রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:০১ পি.এম
রাজধানীর দয়াগঞ্জ ও ধোলাইপাড়ের মাঝামাঝি সড়কে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশার ধাক্কায় প্রমোৎ সরকার (৬৫) নামের ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি জনতা ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রমোৎ সরকারকে হাসপাতালে নিয়ে আসা ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক মো. রুবেল জানিয়েছেন, বিকেল আড়াইটার দিকে দয়াগঞ্জ ও ধোলাইপাড়ের মাঝামাঝি সড়কে ওই ব্যক্তি রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি ব্যাটারিচালিত রিকশার ধাক্কায় তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বিকেল চারটার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন প্রমোৎ সরকারের পরিচিত কল্যাণ কুমার সিংহ। তিনি বলেন, বিকেলে প্রমোৎ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে খবর পান। পরে হাসপাতালে এসে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
ঢামেক হাসপাতালে পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সেলিম হোসেন জানান, মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
প্রমোৎ সরকার মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী থানার পাহাড়ি গ্রামের মৃত রাম হরি সরকারের ছেলে। তিনি রাজধানীর বাংলাবাজারের হেমেন্দ্র দাশ রোডের একটি ফ্ল্যাটে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার অর্জনকারী বাংলাদেশি হাফেজদের উপহার হিসেবে দেওয়া ‘নেক্সাস’ বইটি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার ফেরত নিয়েছেন। মন্ত্রণালয় জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বইটি ফেরত নেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরে, নিজ দপ্তরে বিজয়ী হাফেজদের কাছ থেকে বইটি গ্রহণ করেন প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ফরহাদ আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিজয়ী হাফেজদের উপহার হিসেবে দেওয়া ‘নেক্সাস’ বইটি ফেরত নেওয়া হয়েছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে, বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা প্রদান করেন। ওই অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের জন্য বিভিন্ন উপহারের পাশাপাশি ‘নেক্সাস’ বইও বিতরণ করা হয়েছিল।
বইটি ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার মন্তব্য করেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজয়ী হাফেজদের দেওয়া ‘নেক্সাস’ বইটি ফেরত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিজয়ী হাফেজদের জন্য ঘোষিত আন্তর্জাতিক সফর ও সহায়তা সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ঘুরতে গিয়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে তিন স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘটে। খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদী ও কাশবন সংলগ্ন স্থানে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
মারা যাওয়া তিন জন হলো- মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ি মজলিস এলাকার মো. ফারুকের যমজ ছেলে আরিফিন (১৫) ও আশিকিন (১৫) এবং একই এলাকার আব্দুল আলিনের ছেলে আবির হোসেন (১৪)।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোগরাপাড়া এইচজিজিএস স্মৃতি সরকারি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফিন ও আশিকিন। আবির একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র এবং ফারিজ আহমেদ ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। আজ সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে চার বন্ধু মিলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামে। নদীতে নামার কিছুক্ষণ পর তাদের সঙ্গে থাকা ফারিজ আহমেদ পানি থেকে উঠে এলেও আরিফিন, আশিকিন ও আবির পানিতে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবরি দল ও পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আরিফিন ও আশিকিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এক ঘণ্টা পর অপরজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বেঁচে যাওয়া শিক্ষার্থী ফারিজ আহমেদ বলেন, ‘আমরা আজ স্কুলে না গিয়ে ভাটিবন্দর এলাকায় কাশবন দেখতে এসেছিলাম। একপর্যায়ে সবাই মিলে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামি। আমি তীরের কাছাকাছি থাকায় বেঁচে যাই। কিন্তু আমার দুই চাচাতো ভাই ও তাদের এক বন্ধু নদীর পাড়ের একটি বালুর ট্রলারে ওঠে। ট্রলার থেকে নামার সময় তারা হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যায়। পরে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়।’
বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিখোঁজ তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গোসল করতে নেমে তারা পানিতে তলিয়ে যায়। তাদের মধ্যে একজন পানি থেকে উঠে আসতে সক্ষম হয়। অপর তিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।’
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, ‘মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ‘ন্যাশনাল কনক্লেভ অন ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট ওয়াটার সিকিউরিটি ফর কোস্টাল বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা উপকূলীয় বাংলাদেশে জলবায়ু-সহনশীল পানি নিরাপত্তা নিয়ে অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা বিনিময় এবং কার্যকর মডেলকে জাতীয় নীতি, পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়।
এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা, বিশেষ করে সাতক্ষীরা, নিয়মিতভাবে ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও দীর্ঘস্থায়ী খরার মুখোমুখি হচ্ছে। এসব জলবায়ুজনিত সংকট নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা, জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে।
সাতক্ষীরা সদর ও আশাশুনি উপজেলায় ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে সাতক্ষীরা রেজিলিয়েন্ট ওয়াটার সিস্টেমস পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে কমিউনিটিভিত্তিক জলবায়ু-সহনশীল পানি ব্যবস্থাপনার একটি মডেল পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সেভ দ্য চিলড্রেন কোরিয়ার অর্থায়নে এবং সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় প্রকল্পটির আওতায় পাঁচটি সৌরবিদ্যুৎচালিত রিভার্স অসমোসিস (আরও) প্ল্যান্ট স্থাপন, পাঁচটি পন্ড স্যান্ড ফিল্টার পুনরুদ্ধার, ১০টি গভীর নলকূপ স্থাপন এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি গড়ে তোলা হয়েছে কমিউনিটিভিত্তিক আয় ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বর্তমানে ৪১ হাজারের বেশি মানুষ সেবা পাচ্ছেন, যাদের মধ্যে ১৬ হাজারের বেশি শিশু। প্রকল্পটি স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ, নারীর নেতৃত্ব এবং তরুণদের নেতৃত্বে পানি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগকে উৎসাহিত করছে। ২০২৪ সালের মে মাসে ঘূর্ণিঝড় রিমালের সময় পাঁচটি আরও প্ল্যান্টই জেনারেটরের মাধ্যমে সচল ছিল এবং ঘূর্ণিঝড়ের পরপরই প্রায় ৩০ হাজার মানুষের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ করেছে।
অনুষ্ঠানে উপকূলীয় এলাকায় নিরাপদ পানির টেকসই ব্যবস্থা হিসেবে কমিউনিটিভিত্তিক আয় মডেলের কার্যকারিতাও তুলে ধরা হয়। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচটি আরও প্ল্যান্ট থেকে এই মডেলের মাধ্যমে ১৪ লাখ ৫৯ হাজার ২৪০ টাকা আয় হয়েছে। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচ প্রায় ৯০ শতাংশ কমেছে, ফলে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর নির্ভরতাও কমেছে।
মাঠপর্যায়ের এই মডেলের অভিজ্ঞতা ও প্রমাণকে সরকারের কৌশলগত কাঠামো, জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা এবং বৃহত্তর জলবায়ু নীতির সঙ্গে যুক্ত করে সরকারি অংশীদারত্ব, কারিগরি সহযোগিতা এবং জলবায়ু-সহনশীল পানি ব্যবস্থা সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। পানি নিরাপত্তা, জলবায়ু অভিযোজন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কমিউনিটিভিত্তিক আয় মডেল, নারীর নেতৃত্ব এবং তরুণদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। দেশের অন্যান্য জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের পানি ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু অর্থায়ন ও বিভিন্ন খাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ সাইফুল্লাহ বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু ঝুঁকি সূচকে বাংলাদেশ বিশ্বে ১৩তম অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অতিবৃষ্টি, বন্যা, লবণাক্ততা, তাপপ্রবাহ ও শৈত্যপ্রবাহের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা আমরা ক্রমেই বেশি দেখছি। উপকূলীয় এলাকায় নিরাপদ খাবার পানির সংকট নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যসহ মানুষের স্বাস্থ্য ও সহনশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলছে। এখানে উপস্থাপিত আরও মডেলটি স্থানীয়ভাবে পরিচালিত জলবায়ু অভিযোজনের একটি ভালো উদাহরণ, কারণ স্থানীয় মানুষই তাদের সমস্যা ও সমাধান সবচেয়ে ভালো বোঝেন।
এই উদ্যোগ সরকারের ‘লোকালি লেড অ্যাডাপটেশন ফ্রেমওয়ার্ক’-এর স্থানীয় পর্যায় থেকে সমাধান তৈরির ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যথাযথ পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এ ধরনের মডেল সম্প্রসারণ করা গেলে উপকূলীয় মানুষের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব। সরকার একা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে না; স্থানীয় মানুষকে সমাধানের কেন্দ্রে রাখলেই সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।” সুমন সেনগুপ্ত, কান্ট্রি ডিরেক্টর, সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ, বলেন,“সাতক্ষীরার মানুষের জন্য নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা একটি মৌলিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন। সাতক্ষীরা রেজিলিয়েন্ট ওয়াটার সিস্টেমস পাইলট প্রকল্প দেখিয়েছে, কীভাবে স্থানীয় সরকার, কমিউনিটি ও উন্নয়ন সহযোগীরা একসঙ্গে কাজ করে এই সংকট মোকাবিলা করতে পারে। প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো এবং উপকূলীয় এলাকায় সৌরবিদ্যুৎচালিত আরও ব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যের সঙ্গেও যুক্ত। এই কনক্লেভ জাতীয় পর্যায়ের লক্ষ্য ও স্থানীয়ভাবে পরিচালিত সমাধানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন তৈরি করেছে, যা নীতিগত অঙ্গীকারকে উপকূলীয় মানুষের বাস্তব প্রয়োজনভিত্তিক সেবায় রূপ দিতে সহায়তা করবে।
সাতক্ষীরা রেজিলিয়েন্ট ওয়াটার সিস্টেমস পাইলট প্রকল্প ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে সাতক্ষীরা সদর ও আশাশুনি উপজেলায় কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটি অর্থায়ন করছে সেভ দ্য চিলড্রেন কোরিয়া, কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ এবং বাস্তবায়ন করছে উত্তরণ। জলবায়ু-সহনশীল পানি অবকাঠামোর পাশাপাশি কমিউনিটিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ও আয় মডেল, নারীর নেতৃত্ব এবং তরুণদের অংশগ্রহণ এই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের অন্যতম কুরিয়ার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টেডফাস্ট নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতি উন্মোচন করেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের সেবার মান আরো সমৃদ্ধ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন লোগো উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্টেডফাস্টের নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম রিদওয়ানুল বারী জিয়ন। পরে ই-কমার্স উদ্যোক্তা, মার্চেন্ট ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নতুন লোগো উন্মোচন করেন স্টেডফাস্টের চেয়ারম্যান জোয়াইরিয়া মোস্তারি। নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, মার্চেন্ট অ্যাপ ও গ্রাহক অ্যাপের নতুন সংস্করণও উন্মুক্ত করা হচ্ছে।
স্টেডফাস্টের নতুন লোগোর কেন্দ্রে রয়েছে ‘ঘুড়ি’। প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য, ঘুড়ি আকাশে উড়লেও এর সুতো থাকে হাতে। একইভাবে মার্চেন্টের পণ্য দেশের যে প্রান্তেই পৌঁছাক, এর নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য মার্চেন্টের হাতেই থাকবে— এই ধারণা থেকেই নতুন ব্র্যান্ড ট্যাগলাইন নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আস্থার ঘুড়ি, আপনার হাতে’। তবে প্রতিষ্ঠানের পুরোনো স্লোগান ‘সবার আগে, সবখানে’ অপরিবর্তিত থাকছে।
স্টেডফাস্ট জানিয়েছে, নতুন পরিচিতির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের জন্য ডিজিটাল অটোমেশন বাড়ানো, পার্সেলের ট্রেসেবিলিটি উন্নত করা, দেশজুড়ে কাভারেজ বাড়ানো, দ্রুত ও নিরাপদে পার্সেল পৌঁছে দেওয়া এবং পেমেন্ট প্রক্রিয়াকে আরও ডিজিটাল করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
বর্তমানে তিন লাখের বেশি ই-কমার্স উদ্যোক্তা ডেলিভারি সেবার জন্য স্টেডফাস্টের ওপর নির্ভর করছেন। কয়েক হাজার ডেলিভারি রাইডার দেশের বিভিন্ন এলাকায় সেবা দিচ্ছেন। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নসহ প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় হোম ডেলিভারি সেবা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের উদ্যোক্তারাও সারা দেশে পণ্য পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি ক্রস-বর্ডার ই-কমার্সের ক্ষেত্রেও কাজ করছে, যার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশে পণ্য পাঠাতে পারছেন।
ব্র্যান্ড পরিচিতি পরিবর্তন হলেও মার্চেন্টদের জন্য বিদ্যমান সেবার শর্তগুলো অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে স্টেডফাস্ট। এর মধ্যে ডেলিভারি চার্জ, পরের দিনের পেমেন্ট, রাইডার সেবা ও কাভারেজ আগের মতোই থাকবে।
অনুষ্ঠানে স্টেডফাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম রিদওয়ানুল বারী জিয়ন বলেন, ‘দশ বছর আগে আমরা কয়েকজন মিলে শুরু করেছিলাম। আজ দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে আমাদের রাইডাররা পৌঁছে যাচ্ছেন। আমাদের কাজটা বদলায়নি, কিন্তু আমাদের সামর্থ্য বদলেছে। আজকের স্টেডফাস্ট শুধু দ্রুত নয়, প্রযুক্তিনির্ভর। নতুন লোগো সেই পরিবর্তনকেই স্বীকৃতি দিল।‘
স্টেডফাস্টের চেয়ারম্যান জোয়াইরিয়া মোস্তারি বলেন, ‘ঘুড়িটা আমাদের, সুতো আর নাটাইটা আমাদের মার্চেন্টদের। আগামী দিনে প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও মানুষে বিনিয়োগ করে আমরা সেই আস্থার জায়গাটা আরও শক্ত করতে চাই।’
অনুষ্ঠানে স্টেডফাস্টের দশ বছরের পথচলা নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ