ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গোপনে বিমান বদল, ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন


গোপনে বিমান বদল, ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

প্রাণনাশের হুমকির কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গোপনে বিমান বদল করেছিলেন বলে ওয়াশিংটন পোস্টের খবর প্রকাশের পর মঙ্গলবার তিনি এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, খাবার সরবরাহের ট্রাকে করে ট্রাম্পকে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে অন্য একটি বিমানে গোপনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছেন, ‘তারা চেয়েছিল আমি অন্য একটি ফ্লাইটে, অন্য একটি বিমানে যাই। নিরাপত্তা একই ছিল। কিন্তু তারা আমাকে যেতে বলেছিল, তাই আমি গেছি। তারা যা বলে, আমি তা-ই করি।’

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্যে বলেন, ‘মনে হয় কোনো হুমকি ছিল। বিষয়টি নিয়ে আমি খুব বেশি কিছু জানতে চাইনি।’

আরও পড়ুন: বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেলেন এলিজা জামান

পত্রিকাটি সোমবার জানায়, ৮ জুলাই তুরস্কে অবস্থানের সময় এয়ার ফোর্স ওয়ান উড্ডয়নের আগে গোপন অভিযানে ট্রাম্পকে সে স্থান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিমানটিতে সাংবাদিক ও শীর্ষ কর্মকর্তারা ছিলেন। তাদেরকে বিমানেই থেকে যেতে হয়েছিল। ফলে ইরানের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকিতে তারা ছিলেন।

বিমানটি যখন মাটিতে ছিল, তখন ট্রাম্প গোপনে সেটি থেকে বের হয়ে যান। ভ্রমণকারী কয়েকজন সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, অজান্তেই তাদের ‘ডিকয়’ বা বিভ্রান্তিমূলক লক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যরা হোয়াইট হাউসের প্রতারণা এবং তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।

ভিডিও ক্যামেরা ও আলোকচিত্রীদের সামনে ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের বিমানে ওঠেন। এএফপির ছবিতে বিমানের সামনের ও পেছনের দিকে দুটি সরবরাহের কনটেইনার দেখা যায়। কিন্তু পরে জানা যায়, ট্রাম্প বিমানটি থেকে বেরিয়ে একটি কার্গো কনটেইনারের ভেতরে ওঠেন। সেখান থেকে কাছেই থাকা মার্কিন বিমানবাহিনীর ছোট একটি বিমানে তিনি ওঠেন।

ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আসলে আমি যে বিমানে উড়েছি, সেটিই বেশি ঝুঁকিতে ছিল বলে মনে করি। কারণ আমার ধারণা, তারাই ওই বিমানটিকে বেশি লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করত।’

আরও পড়ুন: হুতি গোষ্ঠীর সৌদি তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরে হামলার দাবি

এয়ার ফোর্স ওয়ানের পৃথক অংশে ভ্রমণকারী প্রায় এক ডজন সাংবাদিক প্রেসিডেন্টের কাছে যাওয়ার সুযোগ পাননি। তারা বিমান বদলের বিষয়টি জানতেন না। যদিও ইরানের সম্ভাব্য হুমকি ছিল, তবুও তারা ওই বিমানেই তুরস্ক ত্যাগ করেন। বর্তমানে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে রয়েছে।

ট্রাম্প বলেছেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো প্রেসিডেন্টেরই অনেক হুমকি থাকে।’ তিনি উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, আমি কোনো কিছু নিয়েই চিন্তা করি না। যা হওয়ার হবে—এটাই আমার মনোভাব।’

কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি সম্পর্কিত বিষয়টি নিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, এয়ার ফোর্স ওয়ানকে কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা হামলার আশঙ্কা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরাইল সতর্ক করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা ও কর্মীরা তখনও বিমানটিতে ছিলেন।

বিমানটিতে থাকা সাংবাদিকদের পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, উড্ডয়নের সময় জানালার পর্দা নামিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল সিক্রেট সার্ভিস। যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে এমন নির্দেশ অস্বাভাবিক।

আরও পড়ুন: গলাচিপায় পটকা বিস্ফোরণে কিশোর অমিতের হাতের পাঁচ আঙুল বিচ্ছিন্ন

সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার মঙ্গলবার কংগ্রেসকে ‘প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ইরানের হুমকি এবং তাকে তুরস্ক থেকে সরিয়ে নিতে নেওয়া অসাধারণ পদক্ষেপ’ সম্পর্কে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

কাতারের উপহার দেওয়া বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭ বিমানে ট্রাম্প ন্যাটো সম্মেলনে যাওয়ার পর থেকেই তার সফর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বিমানটি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনের উপযোগী করে সংস্কার করা হলেও এতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না বলে জানা গেছে। এ কারণে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানকে কাজে লাগানো হয়েছিল।

সে সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, নতুন বিমানটি ব্রিটেনে মার্কিন সেনাদের দেখানোর জন্য আগেই পাঠানো হচ্ছে। তিনি এটিকে সেনাদের জন্য বিশেষ উপহার হিসেবে উল্লেখ করেন।

ব্রিটেনে যাত্রাবিরতির পর ওয়াশিংটনে ফেরার জন্য তিনি আবার কাতারের দেওয়া বিমানে ওঠেন। সেসময় সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলা হলে এর কারণ জানতে চান তারা। ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, ‘আপনারা সম্ভবত একটি বিপজ্জনক ফ্লাইটে আছেন। কারণ আমাদের যেসব নোংরা লোকের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হয়, তাদের জন্য।’

আরও পড়ুন: বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত নেপালি তরুণী প্রকৃতি মল্লার হাতের লেখা

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি গেলে আপনারাও যাবেন। তাই তো?’

২০০০ সালে ভারত থেকে পাকিস্তান যাওয়ার পথে শেষ মুহূর্তে প্রেসিডেন্টের বিমান বদল করেছিলেন বিল ক্লিনটন। সে সময় সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যদের বহনকারী একটি ডিকয় বিমান ব্যবহার করা হয়েছিল।

২০২৩ সালে ইউক্রেন সফরের সময় জো বাইডেনের যাত্রাও কঠোর গোপনীয়তায় রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ বিমান ও ট্রেন যাত্রার ওই সফরে যদিও একজন প্রতিবেদক ও একজন আলোকচিত্রী তার সঙ্গে ছিলেন।

আরও পড়ুন: ১ নভেম্বর থেকে ইইউর বাইরে আসা পার্সেলে নতুন ২ ইউরো ফি কার্যকর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

থাইল্যান্ডে স্কুলে বন্দুক হামলার পর আগ্নেয়াস্ত্র কেনার লাইসেন্স স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:১৭ এম


থাইল্যান্ডে স্কুলে বন্দুক হামলার পর আগ্নেয়াস্ত্র কেনার লাইসেন্স স্থগিত

গত সপ্তাহে থাইল্যান্ডে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর গুলি চালিয়ে আটজনকে হত্যা করার পর নিজে আত্মহত্যা করে। এরপর থাইল্যান্ড সরকার অবিলম্বে বন্দুকের লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

বিদ্যমান বন্দুকের মালিকদের জন্য জনসমক্ষে অস্ত্র বহন করা ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ করেছে দেশটি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশে বেসামরিক মানুষের কাছে বন্দুকের মালিকানার হার এই অঞ্চলের অন্যতম বেশি। দেশটিতে প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ আগ্নেয়াস্ত্র বিদ্যমান। একই সঙ্গে বন্দুক-সংক্রান্ত অপরাধের হারও তুলনামূলকভাবে বেশি।

সাম্প্রতিক কয়েকটি গুলির ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন ও কঠোর বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নতুন আইন কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত নতুন বন্দুকের লাইসেন্স দেওয়াও স্থগিত রাখার ঘোষণা তিনি দিয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত শুক্রবার ব্যাংককের উপকণ্ঠে অবস্থিত দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলের এক ছাত্র তার দাদার মালিকানাধীন একটি হ্যান্ডগান দিয়ে প্রথমে তার দাদা-দাদিকে গুলি করে। পরে, সে স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপরও গুলি চালায়।

হামলায় ওই ছাত্রের দাদা-দাদি এবং নানা-নানিসহ স্কুলের পাঁচজন কর্মচারী এবং ১২ বছর বয়সী এক মেয়ে নিহত হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, হামলাকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে নিজেই বন্দুক চালানো শিখে থাকতে পারে। পুলিশ বলছে, এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে যে ওই ছেলে অনলাইনে সহিংস বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট দেখত এবং বন্দুক চালানোর প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল। তারা আরো বলেছে, এসব সহিংস কনটেন্ট দেখা, পড়াশোনা নিয়ে চাপ এবং পারিবারিক সমস্যার মতো বিষয়গুলো তার কর্মকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্দুক কেনা কিংবা মালিকানার জন্য নতুন কোনো অনুমতিপত্র দেওয়া হবে না। পাশাপাশি, বিদ্যমান বন্দুক কেনার অনুমতিপত্রও নবায়ন করা হবে না। তবে আগে থেকে থাকা বন্দুকের মালিকানার অনুমতিপত্রের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

২০২৩ সালের শেষের দিকে বন্দুক বহনের অনুমতি স্থগিত করা হয়। এর ফলে বন্দুকের মালিকদের অস্ত্র বাড়িতে বা নির্ধারিত শুটিং রেঞ্জে রাখতে হচ্ছে। স্কুলে গুলির ঘটনার পর সরকার প্রায় ৪০ লাখ লাইসেন্সবিহীন বন্দুকের মালিককে তাদের অস্ত্র কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে উৎসাহিত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল বলেছেন, সরকার আরো কঠোর বন্দুক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং কঠিন শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন করার কাজ করছে। নতুন আইন না হওয়া পর্যন্ত ঘোষিত বর্তমান পদক্ষেপগুলো কার্যকর থাকবে। বন্দুক নিয়ন্ত্রণের পক্ষে থাকা ব্যক্তিরা বন্দুকের অনুমতিপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়ায় মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর অনুমতিপত্র পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন। আনুতিন বলেছেন, কঠোরভাবে গোলাবারুদ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীরা যাতে স্কুলে অস্ত্র নিয়ে আসতে না পারে, সেজন্য স্কুলের প্রবেশপথে তল্লাশি চালানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাসিরুদ্দিন শাহকে ‘শেয়াল’ বলে কঙ্গনার কটাক্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:১৯ এম


নাসিরুদ্দিন শাহকে ‘শেয়াল’ বলে কঙ্গনার কটাক্ষ

ঝাড়খণ্ডে শিক্ষার্থী ও সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহের নীরবতা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। তিনি নাসিরুদ্দিনের পুরোনো এক মন্তব্যের সূত্র ধরে দাবি করেছেন যে, নাসিরুদ্দিন দেশের অন্ন খেয়েও অন্য দেশের পক্ষে অবস্থান নেন।

কঙ্গনা রানাউত নাসিরুদ্দিনের মতো ‘শেয়াল’ হওয়ার চেয়ে অনুগত ‘কুকুর’ হওয়া অনেক ভালো বলেও মন্তব্য করেছেন।

গত ২৫ জুলাই থেকে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ঝাড়খণ্ডে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন শত শত শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী। এই ইস্যুর প্রেক্ষিতে সেলিব্রিটিদের নীরবতা প্রসঙ্গে এর আগে নাসিরুদ্দিন শাহ মন্তব্য করেছিলেন, তারকারা তখনই মুখ খুলেন যখন তাদের বিবেক সায় দেয়। সে সময় তিনি একটি প্রবাদ টেনে বলেছিলেন, মুখে হাড় থাকলে কুকুর ঘেউ ঘেউ করতে পারে না—হাড় মুখ থেকে পড়ে গেলে তবেই সে আওয়াজ তোলে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নাসিরুদ্দিনের সেই পুরোনো ‘কুকুর’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তাকে নিশানা করেছেন কঙ্গনা। তিনি বলেছেন, প্রত্যেকেই কারো না কারো প্রতি অনুগত, তবে যে দেশের অন্ন তিনি খান, সেই দেশের জন্য লড়াই করতে পারাকে তিনি গর্বের মনে করেন। এ ছাড়া, নাসিরুদ্দিনের ‘কুকুর’ প্রবাদের জবাব দিয়ে কঙ্গনা আরো লিখেছেন, বর্তমান সময়ে মানুষকে কুকুর বলা বরং একটা প্রশংসা বলেই মনে হয়, কারণ আনুগত্য ও সারল্য এখন অত্যন্ত বিরল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশাল জজকোর্ট প্রাঙ্গণে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্কে বিচারপ্রার্থীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:২২ এম


বরিশাল জজকোর্ট প্রাঙ্গণে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্কে বিচারপ্রার্থীরা

বরিশাল জজকোর্ট আদালত প্রাঙ্গণের গেটের ভেতরে বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আকস্মিক এ বিস্ফোরণে আদালত প্রাঙ্গণে আসা বিচারপ্রার্থীসহ উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিস্ফোরণের শব্দে আদালত প্রাঙ্গণে মুহূর্তেই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন মামলার শুনানি ও অন্যান্য কাজে আদালতে আসা বিচারপ্রার্থীদের অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ সময় নিরাপত্তার কারণে অনেকে ঘটনাস্থল থেকে সরে যান।
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আদালত প্রাঙ্গণের বিস্ফোরণস্থল ঘিরে ফেলেন। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশের বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা ঘটনাস্থল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন এবং বিস্ফোরণের আলামত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করছেন বলে ঘটনাস্থলে দেখা গেছে।
তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে আদালত প্রাঙ্গণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
তবে কীভাবে আদালত প্রাঙ্গণের গেটের ভেতরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে—তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। বিস্ফোরণের আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।
এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিস্ফোরণের কারণ ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
ঘটনাস্থল থেকে বিস্তারিত জানাচ্ছেন—
মাছুদুর রহমান আসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত দীর্ঘ হওয়ার শঙ্কা, নৌপথে নতুন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:২৯ এম


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত দীর্ঘ হওয়ার শঙ্কা, নৌপথে নতুন হামলা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের দ্রুত সমাপ্তির সম্ভাবনা আরো কমে গেছে। মঙ্গলবার, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানপন্থী ইয়েমেনের হুথিরা একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে আলাদা আলাদা হামলার কথা জানিয়েছে।

একই সময়ে, ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ না তাদের শর্তগুলো মানবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

বিশ্বের তেল সরবরাহের জন্য অপরিহার্য দুটি নৌপথ—ওমান উপসাগর এবং লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে ননকিছু নতুন ঝামেলা দেখা দিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারেও প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আশা কমে যাওয়ায় তেলের দাম বেড়েছে এবং বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে।

ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৯১ ডলারে। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দামও ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে এখন ৮৩ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছেছে।

আজ সোমবার, লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে একটি ছোট পণ্যবাহী জাহাজে হুথিদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় চারজন নাবিকের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া, হুথিবিরোধী একটি সামরিক দলের সঙ্গে যুক্ত দুই ইয়েমেনি উদ্ধারকর্মীও নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের কোস্টগার্ড। যদি মিশরের মালিকানাধীন ‘তিহামাহ’ নামের জাহাজে এ প্রানহানি ঘটে, তাহলে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুথিদের হামলায় কোনো জাহাজে প্রাণহানির এই প্রথম ঘটনা হবে।

হুথিদের পরিচালিত বার্তা সংস্থা সাবা জানায়, গত মাসে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে লোহিত সাগরে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার, তারা বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি সৌদি জাহাজে হামলা করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে জাহাজটির নাম প্রকৃতপক্ষে জানানো হয়নি, এ বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে কোন তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, মার্কিন নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার পানামার পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজের দিকনির্দেশনা ব্যবস্থা অচল করে দিয়েছে। এই সময়, হেলিকপ্টারটি দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্রও ছুড়ে মারে। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের দাবি, ইরানের বন্দরের নৌ অবরোধ ভঙ্গ না করতে জাহাজটিকে কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু জাহাজটি সেই সতর্কতা মানেনি। সামুদ্রিক কয়েকটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, পাকিস্তানের উপকূলের কাছে ওমান উপসাগরের দিকে যাওয়ার সময় জাহাজটিতে হামলা হয়েছে।

গত দুই দিনে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র —দুই দেশই তাদের সংঘাত নিয়ে আরো কঠোর বক্তব্য রেখেছে। ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি মঙ্গলবার বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের শর্ত মানতে হবে। তা না হলে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। ইরানের শর্তগুলো হলো দেশটির জব্দ করা সম্পদ ছাড়ানো এবং লেবানন ও গাজাসহ পুরো অঞ্চলে চলমান সংঘাত বন্ধ করা।

ইরানের সংশ্লিষ্ট বক্তব্য এই বার্তার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। যুদ্ধে শুরুর আগে, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো। এই কারণে, এই নৌপথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। আধা-সরকারি ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিমকে রেজায়ি জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের আচরণ পরিবর্তন না করে ইরানের শর্ত না মানা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত চুক্তির সম্ভাবনার কথা বলছেন, অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দিচ্ছেন। সোমবার ট্রাম্প নতুন দাবি করেছেন যে, গত ৫০ বছরের যুদ্ধ, হামলা ও বিক্ষোভে নিহত মানুষের জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এর আগে, তিনি কখনো সংঘাত আরো বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন এবং কখনো বলেছেন, খুব শিগগিরি শান্তিচুক্তি হতে পারে। সোমবার রাতে প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে, ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, বর্তমান অনিশ্চয়তা আরো কিছু দিন চলতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, তিনি পরিস্থিতি চলতে দিতে পারেন এবং ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হতে দিতে পারেন; আবার পূর্বের অবস্থায় আসার প্রয়োজন হলে, ইরানের ওপর ‘খুব, খুব কঠোর’ হামলাও চালাতে পারেন।

‘রিয়েল আমেরিকাস ভয়েস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এক ধরনের আলোচনা চালাচ্ছেন এবং ইরানিরা খুবই দক্ষ আলোচক। মঙ্গলবার ওহাইও সফরের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ট্রাম্প আরো বলেন, ইরান যদি কখনো কিছু করার চেষ্টা করে, তাদেরকে কঠোরভাবে জবাব দেওয়া হবে। তার মতে, কয়েক দশক ধরে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার করলেও এখন সেই পরিস্থিতি बदलছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গত মাসে ইরানের সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টার কারণে, তুরস্কে ট্রাম্পের বিমান পরিবর্তন করতে হয়েছিল।

ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প গোপনে এয়ার ফোর্স ওয়ানের বদলে একটি সামরিক বিমানে উঠেছিলেন। খাবার সরবরাহের একটি গাড়ির মাধ্যমে তাকে এক বিমান থেকে অন্য বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে, ট্রাম্প বলেছেন, তার ধারণা ছিল, বিকল্প বিমানটিকেই বেশি লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। তিনি আরো বলেন, গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য অনেক ধরনের হুমকি থাকে। তবে এসব নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন বলে জানান।

রেজায়িকে রবিবার, ইরানের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি সমন্বয়কারী সংস্থার দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার বক্তব্যের বিষয়ে হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা কমে যাওয়ার সবচেয়ে জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তাসনিমকে দেওয়া বক্তব্যে রেজায়ি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নীতি পরিবর্তন করে ইরানের শর্তগুলো না মানা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ, এবং এখানে যুদ্ধের আগে এই পথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হতো। এই কারণে, যদি এই নৌপথটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তবে তেলের দাম নির্দিষ্টভাবে আরো বাড়তে পারে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এই অবস্থায়, ইরান ওমান, জর্ডান, কুয়েত, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। নতুন করে সংঘাত আরো বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডারের উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নাকদি মঙ্গলবার, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন, তাদের বাহিনী শত্রুর ভূখণ্ডে অভিযান চালানোর শক্তি তৈরি করছে। তিনি বলেন, প্রয়োজনে এবং নির্দেশ পেলে ইরানি বাহিনী শত্রুর ভূখণ্ডে অভিযানে যাবার জন্য প্রস্তুত থাকতে চাইছে। এ ধরনের প্রস্তুতি তাদের আক্রমণাত্মক কার্যক্রমের অংশ বলে জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%