বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:৫৫ পি.এম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই এসেছে বৈষম্যমুক্ত ও ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা, খুন, গুম, হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও আয়নাঘর থেকে মুক্তির জন্য।
তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর মিরপুর জোন আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন। সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দাবির বিষয়েও তিনি কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ রাষ্ট্র ও জাতির ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মতো চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর অনেকের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ তা’য়ালা হতাশ হতে নিষেধ করেছেন, এরপরই জুলাই দেশে এবং জাতির মুক্তির পয়গাম নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, জুলাই এসেছে ঘূর্ণিঝড় হয়ে, যা ফ্যাসিবাদকে তাসের ঘরের মতো উড়িয়ে দিয়েছে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর তিনি চিন্তায় ছিলেন ‘এই আসলাম’ বলেই ফিরেছেন। এভাবে ১৩ বার ফেল করেছন। শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুব সমাজ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এবং তারা ফাঁসির রশি নিয়ে প্রস্তুত আছে। তিনি প্রশাসনকে আহ্বান জানান যে, জুলাই গণহত্যার বিচারের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
বর্তমান সরকার ও সংসদ নিজেদেরকে জুলাই বিপ্লবের ফসল হিসেবে উল্লেখ করে, ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের প্রতি জুলাই বিপ্লবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে। তবে তিনি শুধুমাত্র বিচার নয় বরং জুলাই যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করতে হবে। আহত এবং পঙ্গুত্ববরণকারী যোদ্ধাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, জুলাই শহীদদের জাতীয় বীরের মর্যাদা দিতে হবে। তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্যও যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। তিনি দাবি করেন, সরকারের কাছে যে, জুলাই যোদ্ধাদের নামে মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ও সড়কের নামকরণ করতে হবে, যাতে তাদের পরিবার গর্ববোধ করতে পারে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের পরিচালনায় ছিল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান এমপি, কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন এমপি, শহীদ মাহফুজুর রহমানের পিতা আব্দুল মান্নান, শহীদ সাংবাদিক হাসান মেহেদীর পিতা মোশাররফ হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক হারুন অর রশীদ খান এবং উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল’র উদ্যোগে 'সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মূল্যায়ন' শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সেমিনারের মুখ্য আলোচক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ডেজিগনেট) প্রফেসর ড. আনিছুর রহমান পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মূল্যায়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপস্থাপন করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের গুণগত মান নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও মানসম্মত পরীক্ষা ব্যবস্থা অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা এবং বিজ্ঞানসম্মত মূল্যায়ন পদ্ধতির কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ন্যায্যতা, বস্তুনিষ্ঠতা, নির্ভুলতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা যাচাইয়ের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
এ প্রসঙ্গে তিনি পরীক্ষকের দায়িত্বকে বিচারকের দায়িত্বের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় ব্যক্তিগত পক্ষপাত বা আবেগ নয়, বরং নিরপেক্ষতা, ন্যায়বিচার এবং পেশাদারিত্বই হওয়া উচিত একজন পরীক্ষকের প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসি-এর পরিচালক প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক জোয়ারদার। তিনি বলেন, মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতকরণে একটি কার্যকর পরীক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও মানসম্মত মূল্যায়নের মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান, দক্ষতা এবং সক্ষমতা যথাযথভাবে নিরূপণ করা সম্ভব।
সেমিনারে প্রশ্নপত্র প্রণয়নের মৌলিক নীতিমালা, প্রশ্নের মান ও ভারসাম্য রক্ষা, ব্লুমস ট্যাক্সোনমি অনুসরণ, ফলাফলভিত্তিক শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মূল্যায়ন পদ্ধতি, উত্তরপত্র মূল্যায়নে নিরপেক্ষতা, অভিন্ন মূল্যায়ন মানদণ্ড অনুসরণ এবং পরীক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এ সময় অংশগ্রহণকারী শিক্ষকবৃন্দ বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন মতামত, অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ উপস্থাপন করেন এবং প্রাণবন্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এস এম আতিয়ার রহমান, ইংরেজি বিভাগের অ্যাডভাইজর প্রফেসর ড. গাজী আবদুল্লাহেল বাকী, আইকিউএসি-এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মঈন উদ্দিন ও মো. মুস্তাফিজুর রহমান, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষকবৃন্দ এবং অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টিসহ ৪০ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারটি অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, প্রাণবন্ত আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ছবি এইআই নির্মিত।
ভারতের নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যে বিক্ষোভ চলছে, সেটিতে এবার একটি অভিনব ইন্টারনেট ট্রেন্ড যুক্ত হয়েছে। এই বিক্ষোভে জেন-জি আন্দোলনকারীরা বিখ্যাত নরওয়েজিয়ান ফুটবলার আর্লিং হালান্ডকে প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছেন।
কিছু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী এবং কৌতুকশিল্পী মজা করে বলছেন, যে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের ভাগ্য এখন নাকি নির্ভর করছে নরওয়ের ফুটবলার আর্লিং হালান্ডের ওপর।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আলোচনায় থাকা ২৫ বছর বয়সী এই তারকা স্ট্রাইকার গত দুই সপ্তাহে ইন্টারনেটে মজার ছলে ‘পিপলস প্রিন্সেস’ উপাধি পেয়েছেন। আর সেই মিম সংস্কৃতিতে তাকে এখন ভারতের শিক্ষা সংকটের ‘সমাধানকারী’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে নরেন্দ্র মোদির নাম ব্যবহার করে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে মজা করে পোস্ট করা হয়, ‘আমার নাম নরেন্দ্র মোদি। হালান্ড যদি এই পোস্টে রিপ্লাই দেয়, তবে আমি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করব।’
পোস্টটিতে দ্রুত হাজার হাজার মন্তব্য জমা পড়ে। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘একটা দেশকে সাহায্য করো।’ আরেকজন মজা করে বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, হালান্ডের কমেন্ট করার সম্ভাবনা প্রধানের পদত্যাগ করার চেয়ে ১০০ গুণ বেশি।’
কৌতুকশিল্পী অনির্বাণ দাশগুপ্তও যোগ দেন এই মিমে। তিনি লেখেন, ‘আর্লিং, এটাকে হেড করে গোল করো—এটাই হবে মৌসুমের সেরা গোল।’ সোশ্যাল মিডিয়ার এই ট্রেন্ড রাস্তায় চলমান বিক্ষোভেও প্রভাব ফেলেছে। মুম্বাইয়ের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা হালান্ডের বিখ্যাত ‘ভাইকিং রো’ মেডিটেশন সেলিব্রেশন অনুকরণ করেন।
মূলত, রাজনৈতিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তরুণ প্রজন্ম তাদের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশের জন্য মিম এবং ইন্টারনেট সংস্কৃতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে, ভারতের এই ‘প্রথম বড় জেন-ജി আন্দোলন’ স্লোগান ও বক্তব্যের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল কনটেন্ট দিয়েও সমানভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬ এর ফাইনালে স্পেনের কাছে শিরোপা হারানোর হতাশা কাটানোর আগেই আবারও মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের। যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলে, তবে চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে পারে বহুল প্রতীক্ষিত ফিনালিসিমা। এই ফিনালিসিমা প্রতিযোগিতায় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষ হিসেবে লামিন ইয়ামালের স্পেনের মোকাবেলা করবে।
স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল এবং ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা আবারও ম্যাচটি আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এই ম্যাচটি ২০২৪ কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। এই ম্যাচটি দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তায় ছিল।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ম্যাচটি গত ২৭ মার্চ কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সেখানে ম্যাচ আয়োজন সম্ভব হয়নি। এর পর নতুন ভেন্যু নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। স্পেন চেয়েছিল মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়াম এবং আর্জেন্টিনা চাইছিল বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়াম। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
তবে নতুন করে ম্যাচটি আয়োজনের সম্ভাবনা এখন জোরালো হয়েছে। মার্কারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ফিফার আন্তর্জাতিক উইন্ডোর মাঝেই ফিনালিসিমা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে দিন-তারিখ অথবা ভেন্যু ঘোষণা করা হয়নি।
যদি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আবারও ফুটবল বিশ্বের দুই শক্তিশালী দলের লড়াই উপভোগ করার সুযোগ পাবেন সমর্থকরা। বিশেষ করে মেসি ও ইয়ামালের সম্ভাব্য দ্বৈরথ ঘিরে ইতোমধ্যে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য জনাব মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘আজকের রাজনীতির প্রধান প্রশ্ন হলো দেশের মূল সংকট কোথায়? ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার ও সংসদ গঠিত হলেও জনগণের আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। কিন্তু গত পাঁচ মাসে দলীয়করণ, দুর্নীতি, অর্থপাচার ও ভিন্নমতের ওপর নিপীড়ন যেভাবে ফিরে আসছে, তাতে প্রশ্ন জাগে আমরা কি আবারও সেই পুরোনো অন্ধকারে ফিরে যাচ্ছি?’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘যে দলীয়করণ ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে রক্ত দিয়েছি, হাজারো মানুষ জীবন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, সেই একই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটে পাঁচ কোটি মানুষ ৮৪ দফা সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে রায় দিয়েছেন। এই গণভোট জনগণের সরাসরি রায়ের প্রতীক, যা যে কোনো সংসদীয় আইনের চেয়েও শক্তিশালী। সুতরাং গণভোটে দেওয়া জনগণের রায় বাস্তবায়ন করতেই হবে।’
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ২০২৬) বিকালে দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমিতে দিনাজপুর জেলা ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোট: জনআকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে সরকারের দায় ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দিনাজপুর জেলা আমির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি, রংপুর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রব্বানী এমপি এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও দিনাজপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ড. এনামুল হক।
সেমিনারে বক্তব্য দেন রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল টিমের সদস্য ও দিনাজপুরের সাবেক জেলা আমির মো. আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক জেলা আমির মো. আফতাব উদ্দীন মোল্লা, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রাজিবুর রহমান পলাশ, দিনাজপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শামছুল মুক্তাদির, জাগপা কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরুল কায়েস রুপম, জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট মাইনুল আলম, দিনাজপুর জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ এ কে এম আফজালুল আনাম, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহা, এনডিএফের সাধারণ সম্পাদক ডা. আফসার আল মাহমুদ, দিনাজপুর শহর আমির মাওলানা মো. সিরাজুস সালেহীন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মো. একরামুল হক আবীর, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. জাকিরুল ইসলাম, দিনাজপুর শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাসুদ রানা এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের হাবিপ্রবি শাখার সভাপতি মো. রেজওয়ানুল হকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের দিনাজপুর জেলার নেতৃবৃন্দ।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘অনেকে দাবি করছেন, এই সংস্কার ও গণভোটের সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। কিন্তু স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশের মাধ্যমে নির্বাচন, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের আইনি কাঠামো নির্ধারিত হয়েছিল। আমাদের সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশ আইনের মর্যাদা লাভ করে। তদুপরি, সংবিধানের ৭ম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ। আর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের যে অভিপ্রায় প্রকাশ পেয়েছে, সেটিই সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের দায়িত্ব এড়িয়ে কেবল সাধারণ সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাইছেন, যা জুলাই সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো গণভোটে দেওয়া জনগণের পাঁচ কোটি ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় এবং ৮৪ দফা সংস্কার প্রস্তাব অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। স্থানীয় সরকারসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দলীয় নিয়োগ বন্ধ করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণভোটের গণরায় এড়িয়ে গিয়ে পুনর্গঠিত ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটার যে কোনো অপচেষ্টাকে সংসদ ও রাজপথে তীব্র গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।’
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সাম্য, ইনসাফ ও জনগণের জন-আকাঙ্ক্ষার অভিপ্রায় প্রতিষ্ঠার এই লড়াইয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ