০১:৩৯ পি.এম
ভারতের আসামে ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ, বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
এমন চলমান দুর্যোগের সময়ে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে শুরু করেছেন বলিউড তারকা সালমান খান। তিনি বন্যায় ঘর হারানো পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য ৫০০টি আধা স্থায়ী ঘর নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
এই উদ্যোগ কার্যকরী করতে সালমান একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (এনজিও) এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছেন। এর আগে, তাঁর সংস্থা ‘বিইং হিউম্যান’-এর পক্ষ থেকে বন্যাকবলিত এলাকায় খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
এবার, ত্রাণ কার্যক্রমের দ্বিতীয় ধাপে ত্রাণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মিড-ডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভয়াবহ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি হল নেপালি খুটি গ্রাম। সেখানে ইতিমধ্যে প্রায় ২২০টি আধা স্থায়ী ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা শুরু থেকেই ত্রাণ কার্যক্রমের অংশ ছিল এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন চলছে।
তবে বলিউড অভিনেতা রণদীপ হুদাকে সরেজমিনে বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিতে দেখে সালমান ওই উদ্যোগটি আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে রণদীপের সাথে মানুষের জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। পরে এ বিষয়ে দুজনের মধ্যে কথাবার্তাও হয়।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রণদীপ সালমানকে জানান যে, গ্লোবাল শিখসের ত্রাণ কার্যক্রমে ৭০ জন স্বেচ্ছাসেবক একসঙ্গে কাজ করছেন। একই সঙ্গে, তিনি এ মুহূর্তে দুর্গত মানুষের জন্য কী কী প্রয়োজন, সেটিও সালমানকে জানান।
পরে গ্লোবাল শিখসের প্রতিষ্ঠাতা অমরপ্রীত সিং সালমানকে জানান, বাঁশ ও টিনের ছাদ ব্যবহার করে আধা স্থায়ী ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এসব ঘর এমনভাবে নির্মাণ করা হবে যে, বন্যার মতো দুর্যোগে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে খরচ ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার রুপি হতে পারে।
এরপরই এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হন সালমান খান। যৌথভাবে ৫০০টি আধা স্থায়ী ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রথম ধাপে ২২০টি ঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে অমরপ্রীত সিং মিড-ডে–কে বলেন, ‘কয়েক দিন আগে সালমান খান আমাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, আর উনি চিন্তা করতে বারণ করেছেন। এই মুহূর্তে শিবসাগর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, আর এর কেন্দ্র নেপালি খুটি। নির্মাণের প্রথম ধাপে ২২০টি ঘরের কাজ শেষ হয়েছে এবং আমরা সেগুলো প্রতিটি পরিবারের মধ্যে হস্তান্তর করছি। আমরা প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টি ঘর নির্মাণ করতে পারি।’
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
এদিকে, বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় শুরু থেকেই সক্রিয় রয়েছেন রণদীপ হুদা। তিনি খাবার বিতরণের পাশাপাশি দুর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। শিবসাগর রেলস্টেশনেও আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর জন্য খাবার রান্না ও বিতরণ করছেন।
নিজের ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে গণমাধ্যমকে রণদীপ বলেন, ‘এটি শিবসাগর রেলস্টেশন। আশপাশের এলাকা থেকে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছে। তাই আমরা খাবার রান্না করছি, তাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি এবং সাত দিন ধরে প্রতিদিনই এই কাজ করছি। মানবতাই সবার আগে। আমি বহু বছর ধরে গ্লোবাল শিখস নামের এই দলের সঙ্গে কাজ করছি। তারা তৃণমূল পর্যায়ে যে কাজ করেছে, তা সত্যিই অসাধারণ। আমি সকলের কাছে অনুরোধ করবো, নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ান। শুধু এখানে নয়, যেখানেই কোনো সমস্যা হোক না কেন। মানুষ হিসেবে মানুষের সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব। আর সে কারণেই আমরা এখানে আছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন