মোঃ সোহেল রানা, রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি
০৯:৫০ পি.এম
রাঙামাটিতে বেড়াতে এসে কাপ্তাই হ্রদে ডুবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (আইআর) বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইনতিশার হাসনাত জিমেল (২২) মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৪টার দিকে রাঙামাটি শহরের চক্রপাড়া সংলগ্ন মায়ামী বালুচর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত জিমেল কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিনের ছেলে এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা যায়, ইনতিশার হাসনাত জিমেলসহ চার বন্ধু মঙ্গলবার রাঙামাটিতে বেড়াতে আসেন। বিকেলে তারা নৌকাযোগে কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমণে বের হন। নৌকাটি চক্রপাড়া সংলগ্ন মায়ামী বালুচর এলাকায় পৌঁছালে চারজনই হ্রদের পানিতে সাঁতার কাটতে নামেন। একপর্যায়ে জিমেল সাঁতার কাটতে কাটতে গভীর পানিতে চলে গেলে ডুবে নিখোঁজ হন।
খবর পেয়ে রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার লিটন কান্তি দেবের নেতৃত্বে একটি ডুবুরি ইউনিট দ্রুত স্পিডবোটযোগে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টার পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হ্রদের প্রায় ২৫ ফুট গভীর তলদেশ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
পরে অচেতন অবস্থায় তাকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফরহাদ কামাল তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডা. ফরহাদ কামাল জানান, ইনতিশার হাসনাত জিমেলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
বর্তমানে নিহতের মরদেহ রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবার, সহপাঠী ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে গ্রাম আদালত বিষয়ক একটি সমন্বয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল।
২০১৬ সালের ৯ জুন, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এই কর্মশালাটির উদ্দেশ্য ছিল 'অল্প সময়, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশ স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে ও ইউএনডিপি'র অর্থায়নে পরিচালিত 'গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্প (৩য় পর্যায়)' দেশের ৪ হাজার ৪৫৩টি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ক্ষেতলাল উপজেলা গ্রাম আদালতের কো-অর্ডিনেটর দুর্লব চন্দ্র রায়। পাইলট প্রকল্পের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার দেশব্যাপী এই কার্যক্রমকে জোরদার করা হচ্ছে।
এতে সভাপতিত্ব করেন ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী। সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রউফ।
অন্যদের মধ্যে কর্মশালায় বক্তব্য দেন ক্ষেতলাল থানা অফিসার ইনচার্জের (ওসি) প্রতিনিধি এসআই ইজার উদ্দিন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধি ও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দও।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর মান্দা উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের প্রবাসী যুবক আলমগীর হোসেন (৪৫) লিবিয়ায় অপহৃত হওয়ার আড়াই মাস পর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি করেছ, গত ২৮ মার্চ সন্ধ্যার পর পুলিশি পোশাক পরা একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার খোঁজখবর পাওয়া যায়নি।
প্রবাসী আলমগীর হোসেন মৃত দিদার বক্স খাঁনের ছেলে এবং তিনি নুরুল্লাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘ সাত বছর ধরেই তিনি লিবিয়ায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহত আলমগীরের ভাই জিল্লুর রহমান, যিনি নিজেও লিবিয়ায় থাকেন, জানান যে আলমগীর হোসেন ত্রিপোলীর তাজুয়ারা ডিসি পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৮ মার্চ মাগরিবের নামাজের পর যখন তিনি ডিউটিতে ছিলেন, তখন পুলিশি পোশাকে সন্ত্রাসীদের একজন তার মোবাইলে ফোন করে এসে দূরে নিয়ে যায়। এছাড়া, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও উদ্ধার কার্যক্রমে কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি। সন্ত্রাসীদের ওই আস্তানায় ৩১ বাংলাদেশিকে জিম্মি করা হয়েছিল।
জিল্লুর বলেন, ‘ওই আস্তানা থেকে মুক্তিপণ দিয়ে ৫ জন মুক্তি পেয়েছেন। আমার ভাইয়ের কাছেও ২৫ লাখ টাকা দাবী করা হয়েছিল। টাকা দিতে অস্বীকার করায় অন্তত এক মাস আগে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’ তিনি জানান, সোমবার (৮ জুন) দুতাবাসের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া জিম্মিদের কাছ থেকে এসব তথ্য জানতে পারা গেছে। তাদের মোবাইলে ধারণ করা ছবির মাধ্যমে আলমগীরের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। তার মরদেহ উদ্ধার এবং দেশে পাঠানোর জন্য দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে।
আলমগীরের স্ত্রী শাহিনা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ২৮ মার্চ কাজে যাওয়ার আগে তার সঙ্গে শেষবারের মতো মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আমাদের কাছে মুক্তিপণও দাবি করেনি। সোমবার রাতে তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছি।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শাহিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্বামীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
এদিকে, আলমগীর হোসেনের মৃত্যুর খবরে নুরুল্লাবাদ গ্রামে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার স্বজন ও এলাকাবাসী সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে, সকল স্থরে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে শান্তিগঞ্জ পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)-এর উদ্যোগে এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এমআইপিএস প্রকল্পের সহযোগিতায় পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক মতবিনিময় সভা।
মঙ্গলবার, পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফজলুস হাসান। সভাটি সঞ্চালনা করেন পিস অ্যাম্বাসেডর সিরাজ মিয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এমআইপিএস প্রকল্পের কুদরত পাশা।
সভায় বক্তারা আলোচনা করেন যে, পিএফজি একটি উদার, অসাম্প্রদায়িক, বহুত্ববাদী, সহনশীল ও মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এই সংগঠনটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ, সহিংসতা নিরসন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহাবস্থান নিশ্চিতকরণ, ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতিগত সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে ‘দ্বন্দ্ব নিরসন কমিটি’ ও ‘আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি কমিটি’ গঠন করে কাজ করছে।
বক্তারা এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতা কামনা করেন। এর জবাবে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে দ্বন্দ্ব নিরসন ও এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইউপি সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। তারা পিএফজির মতো একটি সংগঠনকে সহযোগী হিসেবে পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত।
তারা আশা প্রকাশ করেন যে, ইউনিয়ন পরিষদ ও পিএফজি একসঙ্গে কাজ করলে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা আরও কার্যকরভাবে সমাধান করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি তারা ভবিষ্যতে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমে ইউনিয়ন পরিষদকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।
সভায় বক্তব্য দেন ইউপি সদস্য জাফরুল হক, আজাদুল হক, নৃপেশ দে, আইনুল হক, প্রিয়বালা নাথ, আলী আহমদ ও আতিকুর রহমান। এছাড়াও বক্তব্য দেন ইউপি সচিব আলী হোসেন, হিসাব সহকারী রূপক তালুকদার, পিস অ্যাম্বাসেডর লিটন মিয়া, পিএফজি সদস্য মতিউর রহমান, সুরঞ্জিত চৌধুরী, জেসমিন আক্তার, আলেয়া, শিউলী দেবী, ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর মানসুর আহমদ, জাহিদুল ইসলাম, শাওন ও সাব্বিরসহ অন্যান্য ব্যক্তিরাও।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের অপসারণ, আমানতের সুরক্ষা, গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা, এস আলম ও ফ্যাসিস্টদের দোসদের বয়কট, এবং গ্রাহকদের উপর পুলিশী হামলার প্রতিবাদে পাবনার চাটমোহরে অবস্থান কর্মসূচি পাীরত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম ইসলামী ব্যাংক লিঃ চাটমোহর শাখার সামনে এই কর্মসূচি পালন করে। অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন মোঃ শহীদুল্লাহ মাস্টার, সোলায়মান হোসেন, আবু হানিফ, হাসান আলী, মুক্তার হোসেন, মওলানা আমির হোসাইন, কাজী মজিবর রহমান মানিক প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ