০৩:০৩ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুন্সিগঞ্জ জেলা কৃষি ঋণ কমিটির মাসিক সভা বুধবার (১৯ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জুবায়ের হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, মুন্সিগঞ্জ অঞ্চলের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও কমিটির সদস্য সচিব খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, মুখ্য আঞ্চলিক কার্যালয়ের মুখ্য কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিনসহ সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
সভায় গত মাসের কার্যবিবরণী সর্বসম্মতিক্রমে দৃঢ়ীকরণ করা হয়। এরপর বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কৃষি ঋণ আদায়-বিতরণের অগ্রগতি এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনা করা হয়। ঋণ বিতরণে পিছিয়ে থাকা ব্যাংকগুলোকে নিজ নিজ শাখা এলাকার কৃষি উদ্যোক্তাদের তালিকা সংগ্রহ করে দ্রুত ঋণ বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সভায় আমদানি বিকল্প শস্য খাতে ঋণ বিতরণ ত্বরান্বিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া মুন্সিগঞ্জ অঞ্চলের সার্টিফিকেট আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রতি মাসে অন্তত দুই-তিনটি মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেওয়া হয়। খেলাপি ঋণ আদায়ের স্বার্থে মামলা দায়েরের আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বাক্ষরে প্রি-নোটিশ ইস্যুর পরামর্শও দেওয়া হয়।
সভায় নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিতরণকৃত কৃষি ঋণের সুদ ও আসল মওকুফ সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়। সবশেষে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ঋণের বিবরণী বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মুখ্য আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠানোর পরামর্শ দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, সময়ানুবর্তিতা, দায়িত্বশীলতা ও কাজের প্রতি আন্তরিকতা মানসিক চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরও যোগ করেন, যদি কেউ সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা করে এবং অন্যের সময় ও অধিকারকে মূল্য দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলে, তবে মানসিক চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী কনফারেন্স রুমে ‘স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট ইন এভরিডে লাইফ’ শীর্ষক সেমিনারের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কলা অনুষদ এ সেমিনারের আয়োজন করে।
উপাচার্য এসময় বলেন, দৈনন্দিন জীবনে কমবেশি সবাই মানসিক চাপের মুখোমুখি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ক্লাস-পরীক্ষা, খাতা মূল্যায়ন এবং ফল প্রকাশের কাজও করতে হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, যদি কোনো কাজ সময়মতো না করে পরের দিনের জন্য রেখে দেওয়া হয়, তাহলে তা পরবর্তীতে বাড়তি চাপ তৈরি করে। তাই কাজ জমিয়ে না রেখে তা নির্ধারিত সময়ে শেষ করার অভ্যাস গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
শিক্ষকদের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, একজন শিক্ষকের দায়িত্বের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জড়িত। পরীক্ষার ফল প্রকাশ বা খাতা মূল্যায়নে দেরি হলে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়তে পারে।
তাহলে তাই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আন্তরিকতা ও নৈতিকতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা মূলত শিক্ষার্থীদের সেবা দেওয়ার জন্যই কাজ করেন।
মানসিক চাপ মোকাবিলায় জীবনের তিনটি বিষয়ের প্রতি সচেতন থাকার পরামর্শ দেন উপাচার্য। তিনি বলেন, জীবনে কোন সময়টি গুরুত্বপূর্ণ, কোন কাজটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন মানুষটি গুরুত্বপূর্ণ—এই তিনটি বিষয় বোঝা গেলে জীবন আরও সুশৃঙ্খল ও আনন্দময় করা সম্ভব।
সেমিনারে ডাক্তার মো. শাহানূর হোসেন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং অনুষ্ঠানে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার সভাপতিত্ব করেন। তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কলা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। সচিবালয়ের বাংলাদেশের অফিসে বুধবার (১৯ আগস্ট) এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। জাইকার প্রতিনিধিত্ব করেন সংস্থাটির বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো। সভায় মহিলা ও শিশুবিষয়ক সচিব ইয়াসমীন পারভীনও উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে রোহিঙ্গা নাগরিকদের মানবিক সহায়তা, নারী শিক্ষা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিদ্যালয় স্থাপনাসহ আরও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী জাইকাকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে, তিনি শুধু অবকাঠামো খাতে নয়, মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ কেয়ারগিভার (সেবাপ্রদানকারী) তৈরি, বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ নারীদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প জাপানের বাজারে রপ্তানির বিষয়ে সংস্থাটির সহযোগিতা কামনা করেন।
মন্ত্রী জানান, অন্তর্ভুক্তিমূলক মানবিক বাংলাদেশ গড়তে তৃণমূল নারীদের জীবনমান ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। এছাড়াও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পটি সরকারের একটি কার্যকর এবং টেকসই সামাজিক বিনিয়োগ। এসব উদ্যোগে জাইকার কারিগরি সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হলে প্রতিনিধি দল ইতিবাচক মনোভাব দেখায়।
জাইকার চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো জানান, জাইকা নারী ও শিশুর কল্যাণ, প্রান্তিক জেলেদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মানবিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের মফিজুর রহমানের পাঁচ বছরের শিশুকন্যা জান্নাতুল মাওয়া জান্নাতিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করার দায়ে অভিযুক্ত রবিউল শিকদার ওরফে রবি (৩৭) কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ রায় মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে ঘোষণা করা হলো।
বুধবার দুপুরে শিশুধর্ষণ অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (জেলা ও দায়রা জজ) বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি রবিউল শিকদার ওরফে রবি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
নড়াইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আজিবুর রহমান আজিজ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিস্তারিত জানায়, গত ২০ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের মফিজুর রহমানের পাঁচ বছরের শিশুকন্যা জান্নাতুল মাওয়া জান্নাতিকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিবেশী রবিউল শিকদার ওরফে রবি নিজের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পরদিন ২১ জুলাই রাত ১১টার দিকে নিহত শিশুর বাবা মফিজুর রহমান বাদী হয়ে রবিউল শিকদারকে একমাত্র আসামি করে নড়াইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর আসামি রবিউল শিকদার শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করার কথা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকার করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন নড়াইল সদর থানার ওসি অজয় কুমার কুন্ডু। ৪ আগস্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা একমাত্র আসামি রবিউল শিকদারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ৬ আগস্ট আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন। এরপর ৯ আগস্ট মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল।
সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি রবিউল শিকদার ওরফে রবির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
রায় ঘোষণার পর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আজিবুর রহমান আজিজ বলেন, শিশুকন্যা জান্নাতুল মাওয়া জান্নাতিকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে।
ধর্ষণের পর হত্যার শিকার শিশু জান্নাতির মা ও অন্যান্য স্বজনরা এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা মৃত্যুদণ্ডের রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ