ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করার সুযোগ নেই: রাশেদ খান


আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করার সুযোগ নেই: রাশেদ খান

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন যে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন, "হাসিনা পালিয়ে গেছে। সে আর কোনো ডিসেম্বরেই ফিরবে না।"

এ কথা তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহের উজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে।

এ সময় আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী শিশির মনিরকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার করার দাবি তোলেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, "জামায়াত-শিবির একদিকে আবরার ফাহাদের হত্যার প্রতিবাদ করবে, আবার শিশির মনিরকে আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে দেবে, এটা দ্বিচারিতা। জামায়াতের এই দ্বিচারিতা জনগণ জানে।"

আরও পড়ুন: মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের অবস্থান প্রশংসনীয়, তবে সতর্কতার আহ্বান

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল মজিদ বিশ্বাসসহ ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোদির শাসনে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত লাখ লাখ মুসলিম, ভারতের গণতন্ত্র চরম সংকটে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:০৭ পি.এম


মোদির শাসনে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত লাখ লাখ মুসলিম, ভারতের গণতন্ত্র চরম সংকটে

ভারতের হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে লাখ লাখ মুসলিমের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে ব্যাপক বিক্ষোভের সূচনা হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১শ’ ৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশে মানুষের ভোটাধিকার অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, যা মোদির নেতৃত্বাধীন হিন্দুত্ববাদী দলের জন্য সুবিধাজনক এবং সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।

বিরোধীদের দাবি, মোদির নিয়োগকৃত ভারতের নির্বাচন কমিশন ভুয়া, মৃত ও অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর, তথাকথিত যোগ্যতার প্রমাণ দিতে ব্যর্থতার কারণে ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং শত শত বিরোধী সংসদ সদস্য নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকা সংশোধন বাতিল এবং কাগজের ব্যালটে ভোট ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে রাহুল গান্ধী ও তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রকে কিছু সময়ের জন্য আটক করে। দিল্লি পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়, সেজন্য বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, মোদির নির্দেশে কুমার ভোটার তালিকা সংশোধন করেছেন যাতে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সুবিধা হয়।

দেশটির তরুণ প্রজন্মের 'ককরোচ জনতা পার্টি'-এর একটি রাজনৈতিক আন্দোলন, মুম্বাই ও দিল্লিতে কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করার চার দিন পর এই নতুন বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। তারা এই কর্মসূচিকে দেশব্যাপী আন্দোলনের সূচনা হিসেবে অভিহিত করেছে এবং ১০ অক্টোবর আরও বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে।

এর আগে, বিহারে ২০২৫ সালের জুন মাসে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং পরে তা অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধীদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় ভারতের ২০ কোটি মুসলিমকে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, কারণ তাঁদের মোদির দলকে সমর্থন করার সম্ভাবনা কম।

তথ্যের অসঙ্গতির কারণে কয়েক কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে, মৃত হিসেবে তালিকাভুক্ত কয়েকজন নিজেদের জীবিত থাকার প্রমাণ দিয়ে নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাচ্ছেন। আবেদন করা লাখ লাখ মানুষের বিষয়টি এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে এবং চলতি বছরের শুরুতে তাদের নির্বাচনে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ নথিপত্র জমা দিতে শত শত মাইল দূরের গ্রামে যাতায়াত করছেন।

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার আঠারোবাঁকির বাসিন্দা রুকসানা আমির ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-কে জানান, “আমরা দিন আনি দিন খাই; ভোটাধিকার হারানো ঠেকাতে গ্রামে যাতায়াত করতেই আমাদের জমানো টাকার বড় অংশ খরচ হয়ে গিয়েছে। সবার ভাগ্য অবশ্য এতটা ভালো নয়, পরিবারের সদস্যদের নাম তালিকায় না থাকায় তাঁকে দুবার মুম্বাই থেকে গ্রামে ছুটে আসতে হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, তাঁর চাচার চার সদস্যের পরিবারকেও ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কুমার অন্য সদস্যদের অনুমোদন ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমন অভিযোগ সংক্রান্ত একটি আবেদনের পর দেশটির সর্বোচ্চ আদালত মোদি সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং কুমারকে নোটিশ দিয়েছেন।

আদালত একটি স্বচ্ছ জবাব প্রত্যাশা করেছে। সর্বোচ্চ আদালতের সাবেক বিচারপতি রোহিন্টন নারিম্যান বলেন, “আমাদের গণতন্ত্রের প্রান, অর্থাৎ ভোটাধিকার, আজ চরম বিপদের সম্মুখীন।”

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউপি নির্বাচনের তারিখ ১২ অক্টোবর জানাবে ইসি: সানাউল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:০৭ পি.এম


ইউপি নির্বাচনের তারিখ ১২ অক্টোবর জানাবে ইসি: সানাউল্লাহ

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সময়সূচি এবং ভোটের ধাপগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আগামী ১২ অক্টোবর প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই তথ্যটি জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ বিষয়টি উল্লেখ করেন।

ইসি সানাউল্লাহ আরও জানান, আগামী সোমবার কমিশনের একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কবে থেকে শুরু হবে এবং কোন ধাপের ভোট কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা জানানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোদাগাড়ীতে পদ্মা ও মহানন্দা নদীর পানিবৃদ্ধিতে নদীভাঙন শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:০৮ পি.এম


গোদাগাড়ীতে পদ্মা ও মহানন্দা নদীর পানিবৃদ্ধিতে নদীভাঙন শুরু

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পদ্মা ও মহানন্দা নদীর পানির স্তর আবার বাড়তে শুরু করেছে, ফলে নদীভাঙন আবার শুরু হয়েছে। গোদাগাড়ী পৌরসভার কুঠিপাড়া, বারুইপাড়া, রেলওয়ে বাজারের সামনে, মাওলানার গেট উপজেলা আলিপুর, চরআষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের আষাড়িয়াদহ চর বয়ারমারী, চর নওশেরা, হবুপাড়া সহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক নদীভাঙন দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়রা মালামাল সরানোর সুযোগ পাচ্ছেন না। প্রতিবছর বন্যার সময় পানির বৃদ্ধি ঘটলে নদীভাঙন শুরু হয়, এবারের পরিস্থিতিও তার ব্যতিক্রম নয়। এ বিষয়ে সম্প্রতি দৈনিক ইনকিলাবে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এর পর প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে।

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টায় ক্ষতিগ্রস্ত পৌর এলাকার কুঠিপাড়া, সারণপুর ও সুলতানগঞ্জ এলাকা পরিদর্শন করেন গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান। তাঁর সাথে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ল রিফর্ম কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন। তাঁরা ভাঙনকবলিত এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেন এবং তাঁদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে খোঁজখবর নেন। ভাঙনকবলিত এলাকায় বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে। পানির বৃদ্ধির কারণে কয়েক দফা বোনা মাসকলাই ডুবে গেছে। কৃষকদের বীজ শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা বিপদে পড়েছেন।

কুঠিপাড়া এলাকার বাসিন্দা নূরুল্লাহ ও মৃত ইয়াহিয়া চেয়ারম্যানের ছেলে মাসুদ জানান, "আমাদের এলাকার বাড়িঘর, দোকান, বহুতলা পুরাতন মসজিদটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পদ্মানদীর তীর সংরক্ষণের জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।" নদীভাঙনে চরম অসহায়ত্ব প্রকাশ করে কুঠিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আফজাল সরকার বলেন, “নদী যেভাবে এগিয়ে আসছে, তাতে আমরা চরম আতঙ্কে আছি। আমার যা কিছু ছিল সব তো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। শেষ সম্বলটুকু শেষ হয়ে গেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আমি কোথায় যাবো, তা ভেবে পাচ্ছি না।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “পৌর এলাকার ভাঙন পরিস্থিতি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে বিস্তারিত কথা বলে বালুর বস্তা ফেলে কিছুটা রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে। ভাঙন রোধে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

পরিদর্শনকালে ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন স্থানীয়দের আশ্বস্ত করেন এবং টেকসই বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলার আশ্বাস দেন। তবে এলাকাবাসীর দাবি, ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে গোদাগাড়ী পৌর এলাকার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম ও স্থাপনা। পদ্মাপাড়বাসী ইয়াসিন আলী মাঝি জানান, রেলবাজার ঘাটের সামনে এক যুগ ধরে পলিমাটি পড়েছিল, কৃষকগণ চিনা, বাদাম, পাট, আম, করলা, পটল, মসুরি, ভুট্টা, কালাইসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করতেন। কিন্তু পদ্মায় পানি বৃদ্ধি ও প্রবল স্রোতের কারণে জমিগুলো নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। দুটি বটগাছ নদীতে ভেসে গেছে। দোকানগুলো কয়েক দফা সরিয়ে লাভ হচ্ছে না, আবার ভাঙনের কবলে পড়েছে। নদীর ধার স্রোতে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়ে বিকট শব্দ করে নদীর পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।

যুগে যুগে পদ্মার ভাঙন নিঃস্ব করেছে শত-সহস্র মানুষকে। অতীতের সেই দুর্বিষহ স্মৃতি যেন কঠিন বাস্তবতা হয়ে আবারও দরজায় কড়া নাড়ছে ভাঙনকবলিত মানুষের ঘরে। ফলে শিগগিরই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ করার তাগিদ জানাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত ও স্থানীয়রা। বন্যার পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে নদীভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।

আশঙ্কা করেছিল নদীপারের বাসিন্দারা—প্রত্যেক বছরের মতো এবারও গোদাগাড়ী উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় দেখা দেবে তীব্র ভাঙন। সেই শঙ্কা সত্যি করে কিছুদিন ধরে প্রবল স্রোতের কারণে উপজেলার পদ্মাপাড়ের চর আষাড়িয়াদহ, চর বয়ারমারী, চর নওশেরা, হবুপাড়া, জামাইপাড়া, চর দিয়ার মানিকচকসহ আশপাশের এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে ধান, পাট, ভুট্টাসহ মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গৃহহীন হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার, পানিতে তলিয়ে গেছে এক হাজার বিঘা জমির ফসল।

চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের মেম্বার জোহরুল ইসলাম জানান, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পদ্মায় ভাঙন দেখা দিয়েছে, তবে গত চার থেকে পাঁচ বছর যাবত প্রচুর পরিমাণ ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরসহ বহু স্থাপনা। নদীভাঙনের ফলে বহু মানুষ তাদের ভিটেমাটি ও সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, "আমাদের জমিজায়গা যদি পদ্মায় বিলিন হয়ে যায়, তাহলে আমরা যারা কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, কোথায় ফসল উৎপাদন করব, আমরা খাবো কী, কোথায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবো? তাই আমি সরকারের কাছে আকুল আবেদন করে বলছি, আমাদের চর অঞ্চলের মানুষকে, জমিনকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করুন এবং দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণকাজ যেন শুরু করেন।"

স্থানীয়দের অভিযোগ, পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন নতুন বসতবাড়ি ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বিশেষ করে চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের ১নং ও ২নং ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিনের সাজানো সংসার চোখের সামনে মুহূর্তেই নদীতে বিলীন হয়ে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অনেকেই।

ভাঙনের ভয়ে অনেক পরিবার গ্রাম ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গোদাগাড়ীর অভ্যন্তরীণ গ্রামগুলোতে চলে গেছে। সেখানে তারা আত্মীয়স্বজনের বাড়ি বা অস্থায়ী আশ্রয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রায় দেড় যুগ ধরে প্রতিবছর বন্যার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ব্যাপক নদীভাঙন শুরু হয়, এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। তবুও এই জনপদ অঞ্চলে হয়নি এখনও স্থায়ী বাঁধ।

পদ্মা নদীর ভাঙন একটি গুরুতর সমস্যা, যা গোদাগাড়ী চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। ভাঙনের কারণে অনেকে তাদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ফসলি জমি হারাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম ভোলা বলেন, প্রতিদিনই নদীর পানি বাড়ছে, ভাঙন বন্যা তীব্র হচ্ছে, কয়েক শ বিঘা জমির মৌসুমি ধান বন্যার পানিতে ডুবে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৭৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে একতরফা ফারাক্কা বাঁধ চালু করেছিল ভারত। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সরসেরগঞ্জ থানার একটি গ্রাম ফারাক্কা। এখানেই গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত ১১৯টি লকগেটবিশিষ্ট যে বাঁধ দেওয়া হয়, সেটাই ফারাক্কা বাঁধ। ফারাক্কা থেকে ১৮ কিলোমিটার ভাটিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁকা পয়েন্টেই গঙ্গা হয়েছে পদ্মা।

১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি মোতাবেক পানির যে হিস্যা পাওয়ার কথা আমাদের, তা আমরা পাচ্ছি না। গত বছর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ১৫ হাজার কিউসেক পানির প্রবাহ কমেছিল।

চলমান ৩০ সাল চুক্তি বাংলাদেশের ন্যায্য পানিপ্রাপ্তির কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি। আগের চুক্তিতে যতটুকু নিশ্চয়তা ছিল, এ চুক্তিতে তাও নেই। ফলে পানিবঞ্চনা আরও বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বক্তব্য খোলামেলা। শুকনো মৌসুমে তিস্তার পানিপ্রবাহ এত কমে আসে যে, তা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রয়োজনই মেটে না, বাংলাদেশকে আমরা পানি দেবো কীভাবে? আর বর্ষা মৌসুমে মরণ বাঁধ ফারাক্কার সব গেট খুলে দিয়ে পানিতে ডুবিয়ে মারছে ভারত। প্রতিবছর বন্যার সময় ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নদীভাঙন শুরু হয়। এবার শুরু হয়েছে।

রাজশাহী-১ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, আমি গত কয়েক দিন পদ্মা নদীর ভাঙন এলাকায় গেছি। ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নদীর ভাঙন, পানি বৃদ্ধি দেখেছি, অসহায় মানুষের সাথে কথা বলেছি। তারা স্থায়ী বাঁধের ব্যাপারে বলেছেন। বন্যার পানি কমে গেলে স্থায়ী বাঁধের জন্য আগামী সংসদ অধিবেশনে দাবি জানানো হবে ইনশাআল্লাহ।

সংস্কারের ব্যাপারে এ সংসদ আরও বলেন, ৫ বছরের জন্য ২০০ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আমার নির্বাচনী এলাকায় ১৬ ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভায় এমপির বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে সমহারে কাজ হবে ইনশাআল্লাহ।

উন্নয়ন ও সংস্কার কাজের জন্য বিভিন্ন দপ্তর প্রধান ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সচিবদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। উনারা আশ্বাস দিয়েছেন। আমাদের চরআষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন ও গোদাগাড়ী পৌরসভার এলাকায় প্রায় ৩ কিলোমিটার পদ্মানদীর তীরে বাঁধ নির্মাণের প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে। ইনশাআল্লাহ অচিরে হয়ে যাবে।

গোদাগাড়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এ কে এম মোমিনুল হকের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করে মোবাইল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোবিপ্রবিতে আবাসন সংকট, ৭১% শিক্ষার্থী হলের সুবিধার বাইরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:০৯ পি.এম


নোবিপ্রবিতে আবাসন সংকট, ৭১% শিক্ষার্থী হলের সুবিধার বাইরে

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠার ২০ বছর অতিক্রম করলেও শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের সমাধানে এখনও কার্যকর ও স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৯,৫০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত থাকলেও, পাঁচটি আবাসিক হলে আসন সংখ্যা মাত্র ২,৬৫০টি। ফলে, প্রায় ৭১ শতাংশ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

২০০১ সালে নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৩৩টি বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে প্রায় ৯,৫০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু আবাসিক সুবিধা সেই তুলনায় বাড়েনি। এর ফলে, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে মেস, হোস্টেল অথবা ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। এতে তাদের পড়াশোনার ব্যয়ের পাশাপাশি বাসস্থান, খাবার, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও যাতায়াতের খরচও বহন করতে হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, নোবিপ্রবির পাঁচটি আবাসিক হলে মোট ২,৬৫০টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হলে ৪৩০টি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক উকিল হলে ৫১১টি, হযরত বিবি খাদিজা হলে ৪৩৫টি, নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলে ৬১০টি এবং জুলাই শহীদ স্মৃতি ছাত্রী হলে ৫২০টি আসন রয়েছে। এসব আসনের মধ্যে ডাবলিং ও ফ্রেশার্স রুমের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি হলের মধ্যে দুটি ছাত্রদের এবং তিনটি ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত। আসনসংখ্যার তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় আবাসিক হলের একটি আসন অনেক শিক্ষার্থীর কাছে যেন ‘সোনার হরিণ’। বিশেষ করে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য মেস বা ভাড়া বাসার অতিরিক্ত খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

নবীন শিক্ষার্থীদের ওপর আবাসন সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে। ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট শূন্য আসনে অনূন্য ৫% আসন সংরক্ষিত থাকলেও, তা সহনীয় মাত্রা নয়। ফলে অনেক শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর প্রথম বর্ষ থেকেই হলের আসনের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। আবাসন ব্যয়ের চাপ সামলাতে গিয়ে তাদের পড়াশোনার ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

আইন বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী তাজভীর আহমেদ বলেন, “বগুড়া থেকে নোয়াখালীতে পড়াশোনা করতে এসেছি আমি। আমাদের মতো দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসের আবাসিক হল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। হলে সিট না পাওয়ায় আমার মাইজদীতে থাকতে হচ্ছে, ফলে অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় হচ্ছে, এক প্রকার হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি। একজন স্টুডেন্ট হিসেবে আমি লেখাপড়ায় করব নাকি এগুলো নিয়ে টেনশন করব!”

বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়ারিয়া বিনতে দেলোয়ার বলেন, “শিক্ষার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে সুদূর ময়মনসিংহ থেকে নোয়াখালীতে আসা। বিশ্ববিদালয়ে পড়াশোনা করার পাশাপাশি থাকার বিষয়টিও একজন শিক্ষার্থীর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত হল না থাকায় বাধ্য হয়ে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দূরে মেসে থাকতে হচ্ছে যার জন্য বাসা ভাড়া, খাওয়া-দাওয়া, যাতায়াতের খরচ মিলিয়ে পরিবারের ওপর চাপ পড়ে। এর পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতা, যাতায়াত সমস্যা, বাসে ভিড় এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে হয়রানি ইত্যাদি পরিস্থিতির জন্য পড়াশোনায় ব্যাহত ও বিলম্ব সৃষ্টি হয়।”

আবাসিক সমস্যা সমাধানের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “নোবিপ্রবিতে আবাসিক হলের সংকট রয়েছে। এ সংকট নিরসনে নতুন হল নির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ছেলেদের জন্য দুটি এবং মেয়েদের জন্য দুটি মোট চারটি আবাসিক হল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট নির্মাণের জন্যও একটি প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে আমাদের কাজ করতে হবে। ইনশাআল্লাহ, প্রকল্পগুলো অনুমোদন করিয়ে এনে ধীরে ধীরে আবাসিকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সমস্যার সমাধান করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%