ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিবিসির বিতর্কিত গাজা তথ্যচিত্রটি প্রচার হওয়া উচিত: পরিচালক জেমি রবার্টস


বিবিসির বিতর্কিত গাজা তথ্যচিত্রটি প্রচার হওয়া উচিত: পরিচালক জেমি রবার্টস

বিবিসির বিতর্কিত তথ্যচিত্র ‘গাজা : হাউ টু সার্ভাইভ আ ওয়ারজোন’-এ উঠে আসা গল্পগুলো এখনো প্রচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ছবিটির সহ-পরিচালক জেমি রবার্টস। তবে তথ্যচিত্রটি তৈরির সময় গুরুতর একটি ভুল হয়েছিল বলে তিনি স্বীকার করেছেন।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তথ্যচিত্রটি বিবিসির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর এটি ছিল নির্মাতা রবার্টসের প্রথম সাক্ষাৎকার। তথ্যচিত্রটি সরিয়ে নেওয়ার কারণ ছিল, এতে বর্ণনাকারী হিসেবে থাকা ১৩ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি ছেলে আবদুল্লাহর বাবা হামাসের একজন কর্মকর্তা। বিতর্কের জন্য নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হোয়ো ফিল্মসের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেছেন রবার্টস। তিনি বলেন, "এই ঘটনায় অনেক মানুষ কষ্ট পেয়েছেন এবং এর জন্য আমি দুঃখিত।" নতুন তথ্যচিত্র ইংল্যান্ড ‘টিল আই ডাই’ নিয়ে কথা বলার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন। নতুন ছবিটি যুক্তরাজ্যে অভিবাসনবিরোধী আন্দোলন নিয়ে তৈরি। বাফটা ও এমি পুরস্কারজয়ী এই নির্মাতা বলেন, গাজার তথ্যচিত্র তৈরির ভুল থেকে হোয়ো ফিল্মস শিক্ষা নিয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য তাদের সম্পাদকীয় কাজের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

 

আরও পড়ুন: ইরান সমর্থিত ইয়েমেনী হুথির বিরুদ্ধে যারাই যাবে তারাই পরাজিত হবে!

‘গাজা : হাউ টু সার্ভাইভ আ ওয়ারজোন’ গত ফেব্রুয়ারিতে প্রচার করা হয়। এতে ১৩ বছর বয়সী আবদুল্লাহ বর্ণনাকারীর ভূমিকা পালন করে। সে গাজার একটি কথিত ‘নিরাপদ এলাকায়’ বসবাসকারী চারজন অংশগ্রহণকারীর একজন ছিল। পরে আবদুল্লাহর বাবার চাকরি সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ্যে আসে। জানা যায়, তিনি হামাসের সঙ্গে যুক্ত একটি পদে ছিলেন। এরপর তথ্যচিত্রটি বিবিসির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে পুরো বিষয়টি পর্যালোচনার নির্দেশ দেয় বিবিসি। গত জুলাইয়ে সেই পর্যালোচনার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, তথ্যচিত্রটি বিবিসির সঠিক তথ্য দেওয়ার নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে। তবে পর্যালোচনায় বলা হয়, আবদুল্লাহর বাবার পদ সম্পর্কে হোয়ো ফিল্মস বিবিসিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্ত করেনি। প্রতিষ্ঠানটি মনে করেছিল, তার বাবার পদটি বেসামরিক বা কারিগরি ধরনের।

তবে গুরুত্বপূর্ণ এই তথ্যটি বিবিসিকে জানানো হয়নি। এ কারণে তথ্যচিত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় হোয়োর ভুল ছিল বলে পর্যালোচনায় উঠে আসে। একই সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর না রাখার জন্য বিবিসিরও দায় রয়েছে বলে পর্যালোচনায় বলা হয়। এরপর বিবিসি ও হোয়ো- দুই পক্ষই ক্ষমা চায়। বিবিসির চেয়ারম্যান সামির শাহ ঘটনাটিকে প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থার জন্য ‘হৃদয়ে ছুরিকাঘাতের’ মতো বলে বর্ণনা করেন। রবার্টসও ভুলের দায় স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "তথ্য যাচাই এবং প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের একটি বড় ঘাটতি ছিল।" এর জন্য তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। ভবিষ্যতে এমন ভুল এড়াতে তাদের প্রতিষ্ঠান এখন আরো কঠোরভাবে সম্পাদকীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে বলে জানান তিনি। রবার্টস বলেন, অভিজ্ঞ আইন ও সম্পাদকীয় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে তারা কাজ করছেন। এসব বিশেষজ্ঞ তাদের কাজ নির্ধারিত মান অনুযায়ী হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ে সহায়তা করছেন।

 

তথ্যচিত্রটি এখনো যুক্তরাজ্যে প্রচার করা হচ্ছে না। বিবিসি এটি আবার প্রচার না করার সিদ্ধান্তে রয়েছে। রবার্টস বলেন, তথ্যচিত্র তৈরির ক্ষেত্রে ভুলটি গুরুতর ছিল। তবে তার মতে, ছবিটিতে যেসব মানুষের গল্প তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ এবং সেগুলো দর্শকদের সামনে আসা উচিত। তিনি বলেন, "ওই তথ্যচিত্রে সংঘাতের মধ্যে থাকা শিশুদের জীবন তুলে ধরা হয়েছে।" রবার্টস বলেন, "আমরা যে ভুল করেছি, সেটি গুরুতর ছিল। এ নিয়ে আমরা বিবিসির পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে গিয়েছি এবং বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছি।" তার মতে, তথ্যচিত্রে অংশ নেওয়া মানুষগুলোর ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে সংঘাত বা রাজনৈতিক পরিস্থিতির সম্পর্ক ছিল না। বরং সংঘাতের মধ্যে তাদের জীবনই ছিল তথ্যচিত্রটির মূল বিষয়। রবার্টস বলেন, "আমি চাই, কোনো একসময় তাদের গল্পগুলো বলা হোক। তবে এর মধ্যে পরিস্থিতি অনেক দূর এগিয়ে গেছে।"

আরও পড়ুন: রিচার্লিসনের অভিযোগ: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর দ্বীপের দখল আইনি প্রক্রিয়ায় হাতছাড়া

গাজার তথ্যচিত্রের পর হোয়ো ফিল্মসের প্রথম বড় প্রকল্পও একটি বিতর্কিত বিষয়কে কেন্দ্র করে। ‘ইংল্যান্ড ‘টিল আই ডাই’ তথ্যচিত্রে রবার্টস যুক্তরাজ্যের অভিবাসনবিরোধী আন্দোলনের সমর্থকদের অনুসরণ করেছেন। দেশটির বিভিন্ন শহরে তাদের বিক্ষোভ, ভয় দেখানো এবং সহিংসতার ঘটনাও ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। এর ১১ বছর আগে ডানপন্থী চরমপন্থীদের নিয়ে ‘অ্যাংরি, হোয়াইট অ্যান্ড প্রাউড’ নামে একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেছিলেন রবার্টস। নতুন তথ্যচিত্রে গত আগস্ট থেকে অভিবাসনবিরোধী আন্দোলনের উত্থানকে একজন ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরা হয়েছে। ওই ব্যক্তির নাম লিয়াম। লিয়াম পূর্ব সাসেক্সের ক্রোবোরো শহরে নিজের বাড়ির কাছে একটি সাবেক সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে আশ্রয়প্রার্থীদের রাখার বিরোধিতা করে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।

 

রবার্টস বলেন, "ইংল্যান্ড ‘টিল আই ডাই’ তথ্যচিত্রের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে, কেন অভিবাসন ও আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন নিয়ে পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।" বিশেষ করে মুখ ঢাকা ডানপন্থী চরমপন্থীদের বিক্ষোভ বাড়ার পর পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়েছে বলে তিনি জানান। রবার্টস বলেন, পুলিশ, পুলিশ ও অপরাধবিষয়ক কমিশনার এবং সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা পরিস্থিতি দেখে বিস্মিত হয়েছেন। তারা বুঝতে চাইছেন, কীভাবে পরিস্থিতি এতটা খারাপ হলো। তবে তার তথ্যচিত্রে এর পেছনের আরেকটি কারণ তুলে ধরা হয়েছে। রবার্টসের মতে, আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যথেষ্ট যোগাযোগ করা হয়নি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষকে প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়া হয়নি।

এর ফলে স্থানীয় মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, ডানপন্থী চরমপন্থীরা সেই পরিস্থিতির সুযোগ নেয় বলে মনে করেন তিনি। রবার্টস বলেন, ক্রোবোরোর অনেক বাসিন্দার উদ্বেগ পুরোপুরি অযৌক্তিক ছিল না। তিনি বলেন, "তাদের উদ্বেগের একটি কারণ ছিল শহরে ৬০০ পুরুষকে নিয়ে আসা হচ্ছে। তারা চিন্তিত ছিলেন।" তবে এসব উদ্বেগ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা যথেষ্ট সহায়তা পাননি বলে মনে করেছিলেন। রবার্টসের ভাষ্য, এর ফলে অপারেশন রেইজ দ্য কালারসের মতো জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো যখন শহরে আসে, তখন স্থানীয় বাসিন্দারা বাইরের বিভিন্ন বার্তার প্রভাব নেওয়ার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিলেন।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ফলে চাপের মুখে মার্কিন নাগরিকরা

পরবর্তী সময়ে ক্রোবোরোতে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, সেটিও ক্যামেরায় ধারণ করেন রবার্টস। আন্দোলনের নেতা লিয়াম কী ভাবছেন, তা বোঝার জন্য পুরো সময় তাকে কঠোরভাবে প্রশ্ন করেছেন বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে আন্দোলনকারী গোষ্ঠী কী বলছে এবং বাস্তবে কী করছে- দুটির মধ্যে পার্থক্যও খুঁজে দেখেছেন রবার্টস। তথ্যচিত্রে এমন ঘটনাও উঠে এসেছে, যেখানে আন্দোলনকারী গোষ্ঠী দাবি করেছিল, তারা নারীদের নিরাপত্তার জন্য আন্দোলন করছে। কিন্তু পরে ভিন্নমত পোষণকারী নারীদেরই ভয় দেখানোর ঘটনা দেখা যায়। রবার্টস বলেন, পরিস্থিতিতে উত্তেজনার মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। মানুষের আচরণও গ্রহণযোগ্যতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, "এখন আর মানুষ শুধু প্রশ্ন তুলছে না বা নিজেদের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করতে চাইছে না। বিষয়টি অন্য কিছুর দিকে চলে যাচ্ছে।" তার মতে, স্থানীয় মানুষের প্রকৃত উদ্বেগ, সরকারি ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তার সমন্বয়ে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সমতা নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে বৃত্তি-উপবৃত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে: ববি হাজ্জাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০১ পি.এম


সমতা নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে বৃত্তি-উপবৃত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে: ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, শিক্ষার্থীর প্রকৃত আর্থিক প্রয়োজন ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ‘ইকুইটি-বেসড’ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রচলিত সমতার ধারণার পরিবর্তে বৃত্তি ও উপবৃত্তি প্রদানে এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, "সরকারি সহায়তার প্রতিটি টাকা এমন শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে, এর জন্য এই সহায়তা শিক্ষা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে সত্যিকার অর্থে প্রয়োজন।" মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, পিপিআরসি ও ইউনিসেফের যৌথ আয়োজনে ‘প্রমাণ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ : বিদ্যালয় পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার কার্যকারিতা বিষয়ক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "সব শিক্ষার্থীকে সমানভাবে সহায়তা করলেই শিক্ষায় প্রকৃত সমতা নিশ্চিত হয় না। যার প্রয়োজন বেশি, তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়াই প্রকৃত ন্যায্যতা।" দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের একটি শিশুর জন্য সামান্য আর্থিক সহায়তাও বিদ্যালয়ে তার উপস্থিতি ও শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, বৃত্তি-উপবৃত্তির নীতিতে পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা, শিশুর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো পরিবার যদি আর্থিক সক্ষমতা থাকা অবস্থায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সন্তানকে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেই পরিবারের জন্য একই ধরনের সরকারি আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে বিবেচনা করা যেতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, "যে পরিবার সন্তানের শিক্ষা ব্যয় বহনে হিমশিম খাচ্ছে, তাদের শিশুকে সহায়তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। সরকারের সীমিত সম্পদকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন শিশুর কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব।"

ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বিদ্যালয়ে শিশুর ভর্তি নিশ্চিত করা নয়, বরং কোনো শিশু যেন দারিদ্র্য, আর্থিক সংকট বা অন্য কোনো বাধার কারণে শিক্ষা থেকে ছিটকে না পড়ে তা নিশ্চিত করা। এ জন্য বৃত্তি, উপবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ, স্কুল ফিডিংসহ সব ধরনের সহায়তা কর্মসূচিকে আরও সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক করার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি সহায়তার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী চিহ্নিত করার সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা হিসেবে সাঁতার শেখানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। ববি হাজ্জাজ জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের জলাশয়, নদী ও পানিবেষ্টিত পরিবেশের সঙ্গে প্রতিনিয়ত বসবাস করতে হয়। তাই সাঁতারকে শুধু একটি ক্রীড়া হিসেবে না দেখে জীবনদক্ষতা ও নিরাপত্তার অংশ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, "শিশুকে শুধু বইয়ের জ্ঞান দিলেই হবে না; তাকে নিজের জীবন রক্ষা করার প্রয়োজনীয় দক্ষতাও দিতে হবে।"

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন ইউনিসেফের শিক্ষা বিশেষজ্ঞ জয় মিলান মালের। গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শংকর ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী। এ ছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৮ অক্টোবর থেকে ইলিশ আহরণ ও কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০১ পি.এম


৮ অক্টোবর থেকে ইলিশ আহরণ ও কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞা

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন দেশের অভ্যন্তরে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে। এই সময়ের মধ্যে ইলিশ পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত, কেনাবেচা ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে, নিষেধাজ্ঞার সময় মা ইলিশ সংরক্ষণে দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনা করা হবে। ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের সরকার ভিজিএফের আওতায় খাদ্য সহায়তা প্রদান করবে।

মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সভায় বলেন, "ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।" বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, "নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।" প্রয়োজন হলে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নৌযান ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করা হবে।

অবৈধভাবে ধরা ইলিশ যাতে বাজারজাত করা না যায়, সেজন্য বরফকল, আড়ত ও বাজারেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। চাঁদপুর মোহনাসহ ইলিশের প্রজননক্ষেত্রগুলোতে অবৈধ জাল অপসারণে কঠোর অভিযান পরিচালনার কথাও বলেন তিনি।

 

মন্ত্রী বলেন, "কোনো অবস্থাতেই নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ধরা বা বাজারজাত করার সুযোগ দেওয়া হবে না।" মা ইলিশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন আরো বাড়বে।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইলিশের উৎপাদন দিন দিন কমে যাওয়ার কারণ গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। কোথায় দুর্বলতা বা কার্যক্রমে ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অবৈধ জাল বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে জেলে প্রতিনিধিদেরও এসব জাল না কেনার বিষয়ে জেলেদের সচেতন করতে হবে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের দেওয়া সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত জেলেদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানোর কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, "ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিদেশ থেকে মাছ আমদানি করতে হচ্ছে এটি উদ্বেগের বিষয়।" কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ইলিশকে জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য হিসেবে রক্ষা এবং উৎপাদন বাড়াতে আগামীতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. মীর হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসন, র‍্যাব, কোস্টগার্ড, বিমান বাহিনী, নৌ পুলিশ, বিজিবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘উইডোজ বে’ ১৪টি এমি পুরস্কার জিতে প্রতিষ্ঠা করলো একক আধিপত্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৩ পি.এম


‘উইডোজ বে’ ১৪টি এমি পুরস্কার জিতে প্রতিষ্ঠা করলো একক আধিপত্য

২০২৬ সালের এমি অ্যাওয়ার্ডসে অসাধারণ সাফল্য প্রদর্শন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে অ্যাপল টিভির নতুন হরর কমেডি সিরিজ ‘উইডোজ বে’। প্রাইমটাইম অনুষ্ঠান এবং ক্রিয়েটিভ আর্টস অ্যাওয়ার্ডসের মোট ১৯টি মনোনয়নের মধ্যে ১৪টি বিভাগে ট্রফি জিতে এবারের আসরে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে সিরিজটি।

অভিষেকের প্রথম বছরে ‘উইডোজ বে’ মর্যাদাপূর্ণ সেরা কমেডি সিরিজের খেতাব অর্জন করে। সিরিজটির পাশাপাশি এর অভিনয়শিল্পী এবং কলাকুশলীরাও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার নিজেদের ঝুলিতে পুরেছেন।

সিরিজটিতে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য সেরা কমেডি অভিনেতার সম্মাননা লাভ করেছেন ম্যাথিউ রাইস। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি একই অনুষ্ঠানে দুটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রধান অভিনেতার পুরস্কার জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে কেট ও'ফ্লিন এবং সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে স্টিফেন রুটও এমির ট্রফি অর্জন করেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি, এর পেছনের কারিগররাও সম্মানিত হয়েছেন—সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে নির্মাতা কেটি ডিপোল্ড এবং সেরা পরিচালক হিসেবে হিরো মুরাই বিজয়ীর মুকুট পরেছেন। হরর ও কমেডির অনন্য মিশ্রণে নির্মিত এই সিরিজটি প্রথম আসর থেকেই টেলিভিশন অঙ্গনে নতুন এক ইতিহাস রচনা করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্টে ককটেল বিস্ফোরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৪ পি.এম


কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্টে ককটেল বিস্ফোরণ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্টে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের প্রবেশপথের সামনে এই বিস্ফোরণ ঘটে। তবে, এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন, কে বা কারা ককটেল ছুড়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, সেটি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক।

 

মামলাটিতে গত ১৮ আগস্ট যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। পরে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রায় ঘোষণার জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করা হয়।

রায় ঘোষণার পরপরই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও বিচারপতিদের প্রবেশপথের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেন। এ ঘটনায় কারা জড়িত, তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%