রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৫৫ পি.এম
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, সংসদকে বাদ দিয়ে মাত্র ছয় মাসের মধ্যে বিরোধী দল রাজপথে ‘লং মার্চ’-এর মাধ্যমে গণতন্ত্র বিনষ্টের চেষ্টা করছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক অনানুষ্ঠানিক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী উল্লেখ করেন, বিরোধী দল রাজপথে লং মার্চের কর্মসূচির আওতায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্পর্কে অশ্রাব্য ও আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করছে এবং দলকে এসব শব্দের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতে দেখা যাচ্ছে, যা স্পষ্টত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। জনগণের সামনে উচ্চারণে অযোগ্য শব্দগুলো প্রকাশ্যে বলা হচ্ছে। এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বিরোধী দল সেটিকে দমন-পীড়ন হিসেবে দাবি করে গণতন্ত্র বিনষ্টের চেষ্টা করছে।
জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক বিষয়াবলী নিয়ে বিরোধী দলের ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে তারা শুধুমাত্র সমালোচনা করে যাচ্ছে, অথচ সংকট সমাধানে তাদের কোনো গঠনমূলক প্রস্তাবনা নেই। তারা সংসদে এই বিষয়ে পরামর্শ না দিয়ে বাইরে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। দেশের রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়ার মতো ইতিবাচক অর্জনগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরার পরিবর্তে আড়াল করার চক্রান্ত করছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে বিরোধীরা রাজপথে আন্দোলন করছে, কিন্তু সাধারণ জনগণ তাদের এই ভূমিকা ভালোভাবে দেখছে না। দায়িত্বশীল বিরোধী দলের মতো সংসদে নিজেদের দাবি বা প্রস্তাব না তুলে তারা রাজপথে আন্দোলন বেছে নিয়েছে, যা মূলত সরকারের সার্বিক উন্নয়ন ঢাকার অপচেষ্টা।
রিজভী বলেন, বিএনপির পাঁচ দিনব্যাপী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সার্বিক কর্মসূচি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ উপলক্ষে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেটির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যবহৃত সব বিলবোর্ড ও ব্যানার অবিলম্বে খুলে ফেলতে হবে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, মাহমুদুর রহমান সুমন, আসাদুল করিম শাহীন, তারিকুল ইসলাম তেনজিং, ডা. জাহিদুল কবির প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক ফোনালাপে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
দেশটির আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা
জানাচ্ছে, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে মতবিনিময় করেন আরাগচি।
এ সময় পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের’ কারণে হরমুজ প্রণালিতে যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে, তা মোকাবেলার উপায় নিয়েও তারা আলোচনা করেন।
আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর আলোচনা চলাকালীন গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের ফুটবল ক্লাব বিডিএফসির বিরুদ্ধে একটি ম্যাচ খেলেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং তার সফরসঙ্গীরা। এই ম্যাচে প্রতিমন্ত্রীর ছেলে আয়ান এবং এনএসসির পরিচালক জাহেদ পারভেজ চৌধুরীও অংশগ্রহণ করেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ১২ টায় কুয়ালালামপুরের লালাপোর্ট ফুটসাল ইনডোর স্টেডিয়ামে এই প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আমিনুল হক। সফরসঙ্গী দলের পক্ষে প্রথম গোলটি করেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম নিজেই এবং ৩-১ গোলে জয়ী হয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সফরসঙ্গী দল।
এ সময় বিডিএফসি মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে আমিনুল হককে সম্মাননা প্রদান করা হয়। উপস্থিত ছিলেন বিডিএফসি মালয়েশিয়ার রাফিজ রহমান রাসেল, মো. সাইফুদ্দিন, আবদুল মোবিন ভূঁইয়া, মোস্তফা ইমরান রাজু, আলী আসগর মিলন, সোহাগ আহম্মেদ, যুবায়ের রহমান, ইকবাল হুসাইন, শাহজাহান আলম, বাপ্পী কুমার দাসসহ আরও অনেকে।
ম্যাচ শেষে আমিনুল হক বলেন, "ইতোমধ্যে আমরা জাতীয় পর্যায়ে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের খেলাধুলার উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু কর্ম পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। বিডিএফসি মালয়েশিয়ার খেলোয়াড়দের সঙ্গে ম্যাচ খেলে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত। প্রবাসে থেকেও ফুটবল বা খেলাধুলাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আপনাদের যে আন্তরিকতা দেখেছি আমি সত্যিই অভিভূত।"
তিনি আরও বলেন, "আমি মনে করি খেলাধুলার মাধ্যমে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব। আমি মনে করি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের মধ্যে খেলাধুলার চর্চা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া যায়। বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ করে নানা খেলাধুলার আয়োজন করা যায়। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে যেমন ভালো থাকবে, পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে ভালো খেলোয়াড়ও বের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশ ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের বার্ষিক সীমা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। এখন একজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার মার্কিন ডলার অথবা তার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে পারবেন।
এখন পর্যন্ত এই সীমার পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ডলার।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ একটি সার্কুলার জারি করে, যা সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রকৃত ভ্রমণসংক্রান্ত চাহিদা পূরণ এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বার্ষিক কোটা বৃদ্ধির ফলে চিকিৎসা, পরিবার পরিদর্শন ও পর্যটনসহ বিভিন্ন বৈধ কাজে বিদেশে সফরকারী নাগরিকেরা অর্থ খরচে আগের তুলনায় অধিক স্বস্তি পাবেন।
যদিও ভ্রমণ কোটার মোট পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে, নগদ (ক্যাশ) ডলার এনডোর্সমেন্টের নিয়মে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, প্রযোজ্য বার্ষিক কোটার মধ্যে একজন ভ্রমণকারী বছরে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত নগদ নোট আকারে সঙ্গে রাখতে পারবেন। ১৮ হাজার ডলার কোটার বাকি অংশ ট্রাভেল কার্ড অথবা আন্তর্জাতিক ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে ব্যবহার করতে হবে।
১২ বছরের কম বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বরাদ্দের সুযোগ আগের নিয়মেই বহাল রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকাই চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহর চলে যাওয়ার তিন দশক অতিক্রম করলেও, তাকে ভুলতে পারেননি তার সহশিল্পী ও দর্শকরা। চিত্রনায়িকা মৌসুমী, যিনি তার প্রিয় বন্ধু এবং সহশিল্পী ছিলেন, আবেগঘন বার্তায় তাকে স্মরণ করেছেন প্রয়াণ দিবসে।
মৌসুমী সালমান শাহর মৃত্যুর দিনের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সেই দিনের কথা মনে পড়লে বুকটা ভার হয়ে আসে। ৩০ বছর আগে আজকের দিনেই এমন একটি সংবাদ শুনতে হয়েছিল, যা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না—সালমান আর নেই।’
তিনি আরও জানান, প্রিয় বন্ধুকে হারানোর সেই শোক আজও তাকে নাড়া দেয়। মৌসুমী বলেন, ‘প্রিয় বন্ধুকে হারানোর সেই শোক বুকে নিয়ে সেদিন তাকে বিদায় জানাতে হয়েছিল। সময় অনেক দূর এগিয়েছে, কিন্তু সালমানের স্মৃতি একটুও মলিন হয়নি। সালমান শাহকে ভুলে থাকা আসলে সম্ভব নয়।’
সালমান শাহের মাত্র চার বছরের অভিনয়জীবনে বাংলা চলচ্চিত্রে যে প্রভাব সৃষ্টি হয়েছিল, সেটিকে মৌসুমী বিস্ময়কর মনে করেন। তিনি বলেন, ‘১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬—মাত্র চার বছরের অভিনয়জীবন ছিল সালমানের। এত অল্প সময়ে বাংলা চলচ্চিত্রে যে প্রভাব সে তৈরি করে গেছে, তা সত্যিই বিস্ময়কর।
অসাধারণ অভিনয় আর নিজস্ব ব্যক্তিত্ব দিয়ে খুব দ্রুত সে জায়গা করে নিয়েছিল অসংখ্য দর্শকের হৃদয়ে।’
সালমানের আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে আজও প্রশ্ন জাগে মৌসুমীর মনে। তিনি বলেন, ‘আজও তাই মনে প্রশ্ন জাগে, জীবনের ও ক্যারিয়ারের এত উজ্জ্বল সময়ে কেন সে সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেল? হয়তো প্রশ্নের উত্তর কখনো পাওয়া যাবে না।’
তবে মৌসুমী জানান, সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেয়ে সালমানের সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতিই মনে করতে বেশি ভালো লাগে। তার কথায়, ‘তাই উত্তর খোঁজার বদলে সালমানের সঙ্গে কাটানো সময়গুলো মনে করতে ভালো লাগে।
কল্পনার ভেতর এখনো তার সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়। সালমান ছিল নিজের জায়গায় অনন্য।’
মৌসুমী আরো বলেন, ‘চলচ্চিত্র যত দিন বেঁচে থাকবে, দর্শকের ভালোবাসায় তিনিও তত দিন বেঁচে থাকবেন।’
চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছিলেন সালমান শাহ। তার অভিনীত সিনেমা ও গান এখনো দর্শক-শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয়। সময়ের সঙ্গে প্রজন্ম বদলালেও কমেনি তার প্রতি মানুষের ভালোবাসা।
আর তাই মৃত্যুর তিন দশক পরও সালমান শাহ শুধু একটি নাম নয়; তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের এমন এক অমর নায়ক, যাকে ঘিরে দর্শকের ভালোবাসা আজও একইভাবে জীবন্ত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ