বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৬:৫৩ পি.এম
পুলিশের কাছ থেকে পালাতে গিয়ে রাজধানীতে আটতলা ভবন থেকে নিচে পড়ে নজরুল ইসলাম (৫৫) নামে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির মৃত্যু ঘটে।
এই ঘটনা ঘটে বুধবার (৫ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে সিদ্ধেশ্বরী র্যাংগস গার্ডেন প্যালেস নামক ভবনে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াছিন মিয়া।
তিনি বিস্তারিত জানিয়েছেন, নজরুল ইসলাম গাজীপুর সিটি করপোরেশনের হিসাব রক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। উল্লেখ্য, তার বাসা সিদ্ধেশ্বরীতে। গাজীপুর জেলা দায়রা জজকোর্ট থেকে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টের কাগজ থানায় পায় পুলিশ। সেই সংবাদের ভিত্তিতে গত রাতে রমনা থানা পুলিশ তার বাড়িতে যায়।
ওসি উল্লেখ করেছেন, পুলিশ বাসায় উপস্থিত হওয়ায় নজরুল ইসলাম বিষয়টি বুঝতে পেরে আটতলার বাসার বেডরুমের জানলার ছোট পকেট গেট দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে कई নিষেধনার পরও তিনি পালাতে গিয়ে নিচে পড়ে যান। এসময় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসক রাত পৌনে ৩টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬: সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে রোমে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আলোচনা চলমান থাকা সত্ত্বেও লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। বৃহস্পতিবার এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে দক্ষিণ লেবাননে তাদের প্রথম সামরিক হতাহতের খবর জানিয়েছে দেশটি।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বুধবার যুদ্ধে নিহত দুই রিজার্ভ সেনা হলেন ৫৫তম ব্রিগেডের ২৮৫৫তম ব্যাটালিয়নের ৩৪ বছর বয়সী মেজর হারেল বিরেনস্টক এবং ৩৩ বছর বয়সী সার্জেন্ট মেজর তামির ভাকনিন।
জেরুজালেম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর দিয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে গত ২৮ জুনের পর এই প্রথম ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে এলো।
কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার সতর্কবার্তা জারি করে দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলা চালায় ইসরাইল। একই সময়ে রোমে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে আলোচনা চলছিল।
দক্ষিণ লেবানন থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বৈরুত।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, হিজবুল্লাহ সংগঠনের যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘনের জবাবে দক্ষিণ লেবাননে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করেছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
এর কিছুক্ষণ আগেই দক্ষিণাঞ্চলের মানসুরি শহরের বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পৃথক একটি হামলায় একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন।
আলোচনায় অংশ নেওয়া একটি সূত্র এএফপিকে জানায়, রোমে লেবাননের সঙ্গে দিনের আলোচনা নির্ধারিত সময়ের তিন ঘণ্টা আগেই শেষ করার অনুরোধ জানায় ইসরাইল।
ইসরাইলি প্রতিনিধিদলের প্রধান ও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটার লেবাননের পক্ষ থেকে ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য ফাঁসের’ অভিযোগ তোলেন।
তবে বৃহস্পতিবার তৃতীয় ও শেষ দিনের মতো আলোচনা আবারও শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে জুনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইসরাইল ও লেবানন একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছায়। এতে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ, দক্ষিণ লেবানন থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার এবং পরীক্ষামূলক এলাকা বা ‘পাইলট জোন’ থেকে শুরু করে সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মার্চে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করে লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলার পর থেকে এটি দুই পক্ষের মধ্যে সপ্তম দফার আলোচনা।
হিজবুল্লাহর ওই রকেট নিক্ষেপের জবাবে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালায়। লেবাননের দাবি, এতে চার হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
জুনের পর প্রথমবারের মতো বুধবার ইসরাইলি সেনাবাহিনী মানসুরির বাসিন্দাদের উদ্দেশে সতর্কবার্তায় বলে, ‘ হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করায় ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগে বাধ্য হচ্ছে।’
আইডিএফের আরবি ভাষার মুখপাত্র এলা ওয়াওয়েয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘নিজেদের নিরাপত্তার জন্য অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে উত্তর দিকে চলে যান।’
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা জানায়, সহিংসতা কিছুটা কমে আসায় আগের সংঘাতে বাস্তুচ্যুত আট লক্ষাধিক মানুষ লেবাননে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে এখনো তিন লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত রয়েছেন।
‘লজ্জা ও অপমান’-
টাইর শহর থেকে প্রায় নয় কিলোমিটার দক্ষিণে এবং ইসরাইল সীমান্ত থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত মানসুরি শহর ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একাধিকবার ইসরাইলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ হয়েছে। জুনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এসব হামলা অব্যাহত ছিল।
২২ জুন মানসুরি পৌর কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বাড়ি ফিরতে অনুমতি দেয়। তবে শহরের যে অংশটি দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের ঘোষিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলের’ মধ্যে পড়েছে, সেখানে না যাওয়ার অনুরোধ জানায়।
‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ বলতে ইসরাইল সীমান্তসংলগ্ন দক্ষিণ লেবাননের ভেতরে প্রায় ১০ কিলোমিটারের একটি এলাকা বোঝানো হয়, যেখানে এখনো ইসরাইলি বাহিনী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, এ সপ্তাহের আলোচনায় ‘পাইলট জোন’ সম্প্রসারণ, সীমান্ত-সংক্রান্ত সব অমীমাংসিত বিষয় নিষ্পত্তি এবং একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি ও নিরাপত্তা চুক্তির বিষয়ে কাজ করা হবে।
রোমে আলোচনা চলাকালে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি হিজবুল্লাহর প্রধান সমর্থক ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তেহরানকে হিজবুল্লাহর তৎপরতা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ইসরাইলি হামলার কিছুক্ষণ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তাজানি আশা প্রকাশ করেন, আলোচনায় ‘বাস্তব ফল’ পাওয়া যাবে।
হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেম মঙ্গলবার বলেন, সরাসরি আলোচনা লেবাননের জন্য ‘লজ্জা, অপমান’ এবং একের পর এক ছাড় দেওয়া ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনবে না।
জবুল্লাহ বারবার সরাসরি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা অস্ত্র সমর্পণেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ইসরাইল-লেবানন সমঝোতা এবং জুনে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর লেবাননে সহিংসতা কমেছে।
তবে এরপরেও দেশটি দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে ইসরাইলের বিচ্ছিন্ন বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ, বিস্ফোরণ ও স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনা ঘটার অভিযোগ জানিয়ে আসছে।
মার্চের শুরুতে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলের ৩৮ জন সেনা এবং একজন বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভিসা এবং গ্রিন কার্ডসহ অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধার আবেদন প্রক্রিয়ায় নতুন নীতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই নীতির আওতায়, মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তারা অসম্পূর্ণ বা পর্যাপ্ত নথিপত্র ছাড়া জমা দেওয়া আবেদন সরাসরি বাতিল করে দিতে পারেন, অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া ছাড়াই। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বিভাগ (ইউএসসিআইএস) বুধবার (৫ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, আবেদনকারীদের আবেদনের সময় নিজস্ব যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রাথমিক নথি বা যোগ্যতার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে, মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তারা আবেদন বাতিল করতে পারবেন, রিকোয়েস্ট ফর এভিডেন্স (আরএফই) বা নোটিশ অব ইন্টেন্ট টু ডিনাই (এনওআইডি) জারি না করেই। সংস্থাটি জানিয়েছে যে, প্রতিটি অভিবাসন সুবিধার আবেদনের ফরম ও নির্দেশিকায় প্রয়োজনীয় নথির তালিকা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, যাতে আবেদনকারীরা শুরু থেকেই পূর্ণাঙ্গ আবেদন জমা দিতে পারেন। ইউএসসিআইএসের মতে, নতুন নীতিটি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিএইচএসের দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রক ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি অভিবাসন ব্যবস্থার অখণ্ডতা প্রগাঢ়ভাবে চিত্তাকর্ষকভাবে জোরদার করবে এবং ভিত্তিহীন আবেদন জমা দেওয়া আরও কঠিন করে তুলবে। এই নীতির ফলে বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া একটি নীতির পরিবর্তন হচ্ছে। আগের নীতিতে আবেদন অসম্পূর্ণ বা প্রয়োজনীয় প্রমাণের ঘাটতি থাকলেও কর্মকর্তাদের আরএফই পাঠাতে উৎসাহিত করা হতো। ইউএসসিআইএসের দাবি, আগের নীতির কারণে অসম্পূর্ণ বা গুরুতর ত্রুটিযুক্ত আবেদন অন্যান্য অপেক্ষমাণ আবেদন নিষ্পত্তিতে দেরি ঘটাচ্ছিল। কিছু আবেদনকারী কর্মসংস্থানের অনুমতির মতো সংশ্লিষ্ট অভিবাসন সুবিধার সঙ্গে যুক্ত তথাকথিত ‘প্লেসহোল্ডার’ আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ পেতেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, সংশোধিত নীতির মাধ্যমে উপযুক্ত ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের আরএফই বা এনওআইডি ছাড়াই আবেদন বাতিল করার ক্ষমতা পুনর্বহাল করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের মতে, এ নতুন নীতি সংস্থার সম্পদের আরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বাড়াতে সাহায্য করবে এবং ভিত্তিহীন আবেদন দাখিল ঠেকাতে সহায়তা করবে। নতুন নীতিমালা বুধবার (৫ আগস্ট) জারির পর তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। বিদ্যমান বিধি বা ইউএসসিআইএসের নীতিতে ভিন্ন কিছু উল্লেখ না থাকলে, ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট বা এর পর দাখিল করা কিংবা ওই সময় পর্যন্ত বিচারাধীন থাকা সব অভিবাসন-সুবিধার আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন এই নীতিমালা প্রযোজ্য হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজে এইচএসসি-২০২৬ পরীক্ষার ফরম পূরণে প্রতারণার শিকার আট শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। লিখিত পরীক্ষার অধিকাংশ শেষ হলেও প্রথম পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারার কারণে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিজ্ঞান বিভাগের উচ্চতর গণিত পরীক্ষা শেষে একাধিক অভিভাবক এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের একজন মো. ইমামুল হক বলেন, ‘আমার সন্তানের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। কিন্তু কলেজের এক কর্মচারীর জালিয়াতির কারণে সে প্রথম পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। পরে বিশেষ ব্যবস্থায় বাকি পরীক্ষাগুলো দিতে পারলেও প্রথম পরীক্ষার বিষয়ে এখনো কোনো পরিষ্কার সিদ্ধান্ত পাইনি।
এতে আমরা চরম অনিশ্চয়তায় আছি।’
কলেজ ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের আট শিক্ষার্থী সার্ভার জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে পারেননি। পরে গত ১২ মার্চ বিলম্ব ফিসসহ ফরম পূরণের জন্য কলেজে গেলে গ্রন্থাগারের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকার তাদের কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে নেন এবং ফরম পূরণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে পরে শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন, কারো ফরমই পূরণ করা হয়নি।
ফলে প্রবেশপত্র না থাকায় গত ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথমপত্রে অংশ নিতে পারেননি ওই আট শিক্ষার্থী। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের ফরম পূরণ করে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়। এরপর দ্বিতীয় পরীক্ষা থেকে তারা অংশ নিতে পারলেও প্রথম পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।
এ বিষয়ে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে শিক্ষার্থীদের জানানো হবে।’
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের জন্য একাধিক বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে। তাদের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।’
এদিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার ঘটনায় অভিযুক্ত কলেজ কর্মচারী অমিত কুমার সরকারের বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
লিখিত পরীক্ষা শেষের দিকে এলেও প্রথম পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারার বিষয়টি অমীমাংসিত থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতের জামায়াতপন্থী সাতজন অতিরিক্ত ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এবং সহকারী গভর্নমেন্ট প্লিডার (জিপি) পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের সময় তারা সরকারের কয়েকটি নীতিগত সিদ্ধান্ত ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের কাছে পৃথকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেও পদত্যাগপত্রের অনুলিপি পাঠিয়েছেন তারা।
পদত্যাগকারীরা হলেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট ইসরাফিল হোসাইন ও অ্যাডভোকেট গোলাম সারোয়ার, সহকারী গভর্নমেন্ট প্লিডার অ্যাডভোকেট মাইনুদ্দিন মিয়া ও অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর দেওয়ান এবং সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আক্তার হোসেন ও অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান।
পদত্যাগপত্রে তারা উল্লেখ করেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা ও কিছু সিদ্ধান্ত তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকারের অবস্থান এবং বিচার বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সাম্প্রতিক পদক্ষেপের সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত নন তারা।
পদত্যাগকারী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আক্তার হোসেন জানান, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের ফলে বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকার ও সরকারি দলের প্রভাব পুনরায় বেড়েছে, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য হুমকি তৈরি করেছে। এর ফলে সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন তারা।
তিনি বলেন, ‘সরকারের জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনীহা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা এবং আরো কয়েকটি নীতিগত বিষয়ে আমাদের মৌলিক মতপার্থক্য রয়েছে। সে কারণেই আমরা এ দায়িত্বে আর বহাল থাকার সিদ্ধান্ত নিইনি।’
আক্তার হোসেন আরো জানান, পদত্যাগকারী সাতজনই জামায়াত-সমর্থিত সংগঠন বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ