০৭:০২ পি.এম
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত অনেক সুপারিশ আমি পেয়েছি। এসব বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আলোচনা করে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আশা করি। নির্বাচনের পর্যালোচনার মাধ্যমে সামনের নির্বাচনে সংস্কার অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়নে চেষ্টা করা হবে।
বুধবার রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে দুই দিনব্যাপী নির্বাচনের পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত সুপারিশ নিয়ে অংশীজনদের সংলাপের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এসময় বলেন, ‘নির্বাচনের আগে-পরে অবজার গ্রুপ এবং অংশীজনদের মতামত নিয়েছি; আমি সবার সহযোগিতা পেয়েছি। আমি আশা করি, এই সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচন আরও কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক করা যায়, সেই সুপারিশ আসবে।’
আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান
তিনি গণতন্ত্রের উত্তরণে এটি চলমান প্রক্রিয়া বলে উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচনের পরে যেসব সুপারিশ এসেছে, সেগুলো আমরা মূল্যায়ন করছি, যাতে এর ধারাবাহিকতা আমরা এগিয়ে নিতে পারি। আগামী দুই দিন অংশীজন সংলাপে পাওয়া সুপারিশ আমরা কাজে লাগাব। তিনি বলেন, সামনে রয়েছে স্থানীয় নির্বাচন, সুতরাং সবার সহযোগিতা কামনা করি।
গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির কাজ করছে ইসি। ইতোমধ্যে বিধি সংস্কারে অংশীজনদের মতামত নিচ্ছে। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনেক সংস্থা। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আনফ্রেল, কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। এর ধারাবাহিকতায় অংশীজনদের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ সুপারিশ নিয়ে আজকের এই সংলাপে আলোচনা চলছে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত সুপারিশ, সংস্কারের অগ্রাধিকার এবং বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেকটোরাল সিস্টেম (আইএফইএস) যৌথ উদ্যোগে এই সংলাপ আয়োজন করছে। এতে স্থানীয় পর্যবেক্ষক, সিভিল সোসাইটি সংস্থা, নির্বাচন কর্মকর্তাসহ অর্ধশতাধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন।
এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার নির্বাচনের আগে এবং পরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নানা ধরনের আলোচনা ও সহায়তার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের রিপোর্টে সুনির্দিষ্ট ১৯টি সুপারিশ তুলে ধরেছি। আমি আশা করি, এ কর্মশালার মাধ্যমে আলোচনা করে আরও সুপারিশ আসবে। এরপর অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সেগুলো কাজে লাগাতে হবে। অংশীজনেরা গণতান্ত্রিক নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আশা করি, নির্বাচন কমিশন সামনের দিনগুলোতে পর্যবেক্ষণ সুপারিশ এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দুই দিনের এই সংলাপে বিভিন্ন সেশনে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত থাকবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন