মো. সাকিব দিনাজপুর (হিলি) প্রতিনিধি
০২:৫২ পি.এম
দিনাজপুরের হাকিমপুরে এক যুবককে অফিসের কাজের কথা বলে ডেকে নিয়ে অপহরণ, ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং জোরপূর্বক ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় নাগরিক টিভির সাংবাদিক তাহকিক হাসান কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মামলার ৩ নম্বর আসামি মো. মেহেদী হাসান ওরফে মাহাদী হাসান অফিসের কাজের কথা বলে বাদীর ছেলে জীবনান্দ সরকারকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যান। পরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে অপহরণ করে হাকিমপুর পৌরসভার মধ্য বাসুদেবপুর (মাঠপাড়া) এলাকায় ৬ নম্বর আসামি মো. মন্তাজ ওরফে মুন্তাজ হোসেনের বাড়িতে আটকে রাখা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অপহরণের পর ভিকটিমের পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার কাছে থাকা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের তিনটি ফাঁকা চেক এবং ১০০ টাকা মূল্যমানের ছয়টি নন-জুডিশিয়াল ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর ও টিপসই নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে অপহৃত জীবনান্দ সরকারকে হাকিমপুর পৌরসভার ধরন্দা গ্রামে হিলি চারমাথায় অবস্থিত ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার একটি অফিস কক্ষে আটকে রাখা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তার পরিবার হাকিমপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অসি মোঃ জাকির হোসেন এর নির্দেশে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে।
পলাতক থাকা আসামি নাগরিক টিভির সাংবাদিক তাহকিক হাসান কে কাল রাতে গ্রেফতার করে এবং মো. মোজাম্মেল হোসেন মুকুল (৪৫), পিতা মৃত আব্দুস সাত্তার, সাং-ইসলামপাড়া, থানা-বিরামপুর, জেলা-দিনাজপুর।এ ঘটনায় অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, অবৈধভাবে আটক, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক স্বাক্ষর গ্রহণের অভিযোগে হাকিমপুর থানায় মামলা নং-০১/১৩৭, তারিখ ১ জুলাই ২০২৬, দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩৬৫, ৩৮৬, ৩৮৭, ৩৪২ ও ৩৪ ধারায় রুজু হয়েছে।
মামলার তদন্ত করছেন হাকিমপুর থানার এসআই (নিঃ) মো. শামীম মিয়া। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশজুড়ে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে, ‘জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩রা জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই জনসচেতনতামূলক মাদক বিরোধী আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
যুব সমাজ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার তাগিদ বিষয়টি নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও দৈনিক জনকণ্ঠের সাবেক সিনিয়র সাংবাদিক জনাব সুমন চৌধুরী। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "বর্তমান সময়ে দেশের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় যুব সমাজ মাদকের জালে জড়িয়ে পড়েছে। মাদকের এই মরণ ছোবলের কারণেই সমাজজুড়ে ছিনতাই, খুন ও ধর্ষণের মতো নৃশংস অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।"
যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে কেবল পুলিশ নয় বরং পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সাংবাদিক সমাজকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার দাবি বিষয়টির ওপর বক্তব্যের দ্বিতীয় অংশে সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সুমন চৌধুরী বলেন, "সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত মামলা, হামলা ও নানামুখী নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।" তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কাজের স্বাধীনতা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান এবং টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আরিফুর রহমান। প্রশাসনের অবস্থান পরিষ্কার করে তারা জানান, "আমরা মাদকের বিরুদ্ধে শতভাগ কঠোর অবস্থানে রয়েছি। মাদক নির্মূলে আপনাদের সকলের সহযোগিতা আমাদের একান্ত কাম্য। আমরা অঙ্গীকার করছি—যৌথ প্রচেষ্টায় এই সমাজকে মাদকমুক্ত করব।" এই ধরণের মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করে তারা আরও জানান, জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটি ভবিষ্যতে মাদকের বিরুদ্ধে আরও বড় কর্মসূচি গ্রহণ করলে পুলিশ প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও পরিচালনায় গুরুত্বসহকারে এই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মীর মোঃ আবদুল হালিম। অনুষ্ঠানটির সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন গাজীপুর জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাসুম রানা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ ফুলপুর কমিটির নেতৃবৃন্দ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা সভায় গাজীপুর ও টঙ্গী অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: মোঃ মনিরুজ্জামান মনির — সাবেক সাধারণ সম্পাদক, গাজীপুর প্রেসক্লাব এবং সম্পাদক ও প্রকাশক, সাপ্তাহিক ভাওয়াল। এম কাজল খান — প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, গাজীপুর জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটি। আব্দুল ওহাব রিংকু — সভাপতি, গাজীপুর সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব। এম আর নাসির — গাছা প্রতিনিধি, দৈনিক যুগান্তর। মোঃ মোস্তাকিম খান — সাবেক সভাপতি, গাজীপুর রিপোর্টার্স ক্লাব। সুলতানা সরকার — মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা, গাজীপুর জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটি। মোঃ পাপেল মিয়া — সিনিয়র সাংবাদিক ও প্রতিনিধি, jtv অনলাইন টেলিভিশন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ: মহান মুনির — যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (এবং গাজীপুর সিটি রিপোর্টার, রূপসী বাংলা টিভি)। মানিক হোসেন বিজয় — সহ-সভাপতি (এবং যুগ্ম বার্তা সম্পাদক, দৈনিক বাংলার বিপ্লব)। মাহমুদুল হাসান সাহেদ — যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক (এবং গাজীপুর জেলা সংবাদদাতা, দৈনিক বাংলার বিপ্লব)।
উক্ত মাদক বিরোধী আলোচনা সভায় সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সমাজ থেকে মাদক দূর করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে উপস্থিত সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সভাপতি কর্তৃক অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাটিয়াজুরী ইউনিয়নে রাস্তা পাকা করণের দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন ও জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবাী (৪ জুলাই) সকালে দারাগাঁও টি ফ্যাক্টরী ও রেলগেট এর সামনে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এ অঞ্চলের দারাগাও, হাতিমারা চা বাগান, ১ শ ৫০ টি গ্রাম, রেমা কালেঙ্গা রেঞ্জ বনাঞ্চলের যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা না হওয়ায় জনগনের দূভোর্গ চরমে পৌচেছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দ্রুত পাকা করার দাবিতেই মূলত এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।
উক্ত মানববন্ধন ও জনসমাবেশে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাটিয়াজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাটিয়াজুরী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব আলহাজ্ব এডভোকেট সরকার মো: শহীদ।
সমাবেশে এলাকার স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার চা শ্রমিকদের বসতভিটা যেখানে তারা বাসকরে সেই ভূমিকে শ্রমিকদের কে নিজেদের এবং দাবী সংসদে উথ্বাপন করে নাই। কিন্তু আমাদের সংসদ সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল সাহেব চা শ্রমিকদের ভূমি নিজেদের বলে রেজিষ্ট্রেশন করার কথা সংসদে উথ্বাপন করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সন্তান হারানো মায়ের কান্না, বাবার দীর্ঘশ্বাস, ভাইয়ের আহাজারি এবং আহত যোদ্ধাদের বেদনায় আজ রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র ভারী হয়ে ওঠে।
জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার, আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানান। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছর শাসনের পতনের দুই বছর পর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যরা তাদের না-বলা কষ্ট, দীর্ঘদিনের অপেক্ষা এবং প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। অনেকেই বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। চোখের জল আর দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।
শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা আব্দুল রব মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘জুলাই এলেই চোখের পানির বাঁধ ভাঙে। ৫ আগস্ট আমার ছেলের বুক গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পুলিশ। আমি এক হতভাগা বাবা এই অন্যায়ের বিচার চাই, প্রতিটি জুলাই যোদ্ধা হত্যার বিচার চাই।’
চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, ‘আমার ছেলে আর ফিরে আসবে না। কিন্তু আর কোনো বাবা-মায়ের কোল যেন খালি না হয়। এখন সরকারের কাছে দাবি, জুলাই যোদ্ধা যারা হাত-পা হারিয়েছে তাদের সহায়তা করুন। তারা যেনো কষ্টে না থাকে।’
আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ভাই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে জীবন দিয়েছে। তার অনুপ্রেরণায় আরও অনেকে শহীদ হয়েছেন, কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। অনেক পরিবার একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। তাদের পাশে সরকারের দাঁড়াতে হবে। আমার ভাই হত্যার দ্রুত বিচার চাই। পাশাপাশি সারা দেশে জুলাই যোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণেরও দাবি করছি।’
শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, ‘আমার বড় ছেলে জাহিদ মারা যাওয়ার পরে আমার ছোট ছেলের ক্যান্সার ধরা পড়ে। আমি অসহায় অবস্থায়, ওই সময় এমন কোনো দরজায় নেই যেখানে যাইনি, কিন্তু সহায়তা পাইনি। তবে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রত্যেকটি সদস্য আমাদের পাশে ছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডন থেকে আমাদের খোঁজ নিয়েছেন, সহায়তা করেছেন। এখন বিএনপি সরকারের কাছে একটাই দাবি- সকল জুলাই যোদ্ধাদের হত্যার বিচার চাই। আমি যেভাবে বিএনপির কাছে সহায়তা পেয়েছি অন্য জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরাও যেনো সহায়তা পায়। আমার সন্তানকে তো আর ফিরে পাবো না, তবে সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন।’
শহীদ আলভীর বাবা আবুল হাসান বলেন, ‘আমার ছেলে আগস্টের ৪ তারিখ মিরপুরে মারা যায়। দুই বছর পার হলেও অন্তবর্তী সরকার বিচারের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বিচারের জন্য রাস্তায় আন্দোলন করেছি কিন্তু দৃশ্যমান কিছুই হয়নি। আমরা তখন আশায় বুক বেঁধে ছিলাম, তারেক রহমান দেশে ফিরবেন, ক্ষমতায় বসবেন আমাদের সন্তান হত্যার বিচার করবেন। আমরা আশা রাখি, তিনি আমাদের চোখের পানির মূল্য দেবেন।’
দুই পা হারানো জুলাই যোদ্ধা শাহীন মালু বলেন, ‘গত ১৭ বছর জিয়া পরিবার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ দেশকে ভালো রাখতে হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে থাকুন। শহীদ পরিবার যদি চান তবে তারেক রহমানকে সহায়তা করুন। এই দেশ তার কাছেই নিরাপদ। আজকে বুকটা ভরে যায়; দুইটা পা হারিয়েছি দু:খ নেই, তবে জুলাই যোদ্ধাদের হত্যার বিচার যেনো দেখতে পারি।’
আহত জুলাই যোদ্ধা মিল্লাত হোসেন বলেন, ‘আমি একজন আহত জুলাই যোদ্ধা। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের দাবিতে নয়াপল্টন থেকে মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাব যাওয়ার সময় আমি গুলিবিদ্ধ হই। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়, কিন্তু কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা পর্যন্ত পাইনি। প্রথমে আমার পরিবারকে বলা হয় আমি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছি। এরপর থেকে আমার বাবা অসুস্থ হয়ে শয্যাশয়ী হয়, পরে মারা যান। আমরা শুধু জুলাই যোদ্ধা নই গত ১৭ বছরের যোদ্ধা। আমি সকল জুলাই যোদ্ধা হত্যার বিচার চাই।’
আরেক আহত জুলাই যোদ্ধা সুজন মোল্লা বলেন, ‘লন্ডন থেকে তারেক রহমান একদফার ঘোষনা দিয়েছিলেন। এই জন্যই আন্দোলন করেছিলাম। এই একদফা বাস্তবায়ন হয়েছে বলেই স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। জুলাই শহীদ পরিবার থেকে শুরু করে দেশের মানুষ নিরাপদে বাস করছে। তবে আমাদের আক্ষেপ থেকেও গেছে। শহীদ যোদ্ধাদের হত্যার বিচার এখনো হয়নি। তবে রাষ্ট্রযন্ত্র আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে, তিনি চাইলেই পারবেন দ্রুত জুলাই হত্যাকান্ডের বিচার করতে। আমরা অপেক্ষায় থাকলাম।’
আহত আলামিন বলেন, ‘আমার একটা হাত নেই, ব্যাথায় মাঝেমধ্যে কাঁপতে থাকে। চিকিৎসা করতে পারিনা। আমার মতো আরও কতশত যোদ্ধা এমন হাত-পা হারিয়েছেন ঠিক নেই। আমি সরকারের কাছে দাবি করবো, আমার মতো হাত-পা হারানো যোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।’
জুলাই যোদ্ধা মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, শুধু মাত্র জাতীয়তাবাদী দলের সমর্থক হওয়ার কারণে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। জুলাই যোদ্ধা হিসেবেও তেমন কোনো সহায়তা পাইনি।
সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। মঞ্চের ব্যানারে লেখা, ‘গর্বিত ইতিহাস, অদম্য চেতনা; ৪ জুলাইয়ের এই দিন হোক সবার অনুপ্রেরণা; যে আত্মত্যাগ ইতিহাসকে বদলে দিয়েছে।’
সকাল সোয়া ১০টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ তুলে দেন। এ সময় শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুল রব মিয়া, শহীদ সেলিমের ভাই উজ্জ্বল হোসেন, আহত জুলাই যোদ্ধা আল মিরাজ এবং জুলাই যোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ঈমন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্মারক গ্রহণ করেন। পরে উপস্থিত অন্য পরিবারগুলোর কাছেও স্মারক পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
পরে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতেও একটি স্মৃতি স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সরকারের মন্ত্রী, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
২০২৪ সালের জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে এক রক্তাক্ত অধ্যায়। সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল ও সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত গড়ে ওঠে অভূতপূর্ব গণআন্দোলন। পরে তা সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন।
সরকারের প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৪। তবে জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর উত্তরাঞ্চলের যৌক্তিক স্থানে না করে দক্ষিণাংশে স্থাপনের চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে উত্তর ফটিকছড়ি সচেতন নাগরিক সমাজ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পাশাপাশি আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয়রা।
শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, উত্তর ফটিকছড়ির মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফল হিসেবে নতুন উপজেলার অনুমোদন এসেছে। এজন্য তারা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে উপজেলার সদর দপ্তর যদি উত্তরাঞ্চলের পরিবর্তে দক্ষিণাংশে স্থাপন করা হয়, তাহলে নতুন উপজেলা গঠনের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমান ফটিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে দীর্ঘ দূরত্বের কারণে উত্তরাঞ্চলের মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনিক সেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত সুবিধা থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। এ বাস্তবতায় বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও ভূজপুর—এই চার ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের দাবি ওঠে এবং এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন গণশুনানিরও আয়োজন করে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গণশুনানির সুপারিশ উপেক্ষা করে পরবর্তীতে হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়নকে নতুন উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মতামত নেওয়া হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে ভূজপুরে উপজেলা সদর স্থাপনের চেষ্টা করছে। বক্তাদের দাবি, দূরত্ব, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আয়তন ও রাজস্ব আয়ের দিক বিবেচনায় ভূজপুর উপজেলা সদর হওয়ার জন্য উপযুক্ত নয়। বর্তমানে ফটিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে ভূজপুরের দূরত্ব প্রায় ৯ কিলোমিটার হলেও বাগানবাজার থেকে ভূজপুরের দূরত্ব প্রায় ৩৮ কিলোমিটার। ফলে ভূজপুরে সদর স্থাপন করা হলে উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত প্রশাসনিক সুবিধা থেকে আবারও বঞ্চিত হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ফটিকছড়ি উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৭৭৩ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে উত্তরাঞ্চলের আয়তন প্রায় ৩০১ বর্গকিলোমিটার। এ অঞ্চলে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস এবং সোয়া এক লাখের বেশি ভোটার রয়েছেন। এত বড় জনগোষ্ঠীর ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা সমীচীন হবে না বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।
তারা আরও বলেন, উপজেলা পরিষদের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুয়াবিল ইউনিয়নকে ভূজপুর থানা এলাকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত খসড়াতেও ইউনিয়নটি উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরে একটি মহলের প্রভাবে সেটি নতুন উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে গণশুনানির সুপারিশ অনুযায়ী নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী যৌক্তিক স্থানে উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর দপ্তর স্থাপনের বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত দাবি করা হয়। অন্যথায় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি আরও জোরদার করার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলম মাসুদ, বিজিএমইএর সাবেক সহ-সভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী, উত্তর ফটিকছড়ি নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ওসমান গণি মজুমদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুদ্দিন সিদ্দিকী সোহেল, হেলথ ভিউ মেটারনিটি অ্যান্ড চাইল্ড হাসপাতালের পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহাজাহান সিরাজ, খায়রুল খোমেনী, খালেদুল আনোয়ার, জহির রায়হানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ