মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:২৫ এম
লালকুঠি নর্থব্রুক হল, যা ১৪০ বছরেরও বেশি পুরনো, সংস্কার ও সংরক্ষণ কাজ শেষে নতুন রূপে ফিরে এসেছে। এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ঢাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০২৩ সালের জুনে শুরু হওয়া কাজটি ২০২৬ সালের ৩১ মে শেষ হয়।
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুটসহ ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সংস্কার শেষে স্থাপনাটি পরিদর্শন করেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের পুরো স্থাপনাটি ঘুরে দেখান। এ সময় ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদসহ স্থানীয় সুশীল সমাজ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মো. আবদুস সালাম বলেন, "বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে করা এ প্রকল্পে শুধু ভবন সংস্কার নয়, এর ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য ধরে রেখে তৈরি করা হয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাও।" তিনি আরও বলেন, "ঘনবসতিপূর্ণ পুরান ঢাকার ১০ লাখ মানুষের মুক্ত নিঃশ্বাস নেওয়ার জায়গা হবে এই নর্থব্রুক হল।" আবদুস সালাম উল্লেখ করেন, "ঢাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে লালকুঠির এ সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।" তিনি বলেন, "লাল কুঠি কেবল একটি স্থাপনা নয়, বরং ১৫০ বছরের ইতিহাসের বিরল সাক্ষী।" ১৮৭৪ সালে ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল জর্জ ব্যারিং নর্থব্রুক ঢাকায় এলে তার সফর স্মরণীয় করে রাখতে এই ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। শুরুর দিকে ভবনটি নগর মিলনায়তন ছিল। পরে একে গণগ্রন্থাগারে রূপান্তর করে এর সঙ্গে জনসন হল নামে একটি ক্লাবঘর সংযুক্ত করা হয়। ভবনটির নির্মাণকলায় মোগল স্থাপত্যরীতির সঙ্গে ইউরোপীয় রেনেসাঁর সংমিশ্রণ ঘটেছিল। এই ভবনেই আয়োজন করা হতো তৎকালীন উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সভা এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। ১৯২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এখানেই কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ঢাকা পৌরসভার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
বিশ্বব্যাংকের পরিদর্শন টিমের প্রধান ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেন, "বাংলাদেশের ঐতিহ্য সংস্কারের অংশ হতে পেরে গর্বিত বিশ্বব্যাংক।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, "দেশের বর্তমান নাগরিকগণ তাদের পূর্বপুরুষদের ইতিহাস চর্চা করে নিজেদের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে।" তিনি আরও বলেন, "লেখক, গবেষকগণ এখানকার লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করে দেশ উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।"
পুরান ঢাকার বাসিন্দা এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভূঁইয়া স্মৃতিচারণ করে বলেন, "আমরা ছোটবেলায় পাল তোলা নৌকায় চড়ে দেখতাম আহসান মঞ্জিল, লালকুঠি ও রূপলাল হাউজসহ নদীর দুই পাড়ের অপরূপ দৃশ্য।" তিনি বলেন, "মধ্যে এসব প্রায় বিলীন হয়ে গিয়েছেন। বর্তমান সরকার এবং বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে আমরা আমাদের হারানো গৌরব ফিরে পেতে যাচ্ছি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জে সার ডিলারদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা সার নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানো, কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে। সভায় ডিলাররা নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি এবং কৃষকদের কোনো ধরনের হয়রানি না করার অঙ্গীকার করে শপথ গ্রহণ করেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভাটি পরিচালনা করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাজাহান সিরাজ। এতে সদর উপজেলার বিসিআইসি, বিএডিসি ও খুচরা সার ডিলাররা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় সারের বরাদ্দ, মজুদ, সরবরাহ ও বিতরণসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় ডিলারদের সতর্ক করা হয় যে, নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সার বিক্রি না করা এবং কৃষকদের কোনো ধরনের হয়রানি না করার বিষয়ে। পরে ডিলাররা হাত তুলে নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি ও কৃষক হয়রানি না করার অঙ্গীকার করেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী নাসরিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুম ভূঁইয়া, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বাদল, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি গোলাম আবেদিন কায়সার, কৃষক প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান খান দোলন এবং বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন খান শামীম।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাজাহান সিরাজ জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর জেলায় সারের বরাদ্দ বেশি রয়েছে। তবে কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় আরও অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। তিনি কৃষকদের অন্য জেলার খবরের ভিত্তিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার মজুদ না করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের কোনো নির্দিষ্ট ধরনের সার কিনতে বাধ্য করা যাবে না। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি বা সার বিক্রিতে কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো একদিনের সফরে আজ মঙ্গলবার সিলেট যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতির আগমনের প্রেক্ষাপটে সুরমা তীরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সফর নির্বিঘ্ন রাখতে তোরণ নির্মাণ, আলোকসজ্জা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি নগরজুড়ে নজিরবিহীন ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সফরের সময়সূচি অনুযায়ী, আজ বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে বিমানযোগে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে পৌঁছানোর পর সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন এবং বিশ্রামের পর হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন।
পরবর্তী সময়ে বেলা সাড়ে ৩টায় সিলেট নগর ভবনের সামনে সিটি করপোরেশন আয়োজিত সুধী সমাবেশে নাগরিক সংবর্ধনায় অংশগ্রহণ করবেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে রাত ৮টায় রাষ্ট্রপতির ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির সফরের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এসএসএফ, জেলা প্রশাসন ও সিসিকের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।
নাগরিক সংবর্ধনার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী জানিয়েছেন, নগর ভবনের সামনে ১ হাজার ২০০ আমন্ত্রিত অতিথির বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করার জন্য আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের নতুন ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কয়েকজনের মৃত্যুর খবরকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার।
তিনি বলেন, যাদের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে, তাদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগামীকাল তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে হাসপাতাল পরিচালকের মিলনায়তনে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বিভাগীয় কমিশনার। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান সরকার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারও মৃত্যু হয়নি। সংবাদমাধ্যমে মৃত্যুর যে খবর প্রচার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। যাদের মারা যাওয়ার কথা বলা হয়েছে, তাদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
তিনি বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে হাসপাতালের কিছু সিঁড়ি বন্ধ ছিল। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। হাসপাতালের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও তা তদন্ত করা হবে। চিকিৎসকরা এখনও তাদের কাছে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর কোনও তথ্য দেননি বলেও জানান তিনি।
এর আগে সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের একটি লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগে। আগুন ও ধোঁয়া দেখে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নেমে আসেন। এ সময় হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে ২০ জন আহত এবং কয়েকজন নিহত হয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে।
তবে রাত পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। পরে বিভাগীয় কমিশনারও জানিয়েছিলেন, বিভিন্ন তালিকায় মৃত্যুর তথ্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে না এবং মর্গের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, লিফটের কন্ট্রোল রুমে থাকা কন্ট্রোলার মেশিনের বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আগুন বড় না হলেও লিফটের কন্ট্রোল রুম থেকে ভবনের বিভিন্ন তলায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় প্রদর্শিত পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ঘিরে দেশজুড়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংগ্রহশালা থেকে ছবিটি সরিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব মো. হাবিলদার।
ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে—কে এই আবু তৈয়ব এবং কী কারণে তিনি জিন্নাহর ছবির বিরুদ্ধে এমন প্রতিবাদ জানালেন?
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আবু তৈয়ব ২০০১–০২ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগে ভর্তি হন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো স্নাতক শেষ করতে পারেননি। বর্তমানে তিনি বিভাগের চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়ন করছেন বলে জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন আবু তৈয়ব। প্রশাসন তার আবেদন মঞ্জুর করলে তিনি আবার পড়াশোনা শুরু করেন। পরে ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আলোচনায় আসেন।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া ভিপি প্রার্থীদের মধ্যে তিনি ছিলেন সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ। তবে ভোটের মাঠে তেমন সাড়া পাননি; তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ১০টি।
জিন্নাহর ছবি সরানোর কারণ ব্যাখ্যা করে আবু তৈয়ব গণমাধ্যমকে বলেন, যে জিন্নাহ আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিলেন, তার ছবি এখানে রাখা হবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে তার অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর জিন্নাহ বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন এবং বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর ওপর উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
আবু তৈয়ব বলেন, যে জিন্নাহ এ দেশের মানুষের মাতৃভাষা বাংলাকে অস্বীকার করেছিলেন এবং উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করেছিলেন, তাকে ডাকসুতে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে। ইতিহাসের ওপর এই কালিমালেপনের বিরুদ্ধে আমি ছোট্ট একটি প্রতিবাদ করেছি।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘রক্তের গৌরব’ বহনকারী একটি প্রতিষ্ঠান। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাই ডাকসু সংগ্রহশালায় ইতিহাস উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ