মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫৬ পি.এম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে যানবাহন চলাচলের জন্য চারটি নির্দিষ্ট শর্ত মেনে চলার নির্দেশনা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শর্তগুলো অমান্য করে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটানোর ক্ষেত্রে চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমানের স্বাক্ষরিত একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়ক ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে চলাচলকারী সব ধরনের যানবাহনের জন্য এই শর্তগুলো বাধ্যতামূলক। যানবাহনের গতিসীমা অবশ্যই সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে। যদি বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর ফলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার চালক বা মালিককে বহন করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এছাড়া, ক্যাম্পাসে চলাচলকারী প্রতিটি যানবাহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া বৈধ নিবন্ধন সনদ থাকতে হবে। একইসাথে, যানবাহন চালানোর জন্য চালকের হালনাগাদ ও বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য এই নির্দেশনা মেনে চলা অপরিহার্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ফান্দাউক দরবার শরীফ দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম পরিচিত সুফি-আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। Fandauk Darbar Sharif
নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক এলাকায় অবস্থিত এ দরবারকে ঘিরে প্রতিবছর বিভিন্ন ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ করে বার্ষিক ইছালে ছওয়াব মাহফিল বা ‘ফান্দাউকের সভা’-কে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সমবেত হন। ২০২৬ সালের বার্ষিক আয়োজনও দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়ে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠার পটভূমি
দরবার-সংশ্লিষ্ট ইতিহাসে বলা হয়, আনুমানিক এক শতাব্দী আগে নাসিরনগরের নাছিরপুর সাহেববাড়ি থেকে সিপাহসালার সৈয়দ নাছির উদ্দিন (রহ.)-এর বংশীয় সৈয়দ আফতাব উদ্দিন ফান্দাউক গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। পরবর্তীকালে তাঁর বংশধারাকে কেন্দ্র করে এলাকায় একটি আধ্যাত্মিক পরিবেশ গড়ে ওঠে।
ফান্দাউক দরবার শরীফের ইতিহাসে বিশেষভাবে দুজন পীর-মাশায়েখের নাম উল্লেখ করা হয়—হযরত শাহসূফী আলহাজ্ব সৈয়দ আব্দুস সাত্তার নকশেবন্দী মোজাদ্দেদী ফান্দাউকী (রহ.) এবং তাঁর পরবর্তী আধ্যাত্মিক ধারার অন্যতম ব্যক্তিত্ব হযরত শাহসূফী সৈয়দ নাছিরুল হক (মাছুম) আল-ক্বাদরী, চিশতী, নকশেবন্দী, মোজাদ্দেদী ফান্দাউকী (রহ.)। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে তাঁদের বার্ষিক ইছালে ছওয়াবের আয়োজনের কথা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও খানকার ভূমিকা
দরবার-সংশ্লিষ্ট ইতিহাসে বলা হয়েছে, আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার উদ্দেশ্যে এখানে খানকা শরীফ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ফাতেহা শরীফ, মোরাকাবা ও জিকিরের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেওয়ার কথা ওই ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।
দরবারের ঐতিহ্যবাহী কার্যক্রমের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা, জিকির-আযকার, মিলাদ ও ইছালে ছওয়াবের আয়োজন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা
ফান্দাউক দরবার শরীফের সঙ্গে যুক্ত ইতিহাসে ধর্মীয় ও জাগতিক শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।
দরবার-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৯ সালে ফান্দাউক মদিনাতুল উলুম আলিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে ফান্দাউক মদিনাতুল উলুম হাফিজিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
এর পাশাপাশি আত্মশুদ্ধিমূলক ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সংগঠন প্রতিষ্ঠার কথাও দরবারের ইতিহাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
পীর-মাশায়েখের উত্তরাধিকার
ফান্দাউক দরবার শরীফের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে হযরত শাহসূফী সৈয়দ আব্দুস সাত্তার (রহ.) ও হযরত শাহসূফী সৈয়দ নাছিরুল হক (মাছুম) (রহ.)-এর নাম বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে ধারাবাহিকভাবে এসেছে।
২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনে সৈয়দ নাছিরুল হক (মাছুম) (রহ.)-কে মরহুমে ছানী পীরে কামেল, মুর্শিদে বরহক ও মোজাদ্দেদে জামান হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর উফাত দিবস পালনের সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
বর্তমানে দরবারের গদ্দীনশীন হিসেবে মাওলানা সৈয়দ ছালেহ আহমদ মামুন আল হোসাইন-এর নাম ২০২৬ সালের বার্ষিক ইছালে ছওয়াবের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফান্দাউকের সভা
ফান্দাউক দরবার শরীফের সবচেয়ে বড় বার্ষিক আয়োজনগুলোর একটি হলো ‘ফান্দাউকের সভা’। সাধারণত দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে ওয়াজ, ধর্মীয় আলোচনা, জিকির ও ইছালে ছওয়াবসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় এবং শেষপর্যায়ে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
২০১৬ সালের একটি স্থানীয় প্রতিবেদনে মাহফিলকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি ও বিপুলসংখ্যক ভক্ত-মুরিদানের সমাগমের কথা বলা হয়েছিল।
২০২৩ সালের একটি প্রতিবেদনে আয়োজনে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়।
২০২৪ ও ২০২৫ সালেও হযরত সৈয়দ আব্দুস সাত্তার (রহ.) ও হযরত সৈয়দ নাছিরুল হক (মাছুম) (রহ.)-এর বার্ষিক ইছালে ছওয়াব উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী ফান্দাউকের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
বর্তমান প্রভাব ও ঐতিহ্য
ফান্দাউক দরবার শরীফকে ঘিরে শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, একটি দীর্ঘদিনের সামাজিক ও আধ্যাত্মিক যোগাযোগের পরিমণ্ডলও গড়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত আশেকান-মুরিদান ও ধর্মপ্রাণ মানুষ এসব আয়োজনে অংশ নেন।
দরবারের অনুসারীদের মতে, শরিয়ত, তরিকত, হাকিকত ও মারেফতের শিক্ষা এবং আত্মশুদ্ধির চর্চার মাধ্যমে মানুষের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নই এই ধারার অন্যতম লক্ষ্য। দরবার-সংশ্লিষ্ট ইতিহাসে কুসংস্কারমুক্ত সমাজ ও দ্বীনি শিক্ষার প্রসারের কথাও গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা
প্রায় এক শতাব্দীর ইতিহাসে ফান্দাউক দরবার শরীফ নাসিরনগরসহ বৃহত্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সংস্কৃতির একটি পরিচিত অংশে পরিণত হয়েছে। পীর-মাশায়েখের স্মৃতি, খানকা ও মাদরাসা, নিয়মিত ধর্মীয় আয়োজন এবং বার্ষিক ইছালে ছওয়াব মাহফিলের মধ্য দিয়ে এর ঐতিহ্য প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান রয়েছে।
ফান্দাউক দরবার শরীফের ইতিহাস মূলত একটি আধ্যাত্মিক ধারার ইতিহাস—যেখানে পীর-মাশায়েখের শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি, ধর্মীয় জ্ঞানচর্চা এবং মানুষের মধ্যে দ্বীনি চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার কথা গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য বিশ্ব অর্থনীতির সাথে মিল রেখে ক্রমাগতভাবে প্রসারিত হচ্ছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনের জন্য বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার ওঠানামা করছে।
বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট জোগান থাকা সত্ত্বেও, গত মাসে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণের লক্ষ্যে ধাপে ধাপে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি এবং টাকার মান হ্রাস করা হয়েছিল। বর্তমানে ডলারের দাম ওঠানামার মধ্যে রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কিছু মাস আগে ডলারের দাম বেড়ে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায় পৌঁছেছিল। তবে বর্তমানে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে আজকের (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সর্বনিম্ন মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে উপস্থাপন করা হলো—
মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা
ইউএস ডলার : ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা
ইউরো : ১৩৯ টাকা ৫৬ পয়সা
পাউন্ড : ১৬২ টাকা ৬৬ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার : ৮৬ টাকা ৫৮ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৬ টাকা ০৯ পয়সা
চায়নিজ ইয়েন : ১৮ টাকা ২৮ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৬ টাকা ০৮ পয়সা
ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ২৭ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ২০ পয়সা
সৌদি রিয়াল : ৩২ টাকা ৮০ পয়সা
কাতারি রিয়াল : ৩৩ টাকা ৮০ পয়সা
কুয়েতি দিনার : ৩৯৯ টাকা ০৮ পয়সা
আরব আমিরাতের দিরহাম : ৩৩ টাকা ৫৫ পয়সা
*মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।
আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রবাস আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলাবাজার ও অফিসিয়াল রেটের মধ্যে ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে।
যদিও আইএমএফের শর্ত পূরণ করতে গিয়ে মাস খানেক আগে ডলারের দাম কিছুটা বেড়ে গিয়েছিল, তবে বর্তমানে সেটি কিছুটা কমে এসেছে। আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য এটি কিছুটা স্বস্তিদায়ক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
এ সাক্ষাৎটি মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে, ভারতের হাইকমিশনার হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।
বৈঠকের সময়, বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা। আলোচনার মধ্যে নিউইয়র্কে সদ্য সমাপ্ত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের বিষয়টি উঠে আসে।
এ সময়, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে ভারতের সঙ্গে দূরদর্শী ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরেন।
বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা ও যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিঙ্গাপুর থেকে এক মাস আগে ছুটিতে এসেছিলেন রোকন আহমেদ জয়; হত্যার অভিযোগ স্বজনদের, তদন্তে পুলিশ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় রোকন আহমেদ জয় (২৬) নামে এক সিঙ্গাপুরপ্রবাসী যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পূর্ব নয়াহাটী এলাকায় নিজ বাড়ির উঠান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রোকন আহমেদ জয় কালিকাপ্রসাদ পূর্ব নয়াহাটী এলাকার মো. সাত্তার মিয়ার ছেলে। তিনি জীবিকার তাগিদে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সেখানে প্রায় দুই বছর থাকার পর এক মাস আগে ছুটিতে দেশে আসেন তিনি।
স্থানীয় ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির উঠানে একটি গাছের সঙ্গে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় রোকনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে বিষয়টি ভৈরব থানা-পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা রোকনকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাঁর হাত-পা ও মুখ বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান মিয়া বলেন, রোকন প্রায় এক মাস আগে সিঙ্গাপুর থেকে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। তাঁর দাবি, রাত আনুমানিক ২টার দিকে রোকনকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে হাত-পা ও মুখ বেঁধে তাঁকে হত্যা করে বাড়ির উঠানের একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে যায়।
তিনি বলেন, ‘এভাবে একজন প্রবাসী যুবককে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’
নিহতের বাবা মো. সাত্তার মিয়া বলেন, আগের দিন কক্সবাজারে যাওয়ার জন্য কিছু কাপড় কিনবে বলে টাকা নিয়ে ঢাকায় যায়। আর সে ঢাকা থেকে মার্কেটও করে বাড়িতে আসে কিন্তু রাতের কোন একসময় তাকে কে বা কারা ডেকে নিয়ে যায় আর সকালে আমার একজন জন বলতেছে তুমি তাড়াতাড়ি বাড়িতে যাও কিছু একটা হয়েছে। বাড়িতে এসে দেখি আমার ছেলে আর নাই।
তিনি প্রশাসনের কাছে তাঁর ছেলের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত, হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
নিহতের মা ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, কালিকাপ্রসাদ এলাকায় হাত-পা ও মুখ বাঁধা এক যুবকের মরদেহ গাছে ঝুলছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে তা অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ