০৮:৫০ পি.এম
নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্স হাকনের সৎছেলে মারিয়াস বোরগ হোইবি ধর্ষণ ও গার্হস্থ্য সহিংসতার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। দেশটির একটি আদালত তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
সোমবার দেওয়া রায়ে অসলো আদালত জানান, হোইবি দু’টি ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে একটি ঘটনা ঘটেছিল ক্রাউন প্রিন্সের নিজ বাড়ির বেসমেন্টে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা আরও দুটি ধর্ষণের অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
২৯ বছর বয়সী হোইবি সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, বিশেষ করে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তবে অন্যান্য কিছু অভিযোগের বিষয়ে তিনি দায়িত্ব স্বীকার করেছিলেন। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, হতাহত নেই
মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষ হোইবির জন্য সাত বছর সাত মাসের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিল। তবে আদালত তাকে চার বছরের সাজা দিয়েছেন।
সাত সপ্তাহ ধরে চলা এই বিচার কার্যক্রমে নরওয়ের রাজপরিবারের একসময়কার অত্যন্ত ইতিবাচক ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।
মামলার শুনানিতে হোইবির মাদকাসক্তি, যৌন সম্পর্কের নিজস্ব ধারণ করা ভিডিও এবং ৮০০টিরও বেশি ইলেকট্রনিক বার্তা আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
রায় ঘোষণার সময় জন স্ভেরড্রুপ এফজেস্টাড নামের বিচারক বলেন, ক্রাউন প্রিন্সের বাড়িতে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ভুক্তভোগী ওই পরিস্থিতিতে প্রতিরোধ করতে সক্ষম ছিলেন না।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনে চিহ্নিত বড় বড় ব্যর্থতা
হোইবি কারাগার থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে রায় শুনেছেন। তবে আদালত কক্ষে তাকে দেখা বা শোনা যায়নি।
ধর্ষণের অভিযোগ আনা নারীদের মধ্যে একজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন রায় শুনতে। বিচারক যখন হোইবিকে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে দোষী ঘোষণা করেন, তখন ওই নারী কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় তার আইনজীবীর দেওয়া টিস্যু দিয়ে তিনি চোখ মুছেন।
রাজপরিবারের ভাবমূর্তিতে আঘাত
হোইবির এই মামলার কারণে নরওয়ের রাজপরিবারের জনপ্রিয়তা ও দীর্ঘদিনের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমানের বক্তব্যে জিয়াউর রহমানের আবেগ ও বলার ধরন খুঁজে পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী নুর
এর আগে ক্রাউন প্রিন্সেস নরওয়ের রাজকন্যা মেটে-মারিট, যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বিষয়ে ‘ভুল সিদ্ধান্তের’ জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন। এপস্টেইন ২০০৮ সালে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।
মামলার সময় পরিচালিত নরওয়ের নরস্ট্যাট জরিপে দেখা যায়, রাজতন্ত্র বজায় রাখার পক্ষে জনসমর্থন জানুয়ারির ৭০ শতাংশ থেকে কমে ৬০ শতাংশে নেমে আসে। একই সময়ে রাজতন্ত্রের পরিবর্তে অন্য শাসনব্যবস্থা চাওয়া মানুষের সংখ্যা ১৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৭ শতাংশ হয়।
তবে মে মাসে রাজপরিবারের প্রতি জনসমর্থন কিছুটা ফিরে আসে। ওই সময় জরিপে ৬৪ শতাংশ মানুষ রাজতন্ত্র বজায় রাখার পক্ষে মত দেন এবং ২৩ শতাংশ মানুষ বিকল্প ব্যবস্থা চেয়েছেন।
মারিয়াস হোইবির মা মেটে-মারিট বর্তমানে ব্যক্তিগতভাবেও কঠিন সময় পার করছেন। তিনি পালমোনারি ফাইব্রোসিসে আক্রান্ত এবং তার ফুসফুস প্রতিস্থাপন প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: মিসরে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ৬৪ জন আহত
রাজপরিবারের এই সংকটের মধ্যেই হোইবির বিরুদ্ধে আদালতের এই রায় নরওয়ের রাজতন্ত্র নিয়ে নতুন করে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সূত্র: সিএনএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন