প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন ‘আত্মহত্যার’ সময় ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে উপস্থিত ছিলেন।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি এ তথ্য প্রদান করেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই সময় তিনি এলাকার নেতা–কর্মীদের সঙ্গে খাবার খাচ্ছিলেন। খাওয়া শেষে মরিয়ম খেয়েছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে তিনি মরিয়মের ঘরটি ভেতর থেকে বন্ধ পান। পরে তিনি পুলিশকে খবর দেন।
রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর রাতেই গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
সোমবার আদালত গাজী নজরুলের চার দিনের এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গতকাল মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব ডিবি পুলিশকে দেওয়া হয়।
মরিয়মের লাশ উদ্ধারের পর গাজী নজরুল বলেছিলেন, তিনি ঘটনার সম্পর্কে কিছু জানেন না। ঘটনার সময় তিনি বাসায় ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গাজী নজরুল ইসলাম ঘটনার সময় বাসায় থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, সকালে বাসা থেকে বের হয়ে বিভিন্ন কাজ সেরে বেলা দুইটার দিকে বাসায় ফেরেন। দুপুরে বাসায় কিছু নেতা–কর্মী এসেছিলেন। তাদের সঙ্গে কথা বলার পর একসঙ্গে বসে দুপুরের খাবার খান।
খাওয়া শেষে মরিয়ম খেয়েছে কি না, সে খোঁজ নিতে তিনি তার কক্ষের সামনে গিয়ে দেখেন, ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে দরজা ভাঙার পর ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, গাজী নজরুল দাবি করেছেন, মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভালো ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেন, তাদের যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটির কারণে মরিয়ম মানসিক অশান্তিতে ছিলেন। তিনি বলেন, "এখনো মানুষ সেটা দেখে, এমনটা মনে করে নানা সময়ে তার কাছে বিষয়টি তুলতেন।"
এদিকে রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন গাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলাম।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। আবেদনে তিনি আদালতকে জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা।
আবেদনে ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেছেন, "আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে মামলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা মামলার তদন্তে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।"
তবে নজরুলের প্রথম স্ত্রী রিমান্ডে কী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, তা জানাতে পারেননি পুলিশ কর্মকর্তা সালাউদ্দিন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন