ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারতের রাজনীতিতে হঠাৎ এনসিপি ঝড়, নতুন সমীকরণে জোর আলোচনা


ভারতের রাজনীতিতে হঠাৎ এনসিপি ঝড়, নতুন সমীকরণে জোর আলোচনা

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্ররা ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি-এনসিপি নামে একটি দল গঠন করে, সাধারণ্যে যা জাতীয় নাগরিক পার্টি হিসেবে পরিচিত। জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট বেধে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৬টি আসন লাভ করে এনসিপি। আসন সংখ্যা যাই হোক এনসিপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি পরিচিত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু রবিবার সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত, ভারতেও যে এনসিপি নামে একটি দল বিদ্যমান, সেই তথ্য নিয়ে অধিকাংশ মানুষই অবগত ছিলেন না। লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ সদস্যের এক যোগে এনসিপিতে যোগ দেয়ার ঘোষণায় ভারতের রাজনীতিতে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন ঝড় তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতর-বাহির তছনছ হয়ে গেছে। একযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ সংসদ সদস্যের এনসিপিতে যোগ দেয়ার ঘটনা সেই টালমাটাল পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে।

সাংসদদের কেনাবেচা বন্ধে জাতীয় সংসদে দলবদল বা ফ্লোর ক্রসিং ঠেকাতে বাংলাদেশের সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদে বিশেষ সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে। ৭০ অনুচ্ছে অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত কোনো ব্যক্তি যদি দল থেকে পদত্যাগ করে অথবা দলের বিপক্ষে ভোট দেয়, তবে সংসদে তার আসন শূন্য হয়ে যায়। সরকারের স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে ভারতের সংবিধানের দশম তফশীলেও বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের মতো দলত্যাগ বিরোধী আইন রয়েছে। বাংলাদেশের মত ভারতেও, যদি কাউকে দল থেকে পদত্যাগ করতে হয় অথবা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেয়, তবে তার সদস্যপদ অবরুদ্ধ হয়ে যায়। তবে, এই আইনের ভিতরেও একটি ফাঁক রয়েছে; কোনো দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য যৌথ সিদ্ধান্তে চাইলে অন্য কোনো দলে একীভূত হতে পারে। ছোট্ট ফাঁক গলে লখিন্দরের বাসর ঘরে যেমন সাপ ঢুকেছিল, আইনের এই ফাঁক গলে কাকলী ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পার্থ ভৌমিকরাও এখন মূল তৃণমূলের ধরনে টান দিয়েছেন। লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য সংখ্যা ২৮। দুটি তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ১৯ জন হলেই তারা অন্য দলের সঙ্গে একীভূত হতে পারতেন। সেখানে তাদের দলে একজন বেশিই সদস্য আছে।

কাগজে-কলমে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া-এনসিপিআই’তে যোগ দিলেও তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষমতা। কেন্দ্রে না হলেও, এতদিন রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল তৃণমূল। গত নির্বাচনে ভরাডুবির পর কাকলী ঘোষদের মনে হয়েছে, ‘ক্ষমতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায়’। কিছুটা আইনী ঝুঁকি থাকার পরও তারা সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিতে পারতেন। বিজেপিতে না গিয়ে এনসিপিআইতে কেন যোগ দিলেন, এটাই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে রাজনীতির কূটচাল এবং কূটকৌশলের খেলা লুকিয়ে আছে। তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ এবং বিজেপি মিলে যে এনসিপিআই গঠন করেছে, তা এখন একেবারে একটি শিশুও বোঝে।

আরও পড়ুন: উল্লাপাড়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, প্রধান অতিথি এম আকবর আলী

সরাসরি বিজেপিতে না গেলেও, তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা এনসিপিআই নিয়ে বিজেপির পাশেই, অর্থাৎ ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটেই থাকার ঘোষণা দিয়েছে। সরাসরি যোগ দিলে তারা আসলে বিজেপির বিশাল সমুদ্রে বিলীন হয়ে যেতেন। আলাদাভাবে যেন নিজেদের একটি পরিচয় থাকে, সেজন্য তারা এনসিপিআইয়ের সঙ্গে তৃণমূলকে একীভূত করেছে। দুই-তৃতীয়াংশের যৌথ সিদ্ধান্তে অন্য দলের সাথে একীভূত হওয়ার সুযোগ আছে। তবে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে মূল রাজনৈতিক দল এবং সংসদীয় দলকে আলাদা স্বত্তা হিসেবে খুব পরিচ্ছন্নভাবে অভিহিত করা হয়েছে। যদি দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য গড়তে পারলেও, অন্য দলের সঙ্গে একীভূত হতে হলে মূল দলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মমতা-অভিষেক নিশ্চয়ই দলের ভাঙার অনুমতি দেবেন না। সুতরাং, বিজেপিতে যোগ দিলে এটি নিছক দলবদল হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। অভিষেক বন্দোপাধ্যায় ইতিমধ্যে লোকসভায় স্পিকার ওম বিড়লাকে দেয়া চিঠিতে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে এনসিপিআইতে যাওয়ার একটি বড় সুবিধা হলো, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হলেও এনসিপিআইতে কোনো মাতব্বর নেই। এনসিপি মূলত ত্রিপুরাভিত্তিক একটি পারিবারিক দল। একসময় শিউলি কুন্ডু দলটির প্রধান ছিলেন, বর্তমানে তার স্বামী উত্তীয় কুন্ডু দল আছেন। দল ভাড়া দিতে পেরেই নিশ্চয়ই তারা খুশি থাকবেন। তাই কাকলী ঘোষরা এখানে নিজেদের মত ছড়ি ঘোড়াতে পারবেন, সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং এমনকি নিজেদের আসল তৃণমূল দাবিও করতে সক্ষম হতে পারেন। গত নির্বাচনে ত্রিপুরার দুটি আসনে নির্বাচন করে যে দলটি সাকুল্যে ৮৮২ ভোট পেয়েছিল, তারা এখন এনডিএ জোটে বিজেপির পর সবচেয়ে বড় দল হয়ে উঠেছে। ৮৭০ জন অনুসারীর ফেসবুক পেজ এবং হাওড়ায় জনমানবহীন ভুতুড়ে অফিস ছাড়া যাদের কিছু ছিল না, তারা এখন লোকসভায় পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় দল। সত্যি বলতে, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই!

এনসিপিআই কাকলী ঘোষদের জন্য ডেসটিনেশন নয়, বরং ট্রানজিট মাত্র। তাদের আসল লক্ষ্য হলো তৃণমূলকে দখল করা। সরাসরি বিজেপিতে গেলে সেই সুযোগ আর থাকতো না। একীভূত হওয়ার পর তারা এখন নিজেদের আসল তৃণমূল হিসেবে দাবি করবে এবং তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতীক ’জোড়া ফুল’ কেড়ে নিতে চাইবে, তৃণমূলের অফিস দখল করতে চাইবে। বিজেপির সাহায্যের কারণে তাদের জন্য কিছুই অসম্ভব নয়।

সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হতো। তাদের চিহ্নিত করা হত ক্ষমতালোভী এবং বিশ্বাসঘাতক হিসেবে, যার ফলে তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ইতি ঘটতে পারতো। এত বড় ডিগবাজি দেয়ার ক্ষমতাও প্রবীণ নেতাদের অনেকের নেই। তাদের লক্ষ্য তো আরও অনেক দূরে। সুতরাং, তারা লম্বা ডিগবাজি দিয়ে হাত-পা ভেঙে এখনই রাজনীতিতে ইতি ঘটানোর ঝুঁকি নিতে চাননি। এছাড়া, এতদিন অসাম্প্রদায়িকতা এবং বাঙালিয়ানার গল্প বলে, এখন সরাসরি বিজেপির কোলে বসলে, তাদের নৈতিকতা প্রশ্নের মুখে পড়তো। তাদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন এখনও উঠছে। তবে চক্ষুলজ্জাটা অন্তত আছে। আর এই চক্ষুলজ্জার খাতিরেই তারা ত্রিপুরাভিত্তিক বাঙালিদের দল এনসিপিআইকে আবিষ্কার করেছে। এখন তারা বলতে পারবেন, আমরা মমতাকে ছেড়েছি, কিন্তু বিজেপিতে তো যাইনি।

তাছাড়া, তৃণমূলের ঘর ভাঙ্গার সাথে বিজেপিকেও নিজেদের ঘরের দিকেও নজর রাখতে হচ্ছে। একসঙ্গে তৃণমূলের ২০ জন হেভিওয়েট নেতার যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি শিবিরের মধ্যে তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভ ছিল। নতুন নেতারা এলে পুরোনো ও ত্যাগী নেতাদের পদপদবী এবং প্রভাব-প্রতিপত্তিতে ভাগ বসাতে হবে। তাই, দূরে থেকে কাছে থাকাই ভালো। সাপ মরে ভুত, কিন্তু লাঠির কিছু হয়নি।

আরও পড়ুন: ‘ইসলামবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে আফগানিস্তানে চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন নিষিদ্ধ

এনসিপিআই আবিষ্কার করে কাকলী ঘোষরা এক ঢিলে অনেক পাখি মারলেন। নিজেদের সদস্যপদের আইনী সুরক্ষা পেলেন, তৃণমূল কংগ্রেসকে তছনছ করার সুযোগ নিলেন, ভবিষ্যতের রাজনীতির পথ সুগম রাখলেন এবং এনডিএ জোটের সাথে গাঁটছড়া বেধে ক্ষমতার কাছে থাকলেন।

এনসিপিআই এতদিন নিজেদের 'সমাজসেবামূলক দল' হিসেবে দাবি করত। সংগঠনের পুরোনো এক বিবৃতিতে লেখা ছিল, ‘দল বদলানো রাজনৈতিক মুখ নয়; আপনি এগিয়ে আসুন জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা নির্বিশেষে’। এখন এনসিপিআই কোথায় মুখ লুকাবে? বিজেপির প্রযোজনায় কাকলী ঘোষ এবং সুদীপ বন্দোপাধ্যায় যে ভাবে সংবিধানকে পাশার বোর্ড বানিয়ে এবং রাজনীতিকে ছেলেখেলার মতো করে ফেলছেন, তার শেষ কোথায়? পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগেও বিজেপি অনেক চালাকি করেছে। তবে এবার চালাকিটা একটু বেশিই হয়ে গেছে মনে হচ্ছে। এখন অতি চালাকের গলায় দড়ি পড়বে না মমতা-অভিষেককে একেবারে হটিয়ে শুভেন্দু-সুদীপ রাজ করবেন, তা দেখতে একটু অপেক্ষা করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নে কমিটি, ২০ কর্মদিবসে খসড়া জমার নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:২২ এম


স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নে কমিটি, ২০ কর্মদিবসে খসড়া জমার নির্দেশ

এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সদস্য হিসেবে এই কমিটিতে রয়েছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও আইন শাখার যুগ্মসচিবগণ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের একজন উপসচিব বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার প্রতিনিধি।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব (সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১) সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

গত ৮ জুন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকদের উপস্থিতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভার যৌথ বিবৃতির আলোকে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনের খসড়া প্রণয়ন, প্রয়োজন অনুযায়ী সদস্য কো-অপ্ট করা এবং বিভিন্ন সংস্থা ও অংশীজনের মতামত গ্রহণ করা।

এছাড়া কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে कि আগামী ২০ কর্মদিবসের মধ্যে আইনের খসড়া প্রস্তুত করে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে জমা দিতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণীত হলে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং রোগীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি সুসংহত আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে হরমুজ প্রণালীতে টোল ছাড়াই চলবে জাহাজ: যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:২৪ এম


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে হরমুজ প্রণালীতে টোল ছাড়াই চলবে জাহাজ: যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা, ১৬ জুন, ২০২৬ : প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত ইরান শান্তি চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে কোনো টোল দিতে হবে না। এছাড়া, ইরানকে কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়ার আগে তেহরানকে চুক্তির সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে বলেও ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে। খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র। মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের পুনর্গঠনের জন্য সম্ভাব্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে। তবে, এই অর্থ ছাড় করা হবে ইরানের চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে। রোববার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ইলেকট্রনিকভাবে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, 'শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি নিজের অঙ্গীকারের বার্তা দিতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।' তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, চুক্তিটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, 'সমঝোতা স্মারকটি মাত্র দেড় পৃষ্ঠার একটি সাধারণ নথি বা দলিল।' পরে এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংসে সহায়তা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরিদর্শকদের আবারও ইরানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। ভ্যান্সের নেতৃত্বে চুক্তির বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করতে এ সপ্তাহে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে এবং সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ফের পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:২৭ এম


চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ফের পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোকনপুর সীমান্তের পথে আবারও এক নারীকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর তাৎক্ষণিক ও কঠোর পদক্ষেপের কারণে বিএসএফের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৫ জুন) রাতে ১১টার দিকে নওগাঁ ১৬ বিজিবির রোকনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ ২২৫/৩-আর সীমান্ত পিলার এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।

৮৮ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের আরকে ওয়াদা ক্যাম্পের সদস্যরা এক মাঝির সহায়তায় নৌকাযোগে ওই নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে ওই নারীকে আটকে বিজিবিকে খবর প্রদান করে। খবর পেয়ে বিজিবি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করে। পরে ওই নারীকে শূন্য লাইন বরাবর ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১১ দিনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে তিন দফায় সর্বমোট ৪৪ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে প্রতিবারই স্থানীয়দের সহযোগিতায় জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র প্রতিরোধে তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

পরপর তিনবার পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোট ১৮৪ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারি, সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং টহল বাড়ানো হয়েছে বিজিবির পক্ষ থেকে। সীমান্ত সুরক্ষায় ইতোমধ্যে তিনটি ব্যাটালিয়নে জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিজিবির পাশাপাশি সীমান্তের স্থানীয় বাসিন্দারাও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে বিজিবি। নদী ও বিলে নৌকা এবং স্থলপথে বাইনোকুলার ও ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। এছাড়া রাতের অন্ধকারে অনুপ্রবেশ রুখতে ব্যবহৃত হচ্ছে নাইট ভিশন ক্যামেরা। স্থানীয়দের ধারণা, সীমান্ত এলাকাটি কাঁটাতারবিহীন হওয়ার সুযোগ নিয়ে বিএসএফ বারবার এভাবে মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছে।

এর আগে শুক্রবার (১৩ জুন) দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে নদীপথে ১৫ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবির তাৎক্ষণিক বাধার মুখে রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১৫ জনকে সীমান্ত-সংলগ্ন ভবানীপুর এলাকা দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী ওই দলে দুজন পুরুষ, আটজন নারী এবং পাঁচজন শিশু ছিল।

তারও আগে, গত ৪ জুন ভোরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে আরও ২৮ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। সে সময় বিজিবির কঠোর বাধার মুখে অনুপ্রবেশকারীরা শূন্যরেখায় তিন দিন অবস্থান করতে বাধ্য হয় এবং পরবর্তীতে বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে দারুণ সুখবর পেলেন নেইমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩০ এম


বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে দারুণ সুখবর পেলেন নেইমার

ব্রাজিল জাতীয় দলের পরিপ্রেক্ষিতে নেইমার জুনিয়রের প্রত্যাবর্তন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি সপ্তাহে অ্যানুশীলনে ফেরার কথা থাকলেও নতুন করে চোটের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কারণে মাঠে নামতে পারছেন না এই তারকা ফরোয়ার্ড। এই অবস্থার মধ্যেই, তিনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে সুখবর দিয়েছেন। বান্ধবী ব্রুনা বিয়ানকার্দির মাধ্যমে তাদের পঞ্চম সন্তানের আগমনের ঘোষণা দিয়েছেন নেইমার।

সোমবার (১৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি যৌথ পোস্টে নেইমার ও ব্রুনা জানিয়েছেন, তারা নতুন সন্তানের জন্য অপেক্ষা করছেন। জানা গেছে, তাদের ঘরে আরও একটি কন্যাসন্তান আসছে। বর্তমানে নেইমারের সন্তানদের মধ্যে রয়েছে ছেলে ডেভি লুকা এবং কন্যা মাভি, হেলেনা ও মেল।

এদিকে, সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, সোমবার ব্রাজিল দলের অনুশীলনে ফেরার সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত নেইমার অনুশীলনে অংশ নেননি। ডান পায়ের মাংসপেশির চোটের অবস্থা পর্যালোচনার জন্য নতুন পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে সেই পরীক্ষার ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেনি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন।

গত ১৭ মে সান্তোসের হয়ে খেলতে গিয়ে চোট পান নেইমার। এরপর থেকেই তিনি মাঠের বাইরে রয়েছেন। চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলার লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় দলের সঙ্গে থাকলেও এখনও ম্যাচ খেলার মতো ফিটনেস ফিরে পাননি।

আগামী ২০ জুন ফিলাডেলফিয়ায় ব্রাজিল নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ে বেঞ্চেই ছিলেন নেইমার। ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি আশা করেছিলেন হাইতি ম্যাচের আগে তিনি পূর্ণমাত্রায় অনুশীলনে ফিরবেন। তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।

ব্রাজিলের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দলের মেডিক্যাল স্টাফরা আশা করছেন, নকআউট পর্বে নেইমার পুরোপুরি সুস্থ হয়ে দলে ফিরতে পারবেন।

মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে না নামলেও ডাগআউটে থেকে দলের সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন নেইমার। ম্যাচ চলাকালে তাঁকে দেখা যায় আমেরিকান র‌্যাপার ট্রাভিস স্কট এবং সাতবারের সুপার বোল চ্যাম্পিয়ন টম ব্রাডির সঙ্গে। হাইড্রেশন বিরতির সময় সতীর্থদের সঙ্গে কৌশলগত আলোচনাতেও অংশ নেন তিনি। পরে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সমতাসূচক গোলে ম্যাচে ফিরে আসে ব্রাজিল।

নেইমারের ব্যক্তিগত জীবনে, প্রথম সন্তান ডেভি লুকার জন্ম হয় সাবেক সঙ্গী কারোল দান্তোসের সঙ্গে সম্পর্কের সময়। পরে ব্রুনা বিয়ানকার্দির গর্ভে জন্ম নেয় মাভি। এছাড়া, ব্রাজিলিয়ান মডেল আমান্দা কিম্বার্লির সঙ্গে সম্পর্কের ফলে কন্যা হেলেনার জন্ম হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৫ জুলাই নেইমার ও ব্রুনার ঘরে আসছে কন্যাসন্তান মেল। এবার সেই পরিবারের সাথে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও একটি নতুন সদস্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%