ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

যখন কোনো শিশু জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তা সমগ্র সমাজকে আহত করে


যখন কোনো শিশু জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তা সমগ্র সমাজকে আহত করে

ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর হত্যার মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, যখন কোনো শিশু যৌন নির্যাতন, সহিংসতা কিংবা হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তখন তা শুধুমাত্র একটি পরিবারকে নয়, সমগ্র সমাজকে গভীরভাবে আহত করে। পাশাপাশি, এটি রাষ্ট্রের ন্যায়বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন নৃশংস এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করেছেন। দণ্ড ঘোষণার পূর্বে বিচারক ঘটনাটি বিষয়ে ওই পর্যবেক্ষণ ব্যক্ত করেছেন।

আদালত পর্যবেক্ষণে তুলে ধরে জানিয়েছেন, শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের এই মামলা কেবল একটি ফৌজদারি বিচারিক কার্যক্রম নয়; বরং এটি আমাদের সমাজের বিবেক এবং আইনের শাসনের প্রতি গভীর ও কঠিন পরীক্ষা। শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। যখন কোনো শিশু এমন জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তা সমগ্র সমাজকে আহত করে এবং বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।

আরও পড়ুন: পাঁচবিবির গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণ, সরকারি সহযোগিতার দাবি

পর্যবেক্ষণে আদালত আরো উল্লেখ করেছেন, একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নির্মমভাবে নিভিয়ে দেওয়ার অভিযোগে করা এই মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা ‘বেদনা, ক্ষোভ, উদ্বেগ ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ’ রয়েছে। মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে, কারণ এখানে তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম এবং সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল সন্তোষের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে যে, তদন্তকারী সংস্থা অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। একইভাবে, প্রসিকিউশন মামলার সব গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে অতি অল্প সময়ে আদালতের সামনে উপস্থাপন করে বিচার কার্য দ্রুত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

২০১৯ সালের ১৯ মে ঢাকার পল্লবী থানায় মামলার এজাহারকারী আব্দুল হান্নান মোল্লা এবং পারভিন আক্তারের শিশুকন্যা রামিসা আক্তার (৮) ভয়াবহ ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তারা পল্লবী থানাধীন ১১ নং সেকশনে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার দিন ও সময়ে পারভিন আক্তার তার শিশুকন্যা রামিসাকে খুঁজতে গিয়ে পাশের ফ্ল্যাটে সতর্ক হয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে তার একটি পায়ের জুতা দেখতে পান। পরবর্তীতে রামিসার মায়ের চিৎকারে আশপাশের সবাই আসলে আব্দুল হান্নান মোল্লা দরজা ভেঙে প্রবেশ করলে দেখতে পান, শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার পর দেহ খণ্ডিত অবস্থায় খাটের নিচে রাখা হয়েছে এবং আসামি মো. সোহেল রানা ভুক্তভোগীর হাত কেটে আলাদা করেছিল এবং যৌনাঙ্গ চাকু দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেছিল। পরে, মৃতদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয় এবং মাথা বালতিতে লুকিয়ে রাখে।

আসামি স্বপ্না খাতুনের পরামর্শে জানালার গ্রিল কেটে তার স্বামী সোহেল রানা পালিয়ে যান। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্না খাতুনকে আটক করে এবং মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ২০ মে আব্দুল হান্নান মোল্লা মামলা করেন এবং এসআই অহিদুজ্জামান তদন্তভার প্রাপ্ত হন। আসামি সোহেল রানা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের কাছে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তের সময় সব সাক্ষ্যপ্রমাণ ও প্রতিবেদন পর্যালোচনায় অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণ হওয়ায় অভিযুক্ত মো. সোহেল রানা ও মোছা. স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে পল্লবী থানার অভিযোগপত্র ২৩ মে আদালতে দাখিল করেন। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার নথি প্রাপ্তির পর আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ বিচারের জন্য আমলে গ্রহণ করেন। আসামি পক্ষের কোনো আইনজীবী না থাকায় আদালতের নির্দেশে মুসা কলিমুল্যাহকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট অত্র ট্রাইব্যুনাল অবকাশ বহির্ভূত রেখে কার্যক্রম চলমান রাখার আদেশ দেন।

আরও পড়ুন: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গাইবান্ধার স্মৃতি খাতুনের সাফল্য

গত ১ জুন অভিযুক্ত সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং ধষর্ণ পরবর্তী অন্যান্য কার্যকলাপের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানোর অপরাধে অভিযোগ গঠন করা হয়। অপর আসামি মোছা. স্বপ্না খাতুন ওই অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করার জন্য অভিযুক্ত হয়, আলামত বিনষ্ট করায় বাধা না দেওয়া এবং স্বামীকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করায় তার বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়।

বিচার পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর ২ জুন সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত করা হয়। ৩ জুন অভিযুক্ত মো. সোহেল রানা ও মোসা. স্বপ্না খাতুনকে ৩৪২ ধারায় পরীক্ষা করা হলে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। ৪ জুন যুক্তিতর্ক শেষে আজ ৭ জুন রায় প্রচারের জন্য ধার্য হয়।

আদালতে রামিসার বাবা, মা, বড় বোন রাইসা আক্তারসহ সব সাক্ষী ঘটনার স্বপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন। ময়নাতদন্তকারী ডাক্তার এবং স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী লিপিবদ্ধকারী ম্যাজিস্ট্রেটও আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করেছে যে, তারা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। অন্যদিকে, আসামি পক্ষ দাবি করে আসামিরা সম্পূর্ণ নির্দোষ।

আদালত সাক্ষীদের বক্তব্য, জব্দতালিকা, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করেন। প্রসিকিউশন পক্ষ দাবি করেছে, ঘটনার তারিখ, সময় ও ঘটনাস্থল সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সমর্থ হয়েছে। সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, অভিযুক্ত স্বপ্না খাতুন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি সোহেল রানাকে লাশ গুম করতে ও পালিয়ে যেতে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছেন।

আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে

আদালত রায় প্রদানকালে উচ্চ আদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও সাক্ষ্য আইন ১০৬ ধারার বিধান পর্যালোচনা করেছেন। পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য বিশ্লেষণে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের জড়িত থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে প্রমাণ হয়েছে। আদালত ধর্ষণের ক্ষেত্রে একজন সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে শাস্তি প্রদানের উচ্চ আদালতের নজিরও উল্লেখ করেছেন।

সার্বিক বিবেচনায় আদালত অভিযুক্ত সোহেল রানাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ৯(২) মোতাবেক মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন এবং তাকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন। একইভাবে অভিযুক্ত মোছা. স্বপ্না খাতুনকেও মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয় এবং তাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ সংক্রান্ত সব কার্যক্রম হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ওপর আরোপিত অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগী মৃত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত এ কথা বলেন। বর্তমানে এই ট্রাইব্যুনাল ১ হাজার ৮০০-এর বেশি বিচারাধীন মামলার দায়িত্ব পালন করছে।

আরও পড়ুন: জামায়াতে ইসলামীর ইসলাম অস্বীকার করলেন হেফাজতের আমির বাবুনগরী

রামিসার মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ এর তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম এবং সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা এবং প্রসিকিউশন অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে তাদের দায়িত্ব পালন করায় আদালত সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আদালত প্রত্যাশা করছে, এই মামলার ন্যায় দ্রুত ও মানসম্মত বিচারিক কার্যক্রম ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত অন্যান্য মামলাতেও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হবে।

একটি ন্যায়সঙ্গত বিচার কেবল আদালতের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়, বরং বিচার ব্যবস্থার সব অংশীজনের সম্মিলিত দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমে তা অর্জিত হয়।

আদালতের দায়িত্ব আবেগ দ্বারা নয়, বরং আইন ও প্রমাণের আলোকে সত্য উদঘাটন করা। এই আদালত অত্যন্ত সতর্কতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রায় দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: সাম্য ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে মানবিক দেশ গড়তে কাজ করছে সরকার : ডেপুটি স্পিকার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাজেটে স্বাস্থ্যখাতের অন্তত ৮ শতাংশ বরাদ্দের আহ্বান জামায়াতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২২ পি.এম


বাজেটে স্বাস্থ্যখাতের অন্তত ৮ শতাংশ বরাদ্দের আহ্বান জামায়াতের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের স্বাস্থ্য খাতের চরম অব্যবস্থাপনা দূরীকরণ, নজিরবিহীন বাজেট বৈষম্যের অবসান এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। দলটি এই খাতে সর্বনিম্ন জাতীয় বাজেটের অন্তত ৮ শতাংশের বেশি বরাদ্দ রাখার আহ্বান জানাচ্ছে।

রোববার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে এই আহ্বান জানানো হয়। জামায়াতের মেডিকেল শাখার উদ্যোগে ‘স্বাস্থ্য খাতে অব্যবস্থাপনা ও ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের অপচেষ্টার প্রতিবাদে’ এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে, স্বাস্থ্য খাতের বাজেটে অন্তত ৮ শতাংশের বেশি বরাদ্দ রাখার জন্য আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, স্বাস্থ্য খাতে লাগামহীন দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন যে, হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়। এছাড়া সরকারি হাসপাতালের জন্য বরাদ্দকৃত ওষুধ বিভিন্ন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ফার্মেসিতে চলে যাওয়ায় দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ প্রাপ্য ওষুধ থেকে বঞ্চিত হয়।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় চিকিৎসকদের বদলি করা হয় এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ বাণিজ্য চলে আসছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এসব অনিয়ম দূর করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, জামায়াতে ইসলামীর লড়াই দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করে সেলিম উদ্দিন বলেন, আপনার মূল দায়িত্ব বাদ দিয়ে স্বাস্থ্য খাতে রাজনীতি করবেন, তা হতে দেওয়া যাবে না। যোগ্য ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের অবমূল্যায়ন করে দুর্নীতিবাজ ও অযোগ্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে, যা স্পষ্টত ফ্যাসিবাদের নীতি। এই ফ্যাসিবাদী নীতি নিয়ে আপনারা স্বাস্থ্য খাত চালাতে পারবেন না। শহীদদের রক্ত আর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না।

তিনি বর্তমান প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে বলেন, যারা অতীতে জনগণের ওপর জুলুম করেছে এবং স্বাস্থ্য খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে, তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। নতুন বাংলাদেশে জনগণ একটি বৈষম্যহীন ও স্বচ্ছ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রত্যাশা করে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহানগর উত্তর মেডিকেল বিভাগের আমির ডা. এস এম খালিদুজ্জামান দেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও বাজেট বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে মোট বাজেটের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। অথচ আমাদের দেশে এই সংবেদনশীল খাতে বরাদ্দ মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ, যা জিডিপির তুলনায় ১ শতাংশেরও নিচে। একটি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী জাতি গঠন করতে হলে সবার আগে মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা প্রয়োজন। দেশে চলমান অস্থিরতা ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে মুক্তি পেতে স্বাস্থ্য খাতকে সবার আগে সঠিক ও দুর্নীতিমুক্ত পথে ফিরিয়ে আনা জরুরি।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অন্যান্য চিকিৎসক ও নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের অনিয়ম ও দুর্নীতির ধারা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। চিকিৎসকদের এককভাবে দায়ী না করে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারের ভূমিকা জোরদার করতে হবে। একে অপরের সাথে, স্বাস্থ্য খাতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক ও জামায়াত নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুনের ৬ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৬৮ কোটি ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২৩ পি.এম


জুনের ৬ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৬৮ কোটি ডলার

চলতি মাসের প্রথম ৬ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৮ কোটি ৩৪ লাখ মার্কিন ডলার। এই হিসেবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১১ কোটি ৩৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

রোববার (৭ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, চলতি জুন মাসের প্রথম ৬ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৮ কোটি ৩৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৮৬ কোটি ২৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৬ জুন পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে মোট ৩ হাজার ৩৪৪ কোটি ১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ১৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

এর আগে গত মে মাসে দেশে এসেছে মোট ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনও এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।

গত এপ্রিলে দেশে এসেছিল ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। আর গত মার্চে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে যে কোনও এক মাসের সর্বোচ্চ।

গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যা খুশি প্রচার করা হচ্ছে: জয়নুল আবদিন ফারুক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২৪ পি.এম


ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যা খুশি প্রচার করা হচ্ছে: জয়নুল আবদিন ফারুক

দেশের প্রায় সকল উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও সাংবাদিকতার কার্ড পাওয়া যাচ্ছে। তবে বিষয়টি উদ্বেগজনক যে, অনেকের সাংবাদিকতা বিষয়ক কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান নেই; কিছু ব্যক্তি রিপোর্টারও নন এবং এমনকি তাদের মধ্যে কেউ মেট্রিক পাসও করেনি।

ইউটিউব ও অন্যান্য বিভিন্ন মাধ্যমে যা খুশি তাই প্রচার করা হচ্ছে। আসলে কারা এসব সাংবাদিকতার কার্ড দিচ্ছে, এদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কি এবং কারা সেই পরিচয় ব্যবহার করছে—এসব বিষয় নিয়ে তদন্ত করা অত্যন্ত প্রয়োজন মনে করেন নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।

রোববার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘এ বিষয়গুলো তথ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় এনে কার্যকর কোনো নীতিমালা বা সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কি না, তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি জানিয়েছেন, এই অবস্থা উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করার পর তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী সংসদে জানান, ‘আমরা মিসইনফরমেশন (ভুল তথ্য) ও ডিসইনফরমেশন (অপতথ্য) নিয়ে কাজ করছি। যারা সাংবাদিক হিসেবে নিবন্ধিত নয়, মূলত তাদের মধ্যে থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন উপস্থাপন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়টি আরো জানান যে, এ ধরনের অপতৎপরতা বন্ধে ইতোমধ্যে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিম পুরো বিষয়টি মনিটর করছে এবং যারা জড়িত লোকজন, তাদের আইনের আওতায় আনা যায় কি না, সে বিষয়ে কার্যক্রম চলছে। শিগগিরই এই মনিটরিং টিমের পরিধি ও বিস্তারিত কার্যক্রম সকলের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কপিলমুনি বাজারে সওজের উচ্ছেদ অভিযান, স্থানীয়দের ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২৪ পি.এম


কপিলমুনি বাজারে সওজের উচ্ছেদ অভিযান, স্থানীয়দের ক্ষোভ

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি বাজার এলাকায় সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে।

রোববার (৭ জুন) সকালে কপিলমুনি জাফর আউলিয়া ডিগ্রি মাদরাসা সংলগ্ন এলাকায় বুলডোজার দিয়ে কয়েকটি দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। উল্লেখ্য, প্রায় ছয় মাস বিরতির পর ফের এ অভিযান শুরু হলো।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, বেতগ্রাম–তালা–কপিলমুনি–পাইকগাছা–কয়রা আঞ্চলিক সড়কটি উন্নীতকরণ ও প্রশস্ত করার একটি প্রকল্পের আওতায় এ উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ককে দুই লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ৩৪টি বাঁক সরলীকরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য সড়কের বিভিন্ন অংশে ভূমি অধিগ্রহণ ও স্থাপনা অপসারণের প্রয়োজন হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৩৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি একাধিক দফায় সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

এদিকে উচ্ছেদের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। তাদের অভিযোগ, সড়ক সরলীকরণের মূল নকশা বাস্তবায়নের পরিবর্তে পরিবর্তিত নকশা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। এজন্য বাজার এলাকার গুরুত্বপূর্ণ অংশে অনাকাঙ্ক্ষিত বাঁক তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। একটি বিশেষ পক্ষের স্থাপনা রক্ষা করতে গিয়ে জনস্বার্থ উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, এবং সাধারণ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এর আগেই, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে একই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে স্থানীয়দের প্রতিরোধ ও আপত্তির মুখে তা স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গণশুনানিও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে স্থানীয়রা মূল নকশা অনুযায়ী সড়ক উন্নয়নের দাবি জানান। ওই সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এদিকে, উচ্ছেদ ও সড়ক প্রশস্তকরণের বিষয়ে সওজের প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, সড়কটি উন্নীতকরণের কাজ চলমান রয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো সরলীকরণের জন্যেই নির্ধারিত স্থাপনাগুলো অপসারণ করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%