বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০১:২১ পি.এম
পিরোজপুরের জিয়ানগরে সরকারি খাল দখল করে অবৈধভাবে নির্মিত ৮টি দোকান ঘর উচ্ছেদ করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার পিরোজপুর জেলার রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) মোঃ রুবাইয়াত ফেরদৌস ও জিয়ানগর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ওলিউযর রহমান (রুবেল) এর নেতৃত্বে ও ইন্দুরকানী থানা পুলিশের সহযোগীতায় উপজেলার কালাইয়ার খায়েরহাটে সরকারি খাল দখল করে নির্মিত ৮টি দোকান ঘর উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদকৃত দোকান মালিকগণ হলেন, মোঃ জামাল মোল্লা, মোঃ মামুন, মোঃ বাশার আকন, নুরুল ইসলাম, মোঃ বাসার মৃধা, মোঃ হাবিবুর রহমান, মোঃ সোবাহান খান ও মোঃ আনিস। উচ্ছেদের পূর্বে দোকানঘরের মালিকদের তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু কোন দোকান মালিক তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেয়নি। পরে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক স্থাপনাহুলো উচ্ছেদ করে প্রশাসন। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশ, সাংবাদিক ও স্থানীয় শত শত মানুষ উপস্থিত ছিল।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ওলিউর রহমান (রুবেল) জানান, সরকারি জমি ও খাল দখল করে নির্মিত সকল স্থাপনা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। উপজেলার বিভিন্ন বাজার সহ সরকারি জমিতে অনেক অবৈধ ভবন রয়েছে সেগুলো উচ্ছেদ করা হবে।
এব্যাপরে পিরোজপুর জেলার রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) মোঃ রুবাইয়াত ফেরদৌস জানান, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক আমরা অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। দখলকারী দোকান মালিকদের স্থপনা সরিয়ে নেয়ার নোটিশ দেয়া হলেও তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি। আমরা বাধ্য হয়ে স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করেছি। অবৈধভাবে সরকারি জমি ও খাল দখল করে নির্মিত সকল স্থাপনা উচ্ছেদে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালীতে নদীতে টহল শেষে ফেরার পথে নৌ পুলিশের সদস্যদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মোঃ জাকির হোসেন নামে এক পুলিশ কনস্টেবলকে ছুরিকাঘাত ও ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। হামলায় নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ আরমান হোসেনসহ আরও পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি মোঃ শান্ত (২২)কে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলের দিকে উপজেলার আমরাজুড়ি ইউনিয়নের কুমিয়ান এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ পন্টুন সংলগ্ন গোপাল স্টোরের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নৌ পুলিশের একটি দল নদীতে নিয়মিত টহল শেষে ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট এলাকায় ফুট পেট্রোল করছিল। এ সময় মোঃ শান্ত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে গালিগালাজ শুরু করেন। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে খবর পেয়ে কাউখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ আরমান হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
এ সময় শান্ত ও তার সহযোগীরা বাঁশের লাঠি, ইট ও ধারালো চাকু নিয়ে নৌ পুলিশের সদস্যদের ওপর সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলাকারীরা কনস্টেবল মোঃ জাকির হোসেনকে চাকু ও ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এ সময় তার কাছে থাকা মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জাকির হোসেনকে উদ্ধার করতে গিয়ে নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ আরমান হোসেন, এসআই প্রসেনজীত দেবনাথ, কনস্টেবল শ্যামলেশ কুমার মন্ডল, কনস্টেবল মোঃ সাকির হোসেন ও কনস্টেবল মোঃ পারভেজ আহত হন।
পুলিশের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে কাউখালী থানা পুলিশ আহত নৌ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।
কাউখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ আরমান হোসেন বলেন, নদীতে নিয়মিত টহল শেষে ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট এলাকায় ফুট পেট্রোল করার সময় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালানো হয়। এতে কনস্টেবল মোঃ জাকির হোসেন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাকেসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ আরমান হোসেন বাদী হয়ে কাউখালী থানায় সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ সদস্যদের মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার ১ নম্বর আসামি মোঃ শান্তকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আদালতে পাঠানো হয়েছে।
কাউখালী থানার ওসি (তদন্ত) এবাদ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত শান্তকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ