মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:২২ পি.এম
সিঙ্গাপুর থেকে এক মাস আগে ছুটিতে এসেছিলেন রোকন আহমেদ জয়; হত্যার অভিযোগ স্বজনদের, তদন্তে পুলিশ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় রোকন আহমেদ জয় (২৬) নামে এক সিঙ্গাপুরপ্রবাসী যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পূর্ব নয়াহাটী এলাকায় নিজ বাড়ির উঠান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রোকন আহমেদ জয় কালিকাপ্রসাদ পূর্ব নয়াহাটী এলাকার মো. সাত্তার মিয়ার ছেলে। তিনি জীবিকার তাগিদে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সেখানে প্রায় দুই বছর থাকার পর এক মাস আগে ছুটিতে দেশে আসেন তিনি।
স্থানীয় ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির উঠানে একটি গাছের সঙ্গে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় রোকনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে বিষয়টি ভৈরব থানা-পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা রোকনকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাঁর হাত-পা ও মুখ বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান মিয়া বলেন, রোকন প্রায় এক মাস আগে সিঙ্গাপুর থেকে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। তাঁর দাবি, রাত আনুমানিক ২টার দিকে রোকনকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে হাত-পা ও মুখ বেঁধে তাঁকে হত্যা করে বাড়ির উঠানের একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে যায়।
তিনি বলেন, ‘এভাবে একজন প্রবাসী যুবককে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’
নিহতের বাবা মো. সাত্তার মিয়া বলেন, আগের দিন কক্সবাজারে যাওয়ার জন্য কিছু কাপড় কিনবে বলে টাকা নিয়ে ঢাকায় যায়। আর সে ঢাকা থেকে মার্কেটও করে বাড়িতে আসে কিন্তু রাতের কোন একসময় তাকে কে বা কারা ডেকে নিয়ে যায় আর সকালে আমার একজন জন বলতেছে তুমি তাড়াতাড়ি বাড়িতে যাও কিছু একটা হয়েছে। বাড়িতে এসে দেখি আমার ছেলে আর নাই।
তিনি প্রশাসনের কাছে তাঁর ছেলের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত, হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
নিহতের মা ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, কালিকাপ্রসাদ এলাকায় হাত-পা ও মুখ বাঁধা এক যুবকের মরদেহ গাছে ঝুলছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে তা অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী ২৫টি অভিযান চালিয়ে ৬৭ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। পরে তাদের মধ্যে ৬২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি পাঁচজনের মধ্যে একজনকে ১৫১ ধারায়, একজনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার এবং তিনজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা ও জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে, সোমবার দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনায় কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার বিভিন্ন থানায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সুধারাম মডেল থানা, কোম্পানীগঞ্জ, বেগমগঞ্জ মডেল থানা, সেনবাগ, চাটখিল ও চরজব্বর থানায় আটক কিশোরদের মধ্যে যথাক্রমে ৭, ৭, ১৩, ১১, ১১ ও ১১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোনাইমুড়ী থানায় একজনকে ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার, একজনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার এবং দুজনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া কবিরহাট থানায় তিনজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার আরও বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধপ্রবণতা রোধে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান দাবি করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমানে দেশে নৈরাজ্য কমে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, "বর্তমানে আগের তুলনায় সহিংসতা অনেকটাই কমে এসেছে।"
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় সরকারের অগ্রগতি, কার্যক্রম ও সমসাময়িক ইস্যুতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তথ্য উপদেষ্টা আরও জানান, "এই সরকার পুলিশ বাহিনীকে যে পরিস্থিতির মধ্যে পেয়েছে, সেটাকে বিবেচনায় নিয়ে আমি বলছি যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।" তিনি বলেন, "বাহিনী চেষ্টা করছে। তারা ভালো কাজ করছেন বলে আমরা মনে করি।"
তবে তিনি স্বীকার করেন যে, কিছু ঘটনা ঘটছে এবং কারো কারো দায়িত্ব অবহেলা রয়েছে। তিনি বলেন, "যেখানে যেখানে ঘটনা ঘটছে, সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
ডা. জাহেদ উর রহমান দাবি করেন, "অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের চেয়ে বর্তমানে অপরাধের সংখ্যা কম।" তিনি বলেন, "আমি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের সঙ্গে তুলনা করছি। কারণ হলো, ধ্বংসপ্রাপ্ত বা বিধ্বস্ত পুলিশ আমরা ৫ আগস্টের পর থেকে দেখছি।"
তিনি বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এক নৈরাজ্য ছিল।" তথ্য উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, "আগে অ্যানার্কি মনে হতো। ধরুন দুটো লিডিং পত্রিকায় ঘোষণা দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া যাবে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।" তিনি জানান, "একটা নিষ্ক্রিয় বাহিনী কিছুই করার চেষ্টা করেনি।"
তিনি আরও বলেন, "কোনো পত্রিকার মতাদর্শ নিয়ে কারো দ্বিমত থাকতে পারে। কিন্তু ঘোষণা দিয়ে কাজটা করলেন, আমরা নিষ্ক্রিয়তা দেখেছি।"
তিনি জানান, "অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমরা মাজার ভাঙতে দেখেছি। ফুটবল খেলা যাবে না। ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, প্রকাশ্যে যে এখানে ফুটবল খেলা যাবে না। কোথাও নাটক মেলা অসংখ্য বন্ধ হয়েছে।"
বর্তমান সরকারের সময়েও কিছু নৈরাজ্য হয়েছে, স্বীকার করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, "এই সময় দুই-তিনটা ঘটনা ঘটেছে। এটা ঘটাও উচিত হয়নি।" তবে তিনি উল্লেখ করেন, "কিন্তু আমি বলছি, ওটার (অন্তর্বর্তী সরকার) সঙ্গে যদি তুলনা করি, মাচ বেটার ডিসিশন।"
এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটদের বরাত দিয়ে ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা জানান, "দেশে এলপি গ্যাসের কোনো সংকট নেই।" এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শক্তির সহযোগিতা চুক্তি, শান্তিপূর্ণ উপায়ে ব্যবহারে এগিয়ে যাবে।"
সাইবার সুরক্ষা আইন তৈরি হলে অপতথ্য অনেকটাই কমে আসবে বলে সরকার আশাবাদী বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন, যিনি সালমান শাহ নামে পরিচিত, তার মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে তার স্ত্রী সামিরা হক, সামিরার মা লতিফা হক লিও ওরফে লুসি এবং খলনায়ক আশরাফুল হক ডনসহ মোট ১১ আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে আদালত।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্ধারিত তারিখ ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ আদালতে কোনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এ কারণে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
সালমান শাহর পক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, ২০ মে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সালমান শাহের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে সালমান শাহের লাশ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়। তখন বাদীপক্ষ লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন। ২২ জুন সালমান শাহের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে কবর থেকে তার দেহাবশেষ উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা একটি অফিস আদেশ জারি করেন। ওই আদেশের অনুলিপি সম্প্রতি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে তা নথিভুক্ত করা হয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ মারা যান। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।
১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সে সময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা করেন। সর্বশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
সামিরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমরউদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।
কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামিরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।
সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।
মোহাম্মদ আলমগীর আরো উল্লেখ করেন, সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।
সালমানের বাবার মৃত্যুর পর আলমগীর তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহ, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাল্য বিবাহ এবং মাদকের বিস্তার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে ঝিনাইদহে আজ বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও নাটিকা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানটি জেলা প্রশাসকের আয়োজনে তিন বছরের একটি কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পর্যায়ে আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে এই বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও নাটিকা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপা রানী সরকার, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিথিলা ইসলাম, জেলা মহিলা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুন্সি ফিরোজা সুলতানা, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম প্রমুখ।
‘সোসাল মিডিয়া সমাজকে সংযুক্ত করার চেয়ে বিচ্ছিন্ন করছে’ এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বাজার গোপালপুর স্কুল এন্ড কলেজ এবং পশ্চিম দূর্গাপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
এ সময় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের যুক্তিতর্ক ও পাল্টা যুক্তি খন্ডনে বিতর্ক প্রতিযোগিতাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পরে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে অতিথিরা পুরস্কার বিতরণ করেন।
বিতর্ক প্রতিযোগিতা শেষে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক নাটিকা প্রদর্শিত হয়। অংকুর নাট্য একাডেমির শিল্পীরা নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন।
জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বাসস’কে জানান, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি মাদকের বিস্তার রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পথনাটক, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, প্রচার-প্রচারণাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ