০৫:২২ পি.এম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট করার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) সাংসদ ও প্রবীণ অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক গুঞ্জন। যদিও তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, 'তৃণমূল কংগ্রেস বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি মোটেই উঠছে না।'
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানাচ্ছে, সম্প্রতি লোকসভার স্পিকারের কাছে তৃণমূলের কথিত 'বিদ্রোহী' গোষ্ঠীর জমা দেওয়া একটি চিঠিতে শত্রুঘ্ন সিনহার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি পোস্ট করেন।
তিনি লিখেছেন, 'সমাজ ও দেশের বন্ধু ও পথপ্রদর্শক, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দায়িত্বে ১২ বছর পূর্তির জন্য শুভেচ্ছা। সম্ভবত এটি ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদগুলোর একটি।
আরও পড়ুন: অনুপ্রবেশকারীর গল্প সাজিয়ে মুসলিমদের নিশানা করছে সরকার: ওয়াইসি
আপনার দীর্ঘ, সুস্থ ও সমৃদ্ধ জীবন কামনা করি। জয় হিন্দ।'
এই পোস্টটিতে তিনি তৃণমূল নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্যাগও করেছেন, যা রাজনৈতিক মহলে নানান গুঞ্জনের সৃষ্টি করেছে। তবে এসব জল্পনা নাকচ করে আসানসোলের এই সাংসদ বলেছেন, 'আমাকে নিয়ে অনেক কিছু বলা হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন আমি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অংশ। এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা।'
তিনি স্পষ্ট করেছেন, 'খারাপ সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কঠিন সময়ে আমিও তার পাশে থাকব।'
শত্রুঘ্ন সিনহা জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধেই তিনি আসানসোল থেকে লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তাই তিনি কখনো দিদিকে ছেড়ে যাবেন না।
আরও পড়ুন: ৮ কোটি মিসরীয় থাকতে কেন ভারতীয়কে বিয়ে করলেন আল-সায়েদ
এছাড়া, প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শত্রুঘ্ন সিনহা প্রাথমিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অন্যতম পরিচিত নেতা ছিলেন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে মতাদর্শগত মতপার্থক্যের জন্য তিনি বিজেপি ছেড়েছেন। পরে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে পাটনা সাহিবে যুদ্ধ করলেও পরাজিত হন।
পরে ২০২২ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং আসানসোল উপনির্বাচনে জয় পান। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি আবারও তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে একই আসন ধরে রাখতে সক্ষম হন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদিকে শুভেচ্ছা জানানো নিয়ে যে জল্পনা সৃষ্টি হয়েছিল, শত্রুঘ্ন সিনহার সাম্প্রতিক বক্তব্য তা অনেকটাই থামিয়ে দিয়েছে। তিনি বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসে থাকার বিষয় নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের গভীর ও সম্মানজনক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়: মাহদী আমিন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন