০২:৪৫ পি.এম
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠান শোক প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং, এর মাধ্যমে দেশের নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রীয় নীতির ধারাবাহিকতা বিশ্বকে প্রবাহিত করছে তেহরান। এমন মন্তব্য করেছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ফেলো মোহাম্মদ এসলামি। আজ শনিবার (৪ জুলাই) আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসলামি বলেন, ইরানের ইতিহাসে খামেনি এমন এক leaders শ্রেণীর মধ্যে আছেন, যিনি যুদ্ধ চলাকালে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়েছেন। তার ভাষায়, ‘খামেনি এমন নেতা ছিলেন না, যিনি শুধু নির্দেশ দিতেন। তিনি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সামনের সারিতে ছিলেন। তাই তার মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।’ এসলামি বলেন, শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইরানি সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বার্তা দিতে চায় যে, খামেনির আঞ্চলিক নীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার পথ মৃতের পরও অব্যাহত থাকবে। খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ছেলে এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া মুজতবা খামেনির প্রকাশ্যে অনুপস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন এই গবেষক। তার মতে, গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এটি মূলত একটি নিরাপত্তাজনিত সিদ্ধান্ত। এসলামি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নতুন নেতৃত্বকে নিরাপদ রাখা এবং রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বকে স্থিতিশীল করা। এই সংকটময় সময়ে মুজতবা খামেনির প্রধান দায়িত্ব হলো তার নেতৃত্বকে সুসংহত করা।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নতুন নেতৃত্বের অধীনে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দেশের রাজনৈতিক কাঠামোকে দৃঢ়ভাবে পরিচালনা করা। এসলামি আরও বলেছেন, খামেনির শেষকৃত্যের সময়টি শিয়া মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে। তিনি বলেন, ‘খামেনির শেষকৃত্য এমন সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন মহররম মাসের প্রথম ১০ দিন শেষ হয়েছে। এই সময় শিয়ারা তৃতীয় ইমাম ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাত স্মরণ করেন।’ এসলামি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় না ইরানিরা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস নিয়ে ভাবছে। বরং তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা নিজেদের অনুসারীদের উদ্দেশে এই বার্তা দিতে চায় যে, আলি খামেনির শাহাদাৎ ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাতের ধারাবাহিকতারই অংশ।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন