বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৬:৪৩ পি.এম
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি খবরের মাধ্যমে জানা যায়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকের রাষ্ট্রবিরোধী ও ফ্যাসিবাদী তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) তিনটি শিক্ষক সংগঠন তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছে।
‘ইবি জিয়া পরিষদ’, ‘ইউট্যাব’ এবং ‘গ্রিন ফোরাম’ নামে পরিচিত এই তিন শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পৃথকভাবে বিবৃতি প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার, ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (ইউট্যাব)-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রশিদুজ্জামান যৌথভাবে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, দেশের ২২টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক রাষ্ট্র ও জনস্বার্থবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তারা বলেন, নিষিদ্ধ একটি দলের আদর্শে উদ্বুদ্ধ শিক্ষকদের এই ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক অপতৎপরতা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দ্রুত যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গঠিত তদন্ত কমিটির দ্রুততম সময়ে প্রতিবেদন দাখিলের দাবি জানিয়ে থাকেন।
একই দিন, জামায়াতপন্থী শিক্ষক সংগঠন গ্রিন ফোরামের নেতৃবৃন্দও এক বিবৃতিতে এ ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম একত্রে বলেন, পলাতক শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং নিষিদ্ধ একটি দলকে সক্রিয় করার কথা নিয়ে ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জড়িত থাকা উদ্বেগজনক। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে, বুধবার ইবি জিয়া পরিষদের পক্ষ থেকেও একই ঘটনায় নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম একযোগে বিবৃতিতে বলেন, জুলাই গণআন্দোলনের পর প্রতিষ্ঠিত জাতীয় মূল্যবোধের অংশীদার হিসেবে এই ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান করেছেন।
উল্লেখযোগ্য যে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তালিকায় থাকা ৪০৪ জন শিক্ষকের মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ জন শিক্ষকের নাম রয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেলেন দুই নারী ফুটবল খেলোয়াড়, যারা ইরান সরকারবিরোধী অবস্থানে ছিলেন। তারা হলেন আতেফেহ রামেজানিসাদেহ (৩৪) এবং ফাতেমেহ পাসানদিদেহ (২২)।
বুধবার, ব্রিসবেনের একটি অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ায় নাগরিকত্ব লাভের ঘোষণা দেওয়া হয়। নাগরিকত্ব লাভের পর রামেজানিসাদেহ জানিয়েছেন, এটি তার জীবনের 'একটি সত্যিই বিশেষ ও অবিস্মরণীয় দিন'।
এদিকে, তার সতীর্থ পাসানদিদেহ মন্তব্য করেছেন, 'এই মুহূর্তের গুরুত্ব ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।'
চলতি বছরের মার্চ মাসে নারী এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় উপস্থিত ছিলেন ইরানের জাতীয় দলের সাত সদস্যের মধ্যে এই দুই ফুটবলার। তখন অস্ট্রেলিয়া সরকার তাদের মানবিক ভিসা দিয়েছিল। কিন্তু, অন্য পাঁচজন পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ইরানে ফিরে যান।
ইরানের জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, যখন মার্চের শুরুতে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী ম্যাচে তারা গাইতে অস্বীকৃতি জানান। ওই ঘটনার পর ইরানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল।
অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত ইরানি সম্প্রদায়ের চাপের কারণে খেলোয়াড়দের জন্য আশ্রয় আবেদন করার সুযোগ হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত রামেজানিসাদেহ এবং পাসানদিদেহ সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেন, যখন অন্যরা দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
মানবিক ভিসা পাওয়ার পর থেকেই তারা নাগরিকত্ব লাভের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ছিল। তবে অস্ট্রেলিয়া সরকার অভিবাসন কমানোর লক্ষ্যে কঠোরতর ভিসা নীতিমালা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নতুন নীতিমালায় আশ্রয়প্রার্থী ও পর্যটক ভিসায় থাকা ব্যক্তিদের বিভিন্ন বিধিনিষেধ ইঙ্গিত করা হয়েছে। অনুরূপ চাপের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি মেনে চলতে থাকবে।
ব্রিসবেনে নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কও উপস্থিত ছিলেন। দুই ফুটবলার নাগরিকত্বের সনদ গ্রহণ করেন। পাসানদিদেহ জানান, 'এটি আমার জীবনের এক নতুন শুরু এবং এমন একটি দেশ, যাকে আমি গর্বের সঙ্গে নিজের ঘর বলতে পারি।'
রামেজানিসাদেহ বলেন, 'আমরা যে অসংখ্য চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এসেছি, তা আজ মনে পড়ছে। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হতে পেরে আমি গর্বিত এবং গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।'
বর্তমানে উল্লিখিত দুই ফুটবলার অস্ট্রেলিয়ার এ-লিগ উইমেন দলের ক্লাব ব্রিসবেন রোর-এর সঙ্গে অনুশীলন করছেন এবং তারা অস্ট্রেলিয়াতেই তাদের পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার চালিয়ে যাবার পরিকল্পনা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সঙ্গীত গাইতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তারা যে ঝুঁকি নিয়েছিলেন, তার পরিণতি অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় গ্রহণ ও নাগরিকত্ব লাভ-এ গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া হামলার ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামাল এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের কাছে নতুন প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা থেকে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করেন। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ রয়েছে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন এবং ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালী আসিফ ইনানের নামও। আরও পড়ুন চার মন্ত্রণালয়-বিভাগে নতুন সচিবের তথ্য। এর আগে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষ হলে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে। জুলাই আন্দোলনের সাথে সম্পর্কিত শেখ হাসিনার মামলায় সাবেক উপাচার্য মাকসুদ কামালের সঙ্গে হাসিনার এক ফোনালাপও এর আগে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছিল। প্রসিকিউশনের দাবী, সেই ফোনালাপের মধ্যে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ফাঁসি দেওয়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশিত হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে, সব ছাত্র সংগঠনের সহ অবস্থান বজায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচি সমানভাবে বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর সংগঠনটি একটি স্মারকলিপি জমা দেয়ার মাধ্যমে এ দাবি জানায়।
স্মারকলিপিতে ছাত্রদল উল্লেখ করেছে যে, তারা পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংগঠনটি সেই কর্মসূচি স্থগিত রাখে।
প্রশাসনের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কিছু ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষিত সিদ্ধান্তের পরিপন্থী। এই পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা কামনা করে ছাত্রদল জানায়, যদি সবার জন্য সমান নীতি অনুসরণ করা হয়, তাহলে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশের কাছ থেকে পালাতে গিয়ে রাজধানীতে আটতলা ভবন থেকে নিচে পড়ে নজরুল ইসলাম (৫৫) নামে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির মৃত্যু ঘটে।
এই ঘটনা ঘটে বুধবার (৫ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে সিদ্ধেশ্বরী র্যাংগস গার্ডেন প্যালেস নামক ভবনে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াছিন মিয়া।
তিনি বিস্তারিত জানিয়েছেন, নজরুল ইসলাম গাজীপুর সিটি করপোরেশনের হিসাব রক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। উল্লেখ্য, তার বাসা সিদ্ধেশ্বরীতে। গাজীপুর জেলা দায়রা জজকোর্ট থেকে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টের কাগজ থানায় পায় পুলিশ। সেই সংবাদের ভিত্তিতে গত রাতে রমনা থানা পুলিশ তার বাড়িতে যায়।
ওসি উল্লেখ করেছেন, পুলিশ বাসায় উপস্থিত হওয়ায় নজরুল ইসলাম বিষয়টি বুঝতে পেরে আটতলার বাসার বেডরুমের জানলার ছোট পকেট গেট দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে कई নিষেধনার পরও তিনি পালাতে গিয়ে নিচে পড়ে যান। এসময় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসক রাত পৌনে ৩টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ