদের পেশাগত অধিকার, ন্যায্য দাবি, কল্যাণ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারে তারা কাজ করবেন। একই সঙ্গে কর্মচারীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ