ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফর

২৩ বছর আগে সুজনকে সাহস জুগিয়েছিলেন স্টিভ ওয়াহ


২৩ বছর আগে সুজনকে সাহস জুগিয়েছিলেন স্টিভ ওয়াহ

২০০৩ সালে খালেদ মাহমুদ সুজনের নেতৃত্বের সময়ে বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছিল। 

বাংলাদেশ দল টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার ৩ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছিল। ২০০৩ সালের ওই টেস্ট সিরিজের আগে খালেদ মাহমুদ সুজনের অধীনে দলের সামর্থ্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার ডেভিড হুকস।

সেই সময়ে সুজনকে সমর্থন দিয়ে সাহস জুগিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা দলনেতা স্টিভ ওয়াহ। এই পুরোনো বিষয়টি আবার তুলে ধরেছে ফক্স স্পোর্টস।

আরও পড়ুন: ইংল্যান্ডও হারল পাকিস্তানের কাছে

২৩ বছর পরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আবার তৃতীয় টেস্ট সিরিজে অংশগ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। শান্ত, মুশফিক ও মিরাজদের দলটি এবার তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে।

আসল লড়াইয়ের আগে ফিরে এসেছে দুই যুগ আগে ঘটে যাওয়া এক অভিজ্ঞতা।

সেই সময়, ২০০৩ সালে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের বয়স তখন মাত্র কয়েক বছর। এর বিপরীতে স্টিভ ওয়াহর অস্ট্রেলিয়া ছিল বিশ্ব ক্রিকেটের সবথেকে শক্তিশালী দল।

সেই সিরিজের দুইটি ম্যাচেই বাংলাদেশকে ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত করেছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু সিরিজ শুরুর আগে স্টিভ ওয়াহ মাঠের বাইরের একটি ঘটনাকে আলাদা নজির স্থাপন করেছিলেন।

আরও পড়ুন: বার্সেলোনার উড়তে থাকা জয়রথ থামাল পিএসজি, ৪-২ ব্যবধানে জয়

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ডেভিড হুকসের নিন্দাত্মক মন্তব্যের কারণে হতাশ হওয়ার বদলে, খালেদ মাহমুদ সুজনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন স্টিভ ওয়াহ। তিনি শুধু এতটুকু করেননি, ম্যাচের আগে সুজনকে বলেছিলেন, ‘এ নিয়ে (হুকসের মন্তব্য) চিন্তা করো না। একজন পাগল মানুষ এসব বলছে।’

বাংলাদেশের সামর্থ্য নিয়ে অসন্তোষ

ডেভিড হুকস সিডনি মর্নিং হেরাল্ডে একটি কলামে বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

২৩ বছর আগে বাংলাদেশের উপর নিজের কলামে এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন ডেভিড হুকস। ছবিতে: এআই দ্বারা নির্মিত।

আরও পড়ুন: দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় নয়: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী টুকু

হুকস এমন কথাও বলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার উচিত ছিল বাংলাদেশকে দ্রুত অলআউট করে একই দিনে আবার ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ম্যাচ শেষ করে দেওয়া। তাঁর কলামের শিরোনাম ছিল, ‘এবার একদিনের টেস্টের পালা।’

স্টিভ ওয়াহ অবশ্য এই মন্তব্যে সায় দেননি।

ওয়াহ সুজনকে কী বলেছিলেন?

ডারউইনে প্রথম টেস্টের আগে একটি অনুষ্ঠানে সুজনের সঙ্গে সাক্ষাত হয়েছিল ওয়াহর। কথোপকথনের এক পর্যায়ে হুকসের মন্তব্যের প্রসঙ্গ ওঠে।

আরও পড়ুন: ভারতীয় পর্যটকেরা বলছেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে পূজার পরিবেশ ভালো: রিজভী

ক্রিকবাজকে সুজন বলেন, ‘টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে ডারউইনে একটি আয়োজন ছিল। আমরা সন্ধ্যায় চা খাচ্ছিলাম। বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলাম। হঠাৎ স্টিভ ওয়াহ এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমি কেমন আছি। পরে তিনি জানতে চাইলেন, ‘তোমরা কি পত্রিকা পড়ো?’ আমি বললাম, ‘সাধারণত পড়ি না, তবে মাঝে মাঝে পড়ি।’ তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘ডেভিড হুকসের মন্তব্য কি পড়েছ?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, পড়েছি।’ তখন তিনি বললেন, ‘এ নিয়ে চিন্তা করো না। একজন পাগল মানুষ এসব বলছে। আমি বিশ্বাস করি, তোমরা এর চেয়ে অনেক ভালো দল এবং আমাদের বিপক্ষে ভালো খেলবে। তোমাদের জন্য শুভকামনা।’”

ওয়াহর সেসব কথা তখন হয়তো সুজনের জন্য একটি ছোট সান্ত্বনা ছিল। কিন্তু ২৩ বছর পরে ফিরে তাকালে এটি ক্রিকেটীয় সৌজন্য ও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সম্মান জানানোর এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাঠে বাড়তি আগ্রাসন ছিল না

সেবার বাংলাদেশ ছিল অনেক পিছিয়ে থাকা দল। সুজনও ছিলেন মাত্র ৫ টেস্টের অধিনায়ক। তবুও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা মাঠে বাংলাদেশকে হেয় করার কোনো প্রয়াস চালাননি। বরং স্টিভ ওয়াহর দলের পরিকল্পনা এবং পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে তারা নিজেদের দক্ষতা দেখিয়েছিল।

আরও পড়ুন: ভোটের পাঁচ দিন আগে বাইশিমাস নির্বাচন স্থগিত, প্রার্থীদের প্রতিবাদ

২০০৩ সালে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ডারউইন টেস্টের টসের মুহূর্ত। ছবিতে: এপি।

সুজন বলেন, ‘আমরা অস্ট্রেলিয়ানদের স্লেজিং করার কথা শুনেছিলাম। কিন্তু মাঠে আমরা এর কিছুই দেখিনি। স্টিভ ওয়াহর দল আমাদের স্লেজিংয়ের ধারেকাছেও যায়নি। আমাদের মতো দুর্বল ও অনভিজ্ঞ দলের বিপক্ষে তাদের পদ্ধতি ও প্রয়োগ ছিল শুদ্ধ পেশাদার।’

অস্ট্রেলিয়ার বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে সুজন এভাবে অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন, ‘তারা পরিকল্পণা করে এবং বুদ্ধি খাটিয়ে বল করেছিল। (স্টুয়ার্ট) ম্যাকগিল তার স্বাভাবিক তিনটি বল করার পর একটি গুগলি করেছিল। আমরা সেটার সঙ্গে একেবারেই পরিচিত ছিলাম না।’

২৩ বছর পরও সেই টেস্ট মনে আছে

আরও পড়ুন: হায় সেলুকাস, আমাদের এই বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি

২০০৩ সালের সেই দলের সদস্য অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও জেসন গিলেস্পির কাছেও ডারউইন টেস্টের স্মৃতি এখনো জীবন্ত।

গিলক্রিস্ট মনে করেন, ডারউইনে টেস্ট খেলার পরিবেশ ছিল ভিন্ন। আর গিলেস্পির মতে, উত্তর অস্ট্রেলিয়ায় নিয়মিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন করা উচিত।

এবার কি পরিস্থিতি ভিন্ন হবে?

সম্প্রতি প্রস্তুতি ম্যাচে বাজেভাবে হারলেও, ২০০৩ সালের বাংলাদেশ এবং ২০২৬ সালের বাংলাদেশ এক নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই দশকের বেশি সময়ে দলটি অনেক পরিণত হয়েছে।

তাহলে, ২৩ বছর আগে সিরিজের অস্ট্রেলিয়ার একতরফা আধিপত্য থাকলেও, এবার বাংলাদেশ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে ধারণা করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্যাস সংকটের ধাক্কা কাটেনি শিল্পে, সরকারি সহায়তা চেয়ে দুই মন্ত্রীকে চিঠি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৪৭ এম


গ্যাস সংকটের ধাক্কা কাটেনি শিল্পে, সরকারি সহায়তা চেয়ে দুই মন্ত্রীকে চিঠি

গ্যাস সংকটে ১৫ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার পরে শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকা অবস্থায় আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ব্যবসায়ীরা সরকারের সহায়তা চাচ্ছেন। ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য তারা ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ এবং বকেয়ার কারণে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার দাবি জানিয়েছেন।

বঙ্গোপসাগরের মহেশখালী অংশে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশের শিল্পকারখানা অন্তত ১৫ দিন গ্যাস সংকটে পড়ে গেছে। প্রথমে এর প্রভাব রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় দেখা গেলেও পরে সংকটটি চট্টগ্রামেও ছড়িয়ে পড়ে। এই কারণে উৎপাদন বিশালভাবে স্থবির হয়ে পড়ে বিভিন্ন শিল্পকারখানাগুলো।

গত তিন দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে ক্ষতির মুখে পড়া শিল্পকারখানাগুলো এখন সরকারের সহযোগিতা চাইছে।

এই অবস্থাকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফের দাবি জানিয়ে অর্থমন্ত্রীকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বকেয়ার অজুহাতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার অনুরোধ জানিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীকেও চিঠি দিয়েছেন তারা।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী জানান, গ্যাস সংকটে গার্মেন্টসের প্রেসিং ও ফিনিশিং সেকশন কিছু দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে বন্ধ ছিল। এ কারণে বহু প্রতিষ্ঠান রফতানি করতে পারেনি এবং কেউ কেউ এয়ারফ্রেইটের মাধ্যমে পণ্য পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন। এতে আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। শুধু গার্মেন্টসই নয়, স্টিলসহ গ্যাসনির্ভর প্রায় সব শিল্পও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটে বিশেষ করে গার্মেন্টস কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে বলে দাবি করেছে বিজিএমইএ। সংগঠনটির মতে, প্রতি মাসে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হলেও গ্যাস সংকটের কারণে চলতি মাসে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে।

এই পরিস্থিতিতে জুলাই মাসের বিল পরিশোধে বাড়তি সময় চাওয়ার পাশাপাশি বকেয়ার অজুহাতে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করতে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে চিঠি দিয়েছে বিজিএমইএ। বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. রফিক চৌধুরী বলেন, পুরো তৈরি পোশাক খাতে প্রতি মাসে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের রফতানি হয়। যদি ১৫ দিনের মতো উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে এটি স্বাভাবিকভাবেই প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

এদিকে, বিশ্বমন্দার প্রভাবে গত অর্থবছরের পুরো সময় রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে ছিল দেশের তৈরি পোশাক খাত। এর মধ্যে গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানা আরও বড় ধরনের ক্ষতির আবহে পড়েছে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সরকার ছাড়া ব্যবসায়ীদের কোন বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেছেন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা।

বিজিএমইএর পরিচালক এনামুল আজিজ চৌধুরী জানান, গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল কিংবা ব্যাংক ঋণ পরিশোধে কোনো বিলম্ব হলে যেন অতিরিক্ত জরিমানা না করা হয়। অন্তত এই জরিমানা থেকে উৎপাদনকারীদের কিছুটা ছাড় দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবে মোকাবিলা করে আবার উৎপাদনে ফিরতে পারবেন শিল্পমালিকরা।

রাজধানী ঢাকা, সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামে রয়েছে ৪ হাজারের বেশি গার্মেন্টস কারখানা। এই গোত্রে রয়েছে আরও বেশ কয়েক হাজার ভারী ও মাঝারি শিল্পকারখানা। এসব শিল্প থেকে বছরে ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রফতানি আয় আসে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইনফান্তিনোকে সমর্থন দেয়নি বাফুফে: তাবিথ আউয়াল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৪৯ এম


ইনফান্তিনোকে সমর্থন দেয়নি বাফুফে: তাবিথ আউয়াল

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সেই খবর নাকচ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছিল ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পাশে বাংলাদেশ রয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইনফান্তিনো বা তার প্রস্তাবিত কোনো প্রকল্পের পক্ষে বাফুফে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

রোববার (৯ আগস্ট) বাফুফে ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তাবিথ আউয়াল বলেছেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রস্তাবকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই এই বিষয়টি বাফুফের কার্যনির্বাহী কমিটিতে আলোচনা করতে হবে। তিনি বলছেন, কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়া আগাম সমর্থন জানানোর সুযোগ নেই।

তাবিথ আরও বলেছেন, বাংলাদেশ কোনোরকমের পক্ষে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। কার্যনির্বাহী কমিটিতে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি জানান, ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত 'ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ' প্রকল্প নিয়েও বাফুফে কোনো সম্মতি দেয়নি। ফিফার জন্য এসব প্রকল্প বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্ব পরিচালনার জন্য নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ার পরিকল্পনা করেছিল এবং এর মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে ২০ শতাংশ মালিকানা বিক্রির বিষয়টি ছিল।

ফিফার প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে, ফিফার প্রতিটি সদস্য দেশকে সর্বোচ্চ চার কোটি ডলার পর্যন্ত দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, যেখানে বর্তমানে ফিফার একটি উন্নয়ন চক্রের আওতায় সদস্য দেশগুলো প্রায় এক কোটি ডলার পেয়ে থাকে।

তবে বাফুফের কার্যনির্বাহী কমিটিতে প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা হওয়ার আগেই প্রকল্পটি বৈশ্বিক বিরোধিতার মুখে বাতিল করে ফেলেছে ফিফা। তাবিথের মন্তব্য হলো, বাফুফে এখনো কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রস্তাবকে আগাম সমর্থন জানায়নি।

আন্তর্জাতিক ফুটবলের উন্নতিতে ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও, বাফুফের মতামত ছাড়া সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর অবস্থানও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে বলে তাবিথ আউয়াল জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, এখানে অনেক বিষয় বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন রয়েছে। কার্যনির্বাহী কমিটির পাশাপাশি ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামতও সংবাদে আসবে।

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনাকে ঘিরে বর্তমানে ফিফা নেতৃত্ব সংকটে পড়েছে। উয়েফাসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি ফুটবল সংস্থা ইনফান্তিনোর বিরোধিতা করছে। অপরদিকে, আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন, আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকোসহ কয়েকটি দেশ ইনফান্তিনোর পক্ষে আছে।

২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে পুনরায় প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়েছেন ইনফান্তিনো। তবে বাংলাদেশ কি তাকে সমর্থন করবে, সে ব্যাপারে যথাসময়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তাবিথ আউয়াল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে মালাউই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫১ এম


ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে মালাউই

বিশ্ব ফুটবলে মালাউই একটি খুব পরিচিত নাম নয়। দেশটি আফ্রিকার ফুটবলেও অনেকটা আড়ালে রয়েছে। তবে মালাউই এবার তৈরি করেছে এক অসাধারণ রূপকথা। উইমেন’স আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় এবার তারা প্রথমবারের মতো ফিফা নারী বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে।

রবিবার মরক্কোর রাবাতে কোয়ার্টার-ফাইনালে আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাসে পা রেখেছে মালাউই। এই জয়টি কতটা বিস্ময়কর, তা বোঝা যায় দুই দলের ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে চোখ রাখলেই। মালাউইয়ের অবস্থান ১৫৩ নম্বরে, অন্যদিকে ঘানা রয়েছে ৬০ নম্বরে।

নারী ফুটবলে মালাউইয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল এই শতাব্দীর শুরুর দিকে। ২০০২ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিল এই দল, আর এবার তারা পা রাখতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে।

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই অসাধারণ চমক দেখিয়েছে মালাউই। প্রথম ম্যাচেই তারা ৩-২ গোলে আফ্রিকার রেকর্ড ১০ বারের চ্যাম্পিয়ন নাইজেরিয়াকে হারিয়ে দেয়। র‍্যাঙ্কিংয়ে মালাউইয়ের চেয়ে ১১৭ ধাপ এগিয়ে থাকা নাইজেরিয়াকে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছে তারা।

এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে তারা মিশরকে ৩-১ গোলে পরাজিত করেছে। র‍্যাঙ্কিংয়ে ৫৪ ধাপ এগিয়ে থাকা মিশরের বিরুদ্ধে তাদের পারফরম্যান্স ছিল অতুলনীয়। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে, যদিও ৮৮ ধাপ এগিয়ে থাকা জাম্বিয়ার কাছে হারতে হয়েছে তাদের, তবুও মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলের ভিত্তিতে তারা গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবেই কোয়ার্টার-ফাইনালে উন্নীত হয়েছে।

কোয়ার্টার-ফাইনালেও থেমে যায়নি তাদের রূপকথার যাত্রা। তিনবারের বিশ্বকাপ খেলা ঘানাকে হারিয়ে তারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূলপর্ব নিশ্চিত করেছে।

উইমেন’স আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের সেমি-ফাইনালে ওঠা চারটি দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। মালাউইয়ের আগে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে আলজেরিয়া, স্বাগতিক মরক্কো এবং ক্যামেরুন।

সেমি-ফাইনালে মালাউইয়ের প্রতিপক্ষ হবে আলজেরিয়া। অন্য ম্যাচে স্বাগতিক মরক্কোর মুখোমুখি হবে ক্যামেরুন। তাই এবারের উইমেন’স আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে নতুন চ্যাম্পিয়ন পাওয়াও নিশ্চিত।

এদিকে, আগের নয়টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী নাইজেরিয়া এবার কোয়ার্টার-ফাইনালে ক্যামেরুনের কাছে হেরে গেছে। তবে তাদের বিশ্বকাপের স্বপ্ন পুরোপুরি শেষ হয়নি। জটিল প্লে-অফের মাধ্যমে আফ্রিকার আরও দুটি দল বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ পাবে।

নারী বিশ্বকাপের দশম আসর আগামী জুন-জুলাইয়ে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর সেই বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো দেখা যাবে মালাউইকে—যার যাত্রা মাত্র ২৪ বছর আগে শুরু হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের ‌প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহ চীনের, বদলাতে পারে সমীকরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ এম


সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের ‌প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহ চীনের, বদলাতে পারে সমীকরণ

পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির' পর, চীন মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বেইজিংয়ের এই অবস্থান নিয়ে কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন।

তিন দেশের মধ্যে গত ৭ আগস্ট মক্কায় স্বাক্ষরিত চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি তাদের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হয়, তবে সেটিকে তিন দেশের সবার বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। এর ফলে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই চুক্তিকে ন্যাটোর পাঁচ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কিন্তু তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, চুক্তিটি কোন নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত হবে না।

এই চুক্তির আওতায় তিন দেশ গোয়েন্দা তথ্য, সামরিক সহযোগিতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহায়তার সমন্বয় করবে। সৌদি আরবে স্থায়ী একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ভবিষ্যতে এই কাঠামোতে আরও দেশ যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন হাকান ফিদান। বিশেষ করে মিসরের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা চলছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর সামরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন এবং ন্যাটোর আদলে একটি বিস্তৃত ইসলামিক নিরাপত্তা কাঠামোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

চীনের আগ্রহ কেন গুরুত্বপূর্ণ:

এই প্রেক্ষাপটে চীনের অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি বেইজিংয়ে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার মহাসচিব হুসেইন ইব্রাহিম তাহার সঙ্গে বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইসলামিক দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।

বেইজিংয়ের মতে, আঞ্চলিক সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈধ অধিকার রক্ষায় ইসলামিক দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে বদ্ধপরিকর চীন।

এছাড়া উন্নয়ন, নিরাপত্তা, সভ্যতা ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা—এই চারটি ক্ষেত্রে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব জোরদারের কথা উল্লেখ করেছে দেশটি।

চীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সংগত করতে শক্তির রাজনীতি ও 'জঙ্গলের আইন'-এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

নতুন নিরাপত্তা সমীকরণের সম্ভাবনা:

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে চীনের নিরাপত্তা সহযোগিতার জন্য আগ্রহ দেখানোর মধ্য দিয়ে সরাসরি একই উদ্যোগের প্রতিফলন নেই। তবে দুটি প্রবণতা একই সময়ে সমান্তরালে চলায় এর কৌশলগত গুরুত্ব বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষভাবে পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং তুরস্কের বেড়ে চলা আঞ্চলিক প্রভাব নতুন ধরনের সহযোগিতার সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে ভবিষ্যতে।

এ কারণে নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সাথে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন সংযোগ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

মক্কা চুক্তিকে শুধুমাত্র পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা কাঠামোয় সম্ভাব্য পরিবর্তনের সূচনা হিসেবেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%