০৬:৪২ পি.এম
নওগাঁ, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ : একসময় নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ছিল শুধুমাত্র একটি নাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার জন্য আইনি অনুমোদন পাওয়ার পরও কার্যক্রম শুরু হবে কিনা, তা ছিল অনিশ্চিত। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমও ছিল না।
দুই বছর পর, পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে দুটি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে এবং নিয়মিত ক্লাস চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাব এবং আধুনিক পাঠদানের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
এভাবে ধীরে ধীরে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।
আরও পড়ুন: উল্লাপাড়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, প্রধান অতিথি এম আকবর আলী
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে হিসাববিজ্ঞান ও আইন বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়।
বর্তমানে দুটি বিভাগে ৪০ জন করে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করছেন। নতুন বিভাগ চালুর প্রক্রিয়াও চলছে, যার মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
উপাচার্য ড. হাছানাত আলী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ বুধবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় আইনি অনুমোদন পায়।" ওই বছরের ১১ জুন প্রথম উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন ড. আবুল কালাম আজাদ।
আরও পড়ুন: সদরপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে যানজট ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা সভা
তবে এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়নি। প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালু হবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর। ওই দিন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন ড. হাছানাত আলী। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ গতি পায়।
নিজস্ব ভবন না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম দুটি ভাড়া করা ভবনে শুরু হয়। একটি ভবনে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ এবং অন্যটিতে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন উপাচার্য, একজন উপ-উপাচার্য, আটজন শিক্ষক এবং ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক রিডিং রুম, লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাব ও ভিজিটরস লাইব্রেরি তৈরি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘যুবদলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে’- আনোয়ার
শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির সংযোজন ঘটেছে। ডিজিটাল বোর্ড ও মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে পাঠদান করা হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।
নওগাঁ জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বকর সিদ্দিক নান্নু মন্তব্য করেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে যে আধুনিক পদ্ধতিতে পাঠদান করা হচ্ছে, তা শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও এ ধরনের আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি দেখা যায় না।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অগ্রযাত্রার মধ্যে উপাচার্য ড. হাছানাত আলীর দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
উপ-উপাচার্য ড. আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপাচার্য ড. হাছানাত আলী, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল কাইয়ুম, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বকর সিদ্দিক নান্নু, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. কায়েস উদ্দিনসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বক্তব্য দেন।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের জন্য ইনডেমনিটি দিয়েছিল আওয়ামী সরকার: রিজভী
পরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা কেক কেটে উপাচার্যের দুই বছর পূর্তি উদ্যাপন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন