১০:১৭ এম
হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার স্থানীয় সময় ইরানের বিষয়ে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন ‘নিম্নমাত্রার’ কৌশল অবলম্বন করেছে। এ ব্যাপারে অ্যাক্সিওস জানাচ্ছে যে, আপাতত নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
অ্যাক্সিওস ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে বলেছে, 'আমরা বিষয়টি এখন খুব নিচু মাত্রায় রাখছি।' ট্রাম্প আরো জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে শুধু 'আংশিকভাবে আলোচনা' করছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের খারাপ হতে থাকা অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। তিনি বলেন, 'আমরা তাদের সঙ্গে শুধু আংশিকভাবে আলোচনা করছি। ইরানে মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি। তাদের কাছে কোনো টাকা নেই। আমরা শুধু সেটাই দেখছি।'
ট্রাম্প বলেন, অর্থনৈতিক দিক থেকে ইরান 'খুব খারাপ অবস্থায়' রয়েছে। তিনি দাবি করেছেন যে, পারস্য উপসাগরীয় দেশটির সেনাদের বেতন দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অর্থ নেই। তিনি আরো উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ইরানি সরকারের অর্থনৈতিক সংকটকে আরো তীব্র করেছে। তবে ট্রাম্প বলেন, তেলের দাম কমে যাওয়ায় আমেরিকার সাধারণ মানুষের ওপর এই সংঘাতের কল্যাণে প্রভাব কমেছে। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম এখন ৭৫ মার্কিন ডলারের কিছু বেশি।
আরও পড়ুন: সরকারকে সময় না দিয়ে বিরোধিতা করছে বিরোধী দল: ডা. কাজী মনির
ইরানের সঙ্গে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, 'সব ঠিক হয়ে যাবে। সব সময়ই ঠিক হয়ে যায়। এটা দাবা খেলার মতো।' অ্যাক্সিওস এরকম তথ্য দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি বিভিন্ন ঘটনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখনও বজায় রয়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথগুলোর একটি। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন ইরান, ওমান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা থেমে আছে। এই আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিকে আবার খুলে দেওয়া।
ইরান নতুন কিছু শর্ত দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ইরানের কাছে থাকা মার্কিন সেনাদের পেছনে সরিয়ে নেওয়া। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে এবং সরবরাহ দ্রুত করতে নির্দেশ দিয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে গুরুতর গোলাবারুদ তৈরি নিয়ে ঘাটতি দেখা দিতে পারে—এমন আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একটি স্মারকের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট এ খবর প্রকাশ করেছে।
প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী স্টিভ ফেইনবার্গ বুধবার শিল্প খাতের নেতাদের বলেছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদন বাড়ানো এবং সরবরাহের সময়সূচি উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুত ও আরো জোরালো করার পরিকল্পনা জমা দিতে তাদের সর্বোচ্চ ২১ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরান বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি কোনও আলোচনা করছে না। তিনি জানান যে, শুধুমাত্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে। আরাগচি বলেন, 'আলোচনার পথ তৈরি করার জন্য চেষ্টা চলছে।'
আরও পড়ুন: বিসিএস গেজেটবঞ্চিতদের অনশন থেকে ছাত্রলীগের ৪ নেতাকর্মী আটক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন