ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রায় ১০০ মুসলিম প্রার্থীর জয়


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রায় ১০০ মুসলিম প্রার্থীর জয়

যুক্তরাষ্ট্রের এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জাতীয়, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ে অন্তত ৯৭ জন মুসলিম-আমেরিকান প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এই তথ্যটি দেশটির মুসলিম অধিকারবিষয়ক সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার) প্রকাশ করেছে।

নির্বাচনে মূল নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ১৬৮ জন মুসলিম-আমেরিকান প্রার্থীর মধ্যে সাতজন ওয়াশিংটন ডিসিতে যাচ্ছেন। প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়েছেন—ইলহান ওমর, রাশিদা তালিব, আন্দ্রে কারসন ও লতিফা সাইমনের মতো বর্তমান সদস্যদের পাশাপাশি নতুন করে নির্বাচিত হয়েছেন আদম হামাউই, আয়েশা ওয়াহাব ও দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের।

অন্যদিকে, সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন আবদুল আল-সাইয়েদ। তিনি ছয় বছরের মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুন: কট্টরপন্থী মিলারকে চিফ অফ স্টাফ পদে নিয়োগ, ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কোনো আপসে না যাওয়ার বার্তা ট্রাম্পের

এছাড়া, অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল, আইনসভা ও সিনেটসহ বিভিন্ন পদে ৩৯ জন, কাউন্টি ও পৌর পর্যায়ে ১৬ জন, শিক্ষা ও স্কুল বোর্ডে ২৭ জন এবং বিচারক হিসেবে আটজন মুসলিম নির্বাচিত হয়েছেন। মুসলিম প্রার্থীদের জন্য এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ নির্বাচনী সাফল্য।

দল নয়, নীতিই মুখ্য

যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার মাত্র এক শতাংশ মুসলিম। দেশে মুসলিমের সংখ্যা প্রায় ৫৫ লাখ। যদিও জনসংখ্যায় তারা কম, রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় তাদের উপস্থিতি এবং পরিচয় নিয়ে বিতর্ক তুলনামূলকভাবে বেশি।

এবারের নির্বাচনে মুসলিম ভোটার নিবন্ধন গত বছরের তুলনায় অন্তত ২৫ শতাংশ বেড়েছে। একটি জরিপে ভোটদানের হার ৯৩ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কেয়ারের তথ্য অনুযায়ী, মুসলিম ভোটারদের ৮০ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের এবং ৬ শতাংশ রিপাবলিকানদের ভোট দিয়েছেন। এনবিসির বুথফেরত জরিপেও দেখা গেছে, ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে অন্য যেকোনো গোষ্ঠীর তুলনায় মুসলিম ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন বেশি ছিল।

আরও পড়ুন: শুভেন্দুর ঘোষণা: বাংলাদেশ-পাকিস্তান থেকে আসা সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব ৩১ ডিসেম্বরে সম্পন্ন হবে

তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ২০ শতাংশের বেশি মুসলিম ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন বলে ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল পলিসি অ্যান্ড আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের (আইএসপিইউ) এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

জর্জিয়া ভোটার প্রজেক্টের যোগাযোগ পরিচালক উরুজ আলির মতে, মুসলিম ভোটাররা সাধারণত দলীয় পরিচয়ের চেয়ে নীতিগত অবস্থানকে বেশি গুরুত্ব দেন। অনেকে নিজেদের ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান না ভেবে স্বতন্ত্র ভোটার হিসেবে পরিচয় দেন।

এবার জর্জিয়ায় আগাম ভোটের ক্ষেত্রেও রেকর্ড হয়েছে। আলির তথ্যমতে, প্রায় ৩০ হাজার মুসলিম ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। অথচ ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সব মিলিয়ে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৬ হাজার। জর্জিয়ায় হিজাব পরিহিত চার মুসলিম নারীও রাজ্য সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের একজন রুওয়া রোমান।

ইসলামবিদ্বেষের মধ্যেও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য, হুমকি ও সহিংসতার ঘটনা বেড়েছিল। ক্যালিফোর্নিয়ায় বিভিন্ন ভবনে ইসলামবিদ্বেষী গ্রাফিতি, ইলিনয়ে হিজাব পরা নারীদের গুলি করার হুমকি এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে হামলায় এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: ভারতীয় বিমানবাহিনী সর্বোচ্চ উচ্চতায় বিমান অবতরণ করে ইতিহাস গড়ল

সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেটের (সিএসও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে রিপাবলিকান জনপ্রতিনিধিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক হাজার ১১১টি পোস্ট, আটটি বিল এবং ৬২ সদস্যের কংগ্রেসনাল ককাসের মাধ্যমে সমন্বিত ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণা চালিয়েছেন। সংস্থাটির মতে, এসব বক্তব্য সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

কেয়ারের জরিপে ৭০ শতাংশ মুসলিম ভোটার জানিয়েছেন, ইসলামবিদ্বেষ ভোট দিতে উৎসাহিত করেছে। আইএসপিইউর জাতীয় ইসলামোফোবিয়া সূচকও ২০২২ সালের ২৫ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৩৩-এ দাঁড়িয়েছে।

তবে এসব ঘটনা মুসলিমদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ কমাতে পারেনি। বরং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্রাম্পের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের সাবেক সদস্য সামিরাহ মুনশি বলেন, ৯/১১-পরবর্তী সময়ে মুসলিমদের যে হতাশা ও ভীতির অভিজ্ঞতা হয়েছিল, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই তা সরাসরি অনুভব করেনি। ফলে তারা রাজনীতিতে আরও সক্রিয় ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে এক রাতেই এক হাজারের বেশি অভিবাসী উদ্ধার

গত তিন বছরে ফিলিস্তিনের পক্ষে জনমত এবং ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা মূলধারার সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে জায়গা করে নেওয়াও মুসলিমদের রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হতে উৎসাহিত করেছে বলে মনে করেন তিনি।

কেয়ারের জরিপ অনুযায়ী, ৭৬ শতাংশ মুসলিম ভোটার ফিলিস্তিন ও গাজার মানবাধিকার পরিস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করেছেন। ৮০ শতাংশ বলেছেন, গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান তাদের ভোটের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলেছে।

ধর্মীয় পরিচয়কে আড়াল না করে নির্বাচনি প্রচার

এবারের নির্বাচনে মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মীয় পরিচয়ের প্রার্থীদের সাফল্যের পেছনে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রকাশও ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

আরও পড়ুন: লুলার তির্যক মন্তব্য, বলসোনারোর আমেরিকায় পা রাখতেই হারলেন ট্রাম্প

বেলিভার্স কনসালটিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা জামিয়াহ অ্যাডামস বলেন, ধর্মপ্রাণ ভোটাররা তাদের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নেতৃত্ব চান। যেসব প্রার্থী নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও জনসেবার অঙ্গীকারের মধ্যে সম্পর্ক তুলে ধরেছেন, তারা ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পেরেছেন।

মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের (এমপ্যাক) ভাইস প্রেসিডেন্ট হারিস তারিনের মতে, ডেমোক্র্যাটরা ঐতিহাসিকভাবে নির্বাচনি প্রচারে ধর্মীয় পরিচয় তুলে ধরতে সংকোচ বোধ করতেন। কিন্তু এবার দেখা গেছে, নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা খোলাখুলিভাবে বলা প্রার্থীরাও ভোটারদের সমর্থন পেয়েছেন।

সিনেটর নির্বাচিত আবদুল আল-সাইয়েদের প্রচারেও ধর্মীয় পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন এবং নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসকে জনসেবার যোগ্যতার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার বিজয় ভাষণের শুরুতে ছিল ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘আলহামদুলিল্লাহ’।

অন্যদিকে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি নির্বাচনি প্রচারে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে নাগরিক ও সামাজিক ইস্যুকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তবে নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আরও খোলামেলা হয়েছেন।

আরও পড়ুন: ইরানে অবৈধ যুদ্ধ বন্ধে নতুন কংগ্রেসের উদ্যোগ

ফিলিস্তিন ইস্যুতে আন্তধর্মীয় সংহতি

ফিলিস্তিনের অধিকার ও গাজা পরিস্থিতি নিয়ে মুসলিমদের পাশাপাশি খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী কয়েকজন ডেমোক্র্যাট নেতাও সরব হয়েছেন। টেক্সাসের নতুন সিনেটর জেমস তালারিকো বলেছেন, ইসলামও খ্রিষ্টধর্মের মতো সত্যের একটি পথ। গাজার পরিস্থিতি তাকে একজন শিক্ষক, খ্রিষ্টান ও মানুষ হিসেবে ব্যথিত করে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

কানসাসের নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যাডাম হ্যামিলটন বলেছেন, খ্রিষ্টানরা পরকালে মুসলিমদের সঙ্গে মিলিত হবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন। ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টানদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে টেক্সাসের রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ এসব বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। মুসলিম ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করায় তিনি দুই ডেমোক্র্যাট নেতার সমালোচনা করেন।

এদিকে ট্রাম্পের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন থেকে সামিরাহ মুনশি পদত্যাগ করেছিলেন ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এক ক্যাথলিক সহকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিবাদে। কমিশনের চেয়ারম্যান ও টেক্সাসের লেফটেন্যান্ট গভর্নর ড্যান প্যাট্রিক এবারের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন।

পরিচয়ের বাইরেও বহুমাত্রিক প্রতিনিধিত্ব

মুসলিম প্রার্থীদের জয় মানেই তারা সবাই প্রগতিশীল বা ডেমোক্র্যাট—এমন নয়। অ্যারিজোনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি আবে হামাদেহও পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছিলেন।

মুসলিম আমেরিকানস ইন পাবলিক সার্ভিসের চেয়ারম্যান আহমাদ মাতি বলেন, সরকারি দায়িত্ব ও নেতৃত্বে মুসলিমদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ বহু বছরের সামাজিক সম্পৃক্ততা, পরিশ্রম ও নাগরিক উদ্যোগের ফল। এসব জয় প্রমাণ করে, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মুসলিমদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

ইলিনয়ের অষ্টম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে পরাজিত মুসলিম প্রগতিশীল নেতা জুনায়েদ আহমেদের মতে, এবারের সাফল্য মূলত বৈচিত্র্য ও প্রতিনিধিত্বের জয়। মুসলিম আমেরিকানরা বিভিন্ন জাতি, বর্ণ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ। তাদের নির্বাচিত হওয়া সেই বৈচিত্র্যেরই প্রতিফলন।

জর্জিয়া মুসলিম ভোটার প্রজেক্টের উরুজ আলি বলেন, মুসলিম আমেরিকানদের কোনো অভিন্ন রাজনৈতিক এজেন্ডা নেই। তবে সমাজের কল্যাণ, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নত পৃথিবী গড়ে তোলার মূল্যবোধ তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের নির্বাচনে মুসলিম আমেরিকানদের সাফল্য শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়; বরং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, নাগরিক অধিকার, ফিলিস্তিন ইস্যু, অর্থনীতি এবং বহুমাত্রিক সামাজিক প্রতিনিধিত্বের সম্মিলিত প্রতিফলন।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘যুদ্ধের আগের চেয়ে ইরানি বাহিনী অনেক বেশি শক্তিশালী’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩৪ এম


‘যুদ্ধের আগের চেয়ে ইরানি বাহিনী অনেক বেশি শক্তিশালী’

ফেব্রুয়ারি মাসে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যুদ্ধের সূচনা করেছিল, তখনকার তুলনায় ইরানের সামরিক বাহিনী বর্তমানে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তাদের মনোবলও আগের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এই তথ্য প্রদান করেন।

আকরামিনিয়া উল্লেখ করেন, ‘আজ ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি শাসনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের অভিজ্ঞতা অর্জনের পর—যুদ্ধের শুরুর সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক এবং শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের মধ্যে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি উদ্দীপনা, অঙ্গীকার ও আত্মবিশ্বাস রয়েছে।’

এই মুখপাত্র আরো জানান, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রয়েছে এবং যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের দাবিগুলো মেনে নিচ্ছে, ততক্ষণ এই প্রণালি বন্ধ থাকবে।

তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে যে প্রতিক্রিয়া আসবে তা হবে তাৎক্ষণিক, কার্যকর এবং কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে।’

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭ নভেম্বরের চেতনায় ভারতীয় আধিপত্যবাদ রুখে দিতে হবে: রাশেদ প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩৪ এম


৭ নভেম্বরের চেতনায় ভারতীয় আধিপত্যবাদ রুখে দিতে হবে: রাশেদ প্রধান

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের চেতনায় ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদের সামনে মাথা নত করা আর সম্ভব নয়।

শনিবার, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে তিনি একটি বিবৃতি দেন। এই বিবৃতিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, তৎকালীন সেনাসদস্য ও দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

রাশেদ প্রধান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সৈনিক ও মুক্তিকামী জনতা একত্রিত হয়ে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছিলেন। সেদিনের জনগণের স্লোগান ছিল, ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’ এবং ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ, নিপাত যাক’। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সেই চেতনায় আজও বলীয়ান থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ৩ নভেম্বর তৎকালীন সেনাপ্রধান শহীদ প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বন্দি করে আওয়ামী লীগ ও ভারতের সমর্থনে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ যে প্রতিবিপ্লব ঘটিয়েছিলেন, ৭ নভেম্বর বাংলার দামাল ছেলেরা তা প্রতিহত করেছিলেন। তবে পরবর্তী ইতিহাস ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন পতিত আওয়ামী লীগ ক্ষমতা কুক্ষিগত করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ভারতকে বিক্রি করেছে।

জাগপা মুখপাত্র দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান মানুষকে নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছে। কিন্তু বহুমুখী ষড়যন্ত্র এখনও চলছে। আধিপত্যবাদী অপশক্তি ও তাদের দোসররা নতুনভাবে দেশের ওপর প্রভাব বিস্তারের ষড়যন্ত্র করছে।

তিনি আরো বলেন, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক শিক্ষা ধারণ করে সকলকে প্রস্তুত থাকতে হবে। দেশের লাল-সবুজ পতাকা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আবারও আঘাত এলে ৭ নভেম্বরের মতো আপামর জনতাকে সঙ্গে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের অযোগ্য হতে পারেন বিদেশি নাগরিকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩৫ এম


যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের অযোগ্য হতে পারেন বিদেশি নাগরিকরা

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে চিকিৎসার ব্যয় মেটানোর জন্য যদি বিদেশি নাগরিকরা সরকারি সহায়তা গ্রহণ করেন, তাহলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে পারেন। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস সতর্ক করে জানিয়েছে, এ ধরনের সুবিধা গ্রহণকে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হতে পারে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় চিকিৎসার খরচের জন্য সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করা ভিসার অপব্যবহার হিসেবে গণ্য হতে পারে। ভিসার নির্ধারিত শর্ত অমান্য করা বা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে পরবর্তীতে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি নাও পাওয়া যেতে পারে।

এর আগে, ৩১ অক্টোবর তারিখে দেওয়া আরেক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ত্যাগের বিষয়ে সতর্ক করেছে দূতাবাস। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ভিসার ক্ষেত্রে উল্লেখিত ‘অ্যাডমিট আনটিল ডেট’ (Admit Until Date) অনুযায়ী অবস্থানের অনুমোদিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে। এই তারিখ যাচাই করতে i94.cbp.dhs.gov ওয়েবসাইট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, ২৮ অক্টোবরের এক বার্তায় ভিসার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার তাগিদ দেয় দূতাবাস। এতে জানানো হয়, বি১/বি২ ভিজিটর ভিসায় ব্যবসায়িক সভায় অংশগ্রহণ ও চুক্তি নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি বা কর্মসংস্থানের জন্য আলাদা শ্রেণির ভিসার প্রয়োজন।

মার্কিন দূতাবাস বিবৃতিতে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, ভিসার শর্ত মেনে চলার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ভ্রমণকারীর নিজের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইয়েমেনে বাজারে হামলায় নিহত ৩০, সংঘাত বেড়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩৬ এম


ইয়েমেনে বাজারে হামলায় নিহত ৩০, সংঘাত বেড়েছে

ইয়েমেনের একটি বাজারে ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি দাবি করেছে যে সৌদি আরবের বিমান হামলায় এ হতাহত হয়েছেন। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ হামলার জন্য হুথি গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন তাইজ প্রদেশের একটি বাজারে ‘বেশ কয়েকটি হামলা’ চালানো হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে ওই এলাকায় তীব্র লড়াই চলছে বলে জানিয়েছে হুথি। খবর এনডিটিভির।

হুথির সংবাদ সংস্থা সাবার প্রচারিত বক্তব্যে গোষ্ঠীটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি বলেন, ‘সৌদি শত্রুপক্ষের বিমান আল-ওয়াজিয়া শহরের বাজারে বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে। হামলায় ৩০ জন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মরদেহ উদ্ধারে উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।’

হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, শুক্রবার সৌদি আরবের খামিস মুশাইত সামরিক ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা একটি বিমান থেকে হামলাগুলো চালানো হয়েছে।

তবে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী অভিযোগ করেছে, হুথি বাজারটিতে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এ ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলেও নিন্দা জানিয়েছে তারা। তাইজের স্থানীয় কর্তৃপক্ষও এক বিবৃতিতে ‘হুথির নির্বিচার ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে’ দায়ী করেছে। একই সঙ্গে সেখানে কোনো বিমান হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে তারা।

দীর্ঘদিনের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর গত জুলাইয়ে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নতুন করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ইয়েমেন।

সূত্র: এপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%