ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জনগণের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী


জনগণের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম), ৯ আগস্ট, ২০২৬ : দেশের জনগণের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলার অনুমতি দেওয়া হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এখন সময় দেশ গড়ার, এখন সময় জাতির ভাগ্য গঠনের। কাজেই আমাদের ২০ কোটি মানুষকে কাজে লাগাতে হবে এবং ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। আমাদের দেশকে সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

আজ রোববার রাতে হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা

তিনি আরো বলেন, দেশে কিছু সংখ্যক রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনগণের উন্নয়নের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আজ আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে- বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক মানুষ, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তারা কী করবে। প্রত্যেক মানুষকে আজ সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে রাজপথে এসে তা বন্ধ করে দিতে চায়, যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমরা কী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এটা আজকে বাংলাদেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা প্রতিজ্ঞা করি, আমরা শপথ গ্রহণ করি- দেশের উন্নয়ন ও দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যারা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে, তাদেরকে আমাদের রুখে দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে আমাদের স্লোগান- করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির প্রত্যেক নেতাকর্মী একটি কথা বলে থাকে- আমাদের সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস বাংলাদেশের জনগণ। কাজেই জনগণের সমর্থন যেহেতু বিএনপির পক্ষে আছে, জনগণ যেহেতু বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে, জনগণ যেহেতু বিএনপির ৩১ দফার পক্ষে রায় দিয়েছে, সুতরাং সে ৩১ দফা বাস্তবায়ন করাই এখন আমাদের মূল পবিত্র দায়িত্ব। কারণ ৩১ দফা হচ্ছে জনগণের দফা। কাজেই জনগণের দফা পূরণ ও বাস্তবায়নের জন্য বিএনপি সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিএনপি দেশ ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাবে।’

আরও পড়ুন: বিএমইউতে ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য রাখেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১২ আগস্ট পূর্ণ সূর্যগ্রহণ: নিরাপদে দেখার বিষয়ে নাসার নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৫৭ পি.এম


১২ আগস্ট পূর্ণ সূর্যগ্রহণ: নিরাপদে দেখার বিষয়ে নাসার নির্দেশনা

আগামী ১২ আগস্ট বিশ্বজুড়ে ঘটতে যাচ্ছে এক মহাজাগতিক বিস্ময়—পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। এই বিশেষ দিনটি উপলক্ষে, দিনের বেলায় আচমকা গোধূলির মতো অন্ধকার নেমে আসবে এবং এতে দেখা যাবে তারামণ্ডলী! তবে অভাবনীয় এই দৃশ্যটি দেখতে গেলে সুরক্ষামূলক চশমা ব্যবহার না করলে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। তাই, গ্রহণকে নিরাপদে উপভোগ করার জন্য নাসা কিছু জরুরি নির্দেশনা প্রদান করেছে।

পূর্বনির্ধারিত সময়ে, চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের ঠিক মাঝখানে এসে সূর্যকে সম্পূর্ণভাবে ঢাকা দেয়, তখনই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘটে। নাসার মতে, যদি আবহাওয়া অনুকূল থাকে, তাহলে এই সময় সূর্যের বাইরের স্তর বা 'করোনা' স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এবারের সূর্যগ্রহণটি মূলত গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, স্পেন, উত্তর রাশিয়া এবং পর্তুগালের কিছু অংশ থেকে দেখা যাবে। যদিও, উত্তর গোলার্ধের বিভিন্ন দেশে আংশিক গ্রহণ দৃশ্যমান হলেও, বাংলাদেশে এই সময় রাত হওয়ার কারণে গ্রহণটি দেখা যাবে না।

নাসা জানিয়েছে, সাধারণ রোদচশমা পরে কখনোই গ্রহণ দেখা উচিত নয়। এর জন্য অবশ্যই 'ISO 12312-2' মানসম্পন্ন বিশেষ সোলার গ্লাস ব্যবহার করা উচিত। চোখে দেওয়ার আগে গ্লাসে ফাটল বা দাগ আছে কিনা, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

তবে কেবল সূর্য যখন পুরোপুরি ঢাকা পড়ে, তখনই ক্ষণিকের জন্য গ্লাসটি খুলে দেখা নিরাপদ। উপরন্তু, সোলার গ্লাস পরে কোনো ক্যামেরা, বাইনোকুলার, কিংবা টেলিস্কোপ দিয়ে সূর্যের দিকে তাকানো যাবে না। গ্লাস না থাকলে, পিনহোল প্রজেক্টরের মাধ্যমে মাটিতে ছায়া দেখা যেতে পারে। নাসা রোদে দীর্ঘক্ষণ থাকার কারণে ত্বকের সুরক্ষার জন্য সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশ ভ্রমণ প্যাকেজের মূল্য পরিশোধ করা যাবে বাংলাদেশি টাকায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৫৮ পি.এম


দেশ ভ্রমণ প্যাকেজের মূল্য পরিশোধ করা যাবে বাংলাদেশি টাকায়

পর্যটনপ্রেমীরা এখন থেকে বাংলাদেশি টাকায় পরিশোধ করতে পারবেন বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের মূল্য। বাংলাদেশ ব্যাংক স্থানীয়ভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্যুর অপারেটরদের বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের মূল্য বাংলাদেশি টাকায় গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার (৯ আগস্ট) এই সুবিধার বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করেছে, যা পর্যটক এবং ট্যুর অপারেটর উভয়ের জন্যই লাভজনক। বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত হোটেল, যাতায়াত এবং গন্তব্যস্থানের অন্যান্য সেবার মূল্য টাকায় পরিশোধ করা যাবে।

নতুন এই ব্যবস্থার অধীনে ট্যুর অপারেটররা ভ্রমণকারীদের কাছ থেকে দেশে টাকায় প্যাকেজের মূল্য সংগ্রহ করবে। এরপর অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশে সংশ্লিষ্ট ট্যুর অপারেটর, হোটেল বা ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো সম্ভব হবে। এই ক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছ থেকে সংগৃহীত টাকার বিপরীতে প্রচলিত বিনিময় হারে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এই সুবিধা পেতে ট্যুর অপারেটরদের ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর সদস্য হতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি ট্যুর অপারেটর, হোটেল বা ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে তাদের চুক্তি বা সমঝোতা থাকতে হবে।

বিদেশি প্যাকেজের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর অনুমতি রয়েছে। তবে এই সীমা ভ্রমণের জন্য নির্ধারিত বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রার কোটার বাইরে প্রযোজ্য। কিন্তু, সুবিধা শুধু তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে, যারা বাংলাদেশি টাকায় প্যাকেজের মূল্য পরিশোধ করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক উল্লেখ করেছে, গ্রাহক থেকে সংগৃহীত টাকা বিদেশ ভ্রমণের সেবার বিপরীতে ব্যবহার হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করা আবশ্যক। এর মধ্যে বিদেশি সেবা প্রদানকারীর ইনভয়েস, চুক্তিপত্র, বিস্তারিত ভ্রমণসূচি ও ব্যয়ের হিসাব, ভ্রমণকারীর পাসপোর্ট নম্বরের তালিকা, দেশীয় ও বিদেশি ট্যুর অপারেটরের মধ্যে চুক্তি এবং টাকায় অর্থ গ্রহণের প্রমাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রত্যেক ভ্রমণকারীর পাসপোর্ট নম্বরের বিপরীতে লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে ট্যুর অপারেটরদের, এবং একটি ক্যালেন্ডার বছরে কত বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করা হয়েছে তা সমন্বিত হিসাব রাখার জন্যও নির্দেশনা রয়েছে। উল্লেখ্য, ভ্রমণকারীরা যদি অন্য ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে তাদের বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রার সীমা ইতিমধ্যে ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে তা জানাতে হবে ট্যুর অপারেটরদের।

ট্যুর অপারেটররা তাদের সেবা মূল্য বা কমিশন বাংলাদেশি টাকাতেই রেখে দিতে পারবেন। কিন্তু বিদেশি অংশীদারদের কাছে পাঠানো অর্থের পরিমাণের সঙ্গে প্রযোজ্য কর বাদ দেওয়ার পরের প্রকৃত পাওনা অর্থের সমান হতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ কথা পরিষ্কার করেছে যে, এই সুবিধা শুধুমাত্র প্রকৃত বিদেশ ভ্রমণসেবার জন্যই ব্যবহৃত হবে। অন্য কোনো উদ্দেশ্যে অর্থ স্থানান্তর করা যাবে না।

বিদেশে অর্থ পাঠানোর আগে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে লেনদেনটি বৈধ কিনা তা নিশ্চিত করবে। অর্থ পাঠানোর পর সাত দিনের মধ্যে এই রেমিট্যান্সের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে, এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা যাচাই করবে।

বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের বিপরীতে অর্থ পাঠানোর বিষয়ে গত ৭ মে জারি করা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত নির্দেশনা এফইপিডি-তে থাকা বিধান সংশোধন করে নতুন নির্দেশনাটি জারি করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর, গাজা শান্তি পরিকল্পনায় কী রয়েছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৫৯ পি.এম


ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর, গাজা শান্তি পরিকল্পনায় কী রয়েছে?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৫ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনাটি ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রধানমন্ত্রীর বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ঘোষণা দিয়েছেন যে, হামাসকে ‘প্রকৃত অর্থে’ নিরস্ত্রীকরণ না করা হলে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার করা হবে না।

রবিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু আরো বলেন, ‘ইসরায়েল ১৫ দফার নথিটি প্রত্যাখ্যান করছে। হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ না করা পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনারা গাজা থেকে কোনো প্রত্যাহার করবে না। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সেনা ও নাগরিকদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে এমন কর্মকাণ্ডকে ঠেকানো অব্যাহত থাকবে।’

নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘তাদের কিছু প্রস্তাব রয়েছে; তার মধ্যে কিছু গ্রহণযোগ্য।’

ট্রাম্পের ১৫ দফা পরিকল্পনায় কি রয়েছে, তা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।

ট্রাম্পের ১৫ দফা কাঠামোতে গাজার যুদ্ধের অবসান, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ, ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং গাজার প্রশাসন একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভারী অস্ত্র, অস্ত্রের গুদাম, সামরিক স্থাপনা ও সুড়ঙ্গগুলো ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে। একই সাথে ইসরায়েলি সেনা ও ফিলিস্তিনি-প্রশাসিত এলাকার মধ্যে বিচ্ছিন্নতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে।

এরপর ধাপে ধাপে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে সরে যাবে। এর মাধ্যমে গাজার পুনর্গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের পথ তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে।

তবে পরিকল্পনার মূল অচলাবস্থার জায়গা হলো হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের ক্রম। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইসরায়েল ও হামাস উভয়ই কাঠামোটিতে সম্মত হয়েছে এবং হামাস অস্ত্র সমর্পণে রাজি হয়েছে। কিন্তু ইসরায়েলের অবস্থান হলো, হামাসের পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ আগে নিশ্চিত করতে হবে; তারপরই সেনা প্রত্যাহার হবে।

এদিকে গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেসরকারি খাতে সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০১ পি.এম


বেসরকারি খাতে সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ

ঢাকা, ৯ আগস্ট, ২০২৬ : বেসরকারি খাতের ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার জন্য চলমান সংস্কারগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট পলিসি কো-অর্ডিনেশন কমিটি (পিএসডিপিসিসি)।

গতকাল (শনিবার) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কমিটির ১৬তম সভায় এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার সভাপতিত্ব করেন এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

সভায় মুখ্যসচিব বলেন, কোনো বিষয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে উপস্থাপনের আগে সংশ্লিষ্ট সংস্কারের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক কাজ ও বিশ্লেষণ সম্পন্ন করতে হবে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় কমবে এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হবে।

তিনি যে পিএসডিপিসিসির আগের সভাগুলোতে প্রস্তাবিত ও সম্মত সংস্কারগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, সে সম্পর্কে বলেন, কমিটির কাছে যেসব সংস্কার প্রস্তাব আসে, সেগুলো যথাযথ বিশ্লেষণ ও প্রস্তুতির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। ফলে কমিটির কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে কমিটির সদস্যপদ পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

মুখ্যসচিব ব্যবসার আকার অনুযায়ী একক ও সরলীকৃত করহারসহ পাঁচ বছর মেয়াদি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ট্রেড লাইসেন্স চালুর সুপারিশ করেন। তিনি একই সঙ্গে সংস্কারগুলোর অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনার জন্য আগামী তিন মাসের মধ্যে পরবর্তী পিএসডিপিসিসি সভা আয়োজনের অনুরোধ করেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক ড. আহমেদ উল্লাহ পিএসডিপিসিসির কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেন।

অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার সরকারি-বেসরকারি সংলাপের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সাতটি থিম্যাটিক ওয়ার্কিং কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি এ বিষয়ে বলেন, সুপারিশগুলো পিপিডিপি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হলেও এর বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভর করে।

এ সময় চামড়া খাতের রপ্তানি সম্ভাবনা এবং বিল্ডের তৈরি খসড়া রপ্তানি রোডম্যাপ নিয়েও আলোচনা হয়। কাঁচা চামড়ার প্রাপ্যতা সম্পর্কে ফুটওয়্যার, লেদার গুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ফ্ল্যাক্সা) পরিচালক এ কে এম মোশফিকুর রহমান জানান, আর্থিক সংকট সত্ত্বেও কাঁচা চামড়া সংগ্রহ বেড়েছে।

এফসিসিআইয়ের মহাসচিব মো. আলমগীর বলেন, সাভার চামড়া শিল্পনগরের অকার্যকর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) চামড়া খাতের ট্রেসেবিলিটি ও রপ্তানি কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি নিজস্ব ইটিপি সুবিধা থাকা আকিজ গ্রুপের মতো কমপ্লায়েন্ট প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ দেন।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) প্রেসিডেন্ট কামরান টি. রহমান বলেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি নিশ্চিত না করেই চামড়া শিল্পনগরীকে সাভারে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নুরুজ্জামান সিইটিপির নকশাগত ত্রুটির কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, একজন ইতালীয় পরামর্শক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বিশেষজ্ঞ বিষয়টি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন তৈরি করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সার্টিফিকেশন অর্জনের জন্য পূর্ণ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা জরুরি। তবে এর জন্য বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহিমা খানম চামড়া শিল্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে বলেন, এসব বর্জ্যকে মূলত পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান ও স্লাজ—এই দুই ভাগে দেখা যায়। ঝুঁকিপূর্ণ ক্রোম আলাদা করাকে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করেন তিনি এবং বর্জ্যকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের সম্ভাব্য মডেল নিয়ে ভাবার পরামর্শ দেন।

সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ সিইটিপির রক্ষণাবেক্ষণে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা এবং কোরবানির চামড়া সংরক্ষণের অবকাঠামো শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন।

আইনগত সংস্কার প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সাইফুদ্দিন আহমেদ ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন চূড়ান্ত করতে বিলম্বের বিষয়টি সভায় তুলে ধরেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি আইনটি চূড়ান্ত করতে এক মাসের সময়সীমা দেয়। একই সময়সীমা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) নীতির জন্যও নির্ধারণ করা হয়।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) যুগ্ম মহাপরিচালক মো. মতিউর রহমান শ্রম ও কমপ্লায়েন্সের দৃষ্টিকোণ থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর সিইটিপির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি অন্তত ৫০টি সক্ষম কারখানাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেন।

রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আকবর ছোট কারখানাগুলোর জন্য একটি সাধারণ সিইটিপি এবং বড় কারখানাগুলোর জন্য নিজস্ব ইটিপি স্থাপনের পরামর্শ দেন। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) সচিব ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী চামড়া খাত কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।

সৌরশক্তি খাত নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মহাপরিচালক কাজী এমদাদুল হক জানান, ৩৯টি সৌরপণ্যের মানদণ্ড তৈরি হয়েছে। ২০২৬-২০২৯ সালের আমদানি নীতিতে ফোটোভোলটাইক মডিউল, সোলার পিভি ইনভার্টার, নবায়নযোগ্য শক্তির জন্য সেকেন্ডারি সেল ও ব্যাটারি এবং চার্জ কন্ট্রোলার অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সবুর হোসেন দেশীয় সৌরপণ্য উৎপাদকদের জন্য নীতিগত সহায়তা চান। অন্যদিকে, মুখ্যসচিব বিএসটিআইয়ের সার্টিফিকেশনসংক্রান্ত বাধা দূর করার তাগিদ দেন। এক্ষেত্রে সৌরশক্তিতে পাকিস্তানের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বাজেটে ঘোষিত শুল্কমুক্ত সৌরযন্ত্রাংশ ব্যবহারে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করার পরামর্শ দেন।

রেলওয়ে খাতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথাও বলেন। আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল বাণিজ্যনীতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান জানান, পেমেন্ট অ্যাগ্রিগেটর প্ল্যাটফর্ম ‘একপে’ পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট, ২০২৪-এর ১৮ ধারার আওতায় তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি বেসরকারি প্ল্যাটফর্মগুলোকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব জানান, আংশিক রপ্তানিকারকদের আমদানি সুবিধা প্রস্তাবিত আমদানি নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে আংশিক রপ্তানিকারকদের কেন্দ্রীয় বন্ডেড ওয়্যারহাউসের মতো ফ্রি ট্রেড জোনের আওতায় কাঁচামাল সংগ্রহ করার সুযোগ থাকবে।

তিনি আরও জানান, অগ্রিম আয়কর (এআইটি) চূড়ান্ত রিটার্নের মাধ্যমে সমন্বয় বা ফেরত দেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং এনবিআর ট্যাক্স রিফান্ড কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় করার কাজ করছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব পরিমল সরকার জানান, স্থানীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত ট্রেড লাইসেন্স চালুর জন্য একটি কেন্দ্রীয় সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ চলছে।

সভায় বিল্ডের চেয়ারম্যান আবুল কাসেম খান বলেন, বিল্ডের সুপারিশগুলো আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাস্তব প্রতিবন্ধকতা পর্যালোচনা করে তৈরি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আরও ঘন ঘন সভার মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটিকে গতিশীল করার জন্য এবং প্রস্তুতকৃত সুপারিশগুলো যথাযথভাবে কমিটিতে উপস্থাপন করা গেলে সংস্কার বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো সম্ভব।

বিনিয়ন্ত্রণ, ব্যবসা সহজীকরণ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের আওতায় আটটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের বিষয় তুলে ধরেন বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফেরদৌস আরা বেগম। তার উপস্থাপনায় বাংলাদেশে একটি উৎপাদনমুখী ব্যবসা শুরু করতে ১৯টি লাইসেন্স, ১৫৪টি নথিপত্র এবং প্রায় ৪৫৭ দিন পর্যন্ত সময় লাগার বিষয়টি উঠে আসে।

তিনি এই জটিলতা কমাতে বিদ্যমান ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থার মাধ্যমে আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) ও রপ্তানি নিবন্ধন সনদের (ইআরসি) প্রয়োজনীয়তা প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব দেন। ফলে রাজস্বের সামান্য ক্ষতি হবে কিন্তু এসএমই খাত উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%