০২:১১ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে থামাতে চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মাঝে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পর মঙ্গলবার দোহায় কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা।
কাতার এ তথ্য জানায়।
কিন্তু ইরান এতে উল্লেখ করেছে যে, তাদের একটি প্রতিনিধিদল দোহায় যাবে। তারা এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি আলোচনার দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: রাশেদ খান: ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতার প্রতিরোধই আসল বিপ্লব
বার্তা সংস্থা এএফপি দোহা থেকে এ খবর নিশ্চিত করেছে।
কাতার জানায়, দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ দুটির মধ্যে কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বা সরাসরি আলোচনার পরিকল্পনা নেই।
কারা অংশ নিচ্ছেন এবং কবে হবে-
ট্রাম্প সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ইরান পরদিন কাতারে নতুন আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-আহতরা পাবেন ১-৫ লাখ টাকা, আবেদন যেভাবে করবেন
তিনি উল্লেখ করেন, ‘এটি আগামীকাল দোহায় অনুষ্ঠিত হবে।’
ট্রাম্পের পোস্টের পর তার মুখপাত্র ফক্স নিউজকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার এ সপ্তাহে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে দোহায় যাচ্ছেন।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন যে উইটকফ ও কুশনার দোহায় রয়েছেন।
কিন্তু তিনি জানান, ‘তারা এখানে ইরানিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য আসেননি।’
আরও পড়ুন: গাজায় ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় ভবন ধসে, আহত ২
তিনি বলেন, তারা কাতারের মধ্যস্থতাকারী ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আলোচনায় আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় থাকবে। এর মধ্যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা এবং লেবাননের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই জানান, দেশটির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি।
তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে বুধবার মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ইরানের প্রথম বৈঠক হবে।
আলোচনার মূল বিষয়-
আরও পড়ুন: মার্কিন নির্বাচনে ইতিহাস গড়া প্রথম দক্ষিণ এশীয় মুসলিম নারী সাবা হায়দার
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ। উভয়পক্ষের সমঝোতায় এ নৌপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর বাস্তবায়ন নিয়ে এখনও আলোচনা বাকি রয়েছে।
শনিবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের সময় একটি জাহাজে হামলার পর এ নৌপথে জাহাজ চলাচল সপ্তাহের শেষে কমে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা জানান, সমঝোতা স্মারকের সব বিষয় নিয়ে আলোচনা চলবে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারি জাহাজগুলোর ‘ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা’ নিয়েও সম্প্রতি ওমানের সঙ্গে আলোচনা করেছে ইরান।
আরও পড়ুন: মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের সৌদি আরবে হুথিদের হামলার তীব্র নিন্দা
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে জব্দ হয়ে থাকা ইরানের অর্থও আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সোমবার বলেন, এ অর্থ ছাড়ের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি জানান, মোট ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের মধ্যে ৬০০ কোটি ডলার দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
বাকাই মঙ্গলবার বলেন, কাতারের পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ ছাড়ের বিষয়টিও থাকবে।
আরও পড়ুন: হাসনাত আব্দুল্লাহ: সরকারের এক বছরে প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যর্থতা স্পষ্ট হবে
সংঘাত কিছুটা কমেছে-
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্বাক্ষরের পরও উপসাগরীয় অঞ্চলে দুই পক্ষের মধ্যে বিক্ষিপ্ত হামলা-পাল্টা হামলা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের দাবি কার্যকর করতে গিয়ে ইরানের পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সবশেষ রোববার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের জবাবে তারা ইরানের ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
ইরান জানায়, এর জবাবে তারা কুয়েত এবং বাহরাইনের যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইন উভয় দেশই তেহরানের এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে।
গরিবাবাদি মঙ্গলবার টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এ ধরনের বড় যুদ্ধের অবসান হতে হলে, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ, বিভিন্ন ঘটনা ও মতপার্থক্য থাকবেই। বিশেষ করে যদি ইসরাইলি শাসনের মতো পক্ষ জড়িত থাকে।’
তিনি জানান, ইরানের প্রতিনিধিদল লেবানন ও হরমুজ প্রণালী-সংক্রান্ত ধারাগুলোর বাস্তবায়নের ব্যাপারে বেশি গুরুত্ব দেবে।
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই ইসলামী প্রজাতন্ত্র এ চুক্তি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শত্রুপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদেরও তাদের অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে।’
অথচ কাতারের আলোচনা শুরু হওয়ার আগে কয়েক দিনের মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমেছে বলে মনে হচ্ছে।
লেবাননেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরাইল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই তুলনামূলকভাবে শান্ত রয়েছে।
তেহরান বরাবরই বলেছে, যেকোনো সমঝোতার অংশ হিসেবে সমান্তরাল এ সংঘাতের অবসান এবং দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন