০৪:১৭ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি যুক্তরাষ্ট্রকে একটি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি এ কথা বলেছেন যে, যদি ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে, তাহলে পুরো অঞ্চলকে ‘নরকে’ পরিণত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মুসাভি বলেন, “তোমরা কি পবিত্র হরমুজ প্রণালিকে অনিরাপদ করতে চাও? তাহলে আমরা ইরানের সর্বত্র থেকে পুরো অঞ্চলকে তোমাদের জন্য নরকে পরিণত করব। ইনশাআল্লাহ, এটাই হবে অঞ্চলে আমেরিকার দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডের জবাব।’
এ হুঁশিয়ারি এসেছে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্তৃপক্ষ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে বলে জানিয়েছে তাসনিম। উল্লেখযোগ্য যে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যাতায়াত করে।
পৃথক আরেক বিবৃতিতে, মুসাভি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের দ্রুত তাদের কর্মস্থল ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের বিভিন্ন উৎপাদন স্থাপনায় হামলার পর তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
তিনি বলেন, ‘তোমরা আগেও আমাদের পরীক্ষা নিয়েছ। বিশ্ব আবারও দেখেছে, তারাই আগুন নিয়ে খেলতে শুরু করেছে এবং অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এবার আর ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতি থাকবে না। অপেক্ষা করুন, দেখবেন কী হয়। আমেরিকা ও জায়নিস্ট শাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীরা নিজেদের জীবন রক্ষায় দ্রুত কর্মস্থল ত্যাগ করুন।’
তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরপর আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ও নৌবাহিনী যৌথভাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।
আইআরজিসির দাবি, লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে কুয়েতের আলি আল-সালেম ও আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটি এবং বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি ছিল।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের বাহিনী আত্মরক্ষামূলক অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের সামরিক নজরদারি সক্ষমতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীসেবাকে আরও জনবান্ধব, সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার উদ্দেশ্যে সরকার ৬৫ বছর বা তার অধিক বয়সী প্রবীণ নাগরিক এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য রেলভাড়ায় বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে।
সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি পরিপত্র প্রকাশ করেছে।
সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী যাত্রীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণের সাপেক্ষে টিকিটের ভিত্তি মূল্যের ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন।
বয়সের তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হবে।
অন্যদিকে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘সুবর্ণ’ পরিচয়পত্রধারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা আন্তঃনগর ট্রেনের সুলভ বা শোভন শ্রেণিতে বিদ্যমান সুবিধা অনুযায়ী ৫০ শতাংশ রেয়াত পাবেন।
এছাড়া, নতুন করে সব শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) শ্রেণির টিকিটে ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। তবে সার্ভিস চার্জ, ভ্যাটসহ অন্যান্য ফি বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী প্রযোজ্য থাকবে।
প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এই সুবিধা অনলাইন ও কাউন্টার, উভয় মাধ্যমেই প্রযোজ্য হবে।
এজন্য যাত্রীকে বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিটিং সিস্টেমে নিবন্ধিত হতে হবে এবং এনআইডি যাচাইকরণ সম্পন্ন করতে হবে।
পরিপত্রে জানানো হয়েছে, একজন প্রবীণ যাত্রী প্রতি সপ্তাহে সর্বোচ্চ দু’বার ২৫ শতাংশ ছাড় সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
যদি কোনো ডিসকাউন্টেড টিকেট ফেরত দেওয়া হয়, সেটি সাপ্তাহিক হিসাব থেকে বাদ যাবে এবং ওই সপ্তাহেই পুনরায় ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
এছাড়া, কোনো প্রবীণ ব্যক্তি যদি সহযাত্রী নিয়ে ভ্রমণ করেন, তাহলে সহযাত্রীর জন্য নিয়মিত ভাড়া প্রযোজ্য হবে।
তবে, সহযাত্রীও যদি ৬৫ বছর বা তার অধিক বয়সী হন, তাহলে প্রতি বুকিংয়ে সর্বাধিক একজন অতিরিক্ত প্রবীণ যাত্রীও ছাড় সুবিধা পাবেন।
এক্ষেত্রে, তাকে নিজস্ব নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে পৃথকভাবে যাচাইকৃত হতে হবে।
প্রতিবন্ধী যাত্রীদের ক্ষেত্রে আপাতত শুধুমাত্র স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট ক্রয়ের সময় এই সুবিধা পাওয়া যাবে।
ভবিষ্যতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থাতেও এ সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে জানানো হয়েছে, নতুন এই ভাড়া ছাড় সুবিধা গত ২৫ মে থেকে কার্যকর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত দেশের ৫৫তম বাজেটে রাজস্ব আয়ের জন্য লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এতে বাজেটের ঘাটতি দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট ঘোষণা করেন।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত রাজস্ব আয়ের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট রাজস্ব আয় জিডিপির ১০ দশমিক ২ শতাংশের সমান।
তিনি আরও বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ব্যয়ের পরিমাণ প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা গর্ভের জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এটি চলতি অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাবদ ৩ লাখ কোটি টাকার অন্তর্ভুক্তি রয়েছে, মোট উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে হিসাব করা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। পরিচালন ও অন্যান্য খাতে ব্যয়ের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
সরকার উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে মোট ব্যয়ের ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ থাকলেও আগামী অর্থবছরে তা ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিপরীতে, পরিচালন ব্যয়ের অংশ ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব যথাক্রমে করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, গবেষণা এবং প্রযুক্তি খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সাথে, টেকসই উন্নয়ন ও বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাজেট ২০২৬-২৭: সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা
খাতভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে সামাজিক অবকাঠামো খাতে ২ লাখ ৭৯ হাজার ১ কোটি টাকা, ভৌত অবকাঠামো খাতে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা এবং সাধারণ সেবা খাতে ২ লাখ ৪৫ হাজার ১১৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো যথাক্রমে মোট বাজেটের ২৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ, ১৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং ২৬ দশমিক ১৩ শতাংশ।
প্রস্তাবিত বাজেট ঘাটতির অর্থায়নের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬ হাজার কোটি টাকা কম।
বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, অতীতে ব্যাপক ঋণ গ্রহণের ফলে বর্তমানে ঋণ ও সুদ পরিশোধের চাপ বেড়েছে। এ কারণে বাজেট ঘাটতিও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ঋণ ব্যবস্থাপনা সংস্কার, উচ্চ রিটার্নসম্পন্ন খাতে বিনিয়োগ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কাঠামো আধুনিকায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ ভবিষ্যতে রাজস্ব আয় বাড়াতে এবং ধীরে ধীরে বাজেট ঘাটতি কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ