সাব্বির হাসনাত, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
১০:৩০ পি.এম
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ ও ইকোনমিকস এক্সিলেন্স সেন্টারের যৌথ আয়োজনে “বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের গুরুত্ব ও চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক একটি সেমিনার আজ বুধবার (২৪ জুন) দুপুর ২:৩০ মিনিটে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া। সেমিনারে রিসোর্স পার্সোন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. কামারুল্লাহ বিন তারিক ইসলাম এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক ইকারামুল হাসান। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া এই ধরনের সময়োপযোগী আয়োজনের জন্য অর্থনীতি বিভাগ ও ইকোনমিকস এক্সিলেন্স সেন্টারকে ধন্যবাদ জানান। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং খাতের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ এবং ব্যাংকিং খাত নিয়ে এমন আলোচনা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর মহোদয় উল্লেখ করেন।
প্রফেসর ড. কামারুল্লাহ বিন তারিক ইসলাম বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক গুরুত্ব, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এর অবদান, খেলাপি ঋণ (NPL) সমস্যা এবং খাতটির বিভিন্ন বিদ্যমান ও উদীয়মান চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি ব্যাংকিং খাতের সুশাসন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
জনাব ইকারামুল হাসান অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের গবেষণা খাতে বিদ্যমান চাকরির সম্ভাবনা, গবেষণায় দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা এবং জাতীয় উন্নয়নে গবেষণার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।
সেমিনারের সভাপতি জনাব নজরুল ইসলাম, সেমিনারে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সেমিনার সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার হোমনায় এক প্রবাসী, মেরাজুল ইসলাম (৪৪), অর্থকষ্টের হতাশায় দেশে ফেরার পর আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, তিনি অনলাইনে জুয়া খেলে ২২ লাখ টাকা হারানোর পর এই সিদ্ধান্ত নেন।
মঙ্গলবার, ২৩ জুন রাতের দিকে ঢাকার ধানমন্ডি পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেরাজুল মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। তিনি আসাদপুর ইউনিয়নের আসাদপুর গ্রামের মৃত শহিদ উল্লাহর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ দিনের মধ্যে মেরাজুল ইসলাম অনলাইন জুয়ার নেশায় পড়ে ২২ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হন। এই বড় অঙ্কের আর্থিক সমস্যার কারণে তিনি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। এই হতাশা থেকে মুক্তি পেতে মঙ্গলবার তিনি বিষাক্ত কীটনাশক ট্যাবলেট সেবন করেন। পরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকার ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তার মৃত্যু ঘোষণা করেন।
ঘটনার সম্পর্কে আসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জালাল পাঠান জানিয়েছেন, অনলাইন জুয়ায় সর্বস্ব হারানোর ফলে মেরাজুল আত্মহত্যা করেছেন বলেই লোকমুখে শোনা যাচ্ছে। তবে এর সত্যতা নিশ্চিত করে কিছু বলার উপায় নেই।
হোমনা থানার ওসি টমাস বড়ুয়া নিহত মেরাজুল ইসলামের পরিবারের বরাত দিয়ে বলেছেন, মেরাজুল ইসলাম ও তার এক ছেলে প্রবাসে বসবাস করছিলেন এবং দেশে ফিরে আসার পর অর্থকষ্টে পড়েন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সে হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
তবে তিনি জানান, অনলাইন জুয়ার সাথে সম্পর্কিত বিষয়টি ফেসবুকে আলোচনা হতে দেখেছেন।
নিহত মেরাজুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আরমান হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, সরকারি ভাতা বিতরণে অনিয়ম, গ্রাম পুলিশের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে ইতোমধ্যে তদন্তও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সরকারি সম্মানী ভাতা বিতরণের সময় “উপর মহলে দিতে হবে” বলে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এছাড়া ভৈরব উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম পুলিশের সদস্যদের বেতন-ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রেও ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হয়রানি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, কিছু নারী সেবাগ্রহীতার সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ এবং দাপ্তরিক ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনাও ঘটেছে। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
শিমুলকান্দি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন,
“তার বিভিন্ন অনিয়ম দেখে আমি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আমি চাই, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আরমান হোসেন বলেন,
“আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে আজ তদন্ত হয়েছে। আমি যদি অভিযুক্ত প্রমাণিত হই, তাহলে আমার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশিদ বলেন,
“বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। তাই এ মুহূর্তে আমার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের ইসলামপুরে লাগেজবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অর্ধগলিত মরদেহটিকে প্রথম দফায় শনাক্ত করতে পারেননি নিহতের পরিবারের সদস্যরাও। তবে পরে মরদেহের সাথের পরনের কাপড় ও শরীরে থাকা তাবিজ দেখে তারা মরদেহটি শনাক্ত করার নির্ধারণ করেন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এই ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত নায়েব আলী (৩৫) মেলান্দহ উপজেলার কাজাইকাটা এলাকার অধিবাসী ছিলেন। পেশায় ছিলেন রিকশাচালক।
পিবিআই জানাই, গত ২১ জুন নায়েব আলী নিখোঁজ হয়ে পড়েন। এনিয়ে তাঁর পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। দুই দিন পরে, ২৩ জুন ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের বেনুয়ারচর এলাকার একটি মাছের ঘের থেকে পুলিশ লাগেজবন্দি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
মরদেহের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে প্রথম দফাতে পরিবারের সদস্যরা সেটি শনাক্ত করতে পারেননি। এমনকি ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করেও পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এরপর নিখোঁজ ব্যক্তির জিডির তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে স্বজনদের আবার মর্গে নেওয়া হলে তারা পরনের কাপড় ও শরীরে থাকা তাবিজ দেখে মরদেহটি নায়েব আলীর বলে নিশ্চিত হন।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন নাহিদুল ইসলাম (৩০), সোলাইমান (৫০), শফিকুল ইসলাম (৪১), আবদুল কাদের (৫৪), রাসেল হোসেন (৩৪) এবং সাগর পাশা (২৬)। তারা সবারই বাসস্থান মেলান্দহ এলাকায়।
জামালপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানিয়েছেন, তদন্তের এক পর্যায়ে নাহিদুল ইসলামের ওপর সন্দেহ বেড়ে যায়। পরে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় নাহিদুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি নিহতের অটোরিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশও উদ্ধার করা হয়।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, টাকার প্রয়োজন হওয়ায় নাহিদুল ও তাঁর সহযোগীরা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। এরপর পরিকল্পনার অনুযায়ী নায়েব আলীকে একটি ভাঙারির দোকানে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পেছন থেকে জিআই তার দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর মরদেহ একদিন একটি ড্রামে রাখা হয়। এরপর অটোরিকশাটি খুলে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আলাদা আলাদা স্থানে বিক্রি করা হয় এবং পরবর্তীতে মরদেহ একটি লাগেজে ভরে ইসলামপুরের বেনুয়ারচর এলাকার মাছের ঘেরে ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় ইসলামপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা ছয়জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে, আদালতেও তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজার প্রধান ডাকঘরের সুপার (সংযুক্ত পোস্টমাস্টার) তন্ময় দে চৌধুরী।
তন্ময় দে চৌধুরীকে মৌলভীবাজার প্রধান ডাকঘর থেকে গত ৬ মে পোস্টমাস্টার জেনারেল, পূর্বাঞ্চল, চট্টগ্রামের নির্দেশে বদলি করা হয়। বদলি আদেশ অনুযায়ী, তার নতুন কর্মস্থল রাঙামাটি প্রধান ডাকঘরের ডেপুটি পোস্টমাস্টার (সংযুক্ত সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল, বৈদেশিক ডাকঘর, সিলেট) হওয়া কথা।
কিন্তু সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বদলি আদেশ জারির প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও তন্ময় দে চৌধুরী যথা স্থানে যাচ্ছেন না। এমন অবস্থায় ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গ্রাহকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
অনেকে মনে করেন, কোনো অদৃশ্য প্রভাব বা বিশেষ সুবিধার জন্য তন্ময় দে চৌধুরী বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করে পূর্বের কর্মস্থলেই রয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এছাড়া, তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মৌলভীবাজার থেকে বদলির আদেশ পাওয়ার পর, নতুন কর্মস্থলে কেন যোগদান করছেন না—এ প্রশ্নের জবাবে তন্ময় দে চৌধুরী বলেন, 'আমার কাছ থেকে যিনি দায়িত্ব বুঝে নেবেন, তিনি এখনও আসেননি। দায়িত্ব হস্তান্তর না হলে আমার কিভাবে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করব?'
এ বিষয়ে সিলেটের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল সুজিত চক্রবর্তী বলেন, 'তন্ময় দে চৌধুরীর বদলির আদেশ প্রায় দেড় মাস আগে জারি হয়েছে। কিন্তু তিনি এখনও নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এতদিন পরও তিনি পূর্বের কর্মস্থলে একই পদে বহাল রয়েছেন, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।'
তিনি আরও বলেন, 'তন্ময় দে চৌধুরী কেন নতুন কর্মস্থলে যোগদান করছেন না, সে বিষয়ে আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, পোস্টমাস্টার জেনারেলের (পিএমজি) সঙ্গে কথা বলব।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ