০৭:২৩ এম
কুমিল্লার দেবিদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামে একজন নারীকে জবাই করে হত্যা করে পরে মরদেহকে টুকরা টুকরো করে ৯টি পলিথিনের ব্যাগে ভরে ফেলে রাখার এই ঘটনায় পুলিশ অবশেষে নিহতের মাথা ও পায়ের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করেছে।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে ঘটনার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরের একটি ডোবা থেকে এসব অংশ উদ্ধার করেছে দেবিদ্বার থানা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ফরিদা ইয়াসমিন প্রায় ৩০ বছর ধরে দেবিদ্বার পৌরসভার ছোট আলমপুর পূর্বাশা আবাসিক এলাকায় স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন। তাদের দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে এবং ছোট মেয়েটি, মরিয়ম আক্তার, মায়ের সঙ্গে থাকতেন।
আরও পড়ুন: লিবিয়ায় জিম্মি করে ২৫ লাখ টাকা আদায়, দেশে ফিরেও হামলার শিকার প্রবাসী
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতের ঘটনা, যখন ছোট মেয়ে একদিনের জন্য স্বামীর বাড়িতে গিয়েছিল, সে সময় ফরিদা ইয়াসমিন একা ছিলেন। ১২ দিন আগে, লাইলী আক্তার ওই বাড়িতে একটি কক্ষ ভাড়া নেন এবং পরে বাড়ির মালিকের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলে লাইলী স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সার অবস্থান জানার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে কোনো এক সময় ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এরপর তাঁর শরীরকে টুকরা করা হয় এবং বিভিন্ন অংশ পলিথিনে মোড়ানো হয়ে বাড়ির পেছনে একটি গলিতে ফেলে রাখা হয়। ঘটনার খবর জানাজানি হলে লাইলী পালানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনে মোড়ানো মরদেহের বিভিন্ন অংশের ৯টি ব্যাগ উদ্ধার করে, কিন্তু তখন নিহতের মাথা ও পায়ের অংশ পাওয়া যায়নি। রবিবারের সন্ধ্যায় ডোবা থেকে বাড়তি মাথা ও পায়ের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের মতে, লাইলী আক্তার ২০২১ সালে দেবিদ্বারে পাঁচ বছরের শিশু ফাহিমা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ওই ঘটনায় ফাহিমাকে গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ খালে পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠেছিল। র্যাব পরে অভিযান চালিয়ে ফাহিমার বাবা আমির হোসেন, তাঁর প্রেমিকা লাইলী আক্তারসহ আরও ৫ জনকে গ্রেফতার করে। পরে তাঁরা আদালতে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশের দাবি। ওই মামলায় প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগের পর কয়েক মাস আগে জামিনে মুক্তি পান লাইলী। তবে মামলাটির বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে মাদক কারবারিকে আটক করে থানায় ফেরার পথে পুলিশ সদস্যসহ নিহত ২
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, লাইলী আক্তার ২০২১ সালের শিশু ফাহিমা হত্যাকাণ্ডের মামলার আসামি ছিলেন। তিনি কয়েক মাস আগে জামিনে মুক্তি পান। ধারণা করা হচ্ছে, বাড়ির মালিকের স্বর্ণালংকারের লোভে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
এ হত্যার ঘটনার বিষয়ে নিহতের স্বামী মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। তিনি আরও জানান, আটক লাইলীকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাঁদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে এবং হত্যার প্রকৃত কারণ এবং অন্য কেউ এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি না, সেই বিষয়ে তদন্ত চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন