মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৫৭ পি.এম
দিনাজপুরের হাকিমপুরে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনের অপরাধে ৭ জন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ১ জনসহ মোট ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে হাকিমপুর থানা পুলিশ।
অভিযানে গ্রেপ্তাররা হলেন—সিআর ১০২৪/২৪ (সদর) মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. ডালিম (৩৮), তিনি হাকিমপুর উপজেলার বলরামপুর এলাকার আব্দুল আজিজ মন্ডলের ছেলে।
এ ছাড়া মোবাইল কোর্ট মামলা নং ৮৭/২৬-এর আসামি আব্দুল মান্নান (৬৩), মামলা নং ৮৮/২৬-এর সাদেকুল ইসলাম (৫০), মামলা নং ৮৯/২৬-এর শাহিন আলম (৩২), মামলা নং ৯০/২৬-এর মো. ইমাম মেহেদী (৪৫), মামলা নং ৯১/২৬-এর মো. মিন্টু (৪২), মামলা নং ৯২/২৬-এর আব্দুল মজিদ (৪৫) এবং মামলা নং ৯৩/২৬-এর মো. লিমন (২৬)।
পুলিশ জানায়, মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার সাতজনকে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হলে প্রত্যেককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
পরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দিনাজপুর জেলা কারাগারে এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. ডালিমকে যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে দিনাজপুর সদর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
হাকিমপুর থানা পুলিশ জানায়, মাদকবিরোধী অভিযান ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কম্পানির (ওজোপাডিকো) প্রি-পেইড মিটার ভেন্ডিং কার্যক্রমে সৃষ্ট কারিগরি জটিলতা এখন সমাধান হয়েছে। দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রচেষ্টার পর ক্ষতিগ্রস্ত সিস্টেম সম্পূর্ণরূপে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ এবং ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের কাছে সাময়িক এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিড়ম্বনার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে।
আজ মঙ্গলবার বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত সোমবার দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) প্রি-পেইড ভেন্ডার সার্ভারের সঙ্গে অ্যাপ্লিকেশন সার্ভারের লজিক্যাল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই কারণে কম্পানিটির আওতাধীন বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রাহকরা মিটার রিচার্জ ও ভেন্ডিং কার্যক্রমে চরম প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন।
ঘটনার পরপরই ওজোপাডিকোর কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল সমস্যার সমাধানে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আজ ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে প্রকৌশলীরা প্রি-পেইড সিস্টেমটি সম্পূর্ণরূপে পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন।
বিদ্যুৎ বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে, বর্তমানে প্রি-পেইড মিটারের রিচার্জ সংক্রান্ত যাবতীয় সীমাবদ্ধতা ও জটিলতা দূর করা সম্ভব হয়েছে এবং সেবা স্বাভাবিক রয়েছে।
সাময়িক এ ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের সংযোগ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা না ঘটে এবং ঘটলেও যেন দ্রুত সমাধান করা যায়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এর পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশিত হয়েছে, যা বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের এই প্রতিযোগিতা আগামী ৫ নভেম্বর শুরু হবে, যেখানে প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান ও ভারত। একই দিনে স্বাগতিক বাংলাদেশ তাদের প্রথম খেলায় ভুটানের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে।
দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) গ্রুপ পর্ব, সেমিফাইনাল এবং ফাইনালের জন্য পূর্ণাঙ্গ খসড়া সূচি প্রকাশ করেছে। সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের সব ম্যাচ রাতের সময় অনুষ্ঠিত হবে।
এক নজরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচের সময়সূচি:
৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার):
পাকিস্তান বনাম ভারত (বিকেল ৩:৩০ মি.)
ভুটান বনাম বাংলাদেশ (রাত ৮:০০ মি.)
৮ নভেম্বর (রবিবার):
মালদ্বীপ বনাম পাকিস্তান (বিকেল ৩:৩০ মি.)
শ্রীলঙ্কা বনাম ভুটান (রাত ৮:০০ মি.)
১১ নভেম্বর (বুধবার):
ভারত বনাম মালদ্বীপ (বিকেল ৩:৩০ মি.)
বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা (রাত ৮:০০ মি.)
১৪ নভেম্বর (শনিবার - সেমিফাইনাল):
প্রথম সেমিফাইনাল: গ্রুপ ‘বি’ চ্যাম্পিয়ন বনাম গ্রুপ ‘এ’ রানার্স-আপ (বিকেল ৩:০০ মি.)
দ্বিতীয় সেমিফাইনাল: গ্রুপ ‘এ’ চ্যাম্পিয়ন বনাম গ্রুপ ‘বি’ রানার্স-আপ (রাত ৮:৩০ মি.)
১৭ নভেম্বর (মঙ্গলবার - ফাইনাল):
ফাইনাল: প্রথম সেমিফাইনালের বিজয়ী বনাম দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী (রাত ৮:০০ মি.)
তবে প্রকাশিত সূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নেপালের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে নতুন করে সংশোধিত ও চূড়ান্ত ফিকশ্চার প্রকাশ করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে, টুর্নামেন্টটি আগামী ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন জানিয়েছেন, সরকারের লক্ষ্য হলো শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে দেশের বেকারত্বের হার কমানো। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, সরকার শুধু কথার ফুলঝুরি নয়, বরং শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে দেশের বেকারত্ব সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের বাজেট ঘাটতি নেই। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে যা যা প্রয়োজন, সরকার সেসব উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
শিক্ষামন্ত্রী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরো উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা ৩৭টি কলেজের ৫৭ শিক্ষার্থীকে ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিবিসির বিতর্কিত তথ্যচিত্র ‘গাজা : হাউ টু সার্ভাইভ আ ওয়ারজোন’-এ উঠে আসা গল্পগুলো এখনো প্রচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ছবিটির সহ-পরিচালক জেমি রবার্টস। তবে তথ্যচিত্রটি তৈরির সময় গুরুতর একটি ভুল হয়েছিল বলে তিনি স্বীকার করেছেন।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তথ্যচিত্রটি বিবিসির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর এটি ছিল নির্মাতা রবার্টসের প্রথম সাক্ষাৎকার। তথ্যচিত্রটি সরিয়ে নেওয়ার কারণ ছিল, এতে বর্ণনাকারী হিসেবে থাকা ১৩ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি ছেলে আবদুল্লাহর বাবা হামাসের একজন কর্মকর্তা। বিতর্কের জন্য নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হোয়ো ফিল্মসের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেছেন রবার্টস। তিনি বলেন, "এই ঘটনায় অনেক মানুষ কষ্ট পেয়েছেন এবং এর জন্য আমি দুঃখিত।" নতুন তথ্যচিত্র ইংল্যান্ড ‘টিল আই ডাই’ নিয়ে কথা বলার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন। নতুন ছবিটি যুক্তরাজ্যে অভিবাসনবিরোধী আন্দোলন নিয়ে তৈরি। বাফটা ও এমি পুরস্কারজয়ী এই নির্মাতা বলেন, গাজার তথ্যচিত্র তৈরির ভুল থেকে হোয়ো ফিল্মস শিক্ষা নিয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য তাদের সম্পাদকীয় কাজের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
‘গাজা : হাউ টু সার্ভাইভ আ ওয়ারজোন’ গত ফেব্রুয়ারিতে প্রচার করা হয়। এতে ১৩ বছর বয়সী আবদুল্লাহ বর্ণনাকারীর ভূমিকা পালন করে। সে গাজার একটি কথিত ‘নিরাপদ এলাকায়’ বসবাসকারী চারজন অংশগ্রহণকারীর একজন ছিল। পরে আবদুল্লাহর বাবার চাকরি সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ্যে আসে। জানা যায়, তিনি হামাসের সঙ্গে যুক্ত একটি পদে ছিলেন। এরপর তথ্যচিত্রটি বিবিসির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে পুরো বিষয়টি পর্যালোচনার নির্দেশ দেয় বিবিসি। গত জুলাইয়ে সেই পর্যালোচনার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, তথ্যচিত্রটি বিবিসির সঠিক তথ্য দেওয়ার নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে। তবে পর্যালোচনায় বলা হয়, আবদুল্লাহর বাবার পদ সম্পর্কে হোয়ো ফিল্মস বিবিসিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্ত করেনি। প্রতিষ্ঠানটি মনে করেছিল, তার বাবার পদটি বেসামরিক বা কারিগরি ধরনের।
তবে গুরুত্বপূর্ণ এই তথ্যটি বিবিসিকে জানানো হয়নি। এ কারণে তথ্যচিত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় হোয়োর ভুল ছিল বলে পর্যালোচনায় উঠে আসে। একই সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর না রাখার জন্য বিবিসিরও দায় রয়েছে বলে পর্যালোচনায় বলা হয়। এরপর বিবিসি ও হোয়ো- দুই পক্ষই ক্ষমা চায়। বিবিসির চেয়ারম্যান সামির শাহ ঘটনাটিকে প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থার জন্য ‘হৃদয়ে ছুরিকাঘাতের’ মতো বলে বর্ণনা করেন। রবার্টসও ভুলের দায় স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "তথ্য যাচাই এবং প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের একটি বড় ঘাটতি ছিল।" এর জন্য তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। ভবিষ্যতে এমন ভুল এড়াতে তাদের প্রতিষ্ঠান এখন আরো কঠোরভাবে সম্পাদকীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে বলে জানান তিনি। রবার্টস বলেন, অভিজ্ঞ আইন ও সম্পাদকীয় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে তারা কাজ করছেন। এসব বিশেষজ্ঞ তাদের কাজ নির্ধারিত মান অনুযায়ী হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ে সহায়তা করছেন।
তথ্যচিত্রটি এখনো যুক্তরাজ্যে প্রচার করা হচ্ছে না। বিবিসি এটি আবার প্রচার না করার সিদ্ধান্তে রয়েছে। রবার্টস বলেন, তথ্যচিত্র তৈরির ক্ষেত্রে ভুলটি গুরুতর ছিল। তবে তার মতে, ছবিটিতে যেসব মানুষের গল্প তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ এবং সেগুলো দর্শকদের সামনে আসা উচিত। তিনি বলেন, "ওই তথ্যচিত্রে সংঘাতের মধ্যে থাকা শিশুদের জীবন তুলে ধরা হয়েছে।" রবার্টস বলেন, "আমরা যে ভুল করেছি, সেটি গুরুতর ছিল। এ নিয়ে আমরা বিবিসির পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে গিয়েছি এবং বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছি।" তার মতে, তথ্যচিত্রে অংশ নেওয়া মানুষগুলোর ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে সংঘাত বা রাজনৈতিক পরিস্থিতির সম্পর্ক ছিল না। বরং সংঘাতের মধ্যে তাদের জীবনই ছিল তথ্যচিত্রটির মূল বিষয়। রবার্টস বলেন, "আমি চাই, কোনো একসময় তাদের গল্পগুলো বলা হোক। তবে এর মধ্যে পরিস্থিতি অনেক দূর এগিয়ে গেছে।"
গাজার তথ্যচিত্রের পর হোয়ো ফিল্মসের প্রথম বড় প্রকল্পও একটি বিতর্কিত বিষয়কে কেন্দ্র করে। ‘ইংল্যান্ড ‘টিল আই ডাই’ তথ্যচিত্রে রবার্টস যুক্তরাজ্যের অভিবাসনবিরোধী আন্দোলনের সমর্থকদের অনুসরণ করেছেন। দেশটির বিভিন্ন শহরে তাদের বিক্ষোভ, ভয় দেখানো এবং সহিংসতার ঘটনাও ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। এর ১১ বছর আগে ডানপন্থী চরমপন্থীদের নিয়ে ‘অ্যাংরি, হোয়াইট অ্যান্ড প্রাউড’ নামে একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেছিলেন রবার্টস। নতুন তথ্যচিত্রে গত আগস্ট থেকে অভিবাসনবিরোধী আন্দোলনের উত্থানকে একজন ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরা হয়েছে। ওই ব্যক্তির নাম লিয়াম। লিয়াম পূর্ব সাসেক্সের ক্রোবোরো শহরে নিজের বাড়ির কাছে একটি সাবেক সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে আশ্রয়প্রার্থীদের রাখার বিরোধিতা করে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।
রবার্টস বলেন, "ইংল্যান্ড ‘টিল আই ডাই’ তথ্যচিত্রের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে, কেন অভিবাসন ও আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন নিয়ে পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।" বিশেষ করে মুখ ঢাকা ডানপন্থী চরমপন্থীদের বিক্ষোভ বাড়ার পর পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়েছে বলে তিনি জানান। রবার্টস বলেন, পুলিশ, পুলিশ ও অপরাধবিষয়ক কমিশনার এবং সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা পরিস্থিতি দেখে বিস্মিত হয়েছেন। তারা বুঝতে চাইছেন, কীভাবে পরিস্থিতি এতটা খারাপ হলো। তবে তার তথ্যচিত্রে এর পেছনের আরেকটি কারণ তুলে ধরা হয়েছে। রবার্টসের মতে, আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যথেষ্ট যোগাযোগ করা হয়নি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষকে প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়া হয়নি।
এর ফলে স্থানীয় মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, ডানপন্থী চরমপন্থীরা সেই পরিস্থিতির সুযোগ নেয় বলে মনে করেন তিনি। রবার্টস বলেন, ক্রোবোরোর অনেক বাসিন্দার উদ্বেগ পুরোপুরি অযৌক্তিক ছিল না। তিনি বলেন, "তাদের উদ্বেগের একটি কারণ ছিল শহরে ৬০০ পুরুষকে নিয়ে আসা হচ্ছে। তারা চিন্তিত ছিলেন।" তবে এসব উদ্বেগ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা যথেষ্ট সহায়তা পাননি বলে মনে করেছিলেন। রবার্টসের ভাষ্য, এর ফলে অপারেশন রেইজ দ্য কালারসের মতো জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো যখন শহরে আসে, তখন স্থানীয় বাসিন্দারা বাইরের বিভিন্ন বার্তার প্রভাব নেওয়ার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিলেন।
পরবর্তী সময়ে ক্রোবোরোতে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, সেটিও ক্যামেরায় ধারণ করেন রবার্টস। আন্দোলনের নেতা লিয়াম কী ভাবছেন, তা বোঝার জন্য পুরো সময় তাকে কঠোরভাবে প্রশ্ন করেছেন বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে আন্দোলনকারী গোষ্ঠী কী বলছে এবং বাস্তবে কী করছে- দুটির মধ্যে পার্থক্যও খুঁজে দেখেছেন রবার্টস। তথ্যচিত্রে এমন ঘটনাও উঠে এসেছে, যেখানে আন্দোলনকারী গোষ্ঠী দাবি করেছিল, তারা নারীদের নিরাপত্তার জন্য আন্দোলন করছে। কিন্তু পরে ভিন্নমত পোষণকারী নারীদেরই ভয় দেখানোর ঘটনা দেখা যায়। রবার্টস বলেন, পরিস্থিতিতে উত্তেজনার মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। মানুষের আচরণও গ্রহণযোগ্যতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, "এখন আর মানুষ শুধু প্রশ্ন তুলছে না বা নিজেদের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করতে চাইছে না। বিষয়টি অন্য কিছুর দিকে চলে যাচ্ছে।" তার মতে, স্থানীয় মানুষের প্রকৃত উদ্বেগ, সরকারি ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তার সমন্বয়ে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ