০৬:৫৫ পি.এম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের নির্মাণ চলছে কিন্তু অর্থাভাবে আটকে আছে। ৮৬ শতাংশ কাজ অগ্রগতি হলেও তা সম্পন্ন হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একনেকের অনুমোদনের পরবর্তী একবছরের মধ্যে ক্যাম্পাস হস্তান্তরের আশ্বাস পাওয়া গেছে।
২০২১ সালের ১১ মার্চ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ব্যাটালিয়ন ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। এরপর ২০২১ সালের নভেম্বরে সেনাবাহিনী কাজ শুরু করেছিল। এরপর ছয় মাসের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।
প্রকল্পের মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে। প্রথম মেয়াদ ছিল ২০২৩ সালের জুন, পরবর্তী মেয়াদ ২০২৫ সালের জুন এবং তৃতীয় দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। তবে জুন ২০২৬ পেরিয়ে গেছে কিন্তু কাজ এখনো শেষ হয়নি। ২৪২ কোটি টাকার বাজেট বর্তমানে আটকে রয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে
প্রকল্পটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যাচাই-বাছাই শেষে পরিকল্পনা দপ্তরে পৌঁছেছে। পূর্বে একবার ছাড় পেলেও নানা কারণে প্রকল্পটি অগ্রসর হয়নি। বর্তমানে পরিকল্পনা দপ্তরের অনুমোদন পেলেই এটি একনেকে উঠতে পারে। একনেকের সভায় অনুমোদন পেলেই পরবর্তী একবছরের মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস হস্তান্তর করা যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর জানিয়েছে, প্রকল্পটির মোট বাজেট ১ হাজার ৬৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রকল্পের বর্তমান ব্যয় ১ হাজার ৪৩৭ কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা, যা অনুমোদিত অর্থের ৮৬ শতাংশ।
নির্মাণাধীন ভবনগুলোর মধ্যে উপাচার্যের বাসভবন, মেডিক্যাল ও ডে-কেয়ার সেন্টার, কয়েকটি প্রধান ফটক, সাব-স্টেশন এবং নতুন আগামী ছাত্রী হল-১ এবং হল-২ রয়েছে। ছাত্রী হল, কর্মচারীদের আবাসিক ভবন, কলা ও মানবিক অনুষদ, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ এবং কেন্দ্রীয় মসজিদ ছাড়াও নির্মাণাধীন আরো অনেক ভবন রয়েছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আরডিপিপি প্রকল্প অনুমোদন হলেই অবশিষ্ট কাজের কার্যক্রম শুরু করা যাবে। নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণ শেষ হলে বর্তমানে ৫০ একরের সঙ্গে ১৯৪ একর যুক্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন দাঁড়াবে ২৪৪ একর।
আরও পড়ুন: ঘিওরের ধলেশ্বরী নদীতে দুই দিন নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী এস. এম. শহিদুল হাসান এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান জানিয়েছেন, ‘আরডিপিপি প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আটকে রয়েছে। একনেকে এটি পাশ হয়ে এলেই শীঘ্রই কাজ শেষ হবে।’ উপ-উপাচার্য অধ্যাপন ড. মাসুদা কামাল জানান, ‘অনেকবার পিছিয়েছে, সর্বশেষ এ বছর শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টাকার কারণে আটকে রয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন