ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিদ্যুৎ সমস্যার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ


বিদ্যুৎ সমস্যার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আগামী কয়দিনের মধ্যে গ্যাসের সমস্যা কমে আসবে। তিনি বিদ্যুতের সমস্যার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বনানীচক অসহায়দের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্টরা এই দেশকে বিধ্বস্ত করে ফোকলা করেছে। দেশ গড়ে তুলতে হবে। এজন্য আমরা দিনরাত পরিশ্রম করছি। তবে ৬ মাসের মধ্যে সবকিছু করে ফেলা সম্ভব নয়। ৩ লাখ কোটি টাকা দেনা করে গিয়েছে। অনেক জায়গায় মানুষ বিদ্যুৎ-গ্যাসের জন্য কষ্ট পাচ্ছে। গ্যাস আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ ছিল। কিন্তু পুরো সেক্টর বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার জাহাজ ক্যান্সেল করেছিল।

আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে

বিরোধী দলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ৭১ সালে ভুল করেছেন, ৮৬ সাল, ৯৬ সালে ভুল করেছেন। ২৬ সালেও টিকিট বিক্রি করেছেন। এখনো বিভ্রান্ত করছেন। এসব থেকে বের হয়ে এসে আপনাদের কোনো পরিকল্পনা থাকলে উপস্থাপন করুন। সমালোচনা বাদ দিয়ে মুরোদ থাকলে মাঠে নেমে কাজ করুন।

সরকারপ্রধান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতারা পেছনে ফ্যান ঘুরছে, আর সামনে কেরোসিনবিহীন হারিকেন নিয়ে বসে বলছে, ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে’। তারা হঠকারিতা করছে। আমরা সংসদে আগামী দশ বছর জ্বালানি সংকট মোকাবিলার রূপরেখা দেবো। এই রাজনৈতিক দলগুলোকে বলবো, পরিকল্পনা নিয়ে আসুন। ৬ মাসের মধ্যে এই সমস্যা সমাধানে তারা পরিকল্পনা নিয়ে আসুক। সেই পরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করবো। চ্যালেঞ্জ দিলাম তাদেরকে।

তিনি আরও বলেন, বিভ্রান্তি-ভাঙচুরের রাজনীতি স্বৈরাচার করেছে। এসব হঠকারিতার রাজনীতি বাদ দেন। আপনাদের পরিকল্পনা জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। রাস্তায় ভাঙচুর করার দিন শেষ।

তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের আমলে বিএনপি তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেই টিকে ছিল। কিন্তু এখন যারা বড় বড় কথা বলছেন, মানুষ আপনাদের রাজপথে দেখতে পায়নি।

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

তিনি বলেন, আমরা মাত্র ৬ মাস বয়সী সরকার। ধীরে ধীরে সব সমস্যা সমাধানে কাজ করছি। নির্বাচনের আগে ৩১ দফা উপস্থাপন করেছিলাম। কৃষক, নারীসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেসব প্রতিশ্রুতি পূরণে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড প্রদান শুরু করেছি। খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। ৬ মাসে ৯০০ কিলোমিটার খাল খনন হয়েছে। বাচ্চাদের স্কুল ড্রেস, ব্যাগ বিতরণ কার্যক্রম ১ মাসের মধ্যে শুরু হবে। ৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছে। এরপর বারবার গণতন্ত্র হোঁচট খেয়েছে। মানুষের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা থাকলে মানুষের উন্নয়নে কাজ হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
চট্টগ্রামে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু

অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতি ছিল কি না, খতিয়ে দেখা হবে: শিল্প সচিব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৯ পি.এম


অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতি ছিল কি না, খতিয়ে দেখা হবে: শিল্প সচিব

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় কারও অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতি ছিল কি না- তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে বলে শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান জানিয়েছেন।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে দুর্ঘটনাকবলিত শিপ ইয়ার্ড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন তিনি। এ সময়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৯ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি এবং বিএসবিআর এর পাঁচ সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার আগে ও পরে কী ঘটেছিল এবং এর সঙ্গে কারও অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতি ছিল কি না- তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে কমিটিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে যদি কারও অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতি পাওয়া যায়, তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রামে জাহাজভাঙা কারখানায় ‘বিষাক্ত গ্যাসে’ নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯-এ দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নিরাপদে অপসারণ করা হবে, এ কথা জানান আব্দুন নাসের খান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনায় যাতে আর কোনো প্রাণহানি না ঘটে, সেই বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

এদিকে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরীক্ষার বরাত দিয়ে তিনি জানান, জাহাজটিতে স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় অতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১২ মাসে ৭ কোটি মানুষকে ডেটা নেটওয়ার্কে আনার লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০২ পি.এম


১২ মাসে ৭ কোটি মানুষকে ডেটা নেটওয়ার্কে আনার লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্ট

আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে দেশের প্রায় ৭ কোটি মানুষকে ডেটা নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘স্পেকট্রাম ফর আ কানেক্টেড বাংলাদেশ : এনাবলিং ইন্টারনেট ফর অল’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা জানান তিনি।

টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) এই বৈঠকের আয়োজন করে।

উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশে প্রায় ১৪ কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই এখনো টুজি ফোন ব্যবহার করছে। এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে একসঙ্গে স্মার্টফোনে নিয়ে আসা অসম্ভব। তবে সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাদের ডেটা নেটওয়ার্কে যুক্ত করা সম্ভব।

এ জন্য কম দামের স্মার্টফোন তৈরির বিষয়ে দেশীয় নির্মাতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। শুরুতে ৩ হাজার টাকার মধ্যে ফোন তৈরির কথা ভাবা হলেও নির্মাতারা জানিয়েছেন, ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে ফোন তৈরি করা সম্ভব।’ তিনি বলেন, ভারতের রিলায়েন্স প্রায় ৩৯ ডলারে একটি ফোন বিক্রি করছে। ওই ফোনে পুরোটা টাচস্ক্রিন না দিয়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ টাচস্ক্রিন ও এক-তৃতীয়াংশ কিপ্যাড ব্যবহার করা হয়েছে।

এতে ফোনের খরচ কমানো সম্ভব হয়েছে। একই ধরনের মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশের নির্মাতারাও ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। কম দামের ফোন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে কিস্তি বা ইএমআই সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

এ উদ্যোগে মোবাইল অপারেটরদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নির্মাতাদের সঙ্গে কো-ব্র্যান্ডিং এবং ফোনের সঙ্গে ভয়েস ও ডেটা প্যাকেজ বান্ডেল করার প্রস্তাব দেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আমি চাই, ফোনটি সাশ্রয়ী হোক এবং এই মানুষগুলোকে ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে নিয়ে আসা হোক।

কম দামের স্মার্টফোন তৈরির প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর শূন্য কর দেওয়ের সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি।

টিআরএনবির সভাপতি এস এম মাসুদুজ্জামান রবিনের সঞ্চালনায় বৈঠকে টেলিযোগাযোগ খাতের বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা বলেন, স্পেকট্রামকে শুধু সরকারি রাজস্ব আহরণের উৎস হিসেবে দেখার পরিবর্তে জাতীয় ডিজিটাল অবকাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সাশ্রয়ী মূল্যে অধিক স্পেকট্রাম বরাদ্দ এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা গ্রহণ করা গেলে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি নতুন গতি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

বৈঠকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী বলেন, স্পেকট্রামের দাম কমিয়ে একসময় যদি বিনা মূল্যেও দেওয়া হয়, তখন মোবাইল অপারেটররা হয়তো স্পেকট্রাম ব্যবহারের জন্য সরকারকে প্রণোদনা দেওয়ার দাবি তুলবেন। তাই টেলিযোগাযোগ খাতকে শুধু গ্রাহক বা অপারেটরের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে সমস্যার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। মানুষ, ব্যবসা ও সরকার- এই তিন পক্ষকে একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। তাই দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় দাম কমানোর প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে স্পেকট্রামের দাম বেশি এবং অপারেটরদের গড় আয় বা এআরপিইউ কম, এ দুটি বিষয় প্রায়ই তুলে ধরা হয়। তবে ১৮ কোটি মানুষের দেশে শুধু এআরপিইউ দিয়ে টেলিযোগাযোগ ব্যবসার বাস্তব চিত্র বোঝা কঠিন। এর পরিবর্তে মোট বা গ্রস রাজস্ব বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

তিনি আরো বলেন, মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সেবার মান ও দাম নিয়ে অভিযোগ করছে। কলড্রপ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে গত দুই বছরে দেশে কলড্রপের হার এক শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বমান অনুযায়ী প্রতি ১০ লাখ গ্রাহকের জন্য ২ থেকে ৬ মেগাহার্টজ তরঙ্গ প্রয়োজন হলেও দেশে এ হার মাত্র ২ দশমিক ২৯ মেগাহার্টজ। ২০৩৫ সাল পর্যন্ত দেশে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গের প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ৪৬০ থেকে ৪৬২ মেগাহার্টজ তরঙ্গ ব্যবহৃত হচ্ছে। আগামী বছর আরো ৪০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলামের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া আগামী নভেম্বরের বড় পরিসরের স্পেকট্রাম নবায়নের বিষয়ে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত না নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশীদারিমূলক প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উত্থাপন করেন টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এমডি মুনির হাসান। তিনি বলেন, স্পেকট্রামের মূল্য নির্ধারণে আরো স্বচ্ছ, বিশ্লেষণভিত্তিক ও জনসম্মুখে প্রকাশযোগ্য কাঠামো প্রয়োজন। শুধু একটি পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে নেটওয়ার্ক অর্থনীতি, ব্যবসায়িক মূল্য ও আন্তর্জাতিক বাজার, এই তিনটি বিষয় সমন্বয় করে মূল্য নির্ধারণ করা উচিত। ২০২৬ সালের ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের নিলামে মাত্র একজন দরদাতা অংশ নিলে শেষ পর্যন্ত রিজার্ভ প্রাইসেই স্পেকট্রাম বিক্রি হয়। প্রতিযোগিতা না থাকলে প্রকৃত বাজারমূল্য জানা কঠিন।

স্পেকট্রামের মূল্যায়নে ওডিবি, ডিসিএফ ও বেঞ্চমার্কিং- এই তিন পদ্ধতির সমন্বয়ের প্রস্তাব দেন মুনির হাসান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের পাশাপাশি দেশের নেটওয়ার্ক অর্থনীতি, অপারেটরদের আর্থিক সক্ষমতা ও সরকারের নীতিগত লক্ষ্য বিবেচনায় নিতে হবে। অতিরিক্ত দামে স্পেকট্রাম বরাদ্দ করা হলে অপারেটরদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে বিনিয়োগের পরিবর্তে বড় অঙ্কের অর্থ স্পেকট্রাম ফি পরিশোধে ব্যয় হতে পারে। এতে সেবার মান ও ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, ২০০৮ সালে স্পেকট্রাম বরাদ্দের সময় থেকে মূলত রাজস্ব আহরণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই সীমিত স্পেকট্রাম, অপর্যাপ্ত ফাইবার অবকাঠামো, টাওয়ার সাইটে সীমিত প্রবেশাধিকার ও উচ্চ স্পেকট্রাম মূল্যের মতো কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে টেলিযোগাযোগ খাত তার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেনি। সাশ্রয়ী মূল্যে বেশি স্পেকট্রাম এবং দ্রুত বরাদ্দ নিশ্চিত করা গেলে নেটওয়ার্কের মান উন্নত হবে, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে এবং নতুন বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে।

এমটব প্রেসিডেন্ট ও রবি আজিয়াটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও জিয়াদ সাতারা বলেন, স্পেকট্রামের প্রকৃত মূল্য শুধু সরকারের রাজস্ব আয়ের ভিত্তিতে পরিমাপ করা উচিত নয়। উন্নত সংযোগ, বিনিয়োগ, উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টির ভিত্তিতেও এর মূল্যায়ন করতে হবে। স্পেকট্রামের অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ করা হলে অপারেটরদের বড় অঙ্কের মূলধন নেটওয়ার্কে বিনিয়োগের পরিবর্তে স্পেকট্রাম ফি পরিশোধে ব্যয় করতে হবে। এতে সেবার মান ও গ্রাহকদের ডিজিটাল সেবা ব্যবহারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বাংলালিংকের সিইও ইয়োহান বুসে বলেন, গত ১০ বছরে দেশের টেলিকম খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়েনি, অথচ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সাশ্রয়ী স্পেকট্রাম বরাদ্দ করা হলে সেবার মান বাড়বে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান বলেন, স্পেকট্রাম নবায়নের বিষয়টি বিস্তৃত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা প্রয়োজন। গত পাঁচ বছরে জাতীয় রাজস্ব কোষাগারে টেলিকম খাতের অবদান বাড়লেও বিনিয়োগের বিপরীতে রিটার্ন কমেছে। তাই স্পেকট্রাম নবায়নের অর্থনৈতিক কাঠামো অপারেটরদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বিনিয়োগ এবং গ্রাহকদের মানসম্পন্ন সেবা দেওয়ার সক্ষমতা রাখছে কি না, তা বিবেচনা করা জরুরি।

আলোচনায় আরো অংশ নেন এমটব মহাসচিব লে. কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকার, বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার তাইমুর রহমান, গ্রামীণফোনের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ, রবি আজিয়াটার চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম, এফআইসিসিআই এক্সিজিউটিভ ডিরেক্টির টিআইএম নূরুল কবীর ও টিআরএনবির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসাইন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৮ আগস্ট চালু হচ্ছে এআইনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৪ পি.এম


১৮ আগস্ট চালু হচ্ছে এআইনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’

 

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন নিয়ন্ত্রণে আধুনিক এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু করতে যাচ্ছে হাইওয়ে পুলিশ।

আগামী ১৮ আগস্ট থেকে এ কার্যক্রম শুরু হবে বলে শনিবার (১৫ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ সদরদপ্তর।

হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, অবৈধ পার্কিং, উল্টোপথে গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নতুন এ ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এআই ক্যামেরার মাধ্যমে আইন অমান্যকারী যানবাহন শনাক্ত করা হবে।

পরে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে মামলা ও জরিমানার তথ্য পাঠানো হবে।

মামলার তথ্য পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মালিক নির্ধারিত পদ্ধতিতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে—যেমন বিকাশ, নগদসহ অনুমোদিত সেবা ব্যবহার করে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।

হাইওয়ে পুলিশ বলছে, প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থার ফলে মহাসড়কে সংঘটিত ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা দ্রুত শনাক্ত, প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ এবং বিধি অনুযায়ী জরিমানা আদায়ের কার্যক্রম আরও দ্রুত, স্বচ্ছ, নির্ভুল ও কার্যকর হবে।

পুলিশ আশা করছে, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে মহাসড়কে ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়বে, যান চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে যাত্রীসাধারণ, পরিবহন মালিক, শ্রমিক নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে হাইওয়ে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ত্রিশাল মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) ত্রিশাল

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৫ পি.এম


ত্রিশাল মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

পরিবেশ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে এবং সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে ময়মনসিংহের ত্রিশাল মহিলা ডিগ্রি কলেজের ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের সহধর্মিণী মোস্তেকা আনোয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

এ সময় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল বাশার, সাবেক অধ্যক্ষ সেলিমুল হক তরফদার, উপাধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, গভর্নিং বডির সদস্য হারুনুর রশিদ প্রমুখ অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%