০৬:২১ পি.এম
এক সপ্তাহ ধরে চলা দাবানলে গ্রিসের একাধিক জায়গায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।
দাবানলের ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে, ইতোমধ্যেই ১২ হাজার হেক্টরের বেশি বন ও কৃষিজমি পুড়ে গেছে।
ন্যাশনাল অবজারভেটরির জলবায়ু পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম মেটিও ডট জিআর জানাচ্ছে, করিন্থ উপসাগরীয় অঞ্চলে পৃথক কয়েকটি দাবানল পরিস্থিতি আরও বিশৃঙ্খল করেছে, যেখানে ৬ হাজার ৫০০ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গিয়েছে। আগুন এখন এথেন্সের কাছে জনপ্রিয় উপকূলীয় গ্রাম পোর্তো জেরমেনোতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: লিমোজের ঐতিহাসিক টাউন হলে আগুন, ৩৪ বছর বয়সী সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার
এথেন্স থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর অনুযায়ী জানিয়েছে।
শুক্রবার যখন আগুন লাগল, তখন গ্রামটির বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনেক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে বা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে।
মেটিও ডট জিআর আরও জানাচ্ছে যে, এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ক্রিট ও পারোস দ্বীপের দাবানলেও ৬ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে, সপ্তাহজুড়ে প্রবল বাতাস বইতে থাকার কারণে অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের প্রতিদিন বহু দাবানলের মোকাবিলা করতে হয়েছে। গ্রিসের বেসামরিক সুরক্ষামন্ত্রী ইভানজেলোস তুরনাস শনিবার বলেছেন, ফায়ার সার্ভিসকে তাদের সম্পূর্ণ সামর্থ্যের সীমা পর্যন্ত কাজ করতে হয়েছে।
আরও পড়ুন: যেসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করবে না ইরান
এই সপ্তাহে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তিন অগ্নিনির্বাপণ কর্মী মারা গেছেন। তাদের মধ্যে দুজন ক্রিটে এবং একজন পেলোপনিস অঞ্চলে প্রাণ হারিয়েছেন।
তুরনাস জানিয়েছেন যে, ঝোড়ো বাতাস কারণে পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত কঠিন’ হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই বিমান পানি তুলতে সক্ষম হয়নি এবং তীব্র বাতু অস্থিরতার কারণে অনেক সময় আগুনের ওপর পানি ফেলাও সম্ভব হয়নি।
বেসামরিক সুরক্ষা মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, শনিবার রাতের দিকে বাতাস কিছুটা কমে এলেও রোববার বৃহত্তর এথেন্স, পাশের ভইওতিয়া অঞ্চল এবং এভিয়া দ্বীপে দাবানলের ঝুঁকি এখনও প্রায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
দমকল বিভাগ জানাচ্ছে যে, এথেন্স থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমের পোর্তো জেরমেনো এলাকায় প্রায় ৫০০ অগ্নিনির্বাপণকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
আরও পড়ুন: ৩৬৭ দিন ধরে চলা তাপঝড়ের প্রভাব পড়েছে পৃথিবীর ৮৫ শতাংশ এলাকায়
উত্তর পেলোপনিসের আইগিয়ালিয়া এলাকায় নিযুক্ত প্রায় ১০০ অগ্নিনির্বাপণকর্মী আরেকটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
শনিবার গভীর রাতে আয়োনিয়ান সাগরের সেফালোনিয়া দ্বীপে নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে।
ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মতো গ্রিসেও জলবায়ু সংকটের তীব্র প্রভাব পড়েছে। উচ্চ তাপমাত্রা, ঘন ঘন তাপপ্রবাহ এবং খরার কারণে দেশটিতে প্রায় প্রতি গ্রীষ্মেই দাবানল দেখা দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস এ সপ্তাহে সতর্কতা দিয়ে বলেছেন, গ্রীষ্মের শুরুতে ফ্রান্স ও স্পেনের তুলনায় তাপপ্রবাহ এবং বড় ধরনের দাবানল থেকে গ্রিস কিছুটা রক্ষা পেয়েছিল, তবে এখন গ্রিস ‘কঠিন সময়ের’ দিকে এগোচ্ছে।
আরও পড়ুন: জাপানে লাখো মানুষ ঘরবন্দী, বের হতে চান না কেন?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন