সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫৯ এম
চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসমুক্ত আদর্শ ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয় কাজী জাহিদুল ইসলাম অভির; ‘জনগণের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের হাজীগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে কাজী একতা ফাউন্ডেশনের আয়োজিত কর্মী সভা রীতিমতো জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। সহস্রাধিক নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে সভাস্থল, হাজীগঞ্জ বাজার ও আশপাশের সড়কগুলো কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। আয়োজকদের দাবি, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সাপলেজায় কাজী একতা ফাউন্ডেশনের প্রতি স্থানীয় মানুষের আগ্রহ ও সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) অনুষ্ঠিত কর্মী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কাজী একতা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কাজী জাহিদুল ইসলাম অভি।
বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে আবেগাপ্লুত হয়ে কাজী জাহিদুল ইসলাম অভি বলেন, *“আপনাদের ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ। আজকের আপনাদের উপস্থিতি আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আপনাদের সহযোগিতা পেলে সাপলেজা ইউনিয়নকে একটি আদর্শ, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”*
তিনি আরও বলেন, তিনি স্রোতের শেওলা নন এবং স্রোতে ভেসে আসা কেউ নন। সাপলেজা ইউনিয়নের সন্তান হিসেবে এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে। কোনো হুমকি বা ভয় তাঁকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অবস্থান থেকে সরাতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কাজী জাহিদুল ইসলাম অভি বলেন, *“কথা বলার অধিকার আমার আছে, জনগণকে ভালোবাসার অধিকারও আমার আছে। জনগণের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি ও ভরসা।”*
এ সময় তিনি এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, হুমকি, খুন এবং সরকারি পরিষদ দখলের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি চালের বস্তা চুরিসহ বিভিন্ন অনিয়ম বন্ধের কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
তিনি বলেন, *“চালের বস্তা চুরি, চাঁদাবাজি, খুন, হুমকি ও পরিষদ দখলের দিন শেষ করতে হবে। আমরা একটি সুশীল সমাজ ও সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই।”*
সভায় পারস্পরিক বিভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কাজী জাহিদুল ইসলাম অভি বলেন, *“আমি কারও সন্তান, কারও ভাই, কারও চাচা, কারও মামা। আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। তাই মিলেমিশে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে হবে।”*
তিনি আরও বলেন, মানুষের কল্যাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাঁর ভাষায়, *“সকলে মিলেই আমরা একটি পরিবার। একই পরিবারের সদস্য হিসেবে মিলেমিশে থাকতে হবে—আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের তরে।”*
কর্মী সভায় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ফাউন্ডেশনের নেতাকর্মী, সমর্থক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বিপুল মানুষের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে পুরো হাজীগঞ্জ এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।
তবে সভায় বক্তার উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ ও বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
[১২:৫৫ AM, ১৪/৯/২০২৬] তালাশ বিডি মিডিয়া লি:: ব্যালটে বাঙালির বিজয়, বন্দুকে জবাব: ১৯৭০-এর গণরায় থেকে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ
বিশেষ প্রতিবেদন
ঢাকা: ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ছিল পাকিস্তানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অধ্যায়। দীর্ঘ সামরিক শাসন, রাজনৈতিক বৈষম্য ও স্বাধিকার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের পক্ষে সুস্পষ্ট গণরায় দেয়। কিন্তু নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকট দ্রুত গভীরতর হয়। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথকে ত্বরান্বিত করে।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আইয়ুব খানের পতন ঘটে এবং জেনারেল ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানের ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু মুছাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাকে গ্রেফতার করা হয় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রাম থেকে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নবীনগর থানা-পুলিশের একটি দল ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের জাফরপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বাবুল মিয়ার চায়ের দোকান থেকে ইউপি চেয়ারম্যান আবু মুছাকে আটক করা হয়।
এদিকে, আবু মুছাকে গ্রেফতারের ঘটনায় তার পরিবার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন যে, নবীনগরে কিছুদিন ধরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলায় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তারা দাবি করেন, আবু মুছাকেও সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
নবীনগর থানার ওসি মোর্শেদ আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান আবু মুছার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। রোববার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাজনৈতিক মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার সকালে আসামিকে আদালতে পাঠানো হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাড. রুহুল কবীর রিজভী মন্তব্য করেছেন, ‘একটি দল ধর্মের নামে রাজনীতি করে এবং জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে। কিন্তু তারা সমাজে দোজখের আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে। ইসলামের মূল উদ্দেশ্য মানবতার সেবা করা হলেও তাদের সেই লক্ষ্য নেই। তারা রাজনৈতিক লাভের পেছনে ছুটছে এবং বর্তমানে ত্রাস ও সন্ত্রাসের রাজনীতি করছে।’
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মাসকরা গ্রামে দুর্বৃত্তদের দ্বারা আগুনে পুড়ে যাওয়া বিএনপি নেতা মিলনের পরিবারের জন্য নবনির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী আরও বলেন, ‘গুলশানে পালিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দোসররা একটি মিছিল করার চেষ্টা করেছে। জামায়াত বলেছে, বিএনপির আশকারায় তারা মিছিল করার চেষ্টা করেছে। বিএনপির ইতিহাস হচ্ছে ন্যায়ের পক্ষে, অঙ্গীকার রক্ষার পক্ষে এবং সব মোনাফেকির বিরুদ্ধে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিএনপির প্রয়াত নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, এরশাদ একটি অবৈধ সরকার, তার অধীনে নির্বাচন হবে না। খালেদা জিয়া এরশাদের পতন পর্যন্ত সেই অবস্থানে অটল ছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও জামায়াত একসঙ্গে দাঁড়িয়ে সেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তাদের রাজনৈতিক ইতিহাস হচ্ছে বর্বরদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া। জামায়াত ধর্মের নামে রাজনীতি করে মানুষের বাড়িঘরে আগুন দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নিচ্ছে।’
জামায়াতের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পক্ষে কারা থাকে? ৫ আগস্টের আগে তাদের দুঃশাসনে জুলাই আন্দোলনে রক্তের গঙ্গা বয়ে গিয়েছিল। মাসুম শিশু থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যারা গুলি করে হত্যা করেছে, পুলিশ ও র্যাবকে লেলিয়ে দিয়েছে, হেলিকপ্টার থেকে ছাত্রদের মিছিলে গুলি করেছে—সেই বর্বরদের বিরুদ্ধে গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের পতন ঘটিয়েছে। অথচ ৫ আগস্টের পর এই রাজনৈতিক দলটি বলেছে, আমরা আওয়ামী লীগকে মাফ করে দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাহলে তাদের রাজনৈতিক ইতিহাস হচ্ছে বর্বরদের পক্ষে থাকা এবং গণতন্ত্র বিনষ্টকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা। তারা ধর্মের নামে রাজনীতি করে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি, গাছপালা সব জ্বালিয়ে দেয়।’
রিজভী বলেন, ‘বিএনপি বিরোধী দলে থাকাকালীনও জনগণের কাছে এসেছে, ক্ষমতায় এসেও জনগণের কাছে এসেছে। তাই যেখানে ধর্ম, যেখানে মানবতা, যেখানে সামাজিক সুরক্ষা, যেখানে মানুষকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার বিষয়—সেখানেই বিএনপি এবং তারেক রহমান।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুম-খুন করা হয়েছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেও এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও সেই সব পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এ জন্য তিনি ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ নামে একটি সংগঠন তৈরি করেছেন।’
উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হিরা, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা ওয়াসার চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াশিমসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টঙ্গীতে মাদকসহ পাঁচটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের ফলে এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশনে এই ঘটনা ঘটে।
আহত কনস্টেবলের নাম মাসুদ। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টঙ্গি পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ কেরানীরটেক মাদক বস্তি থেকে কুখ্যাত মাদক সম্রাজী রানী বেগমের ছেলে পাঁচটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি রাহুলকে গ্রেপ্তার করে। এরপর টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন দিয়ে নিয়ে আসার সময় মাদককারবারিরা পুলিশের উপর আক্রমণ করে। এসময় সন্ত্রাসীরা রেললাইনের পাথর কুড়িয়ে পুলিশের উপর বৃষ্টির মতো নিক্ষেপ করলে কনস্টেবল মাসুদ আহত হন এবং এই সুযোগে আসামি হাতকড়াসহ ছিনতাই হয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ এসে ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে। কিছুক্ষণ পর স্টেশন এলাকায় হাতকড়া পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে ছিনতাই হওয়া আসামি উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান চালায় পুলিশ। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ছিনতাই হওয়া আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাকছুদুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, "পাঁচটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি রাহুলকে গ্রেপ্তারের পর নিয়ে আসার সময় সন্ত্রাসীরা রেললাইনের পাথর বৃষ্টির মতো ছুঁড়ে আসামি ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এসময় পাথরের আঘাতে কনস্টেবল মাসুদ আহত হয়। বর্তমানে ছিনতাই হওয়া আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর উন্নয়ন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সারা বিশ্বের মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে, বিশ্বের শীর্ষ তিন প্রযুক্তিবিদ এবারে একটি অভূতপূর্ব সমঝোতায় পৌঁছেছেন। তারা মনে করেন, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ আপাতত ‘ধীর’ বা সীমিত করা উচিত। অ্যানথ্রপিক-এর প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই-এর একটি সতর্কতামূলক ব্লগ পোস্টের পর ওপেনএআই-এর প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং এক্সএআই-এর প্রধান ইলন মাস্কও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্টের মাধ্যমে এর পক্ষে সম্মতি প্রকাশ করেন।
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক এক্সে লিখেছেন, "দারিও সঠিক কথা বলেছেন।" অন্যদিকে, স্যাম অল্টম্যান মন্তব্য করেছেন, "আমি দারিওর সঙ্গে একমত।" অল্টম্যান আরও জানান, তার প্রতিষ্ঠানও আমোদেইয়ের পরামর্শ অনুযায়ী তৃতীয় পক্ষের নিরাপত্তা মূল্যায়নকারীদের স্বাগত জানাবে।
‘সুপারইন্টেলিজেন্ট’ বা অতি-বুদ্ধিমান কম্পিউটার সিস্টেমের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে, আমোদেই নিজের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে লিখেছেন যে, এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি আমাদের কিছুটা কমাতে হবে।
অগ্রগতি এখনও দ্রুত মনে হতে পারে, তবে এই সময়ে পাওয়া সুযোগকে আমাদের বুদ্ধিমানের মতো কাজে লাগাতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রযুক্তি তৈরি না করা মানবজাতিকে এর সুফল থেকে বঞ্চিত করবে অথবা এটি কর্তৃত্ববাদী শক্তির হাতে চলে যেতে পারে, আবার খুব দ্রুত এটি তৈরি করা চরম বেপরোয়া আচরণ। তাই তারা একটি মধ্যপন্থা চেয়েছিলেন, কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে ঝুঁকিগুলো মোকাবিলা করতে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
সম্প্রতি ওপেনএআই ছেড়ে অ্যানথ্রপিকে যোগ দেওয়া গবেষক জ্যাকব কক্সন উভয় কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এআই শিল্প ত্যাগ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্ব-উন্নয়নশীল মডেল তৈরির এ প্রতিযোগিতায় কোম্পানিগুলো মানুষের জীবন নিয়ে ‘জুয়া খেলছে’। এর কিছুদিন পরই আমোদেইয়ের এ সতর্কবার্তা সামনে এল। আমোদেই সতর্ক করে বলেন, মানুষের নজরদারি ছাড়া কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্টদের কর্মকাণ্ড বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। যেভাবে দ্রুত এদের সক্ষমতা বাড়ছে, তাতে আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এ ধরনের ক্ষতিকর এআই ব্যবস্থা গোটা ইন্টারনেট ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে, যা শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি করতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতে অ্যানথ্রপিক তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মূল্যায়নে তৃতীয় পক্ষের স্বাধীন দলকে কর্মীর মতো সব ধরনের প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সব প্রতিষ্ঠানকে একই ধরনের নিরাপত্তা নীতি মানার আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র : দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ