০৩:২২ পি.এম
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনালড ট্রাম্প কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভিতরে অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ধরপাকড় চলছে। এত কঠোর নীতির মধ্যে, যুক্তরাষ্ট্রে এখনো কিছু আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই সব চক্রের খপ্পরে পড়ে অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী চরম ঝুঁকিতে জীবনকে ফেলেন। স্বপ্নের দেশে অবৈধ উপায়ে পাড়ি দিতে গিয়ে অনেকেই মৃত্যুমুখে পতিত হন।
উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে সংযোগকারী একমাত্র স্থলপথ 'ড্যারিয়েন গ্যাপ' যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপে বিপদ ছড়িয়ে আছে। এখন পর্যন্ত ঠিক কতজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এই ভয়ংকর পথ পাড়ি দিতে গিয়ে, সেই সংখ্যাটিও অজানা। তারপরও, প্রতি বছর হাজার হাজার অভিবাসী এই শঙ্কাজনক পথ পাড়ি দিতে মোটা অঙ্কের ডলার খরচ করে। উন্নত জীবনের আশায় বারবার তারা চেষ্টা করে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির পর কথা উঠেছে বিশ্বের অবৈধ অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক রুটগুলোর মধ্যে এই ‘ড্যারিয়েন গ্যাপ’ সম্পর্কে।
আরও পড়ুন: মোদির আসনে ধাক্কা খেল বিজেপি, বারাণসীতে জয়ী লালবিহারি যাদব
এই ঘন জঙ্গল ও জলাশয়ে ঘেরা পথের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০ কিলোমিটার। পথ পাড়ি দিতে গিয়ে বিভিন্ন কারণে, বন্যপ্রাণীর আক্রমণ, ভূমিধস, বন্যা, কাদামাটিতে তলিয়ে যাওয়া অথবা সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি হওয়া—এ সব নিয়ে অনেককেই নরকযন্ত্রণা ভোগ করতে হয়।
শেষ পর্যন্ত, এই বিপদসংকুল পথ পাড়ি দিতে সক্ষম হন হাতে গোনা কয়েকজন, যাদের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডা। কলম্বিয়াকে পানামার সঙ্গে যুক্ত করা দুই মহাদেশের মধ্যে এই স্থলপথ গত কয়েক বছরে অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক রুট হয়ে উঠেছে।
প্যান আমেরিকান হাইওয়ের অন্তর্ভুক্ত Alaska থেকে Argentina পর্যন্ত বিস্তৃত মহাসড়কের একটি ছোট অংশ হল এই ড্যারিয়েন গ্যাপ। আদতে এটি কোনও রাস্তা নয়। যারা এই ড্যারিয়েন গ্যাপ পাড়ি দিতে যায়, তাদের মুখোমুখি হতে হয় খাড়া পর্বত, কর্দমাক্ত জলাভূমি, স্রোতস্বিনী নদী এবং বিপজ্জনক বন্যপ্রাণীর। বৃষ্টির দিনে এই পথ হয়ে ওঠে আরও বিপজ্জনক। বিষাক্ত সাপ, পোকামাকড় এবং জাগুয়ার দ্বারা ভরা এই জঙ্গল। সেখানে কুমির ও মশার আতঙ্কও রয়েছে।
এই পথের আরও বড় বিপদ হলো মাদক চোরাচালানকারী সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো। যারা ড্যারিয়েন গ্যাপ নিয়ন্ত্রণ করছে। মাদক চোরাচালানের এই রুটে অভিবাসন প্রত্যাশীরা প্রায়ই ডাকাতি এবং নির্যাতনের শিকার হন। তবে যারা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে মরিয়া, তাদের জন্য এই পথ এড়ানো যত কঠিন। দফায় দফায় সন্ত্রাসী এবং মানব পাচারকারীদেরকে শত শত ডলার দিতে হয়। কারণ, মোবাইল ছাড়া একমাত্র এই গাইডরাই ভয়ংকর এই পথ পাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠেন।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরের কচুয়ায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ৩ বসতঘর, দিশেহারা ক্ষতিগ্রস্তরা
ভয়ংকর এই ‘ড্যারিয়েন গ্যাপ’-এর আরেক পরিচিত নাম ডাঙ্কি রুট। এশিয়ানরা প্রথমে এই পথে মধ্য আমেরিকার দেশ পানামা, কোস্টা রিকা, এল সালভাদোর এবং গুয়াতেমালাতে প্রবেশ করে, যেখানে ভিসা পাওয়া সহজ। এরপর গন্তব্য মিনেক্সিকো, সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্র। ভয়ংকর এই রুট পাড়ি দিতে মানবপাচারকারীদের সহযোগিতা নেয় অনেকেই, দিতে হয় হাজার হাজার ডলার।
কলোম্বিয়া সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিবাসন ব্যবসা থেকে প্রতি বছর গাল্ফ ক্ল্যান একাই ৩ কোটি ডলার আয় করে। দশক ধরে গাল্ফ ক্ল্যান হিসেবে পরিচিত কলোম্বিয়ার সন্ত্রাসীরা এই রুট দিয়ে মাদক পাচার করে আসছে।
সাম্প্রতিক সময়ে, এই রুট বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক অভিবাসন রুটে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর হাজার হাজার অভিবাসী ঘন এই জঙ্গলের পথ পাড়ি দিতে চেষ্টার মধ্যে থাকে উন্নত জীবনের খোঁজে। কিন্তু যাত্রাপথে অনেকেই তাদের জীবন দিতে হয়। ভেনেজুয়েলা, হাইতি, ইকুয়েডর, পাকিস্তান, ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশি অভিবাসন প্রত্যাশীরাও এই বিপজ্জনক রুট পাড়ি দিতে যাচ্ছে। ৭ থেকে ১৫ দিনের এই যাত্রায় অনেকেই জীবদ্দশায় নরকের দৃশ্য দেখে ফেলে।
আরও পড়ুন: হাসিনা-কামালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১৭ নভেম্বর পেছাল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন