১১:৫৩ এম
পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির' পর, চীন মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বেইজিংয়ের এই অবস্থান নিয়ে কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন।
তিন দেশের মধ্যে গত ৭ আগস্ট মক্কায় স্বাক্ষরিত চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি তাদের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হয়, তবে সেটিকে তিন দেশের সবার বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। এর ফলে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই চুক্তিকে ন্যাটোর পাঁচ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কিন্তু তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, চুক্তিটি কোন নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত হবে না।
আরও পড়ুন: ইরানের ওপর ভয়াবহ হামলা করেছি, আবারো হামলা চালাব: ট্রাম্প
এই চুক্তির আওতায় তিন দেশ গোয়েন্দা তথ্য, সামরিক সহযোগিতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহায়তার সমন্বয় করবে। সৌদি আরবে স্থায়ী একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ভবিষ্যতে এই কাঠামোতে আরও দেশ যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন হাকান ফিদান। বিশেষ করে মিসরের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা চলছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর সামরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন এবং ন্যাটোর আদলে একটি বিস্তৃত ইসলামিক নিরাপত্তা কাঠামোর পক্ষে মত দিয়েছেন।
চীনের আগ্রহ কেন গুরুত্বপূর্ণ:
এই প্রেক্ষাপটে চীনের অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি বেইজিংয়ে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার মহাসচিব হুসেইন ইব্রাহিম তাহার সঙ্গে বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইসলামিক দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: দ্রুত সময়ে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্ক দৃশ্যমান হবে: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব
বেইজিংয়ের মতে, আঞ্চলিক সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈধ অধিকার রক্ষায় ইসলামিক দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে বদ্ধপরিকর চীন।
এছাড়া উন্নয়ন, নিরাপত্তা, সভ্যতা ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা—এই চারটি ক্ষেত্রে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব জোরদারের কথা উল্লেখ করেছে দেশটি।
চীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সংগত করতে শক্তির রাজনীতি ও 'জঙ্গলের আইন'-এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
নতুন নিরাপত্তা সমীকরণের সম্ভাবনা:
আরও পড়ুন: শুধু ৯ দেশ-ই নয়, বিশ্ব এক হলেও হারবে? কারণ- ইয়েমেনের জন্য নবী (সা.) দোয়া করেছিলেন!
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে চীনের নিরাপত্তা সহযোগিতার জন্য আগ্রহ দেখানোর মধ্য দিয়ে সরাসরি একই উদ্যোগের প্রতিফলন নেই। তবে দুটি প্রবণতা একই সময়ে সমান্তরালে চলায় এর কৌশলগত গুরুত্ব বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষভাবে পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং তুরস্কের বেড়ে চলা আঞ্চলিক প্রভাব নতুন ধরনের সহযোগিতার সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে ভবিষ্যতে।
এ কারণে নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সাথে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন সংযোগ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
মক্কা চুক্তিকে শুধুমাত্র পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা কাঠামোয় সম্ভাব্য পরিবর্তনের সূচনা হিসেবেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: জাপান বাংলাদেশে সাড়ে ৭৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন