বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:২৭ এম
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে জেনারেল ও অ্যাডমিরালের সংখ্যা কমানোর একটি নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করতে যাচ্ছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার ভার্জিনিয়ার কোয়ান্টিকোতে মেরিন বাহিনীর ঘাঁটিতে সামরিক কর্মকর্তাদের সামনে তিনি এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন বলে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে।
এই পরিকল্পনার আওতায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জেনারেল ও অ্যাডমিরাল পদসংখ্যা ২০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্ব কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের মে মাসে হেগসেথ সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল ও পতাকাবাহী কর্মকর্তাদের অন্তত ১০ শতাংশ কমানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ন্যাশনাল গার্ডের জেনারেল কর্মকর্তাদের ২০ শতাংশ কমানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। নতুন পরিকল্পনায় সামগ্রিক কাটছাঁটের লক্ষ্য দ্বিগুণ করে ২০ শতাংশ করা হচ্ছে।
হেগসেথের পূর্বের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছিল, সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক স্তর কমিয়ে কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং নেতৃত্ব কাঠামোকে আরও সহজ করা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, অতিরিক্ত পদ ও কাঠামো কমানোর মাধ্যমে সামরিক বাহিনীতে নতুনত্ব এবং কার্যকর নেতৃত্ব বৃদ্ধি সম্ভব।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, মেরিন বাহিনী, বিমানবাহিনী ও মহাকাশ বাহিনী মিলিয়ে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা জেনারেল ও অ্যাডমিরালের সংখ্যা ছিল ৮৫১ জন। এক বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ৮৪৮। দেশটির আইন অনুযায়ী, সক্রিয় দায়িত্বে থাকা এ ধরনের কর্মকর্তার সর্বোচ্চ সংখ্যা ৮৫৭ নির্ধারিত রয়েছে।
হেগসেথের এবারের বক্তব্যের সময়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এক বছর আগে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত জেনারেল ও অ্যাডমিরালকে কোয়ান্টিকোতে ডেকেছিলেন। ওই বৈঠকে তিনি সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন মানদণ্ড নিয়ে সমালোচনা করেন এবং শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে আরও কঠোর শৃঙ্খলা ও মান বজায় রাখার কথা বলেন।
হেগসেথ প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার পর থেকে অন্তত ২০ জন জেনারেল, অ্যাডমিরাল ও বেসামরিক সামরিক কর্মকর্তা তাদের পদ হারিয়েছেন বা পদ ছেড়েছেন। তাঁদের মধ্যে যৌথ বাহিনীর প্রধান এবং সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর শীর্ষ ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তারাও রয়েছেন। সেনা ও নৌবাহিনীর বেসামরিক শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও পরিবর্তন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক বাহিনীতে জেনারেল ও অ্যাডমিরালের সংখ্যা কমানো প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমালোচকদের মতে, শীর্ষ পর্যায়ে অতিরিক্ত কর্মকর্তা থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ধীর হতে পারে এবং সামরিক ব্যবস্থায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, এর বিপরীত মত হলো—আন্তর্জাতিক জোটের সঙ্গে সামরিক সমন্বয়, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি এবং জটিল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক অভিজ্ঞ শীর্ষ কর্মকর্তা প্রয়োজন।
ডেমোক্র্যাট দলীয় সিনেটর মার্ক কেলি হেগসেথের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এটি তার রাজনৈতিক মতামত; হেগসেথ প্রশাসন শীর্ষ নেতৃত্বের কাঠামোকে ছোট ও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি সি-১৭ গ্লোবমাস্টার-৩ উড়োজাহাজ কোস্টারিকায় বিভিন্ন অভিযানে জব্দ করা প্রায় ৪৫ টন কোকেন ধ্বংসের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে। এই বিপুল পরিমাণ মাদক যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে দুই দেশের মাদকবিরোধী সহযোগিতার আওতায়। কোকেনগুলো ইনসিনারেশনের মাধ্যমে ধ্বংস করার পরিকল্পনা রয়েছে ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ইন্ডিয়ানাপোলিসে রিওয়ার্ল্ড সলিউশন্সের শিল্পকারখানায়।
কোস্টারিকার বিচার বিভাগের নথি অনুযায়ী, ধ্বংসের জন্য পাঠানো মাদকের সঠিক ওজন ৪৪ হাজার ৬৯৭ দশমিক ১৩ কেজি। এটি প্রায় ৪৪ দশমিক ৭ মেট্রিক টন বা ৯৮ হাজার ৬০০ পাউন্ড কোকেন একসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানগুলোর মাধ্যমে এসব মাদক জব্দ করা হয়েছে।
চালানটি কোস্টারিকার আলাজুয়েলায় অবস্থিত এয়ার সার্ভেইলেন্স সার্ভিসের বেস-২ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে পাঠানো হয়। ঘাঁটিটি রাজধানী সান হোসের নিকটবর্তী হুয়ান সান্তামারিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত। এই অভিযানে কোস্টারিকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদার সহযোগিতা করেছে।
কোস্টারিকার বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এত বিপুল পরিমাণ মাদক একসঙ্গে ধ্বংস করার মতো সক্ষমতা দেশটির নেই। স্থানীয় ইনসিনারেটরের সীমিত ক্ষমতা এবং মাদক সংরক্ষণের গুদামগুলোর ওপর বাড়তে থাকা চাপের কারণে দ্রুত ও নিরাপদে বড় চালান ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া, বিপুল পরিমাণ কোকেন একসঙ্গে পোড়ানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
কোস্টারিকার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্লো দিয়াজ জানিয়েছেন, বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে দেশে এই পরিমাণ মাদক ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার, দেশটির দূতাবাস ও ডিইএর সহযোগিতায় মাদকগুলো যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
মাদক পরিবহনের আগে পুরো চালান গণনা ও যাচাই করে আলাদা করে শনাক্ত করা হয়। এরপর প্যাকেটগুলো সিল ও লেবেল করে প্যালেটে সাজানো হয়। সশস্ত্র নিরাপত্তার মধ্যে সেগুলো বিমানবন্দরের রানওয়েতে নেওয়া হয় এবং সামরিক উড়োজাহাজের কার্গো ডেকে তোলা হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় মাদকের ‘চেইন অব কাস্টডি’ অক্ষুণ্ন রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কোস্টারিকার একটি আদালতের আদেশে চালানটি যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া ও ধ্বংসের প্রক্রিয়া অনুমোদন করা হয়। নথি অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর মাদকগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর কথা ছিল এবং ২৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে ইন্ডিয়ানাপোলিসের রিওয়ার্ল্ড সলিউশন্সের কারখানায় ইনসিনারেশন শুরু করার সময় নির্ধারণ করা হয়।
মাদকের নিরাপদ হস্তান্তর ও ধ্বংসের প্রক্রিয়া সরাসরি তদারকিতে কোস্টারিকার একজন বিচারকও যুক্তরাষ্ট্রে যান। ডিইএর কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কোস্টারিকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং মার্কিন বিমানবাহিনীর লোডমাস্টাররা পরিবহন ও হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রে ধ্বংসের পর পুরো প্রক্রিয়ার আইনগত নথিপত্র সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়।
বিপুল পরিমাণ মাদক একবারে সরিয়ে নিতে সি-১৭ ব্যবহারের বিষয়টি এ অভিযানে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। উড়োজাহাজটির বড় কার্গো ধারণক্ষমতার কারণে প্রায় এক লাখ পাউন্ড ওজনের এই চালান একবারে পরিবহন করা সম্ভব হয়েছে। কোস্টারিকার কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সহযোগিতা দুই দেশের মধ্যে মাদকবিরোধী সমন্বয় আরও জোরদারের বিষয়টিও তুলে ধরছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোস্টারিকার মাদকবিরোধী সহযোগিতা সাম্প্রতিক সময়ে আরও জোরদার হয়েছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছিল, কোস্টারিকাকে ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ কোকেন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পাচারের অভিযোগে এক বড় মাদক পাচারকারীকে কোস্টারিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন মামলার নথিতেও কোস্টারিকাকে কোকেন পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি মন্তব্য করেছেন যে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘সীমা অতিক্রম করেছেন’। তিনি দোহায় ইসরাইলি বিমান হামলার প্রসঙ্গে এই কথা বলেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগ্যানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাতারের প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যখন কাতার যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছিল এবং দোহায় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাব এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল, তখনই ইসরাইল কাতারে হামলা চালায়। তিনি হামলাটিকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করেন।
শেখ মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা যখন মধ্যস্থতা করছিলাম এবং দোহায় ট্রাম্পের প্রস্তাব এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম, তখন ইসরাইল আমাদের ওপর হামলা চালায়।’
কাতারের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালনরত একটি দেশের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্য বিপজ্জনক নজির তৈরি করেছে। তাঁর মতে, যুদ্ধের ইতিহাসে মধ্যস্থতাকারীর ওপর এ ধরনের হামলার নজির নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে সংঘাত নিরসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় ইসরাইলি বিমান হামলায় হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ওই হামলায় হামাসের পাঁচ সদস্য এবং কাতারের একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। কাতার হামলাটিকে তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং মধ্যস্থতার ওপর আঘাত হিসেবে নিন্দা জানিয়েছিল।
সাক্ষাৎকারে শেখ মোহাম্মদ গাজায় ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, হাসপাতাল ও বিদ্যালয়ে হামলার মতো কর্মকাণ্ড কোনো যুক্তি দিয়ে ন্যায্যতা দেওয়া যায় না। গাজায় সংঘটিত কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইসরাইল অবশ্য দোহায় হামলাটিকে হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতাদের লক্ষ্য করে পরিচালিত অভিযান হিসেবে দেখিয়েছে। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছিল, দোহায় অবস্থানরত হামাসের নেতৃত্ব ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল।
তবে হামলার পরও কাতার মধ্যস্থতার ভূমিকা থেকে সরে আসেনি। শেখ মোহাম্মদ বলেন, কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে দোহা এবং বন্ধ দরজার আড়ালে আলোচনা চালিয়ে যাওয়াকেই জটিল সংঘাত নিরসনের কার্যকর পথ হিসেবে দেখছে তাঁর দেশ। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেনী পৌরসভার বিরিঞ্চি এলাকা থেকে বাবার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে মাশুকুর রহমান ইমন (১৫) নামে এক মাদরাসাছাত্র নিখোঁজ হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিখোঁজের একদিন পর শহরতলীর ফতেহপুর এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে ব্যাটারি ছাড়া পরিত্যক্ত অবস্থায় অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে ইমনের কোনো সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও তার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাদরাসা থেকে বাড়িতে ফেরে ইমন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সে বাবার অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর রাতে আর বাড়ি ফেরেনি। ওইদিন তার পরনে প্যান্ট ও গেঞ্জি ছিল।
পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ইমনের বাবা শহীদুল ইসলাম সুজন ফেনী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তারপর থেকে পুলিশও ইমনকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ফতেহপুর এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে ব্যাটারি ছাড়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।
ইমনের বাবা শহীদুল ইসলাম সুজন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি শহরের সহদেবপুর, বিরিঞ্চিসহ আশপাশের এলাকায় রিকশা চালিয়ে পরিবার চালাই। বাড়িতে এলে আমার ছেলে মাঝেমধ্যে অটোরিকশাটি নিয়ে বাড়ির আশপাশে চালাত। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। এ ঘটনায় আমি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছি।
এ ঘটনায় কাউকে সন্দেহ করছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি কাউকে সন্দেহ করছি না। তবে গত কয়েকদিন ধরে আমার ছেলের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে তার ঝগড়া হয়েছিল। বিষয়টি আমার ছেলে আমাকে সরাসরি জানায়নি, অন্যভাবে শুনেছি। আমার ছেলে নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা আমি জানি না। আমি শুধু চাই, আমার ছেলে সুস্থভাবে ফিরে আসুক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
'মানবতার ডাকে সাতক্ষীরা আজ এক কাতারে, স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত হলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সুরক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্রের বার্ষিক সম্মেলন ও কার্ড বিতরণ কর্মশালা।
২৮ সেপ্টেম্বর (সোমবার) বিকালে দেবহাটা উপজেলার গাজীরহাটে এ কর্মশালায় চেয়ারম্যান মোঃ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহিন আলম। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের মানবাধিকার কর্মী ও গণ্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কমিটিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সুসংগঠিত মানুষ হিসেবে এবার প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের প্রবাসী মোঃ আল মামুন। তিনি মুঠো ফোনে সাংবাদিকদের বলেন, "আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনেরা শুধু আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি বা রেমিট্যান্স যোদ্ধাই নন, তারা বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রকৃত দূত। বিদেশের মাটিতে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে তারা দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, প্রবাসে পাড়ি জমানো থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র, এমনকি দেশে ফেরার পরও তারা নানাবিধ হয়রানি, আইনি জটিলতা এবং অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হন।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই পদে থেকে তার মূল লক্ষ্য হবে প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা, প্রবাসে নির্যাতনের শিকার বা আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দ্রুত পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের কল্যাণে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সাথে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করা।
বিবৃতির শেষে তিনি প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা ও সার্বিক কল্যাণে সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ