প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ‘ন্যাশনাল কনক্লেভ অন ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট ওয়াটার সিকিউরিটি ফর কোস্টাল বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা উপকূলীয় বাংলাদেশে জলবায়ু-সহনশীল পানি নিরাপত্তা নিয়ে অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা বিনিময় এবং কার্যকর মডেলকে জাতীয় নীতি, পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়।
এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা, বিশেষ করে সাতক্ষীরা, নিয়মিতভাবে ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও দীর্ঘস্থায়ী খরার মুখোমুখি হচ্ছে। এসব জলবায়ুজনিত সংকট নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা, জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে।
সাতক্ষীরা সদর ও আশাশুনি উপজেলায় ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে সাতক্ষীরা রেজিলিয়েন্ট ওয়াটার সিস্টেমস পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে কমিউনিটিভিত্তিক জলবায়ু-সহনশীল পানি ব্যবস্থাপনার একটি মডেল পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সেভ দ্য চিলড্রেন কোরিয়ার অর্থায়নে এবং সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় প্রকল্পটির আওতায় পাঁচটি সৌরবিদ্যুৎচালিত রিভার্স অসমোসিস (আরও) প্ল্যান্ট স্থাপন, পাঁচটি পন্ড স্যান্ড ফিল্টার পুনরুদ্ধার, ১০টি গভীর নলকূপ স্থাপন এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি গড়ে তোলা হয়েছে কমিউনিটিভিত্তিক আয় ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বর্তমানে ৪১ হাজারের বেশি মানুষ সেবা পাচ্ছেন, যাদের মধ্যে ১৬ হাজারের বেশি শিশু। প্রকল্পটি স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ, নারীর নেতৃত্ব এবং তরুণদের নেতৃত্বে পানি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগকে উৎসাহিত করছে। ২০২৪ সালের মে মাসে ঘূর্ণিঝড় রিমালের সময় পাঁচটি আরও প্ল্যান্টই জেনারেটরের মাধ্যমে সচল ছিল এবং ঘূর্ণিঝড়ের পরপরই প্রায় ৩০ হাজার মানুষের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ করেছে।
অনুষ্ঠানে উপকূলীয় এলাকায় নিরাপদ পানির টেকসই ব্যবস্থা হিসেবে কমিউনিটিভিত্তিক আয় মডেলের কার্যকারিতাও তুলে ধরা হয়। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচটি আরও প্ল্যান্ট থেকে এই মডেলের মাধ্যমে ১৪ লাখ ৫৯ হাজার ২৪০ টাকা আয় হয়েছে। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচ প্রায় ৯০ শতাংশ কমেছে, ফলে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর নির্ভরতাও কমেছে।
মাঠপর্যায়ের এই মডেলের অভিজ্ঞতা ও প্রমাণকে সরকারের কৌশলগত কাঠামো, জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা এবং বৃহত্তর জলবায়ু নীতির সঙ্গে যুক্ত করে সরকারি অংশীদারত্ব, কারিগরি সহযোগিতা এবং জলবায়ু-সহনশীল পানি ব্যবস্থা সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। পানি নিরাপত্তা, জলবায়ু অভিযোজন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কমিউনিটিভিত্তিক আয় মডেল, নারীর নেতৃত্ব এবং তরুণদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। দেশের অন্যান্য জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের পানি ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু অর্থায়ন ও বিভিন্ন খাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ সাইফুল্লাহ বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু ঝুঁকি সূচকে বাংলাদেশ বিশ্বে ১৩তম অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অতিবৃষ্টি, বন্যা, লবণাক্ততা, তাপপ্রবাহ ও শৈত্যপ্রবাহের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা আমরা ক্রমেই বেশি দেখছি। উপকূলীয় এলাকায় নিরাপদ খাবার পানির সংকট নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যসহ মানুষের স্বাস্থ্য ও সহনশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলছে। এখানে উপস্থাপিত আরও মডেলটি স্থানীয়ভাবে পরিচালিত জলবায়ু অভিযোজনের একটি ভালো উদাহরণ, কারণ স্থানীয় মানুষই তাদের সমস্যা ও সমাধান সবচেয়ে ভালো বোঝেন।
এই উদ্যোগ সরকারের ‘লোকালি লেড অ্যাডাপটেশন ফ্রেমওয়ার্ক’-এর স্থানীয় পর্যায় থেকে সমাধান তৈরির ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যথাযথ পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এ ধরনের মডেল সম্প্রসারণ করা গেলে উপকূলীয় মানুষের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব। সরকার একা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে না; স্থানীয় মানুষকে সমাধানের কেন্দ্রে রাখলেই সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।” সুমন সেনগুপ্ত, কান্ট্রি ডিরেক্টর, সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ, বলেন,“সাতক্ষীরার মানুষের জন্য নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা একটি মৌলিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন। সাতক্ষীরা রেজিলিয়েন্ট ওয়াটার সিস্টেমস পাইলট প্রকল্প দেখিয়েছে, কীভাবে স্থানীয় সরকার, কমিউনিটি ও উন্নয়ন সহযোগীরা একসঙ্গে কাজ করে এই সংকট মোকাবিলা করতে পারে। প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো এবং উপকূলীয় এলাকায় সৌরবিদ্যুৎচালিত আরও ব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যের সঙ্গেও যুক্ত। এই কনক্লেভ জাতীয় পর্যায়ের লক্ষ্য ও স্থানীয়ভাবে পরিচালিত সমাধানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন তৈরি করেছে, যা নীতিগত অঙ্গীকারকে উপকূলীয় মানুষের বাস্তব প্রয়োজনভিত্তিক সেবায় রূপ দিতে সহায়তা করবে।
সাতক্ষীরা রেজিলিয়েন্ট ওয়াটার সিস্টেমস পাইলট প্রকল্প ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে সাতক্ষীরা সদর ও আশাশুনি উপজেলায় কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটি অর্থায়ন করছে সেভ দ্য চিলড্রেন কোরিয়া, কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ এবং বাস্তবায়ন করছে উত্তরণ। জলবায়ু-সহনশীল পানি অবকাঠামোর পাশাপাশি কমিউনিটিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ও আয় মডেল, নারীর নেতৃত্ব এবং তরুণদের অংশগ্রহণ এই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন