প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পর্যটনপ্রেমীরা এখন থেকে বাংলাদেশি টাকায় পরিশোধ করতে পারবেন বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের মূল্য। বাংলাদেশ ব্যাংক স্থানীয়ভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্যুর অপারেটরদের বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের মূল্য বাংলাদেশি টাকায় গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার (৯ আগস্ট) এই সুবিধার বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করেছে, যা পর্যটক এবং ট্যুর অপারেটর উভয়ের জন্যই লাভজনক। বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত হোটেল, যাতায়াত এবং গন্তব্যস্থানের অন্যান্য সেবার মূল্য টাকায় পরিশোধ করা যাবে।
নতুন এই ব্যবস্থার অধীনে ট্যুর অপারেটররা ভ্রমণকারীদের কাছ থেকে দেশে টাকায় প্যাকেজের মূল্য সংগ্রহ করবে। এরপর অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশে সংশ্লিষ্ট ট্যুর অপারেটর, হোটেল বা ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো সম্ভব হবে। এই ক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছ থেকে সংগৃহীত টাকার বিপরীতে প্রচলিত বিনিময় হারে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এই সুবিধা পেতে ট্যুর অপারেটরদের ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর সদস্য হতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি ট্যুর অপারেটর, হোটেল বা ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে তাদের চুক্তি বা সমঝোতা থাকতে হবে।
বিদেশি প্যাকেজের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর অনুমতি রয়েছে। তবে এই সীমা ভ্রমণের জন্য নির্ধারিত বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রার কোটার বাইরে প্রযোজ্য। কিন্তু, সুবিধা শুধু তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে, যারা বাংলাদেশি টাকায় প্যাকেজের মূল্য পরিশোধ করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক উল্লেখ করেছে, গ্রাহক থেকে সংগৃহীত টাকা বিদেশ ভ্রমণের সেবার বিপরীতে ব্যবহার হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করা আবশ্যক। এর মধ্যে বিদেশি সেবা প্রদানকারীর ইনভয়েস, চুক্তিপত্র, বিস্তারিত ভ্রমণসূচি ও ব্যয়ের হিসাব, ভ্রমণকারীর পাসপোর্ট নম্বরের তালিকা, দেশীয় ও বিদেশি ট্যুর অপারেটরের মধ্যে চুক্তি এবং টাকায় অর্থ গ্রহণের প্রমাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রত্যেক ভ্রমণকারীর পাসপোর্ট নম্বরের বিপরীতে লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে ট্যুর অপারেটরদের, এবং একটি ক্যালেন্ডার বছরে কত বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করা হয়েছে তা সমন্বিত হিসাব রাখার জন্যও নির্দেশনা রয়েছে। উল্লেখ্য, ভ্রমণকারীরা যদি অন্য ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে তাদের বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রার সীমা ইতিমধ্যে ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে তা জানাতে হবে ট্যুর অপারেটরদের।
ট্যুর অপারেটররা তাদের সেবা মূল্য বা কমিশন বাংলাদেশি টাকাতেই রেখে দিতে পারবেন। কিন্তু বিদেশি অংশীদারদের কাছে পাঠানো অর্থের পরিমাণের সঙ্গে প্রযোজ্য কর বাদ দেওয়ার পরের প্রকৃত পাওনা অর্থের সমান হতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ কথা পরিষ্কার করেছে যে, এই সুবিধা শুধুমাত্র প্রকৃত বিদেশ ভ্রমণসেবার জন্যই ব্যবহৃত হবে। অন্য কোনো উদ্দেশ্যে অর্থ স্থানান্তর করা যাবে না।
বিদেশে অর্থ পাঠানোর আগে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে লেনদেনটি বৈধ কিনা তা নিশ্চিত করবে। অর্থ পাঠানোর পর সাত দিনের মধ্যে এই রেমিট্যান্সের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে, এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা যাচাই করবে।
বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের বিপরীতে অর্থ পাঠানোর বিষয়ে গত ৭ মে জারি করা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত নির্দেশনা এফইপিডি-তে থাকা বিধান সংশোধন করে নতুন নির্দেশনাটি জারি করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন